শিরোনাম
ইসরায়েলে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুথিদের
ইসরায়েলে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠী।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শুক্রবার জানিয়েছে, তারা ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে সাইরেন বাজার পর ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিয়োথ আহারোনোথ জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ফলে দক্ষিণ নেগেভ ও মৃত সাগর অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজে। এর মধ্যে আরাদ, কিরিয়াত আরবা ও আইন গেদিতে সাইরেন শোনা যায়।
হুথি গোষ্ঠী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে, বিশেষ করে মার্চে গাজায় দুই মাসের যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল নতুন করে অভিযান শুরু করলে তারা আক্রমণের মাত্রা বাড়ায়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় অবিরত বোমা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এরপর ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে নভেম্বর থেকে হুথিরা লোহিত সাগর, অ্যাডেন উপসাগর ও আরব সাগরের বাণিজ্যিক জাহাজকেও টার্গেট করে আসছে। তারা বলছে, গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরায়েলি নিপীড়নের প্রতিবাদে তারা এসব হামলা চালাচ্ছে।
জাতিসংঘ ও ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৫৯ হাজার ৬৭৬ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আর আহত হয়েছে এক লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৫ জনেরও বেশি। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছে বহু সংখ্যক মানুষ। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
কাঠমাণ্ডুর দুর্ঘটনায় সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে ইউএস-বাংলাকে নেপালের আদালতের নির্দেশ
২০১৮ সালে কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারান ৫১ জন। দুর্ঘটনার সাত বছর পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষে এলো ঐতিহাসিক রায়। নেপালের কাঠমাণ্ডু জেলা আদালত ইউএস-বাংলাকে ২৭ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
রায়ে আদালত বলেছেন, বীমা কম্পানিগুলোর দেওয়া ২০ হাজার ডলারের বীমা অর্থের বাইরে এই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বিমান সংস্থাটিকে।
ক্ষতিপূরণ পাবে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৭টি পরিবার।
নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমাণ্ডু পোস্ট জানিয়েছে, দেশটির ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো বিমান দুর্ঘটনায় এত বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ আদায়ের নজির তৈরি হলো। অতীতে ৭০টির বেশি বিমান দুর্ঘটনায় প্রায় এক হাজার মানুষ প্রাণ হারালেও কোনো কম্পানিকে সরাসরি এইভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়নি।
২০১৮ সালের ১২ মার্চ ঘটে যাওয়া ওই দুর্ঘটনায় ৭১ আরোহীর মধ্যে ২৮ জন বাংলাদেশি, ২২ জন নেপালি ও ১ জন চীনা নাগরিক নিহত হন।
বিমানটি ছিল ৭৬ আসনের বোম্বার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ৪০০, যা ত্রিভুবনে অবতরণের সময় রানওয়ে মিস করে বিধ্বস্ত হয় এবং আগুন ধরে যায়।
নেপালের আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস গুরুতর গাফিলতি করেছে এবং উড্ডয়নের উপযোগী বিমান পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে আদালত ওই ১৭ পরিবারের প্রতিটিকে পৃথকভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণে আর্থিক, মানবিক, শারীরিক ও মানসিক দিক বিবেচনা করেছেন আদালত।
কার পরিবার কত ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে?
⦁ সাতজন এমবিবিএস শিক্ষার্থীর পরিবার : প্রত্যেকে পাবেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৮২ ডলার (প্রায় ২ কোটি ৩৪ লাখ রুপি)।
⦁ আরো ছয় শিক্ষার্থীর পরিবার : পাবেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ৪১৮ ডলার (প্রায় ২ কোটি ৪৭ লাখ রুপি)।
⦁ ডা. বল কৃষ্ণ থাপার পরিবার : ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৮ ডলার (প্রায় ৩ কোটি ৬৭ লাখ রুপি)।
⦁ নার্স জিয়ানি কুমারী গুরুঙ্গের পরিবার : ৪৫ হাজার ৩০১ ডলার (প্রায় ৬২ লাখ রুপি)।
⦁ বেঁচে যাওয়া যাত্রী ডা. সামিরা ব্যঞ্জনকর : পাবেন ৪৪ হাজার ২৯০ ডলার (প্রায় ৬১ লাখ রুপি)।
প্রতিটি ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বীমা অর্থ বাদে নির্ধারিত হয়েছে। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ বীমা অর্থ (২০ হাজার ডলার) ছাড়াও এই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
মামলার পেছনের গল্প
২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রথমবার ‘অবহেলার কারণে মৃত্যু’র অভিযোগ এনে মামলা করে এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের পরিবার। শুরুতে ইউএস-বাংলা ৫০ হাজার ডলারে মীমাংসার প্রস্তাব দিলেও পরিবারগুলো তা প্রত্যাখ্যান করে আইনি লড়াইয়ে যায়। সাত বছর পর তারা পেল কাঙ্ক্ষিত রায়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পেছনে পাইলটের মানসিক অবস্থা এবং কম্পানির ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনাই বড় কারণ ছিল।
এই রায়ের মাধ্যমে ১৯২৯ সালের ওয়ারশ কনভেনশন ও ১৯৫৫ সালের হেগ প্রটোকলের আওতায় ইউএস-বাংলাকে দায়ী করা হয়েছে। ১৯৯৯ সালের মন্ট্রিয়াল কনভেনশন এই মামলায় প্রযোজ্য হয়নি, কারণ রায়ের সময় নেপাল ও বাংলাদেশ—উভয় দেশই সেই চুক্তির সদস্য ছিল না।
আপিল করতে পারবে ইউএস-বাংলা
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মুখপাত্র মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘আমাদের আইনজীবীরা নিয়ম অনুযায়ী উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।’
আইনজীবী অমৃত খারেল বলেন, ‘এই রায়ে প্রমাণ হলো বীমা অর্থ ক্ষতিপূরণ নয়। বীমা টিকিটের অংশ হিসেবে যাত্রীদের অধিকার, কিন্তু অবহেলার দায়ে ক্ষতিপূরণ অবশ্যই আলাদা বিষয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই রায় শুধু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করেনি, বরং এটি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার এক বড় উদাহরণ।’
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো বিমান সংস্থা ইচ্ছাকৃত অবহেলা বা মারাত্মক গাফিলতির মাধ্যমে দুর্ঘটনার কারণ হলে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার সুযোগ থাকবে।
ইরানের আদালত ভবনে হামলা, বাড়ছে নিহতের সংখ্যা
দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের একটি বিচার বিভাগ ভবনে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। বন্দুকধারীরা পাঁচ বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। আহত হয়েছেন ১৩ জন। তবে সংখ্যাটি প্রাথমিক এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল ও রয়টার্স জানায়, দক্ষিণ-পূর্ব সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী জাহেদানে বিচার কেন্দ্রে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা হামলা চালিয়েছে। এই সন্ত্রাসী হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন। নিহত হয়েছেন তিন বন্দুকধারীও। বন্দুকধারীদের নিহতের বিষয়টি ধোঁয়াশায় ঘেরা। কিছু সূত্র বলছে, হামলার পর তারা নিজেরা আত্মহত্যা করেছেন।
পৃথকভাবে সরকারি আইআরএনএ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের আঞ্চলিক সদর দপ্তর হামলার সময় তিন হামলাকারী নিহত হওয়ার তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের ডেপুটি পুলিশ কমান্ডার আলিরেজা দালিরির মতে, হামলাকারীরা দর্শনার্থীদের ছদ্মবেশে ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। দালিরি বলেন, হামলাকারীরা ভবনে একটি গ্রেনেড ছুড়ে মারে। যার ফলে ভেতরে থাকা বেশ কয়েকজন নিহত হয়। তাদের মধ্যে এক বছরের শিশু এবং শিশুটির মাও ছিলেন।
ইরানি গণমাধ্যমের মতে, পাকিস্তানে অবস্থিত কিন্তু ইরানেও সক্রিয় একটি বালুচ জিহাদি গোষ্ঠী জাইশ আল-আদল (আরবি অর্থ ‘বিচার বাহিনীর সেনা’) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
ইতালির রাস্তায় মুখ থুবড়ে পড়ল বিমান : দাউদাউ আগুন, নিহত ২
সড়কে দুরন্ত গতিতে ছুটছিল গাড়ি। আচমকই সেখানে মুখ থুবড়ে পড়ে ছোট আকারের একটি উড়োজাহাজ এবং সঙ্গে সঙ্গেই তাতে আগুন ধরে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এ দুর্ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবারের ওই দুর্ঘটনায় বিমানের চালক এবং তাঁর সঙ্গিনী, অর্থাৎ একমাত্র যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। এছাড়া দুর্ঘটনার সময় ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময়ে আহত হয়েছেন দু’টি গাড়ির চালকও। তবে তাদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
উত্তর ইতালির লম্বার্দি প্রদেশের ব্রেসিয়া শহরের একটি হাইওয়েতে ঘটেছে এই কাণ্ড। মঙ্গলবার সকালে ব্যস্ত সেই হাইওয়েতে প্রচণ্ড গতিতে আছড়ে পড়ে ইতালির একটি ফ্রেসিয়া আরজি আল্ট্রালাইট উড়োজাহাজ। ভিডিয়োতে দেখা গেছে যে রাস্তায় ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিমানটিতে আগুন ধরে গিয়েছে।
বিমান বিধ্বস্তের পর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে বিমানের চালক সার্জিও রাভাগলিয়া (৭৫) এবং তার বান্ধবী অ্যান মারি ডি স্টেফানো’র (৬০)। সার্জিও পেশায় আইনজীবী এবং শৌখিন পাইলট ছিলেন। তিনি এবং অ্যান উভয়েই লম্বার্দির রাজধানীশহর মিলানের বাসিন্দা ছিলেন।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, সড়কে বিমানটিকে জরুরিকালীন অবতরণ করানোর চেষ্টা করছিলেন পাইলট। কিন্তু তার পরিবর্তে বিমানটি ভেঙে পড়ে রাস্তায়। ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, দুর্ঘটনার মুহূর্তে জ্বলন্ত বিমানটির পাশ দিয়ে দ্রুত গতিতে ছুটে যাওয়া কয়েকটি গাড়ি। সেগুলোর মধ্যে দু’টি গাড়ির চালক আহত হয়েছেন।
বিমান ভেঙে পড়ার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ এবং দমকলবাহিনী। যদিও তত ক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে বিমানটি। ব্রেসিয়া শহরের পাবলিক প্রসিকিউটর দপ্তর এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বিমানটির রক্ষণাবেক্ষণের নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে অহমদাবাদের লোকালয়ে ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। সেটির গন্তব্য ছিল লন্ডনের অদূরে গ্যাটউইক । ওই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ২৬০ জনের। নিহতদের মধ্যে বিমানটির যাত্রী ছিলেন ২৪১ জন।
ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল?
গত মাসে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধকে সফল বলে মনে করছে ইসরায়েলের নেতৃত্ব। এই যুদ্ধে ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের পরমাণু স্থাপনা ‘ফোর্দো’তে হামলায় অংশ নিতে রাজি করানো গেছে।
যুদ্ধের পর দ্রুত বিজয়ের দাবি করলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রয়োজনে আবারও হামলার জন্য তারা প্রস্তুত আছেন। তিনি বলেন, “আমি গ্যাসের প্যাডাল চাপা বন্ধ করার কোনো চিন্তাই করছি না।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল এরই মধ্যে সুযোগ খুঁজছে— ইরানে আরেকটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ শুরু করার, যার লক্ষ্য হবে পশ্চিম এশিয়ার ইসলামী এই প্রজাতন্ত্রটিকে নতজানু করা। তবে এ ধরনের যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি প্রয়োজন, যা পাওয়া সহজ নাও হতে পারে।
গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে ইসরায়েলের এক আকস্মিক হামলা থেকেই শুরু হয়েছিল যুদ্ধ, যাতে এক হাজারের বেশি ইরানি ও ২৯ জন ইসরায়েলি নিহত হন।
ইসরায়েল যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি দিয়েছিল, তারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করতে “আত্মরক্ষার” অংশ হিসেবে আগেভাগেই পদক্ষেপ নিচ্ছে। যদিও তেহরান শুরু থেকেই বলে আসছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
এ সপ্তাহে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানান, বর্তমানে অস্ত্রবিরতি চললেও সেটি কত দিন থাকবে, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। তিনি বলেন, “ইসরায়েল আবার কোনো হামলা চালালে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমাদের সেনাবাহিনী আবারও ইসরায়েলের গভীরে আঘাত হানতে পারবে।”
যুদ্ধের পেছনের কারণ
ইসরায়েল কেবল ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল বলে দাবি করলেও বাস্তবে তারা মূলত ইরানের উচ্চপর্যায়ের সরকারি ও সামরিক নেতাদের টার্গেট করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বোঝা যায় ইসরায়েল শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং ইরানি শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করতে চায়।
ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও মার্কিন থিংকট্যাংক কুইন্সি ইনস্টিটিউটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ত্রিতা পার্সি বলেন, “ইসরায়েল চায় ইরানকে সিরিয়া বা লেবাননের মতো একটা দেশে পরিণত করতে— যাকে যখন খুশি আঘাত হানা যায়।”
ইউরোপীয় দেশগুলো যদি আবার ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে ইসরায়েলের সামনে আবার যুদ্ধের সুযোগ আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এতে সিদ্ধান্ত হয়, আগস্টের মধ্যে কোনো নতুন পরমাণু চুক্তি না হলে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলো আবার কার্যকর হবে।
২০১৫ সালে ইরান ও কয়েকটি পশ্চিমা দেশের মধ্যে পরমাণু চুক্তি হলে এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
এখন যদি ইউরোপও সেই পথ অনুসরণ করে, তাহলে ইরান পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি থেকেও বেরিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর এটাই ইসরায়েলের জন্য আবার হামলার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ইসরায়েলের রাইখমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানবিষয়ক অধ্যাপক মেইর জাভেদানফার বলেন, ইসরায়েল যুদ্ধ করতে চাইলে এমন প্রমাণ দিতে হবে, যাতে বোঝা যায় ইরান আবার পরমাণু কর্মসূচি চালু করছে। তবে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমতি ছাড়া ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধ শুরু করা কঠিন হবে।
গোপন অভিযান
যুদ্ধ শুরুর সম্ভাবনা ততটা ঘনিভূত না হলেও নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ইতোমধ্যেই ইরানে গোপন অভিযান চালাচ্ছে। যার ফলে সেখানে একের পর এক বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটছে।
তিনজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও এক ইউরোপীয় কূটনীতিকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্ল্যাট, রিফাইনারি, বিমানবন্দরের পাশে ও জুতার কারখানায় আগুন বা বিস্ফোরণের পেছনে ইসরায়েলেরই হাত রয়েছে।
ওয়াশিংটনের থিংকট্যাংক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির বিশ্লেষক নেগার মরতাজাভি বলেন, “নেতানিয়াহু এমন একটা কৌশল বের করেছেন যাতে ট্রাম্পের আপত্তি সত্ত্বেও ইরানে নির্বিঘ্নে হামলা চালানো সম্ভব হচ্ছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে যেভাবে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, তাতে তারা স্থানীয় এজেন্ট ও ড্রোন ব্যবহার করে সহজেই অভিযান চালাতে পারছে।
ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক ওরি গোল্ডবার্গ বলেন, “ইসরায়েল ইরানে একটি সুসংগঠিত নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এ ধরনের নেটওয়ার্ক মাঝেমধ্যে কিছু করে দেখাতে চায়— এটা কৌশলগত না হলেও কাজটা করা জরুরি হয়ে পড়ে।”
নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা
নেতানিয়াহু একসময় সংঘাত এড়িয়ে চলার পক্ষপাতী ছিলেন বলে ধরা হলেও, এখন তিনি সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন এবং ইরানসহ আশপাশের দেশগুলোতে বারবার হামলা চালাচ্ছেন। এর পাশাপাশি গাজায় চালানো নিপীড়নের মাত্রাও বাড়ছে।
গাজা নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে মতবিরোধ থাকলেও ইরান বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য রয়েছে। ওরি গোল্ডবার্গ বলেন, “নেতানিয়াহু যদি মনে করেন, তার অবস্থান বিপদের মুখে, তাহলে তিনি ইরানকে আঘাত করে জনগণকে আবার নিজের পক্ষে একত্রিত করার চেষ্টা করবেন।”
অন্যদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান দ্বিতীয়বার আর প্রস্তুতিহীন থাকবে না। নেগার মরতাজাভি বলেন, “ইরান জানে যে একটি কূটনৈতিক চুক্তি হলে ইসরায়েল হামলার সুযোগ হারাবে। তাই তারা চায় আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করতে।”
সূত্র: আল জাজিরা
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য