শিরোনাম
জাপানের সতর্কবার্তা
২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে সুনামি পরিস্থিতি
রাশিয়ায় ব্যাপক ভূমিকম্পের জেরে প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে যে সুনামি পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে— তা আগামী ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাপান।
দেশটির আবহাওযা দপ্তরের একজন মুখপাত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেছেন, “সুনামির বিধ্বসী ক্ষমতা নির্ভর করে ভূমিকম্পের মাত্রার ওপর। রাশিয়ায় যে মাত্রার ভূমিকম্প থেকে এই সুনামি এসেছে— আমরা আশঙ্কা করছি যে আগামী ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও সুনামি পরিস্থিতি থাকবে।”
আজ বুধবার ভোরের দিকে রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের অঞ্চল কামচাটকায় ৮ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প এবং তার পর ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ‘আফটার শক’ হয়। সেই ভূমিকম্পের পর ৪ মিটার (১২ ফুট) উচ্চতার ঢেউ এসে আঘাত হানে জাপানের সর্বউত্তরের দ্বীপ হোক্কাইডোতে।
এখনও জাপানের উত্তর, পূর্ব-সহ বিভিন্ন উপকূলে আছড়ে পড়ছে সুনামির ঢেউ। তবে সেসব ঢেউয়ের উচ্চতা ২-৩ ফুটের বেশি নয়।
“আমাদের চিন্তা হচ্ছে জোয়ারের সময় কী হবে— তা নিয়ে। সুনামি পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্বাভাবিক ভাবেই ঢেউয়ের আকার, উচ্চতা এবং শক্তি অনেক বেশি থাকবে। আমরা সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি”, সিএনএনকে বলেন ওই মুখপাত্র।
সূত্র : সিএনএন
রাশিয়ায় ৮.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি
রাশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৭। এরপর একাধিক দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এটিকে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের জেরে নিজেদের পূর্ব উপকূলে সুনামির সতর্কতা জারি করেছে জাপানও। বুধবার (৩০ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, রাশিয়ার উপকূলে ৮.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর একাধিক দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বুধবার ভোরে রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের কামচাটকা অঞ্চলে প্রায় চার মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস দেখা যায়।
জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের পুরো পশ্চিম উপকূলজুড়ে বিপজ্জনক ঢেউয়ের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত তাইওয়ানও সুনামি সতর্কতা জারি করেছে।
রাশিয়ার কামচাটকা অঞ্চলের গভর্নর ভ্লাদিমির সলোডভ টেলিগ্রামে এক ভিডিও বার্তায় জানান, এটি “গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প”।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হনলুলু জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, “বিধ্বংসী সুনামি ঢেউয়ের” আশঙ্কা রয়েছে এবং কিছু উপকূলীয় এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাপানের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, তাদের উপকূলীয় অঞ্চলে তিন মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পেট্রোপাভলোভস্ক-কামচাটস্কির পূর্বে ১৩৬ কিলোমিটার দূরে।
এর কিছুক্ষণ পর রাশিয়ার একই অঞ্চলের পেট্রোপাভলোভস্ক ও ভিলিউচিনস্ক শহরের দক্ষিণ-পূর্বে যথাক্রমে ১৪৭ ও ১৩১ কিলোমিটার দূরে ৬.৯ ও ৬.৩ মাত্রার আরও দুটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।
ভার্জিনিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামি বিশেষজ্ঞ রবার্ট ওয়েইস আল জাজিরাকে জানান, পরিস্থিতি গুরুতর বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই ভূমিকম্প নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়াটাই সঠিক।”
এদিকে জাপানও তার পূর্ব উপকূলের জন্য সুনামির সতর্কতা জারি করেছে। আল জাজিরা বলছে, জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পূর্ব উপকূলের বেশিরভাগ অংশে সুনামির সতর্কতা জারি করেছে।
লোকজনকে সৈকত থেকে দূরে থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে হোক্কাইডোর উত্তরে ৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ শুরু হতে পারে এবং ধীরে ধীরে সেটি দক্ষিণে সরে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বঙ্গোপসাগরে দেড় ঘণ্টায় চার ভূমিকম্প
বঙ্গোপসাগরের আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ারের অদূরে মঙ্গলবার রাতে চারটি ভূমিকম্প হয়েছে। প্রতিটি ভূকম্পের মাত্রা ছিল চারের ওপর। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি হয়েছে মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টা নাগাদ আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ২৭৫ কিলোমিটার দূরে। সমুদ্র তলের ১০ কিলোমিটার গভীরের সেই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫।
এরপর কাছাকাছি এলাকায় ৫, ৪.৯, ও ৪.৬ মাত্রার আরো তিনটি ভূমিকম্প হয়েছে। দেড় ঘণ্টা সময়ের মধ্যে এসব ভূমিকম্প ঘটে। সর্বশেষ ভূমিকম্পটি ঘটেছে রাত সোয়া এগারোটার দিকে। আগের দিন নিকোবর আইল্যান্ডে ৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড হয়। তবে ইন্দোনেশিয়ার ওই অঞ্চলেও সুনামির সতর্কতা নেই।
তবে এসব ভূমিকম্পে কোন সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবরও জানা যায়নি।
বুধবার রাতে রাশিয়ার পূর্ব উপকূলের কামচাটকা উপদ্বীপে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল আট দশমিক আট। রাশিয়ায় ভূমিকম্পটি অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় এটি প্যাসিফিক অঞ্চলে সুনামির ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
ভেটো পাওয়ারে অকার্যকর জাতিসংঘ
মানবতা, ন্যায়বিচার ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে ১৯৪৫ সালে গঠিত হয় জাতিসংঘ। বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিরসন ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষাই এর মূল লক্ষ্য। অথচ সবচেয়ে দীর্ঘ ও নিষ্ঠুর দখলদারির শিকার ফিলিস্তিনিদের ব্যাপারে জাতিসংঘের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইলি দখল, অবরোধ ও হত্যাযজ্ঞ ফিলিস্তিনি জনগণের জীবনকে নরকে পরিণত করেছে অথচ জাতিসংঘ শুধু কাগুজে প্রতিক্রিয়া, প্রতিবেদন এবং নিন্দা প্রস্তাবেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
ফিলিস্তিন অঞ্চল দীর্ঘকাল ধরে আরব মুসলিমদের বাসভূমি হলেও ঊনবিংশ শতকে ইউরোপে ইহুদি জাতীয়তাবাদের উত্থান ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ ফিলিস্তিনকে ইহুদি বসতি হিসেবে রূপান্তরের পথ তৈরি করে। ১৯১৭ সালে ব্রিটেন ‘ব্যালফোর ঘোষণা’র মাধ্যমে ইহুদিদের জন্য ফিলিস্তিনে ‘জাতীয় আবাসভূমি’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত করার প্রস্তাব গ্রহণ করেÑএকটি ইহুদি, অন্যটি আরবদের জন্য। ফিলিস্তিনি ও আরবরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, কারণ তাদের ৯০ শতাংশের বেশি জমিতে ৫৫ শতাংশেরও বেশি এলাকা ইহুদিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছিল। এরপরই ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্রের ঘোষণা এবং ‘নাকবা’ হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। নাকবা হত্যাকাণ্ডের ফলে ১৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিদের হত্যা আর ১০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনিদের নিজেদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে ইহুদিদের জন্য বসতি স্থাপন করা হয়।
জাতিসংঘ ফিলিস্তিন ইস্যুতে বহু প্রস্তাব পাস করলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন আজও হয়নি। যেমন ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা, ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখল করা অঞ্চল থেকে ইসরাইলকে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া, পশ্চিমতীরে ইসরাইলের অবৈধ বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ঘোষণা করাসহ অনেক প্রস্তাব পাস হয়েছে কিন্তু এর কোনো কার্যকারিতা দেখেনি বিশ্ব। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ ও চুক্তিগুলো শিশু হত্যা, হাসপাতাল ধ্বংস, অবরোধের মাধ্যমে খাদ্য এবং চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করাকে যুদ্ধাপরাধ বলে গণ্য করে। অথচ গাজা ও পশ্চিমতীরে এসব প্রতিনিয়তই ঘটছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন বারবার বলেছে, ইসরাইল যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত। কিন্তু এর বিরুদ্ধে বাস্তবে জাতিসংঘ কোনো পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়নি।
ইসরাইল ১৯৪৮ সালের পর থেকে যেভাবে ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করে নিয়েছে, তাতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র বলতে বাস্তবে আজ আর কিছু নেই। এটি একটি ছিন্নভিন্ন আর ইসরাইলনিয়ন্ত্রিত অবরুদ্ধ ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমতীরে প্রতিনিয়ত নতুন বসতি নির্মাণ, পূর্ব জেরুসালেমে মুসলিম অধিবাসীদের উচ্ছেদ, গাজা উপত্যকায় বছরের পর বছর ধরে স্থায়ী অবরোধ এবং মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব বিনাশ করার সব আয়োজন করে চলছে বর্তমানে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রয়েছেÑযুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন, যাদের প্রত্যেকেরই ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এর ফলে একজন সদস্যের আপত্তিতেই কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বাতিল হয়ে যেতে পারে। ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের পক্ষ নিয়ে ভেটো প্রয়োগ করে আসছে। ফলে ইসরাইল সব আন্তর্জাতিক নিন্দা ও আইন অগ্রাহ্য করে বারবার আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো ক্ষমতা ইসরাইলকে কার্যত ‘অনুমোদিত দখলদার’-এ পরিণত করেছে। বহুবার নিরাপত্তা পরিষদে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে গৃহীত প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে বাতিল হয়েছে। এভাবে একটি কাগুজে সংস্থায় পরিণত হয়েছে জাতিসংঘ। ভেটোব্যবস্থা পুরো আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারকে অকার্যকর করে তুলেছে। একতরফা সহানুভূতির কারণে ইসরাইল দিনের পর দিন মানবাধিকার লঙ্ঘন করেও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার কোনো ভয় পায় না।
বিশ্বের প্রায় ১৪০টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও জাতিসংঘ এখনো পূর্ণ সদস্যপদ দেয়নি। এর অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বাধা। ফিলিস্তিন ইস্যুতে জাতিসংঘের এহেন ব্যর্থতা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করছে। বিশ্ব শান্তি, মানবাধিকার, আইনের শাসন সবই এখন প্রশ্নবিদ্ধ। যদি জাতিসংঘ তার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করতে চায়, তাহলে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। আর এটি করতে হলে ভেটো ক্ষমতা বাতিল করে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রয়োজনে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
লেখক : মুহাদ্দিস, ছারছীনা দারুসসুন্নাত জামেয়া নেছারিয়া দীনিয়া, নেছারাবাদ, পিরোজপুর
আবারও ইরানে হামলার হুমকি ট্রাম্পের
স্কটল্যান্ডে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পাশে বসে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি আবারও শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তা মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দেবে। গতকাল সোমবার (২৮ জুলাই) তিনি এ কথা বলেন।
ইরান সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল। কিন্তু গত জুনে ইরানে ইসরায়েলের হামলার পর সেই আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়।
গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির আলোচনা হয়। সেখানে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার আছে। এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তারা পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়বে না, তবে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ইরান খুব খারাপ সংকেত দিচ্ছে। তাদের এমন করা উচিত নয়। আমরা আগে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করেছি। তারা আবার শুরু করলে আমরা তা আবারও ধ্বংস করব।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের হুমকির জবাবে বলেন, ইরান কখনোই হুমকিতে নতি স্বীকার করবে না। শান্তিপূর্ণ কাজে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ আমাদের অধিকার। যদি কেউ হামলা করে, আমরা কঠোর জবাব দেব।
ইসরায়েলও ইরানকে হুমকি দিচ্ছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যদি ইসরায়েলকে হুমকি দিতে থাকেন, তাহলে আমাদের হাত আবারও তেহরান পর্যন্ত পৌঁছাবে। এবার তা তাঁর ব্যক্তিগত স্তরেও পৌঁছাতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েল ইরানে আবারও হামলা করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন লাগবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য