শিরোনাম
ভারতের অর্থনীতি ‘গোল্লায়’ যাক: ট্রাম্প
ভারতকে ‘মৃত অর্থনীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সঙ্গে খুব কম ব্যবসা করে। কারণ তাদের শুল্ক অনেক বেশি। বৃহস্পতিবার ভোরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন। খবর ফিনান্সিয়াল টাইমসের।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে রাশিয়ার পাশাপাশি ভারতকেও আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভারত রাশিয়ার সঙ্গে কী করবে, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। তারা তাদের মৃত অর্থনীতিকে একসঙ্গে ‘গোল্লায়’ নিয়ে যেতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। আমরা ভারতের সঙ্গে খুব কম ব্যবসা করেছি, তাদের শুল্ক অনেক বেশি, বিশ্বের সর্বোচ্চ।’
ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক সম্পর্কেরও সমালোচনা করেন। বলেন, ‘ভারত চীনের পরেই রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এমন এক সময়ে যখন সবাই চায় রাশিয়া ইউক্রেনে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করুক।’
এর একদিন আগে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, তিনি রাশিয়ার অস্ত্র ও জ্বালানি কেনার জন্য নয়াদিল্লিকে শাস্তি দেবেন।
২০২৪ সালে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ১২৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য লেনদেন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশ প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও একটি কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছে; যার মূল ভিত্তি চীনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা।
চীনের পরে নয়াদিল্লি রাশিয়ার তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। মস্কো এখনো তাদের অস্ত্রের প্রধান উৎস। যদিও ভারত সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল থেকেও অস্ত্র সংগ্রহ করছে।
গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধের পর, ইসলামাবাদ সম্পর্কে ট্রাম্পের মন্তব্যে অনেক ভারতীয় ক্ষুব্ধ হন। এখন রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তুলবে।
বুধবার ট্রাম্প পাকিস্তানের সঙ্গে একটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন যার মধ্যে থাকবে তাদের বিশাল তেলের ভাণ্ডার উন্নয়ন। এই চুক্তি সম্পর্কে সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘কে জানে, হয়তো তারা একদিন ভারতের কাছে তেল বিক্রি করবে!’ এই মন্তব্যটি ভারতীয়দের বিরক্ত করার জন্যই সম্ভবত করা হয়েছে।
বুধবার ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ১ আগস্ট থেকে এ শুল্ক কার্যকর হবে।
বুধবার ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘ভারত আমাদের বন্ধু হলেও তাদের শুল্ক বিশ্বের সর্বোচ্চ এবং বাণিজ্য করা কঠিন।’
শুল্ক ঘোষণার পরপরই ভারতের রুপি ডলারের বিপরীতে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির নিফটি ৫০ স্টক সূচক ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। ২৫ শতাংশ শুল্ক পয়লা আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
খাদ্যশস্য এবং দুগ্ধজাত বাজার রক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান কঠোর। ভারত এই বাজারগুলোকে, যার ওপর লাখ লাখ মানুষ তাদের জীবিকা নির্ভর করে, তা মার্কিন প্রতিযোগিতার জন্য উন্মুক্ত করতে চায়না।
এছাড়া বুধবার ছয়টি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইরানের পেট্রোলিয়াম, পেট্রোলিয়াম পণ্য, অথবা পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর একথা জানায়।
মিয়ানমারে উঠছে জরুরি অবস্থা, ডিসেম্বরে নির্বাচন
মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা তুলে নিচ্ছে দেশটির জান্তা সরকার। একই সঙ্গে চলতি বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স বলছে, মিয়ানমারের জান্তা সরকার দেশটিতে নির্বাচন আয়োজনের জন্য সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করেনি জান্তা সরকার।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভি জানিয়েছে, মিন অং হ্লাইং অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং তিনিই নির্বাচন তত্ত্বাবধান করবেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার মিয়ানমারের সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এটি হবে ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মিন অং হ্লাইং সেনাবাহিনীর প্রধান (কমান্ডার ইন চিফ) পদেও বহাল থাকবেন।
এদিকে মিয়ানমারে সামরিক সরকারের প্রস্তাবিত নির্বাচন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সমালোচনা, প্রতিবাদ বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে জানানো হয়েছে। এই উদ্দেশে নতুন একটি আইন পাস করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন জান্তা সরকার।
‘প্রোটেকশন অব মাল্টিপার্টি ডেমোক্রেটিক ইলেকশন ফ্রম অবস্ট্রাকশন, ডিসরাপশন অ্যান্ড ডেস্ট্রাকশন’ শীর্ষক আইনটি গত মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট-এ প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর হয়েছে।
এই আইনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে যে কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য, সমালোচনা, প্রতিবাদ, লিফলেট বিতরণ বা বিক্ষোভ আয়োজন অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে শাস্তি হবে সর্বনিম্ন ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর এবং কোনো সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড।
এতে আরও বলা হয়, নির্বাচন চলাকালীন ব্যালট পেপার নষ্ট করা, ভোটার, প্রার্থী কিংবা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভয় দেখানো বা ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। নির্বাচনী সহিংসতায় কেউ নিহত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডি সরকারকে হটিয়ে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। তারা দাবি করে, ২০২০ সালের নির্বাচন ছিল জালিয়াতিপূর্ণ। অভ্যুত্থানের পর সু চি ও এনএলডির হাজারো নেতাকর্মীকে আটক করা হয়, যাদের অনেকেই এখনো কারাগারে।
হামাসের বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলো সৌদি আরবসহ ১৭ দেশ
পশ্চিমাদের পাশাপাশি এবার হামাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে কাতার, সৌদি আরব, মিশরসহ ১৭টি দেশ। ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ভয়াবহ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা শাসন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।
ফ্রান্স ও সৌদি আরবের উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হামাসকে অবশ্যই গাজায় তাদের শাসন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। সেইসঙ্গে একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা এবং সমর্থনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের অস্ত্র হস্তান্তর করতে হবে।’
গাজায় খাদ্য বিতরণে ইসরাইলের ওপরেই আস্থা ট্রাম্পেরগাজায় খাদ্য বিতরণে ইসরাইলের ওপরেই আস্থা ট্রাম্পের
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরেইলে হামাসের হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয় ঘোষণায়। হামাসকে ভবিষ্যতের ফিলিস্তিনি শাসন কাঠামো থেকে বাদ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়। এতে কাতার, সৌদি আরব, মিসর, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডাসহ ১৭টি দেশ স্বাক্ষর করেছে।
এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, কাতার, মিশর, তুরস্ক, জর্ডান, কানাডা, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আরব লীগ।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল ব্যারো একে ‘ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন’ ঘোষণা বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘এই প্রথমবার আরব দেশগুলো হামাসকে প্রত্যাখ্যান করল, নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানাল এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইচ্ছা প্রকাশ করল।’
জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, ‘হামাস যেন ৭ অক্টোবরের ভয়াবহ হামলার জন্য কোনোভাবে পুরস্কৃত না হয়। তাদের জিম্মি মুক্তি, যুদ্ধবিরতি, গাজা শাসন থেকে সরে দাঁড়ানো এবং নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হতে হবে।'
বিবৃতিতে জিম্মিদের মুক্তি, সহিংসতা বন্ধ, দখলদারিত্বের অবসান এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ তৈরি করার কথা বলা হয়। যুদ্ধোত্তর গাজায় একটি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শান্তিরক্ষী মিশন মোতায়েনের প্রস্তাবও রাখা হয়।
প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের পর সুনামি আতঙ্কে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ৫২ দেশ-অঞ্চল
রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের উপকূলে বুধবার ভোরে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সুনামি আতঙ্ক। যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া সংস্থা ও সুনামি সতর্কতা কেন্দ্রগুলো একযোগে সতর্কতা জারি করেছে। তিনটি ভিন্ন মাত্রার ঢেউয়ের আশঙ্কা অনুযায়ী বিশ্বের ৫২টি দেশ ও অঞ্চল এই সতর্কতার আওতায় এসেছে।
৩ মিটারের বেশি উচ্চতার সুনামির ঝুঁকিতে রয়েছে তিনটি দেশ ও অঞ্চল। এগুলো হচ্ছে রাশিয়া,ইকুয়েডর এবং উত্তর-পশ্চিম হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ। এদিকে, এক থেকে তিন মিটার ঢেউয়ের আশঙ্কায় রয়েছে ১৪টি দেশ ও অঞ্চল। এদের মধ্য রয়েছে চিলি, কোস্টারিকা, ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া, গুয়াম, হাওয়াই, জাপান, জার্ভিস আইল্যান্ড, জনস্টন অ্যাটল, কিরিবাতি, মিডওয়ে আইল্যান্ড, পালমিরা আইল্যান্ড, পেরু, সামোয়া ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জ। খবর লাইভমিন্টের।
এদিকে, শূন্য দশমিক ৩ থেকে এক মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের সতর্কতায় রয়েছে ৩৫টি দেশ ও অঞ্চল। এসব হচ্ছে, অ্যান্টার্কটিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ফিজি, নিউজিল্যান্ড, পাপুয়া নিউ গিনি, তিউনিসিয়া, টোঙ্গা, তুভালু, ভানুয়াতু, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, নিকারাগুয়া, এল সালভাদর, কুক আইল্যান্ডস, কেরমাডেক দ্বীপপুঞ্জ, কসরে, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, পিটকায়ার্ন, চুক, পোহ্নপেই, নাউরু, নিউ ক্যালেডোনিয়া, নিয়ুয়ে, প্যালাউ, পানামা, উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ, তাইওয়ান, হাওল্যান্ড ও বেকার দ্বীপপুঞ্জ, জন্সটন অ্যাটল, জার্ভিস আইল্যান্ড, ওয়েক আইল্যান্ড, টোকেলাও।
ইতোমধ্যে রাশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে সুনামির ঢেউ ৩-৪ মিটার পর্যন্ত উঠেছে, এবং উপকূলবর্তী শহরগুলো থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে হাজারো মানুষকে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ভূমিকম্পের পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে জনসচেতনতা ও সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। সুনামির সম্ভাব্য ঢেউ যে কোনো সময় আছড়ে পড়তে পারে, তাই সব দেশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।
বিশ্বের ৬ষ্ঠ শক্তিশালী ভূমিকম্প দেখল রাশিয়া
১৯০০ সাল থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ভূমিকম্পের রেকর্ড রাখা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। সেই রেকর্ড বলছে, বুধবার বিশ্বের ষষ্ঠ শক্তিশালী ভূমিকম্প দেখেছে রাশিয়া।
আজ বুধবার রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় কামচাটকা উপদ্বীপে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প এবং তারপর ৬ দশমিক ৯ এবং ৬ দশমিক ৩ মাত্রার দু’টি ‘আফটার শক’ হয়। ভূমিকম্পটির এপিসেন্টার বা উৎপত্তিস্থল কামচাটকার পেত্রোপাভলোভস্ক-কামচাটস্কি শহর থেকে ১১৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ভূপৃষ্ঠের ১৯ দশমিক ৩ কিলোমিটার গভীরে।
এক বিবৃতিতে ইউএসজিএস জানিয়েছে, শক্তি ও ধ্বংসক্ষমতার বিবেচনায় কামচাটকার এই ভূমিকম্প বিশ্বের ইতিহাসে ষষ্ঠ। এর আগে ২০১০ সালে চিলিতে এবং ১৯০৬ সালে ইকুয়েডরে এই মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াইয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. হেলেন জেনিসজেউইস্কি ইউএসজিএসের এই তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেছেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, “আমাদের রেকর্ড বলছে, ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী ভূমিকম্পটি হয়েছিল চিলিতে। বিওবিও অঞ্চলে। ১৯৬০ সালে চিলির বিওবিও অঞ্চলে হওয়া সেই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫।”
বুধবারের ভূমিকম্পের পর সুনামির আঘাত এসেছে জাপানে। বিবিসির তথ্য অনুসারে, সুনামির পর ৪ মিটার (১২ ফুট) উচ্চতার একের পর এক ঢেউ আছড়ে পড়ে জাপানের সর্বউত্তরের দ্বীপ হোক্কাইডোর উপকূলে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুসারে, রাশিয়ায় ভূমিকম্পের পর প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তৃত অঞলজুড়ে জারি করা হয়েছে সুনামি সতর্কতা।
ইতোমধ্যে জাপান, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, পেরু, ইকুয়েডর, চিলি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, চীন, যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই, লস অ্যাঞ্জেলেসে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জাপানের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সাগরে সুনামি পরিস্থিতি থাকার আশঙ্কা আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলছেন, “ সরকারের হালনাগাদ তথ্য সম্পর্কে খোঁজখবর রাখুন। ভয় পাবেন না। দৃঢ় এবং নিরাপদ থাকুন।”
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য