শিরোনাম
ভারতীয় ফ্লাইটের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা ২৩ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ
পাকিস্তান তার আকাশসীমা ব্যবহার নিয়ে ভারতের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ফলে আগামী ২৩ আগস্ট পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে জিও নিউজ।
পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন করে একটি নোটিশ জারি করে জানিয়েছে, ভারতের রেজিস্ট্রেশনের অধীনে থাকা সকল ধরনের বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। নতুন নোটিশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভারতের নিবন্ধিত কোনো বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা দিয়ে ওভারফ্লাইট, ট্রানজিট বা অন্য কোনোভাবে চলাচল করতে পারবে না।
এই নিষেধাজ্ঞা প্রথম শুরু হয়েছিল গত ২৩ এপ্রিল থেকে এবং তখন থেকে নিয়মিতভাবে নবায়ন করা হচ্ছে। পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে এবং কোনো ধরনের ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হবে না।
ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের পেহেলগাম এলাকায় প্রাণঘাতী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ওই ঘটনার পর ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়, যার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানও ভারতের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।
পহেলগাম হামলার পর ভারত পাকিস্তানে হামলা চালায়, যাতে কয়েকজন পাকিস্তানি নিহত হন। এর পাল্টা জবাবে পাকিস্তানও ভারতের উপর হামলা চালায়। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করে এবং শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়।
আকাশসীমা বন্ধের ফলে ভারতের বিমান সংস্থাগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। লম্বা রুটের ফ্লাইটগুলোকে পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে যেতে বাধ্য হওয়ায় অতিরিক্ত জ্বালানির খরচ এবং যাত্রার সময় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর কয়েক কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আ.লীগ নেতাদের ভারতে আশ্রয় নিয়ে মমতার বিস্ফোরক মন্তব্য
ভারত সরকারের মদদেই বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা কলকাতায় রয়েছেন বলে ইঙ্গিত করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম উল্লেখ না করে মোদী সরকারকে আক্রমণ করে মমতা বলেছেন, কয়েকজন অতিথিকে তো ভারত সরকার রেখে দিয়েছে। আমি কি তাতে বাধা দিয়েছি? দিইনি। তার কারণ রাজনৈতিক বিষয় আছে।
পার্শ্ববর্তী দেশ বিপদে পড়েছে বা ভারত সরকারের অন্য কোনো বিষয় আছে, কই এ নিয়ে তো আমরা কোনোদিন কিছু বলিনি। তাহলে আপনারা কেন ‘বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি’ এমন তকমা দিচ্ছেন?
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) নিউটাউনে এক অনুষ্ঠানে বাঙালি হেনস্থার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভারত সরকার তো আমাদের অতিথি হিসেবে কয়েকজনকে রেখেছে, আমি কি না বলেছি? আশ্রয়ের কারণ হিসেবে পার্শ্ববর্তী দেশ বিপদে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, বাংলাদেশিদের নিয়ে যদি এতো সমস্যা হয়, তাহলে কিছু বাংলাদেশিকে ভারত সরকার অতিথি করে রেখেছে কেন? তাদের রাখা নিয়ে এখনও অবদি পশ্চিমবঙ্গ সরকার কোনো আপত্তি করেনি।
মোদী সরকারের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ‘একজন ভারতীয়, দেশের যেকোনো জায়গায় যেতে পারেন। কিন্তু, বিভিন্ন রাজ্যে বাংলায় কথা বললেই, বাংলাদেশি বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের নির্বাসন করার কথা বলা হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশি নয়, ভারতের ভিন রাজ্যগুলোয় বাংলাভাষীদের রোহিঙ্গা বলা হচ্ছে।’
এসময় তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির ফলে ভারতে আসা উদ্বাস্তুরা সবাই অবশ্যই ভারতের নাগরিক। বাংলাদেশি কোনোভাবেই নয়।’
মমতা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হচ্ছে, বাংলা ভাষায় কথা বললেই রিপোর্ট করে দেওয়া হবে। ওরা জানে না, বাংলা ভাষায় কথা বলা মানুষের সংখ্যা এশিয়ায় দ্বিতীয়। আর বিশ্বে পঞ্চম।’
পশ্বিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির সময়েই বাংলাদেশ থেকে উদ্বাস্তুরা ভারতে এসেছিল। ওই সময় যে উদ্বাস্তুরা ভারতে এসেছিলেন, তারা বর্তমানে ভারতের নাগরিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী অনেকেই দেশভাগের আগে এসেছেন বা ১৯৭১ সালে ভারতে চলে আসার আগে জন্ম হয়েছে। তাদের বাংলা ভাষায় টান রয়েছে। কিন্তু তারা বাংলাদেশি নন, সবাই ভারতীয়।’ তিনি বলেন, ‘বাংলায় বাংলাদেশি টান থাকতেই পারে। ওপার বাংলায় তারা ছিলেন এটা ভুলে গেলে চলবে না।’
‘আলোচনার আড়ালে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংলাপকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে। ইরানের এক উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন শান্তির নামে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও, প্রকৃতপক্ষে সেটি যুদ্ধের পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া আর কিছু নয়। খবর: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
গতকাল বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি ওই কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ‘আমাদের গোয়েন্দা তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার নামে যুদ্ধের পরিকল্পনা করছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি, আলোচনায় সময় নষ্ট না করে সংঘাতের প্রস্তুতির দিকেই নজর দেওয়া উচিত।’
তাঁর ভাষায়, ‘আমরা মনে করি, আলোচনার লক্ষ্য আসলে ইরানকে নিরস্ত্র করা, যাতে আসন্ন যুদ্ধে ইসরায়েলের দুর্বলতা ঢেকে রাখা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো নতুন আলোচনার আগে আমাদের নিশ্চিত হতে হবে—এটি যেন কোনো নিরাপত্তা-প্রতারণার ছল না হয়। এজন্য দরকার কঠিন এবং বাস্তবমুখী গ্যারান্টি।’
এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বলেন, গত মাসের মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এমনভাবে ধ্বংস হয়েছে, যা আর আগের অবস্থায় ফিরবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় আমাদের তাড়া নেই।‘
অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তা প্রেস টিভিকে বলেন, ‘ভবিষ্যতে যদি আলোচনার নতুন কোনো উদ্যোগ আসে, তাহলে তা অবশ্যই ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের ক্ষতিপূরণ ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করেই শুরু করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিশ্চয়তা চাই যে, স্টিভ উইটকফ শান্তিপূর্ণ সমাধানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আসছেন, যুদ্ধ উসকে দেওয়ার জন্য নয়। যদিও এ ধরনের গ্যারান্টি পাওয়া কঠিন, তবুও আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি সুযোগ দিতে রাজি আছি। আমরা তাদের বক্তব্য শুনব এবং দেখব তারা বাস্তবে কী করে।
উল্লেখ্য, হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর আগে তেহরানের সঙ্গে পাঁচ দফা বৈঠকে অংশ নেন। কিন্তু আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই ইসরায়েল ৬০ দিনের সময়সীমা শেষে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে।
১২ দিনব্যাপী সেই যুদ্ধে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় শতাধিক ইরানি নিহত হন, যাঁদের মধ্যে সাধারণ মানুষ, সেনাসদস্য এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানীরাও ছিলেন। এর জবাবে ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ২৭ জন ইসরায়েলি নাগরিককে হত্যা করে।
এরপর ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয় এবং ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায়—ইসফাহান, নাটাঞ্জ ও ফরদো—দীর্ঘপাল্লার বোমারু বিমান ও সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
২৪ জুন তেহরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান ও ইসরায়েল অস্ত্রবিরতিতে পৌঁছায়।
সব মিলিয়ে এই সংঘর্ষ-সংলাপের আবহে তেহরান এখন স্পষ্টভাবে বলছে—কেবল কথা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর ও স্পষ্ট পদক্ষেপ দেখতে চায় তারা। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের শঙ্কা আবারও তীব্র হয়ে উঠছে।
ইমরান খানকে ‘ডেথ সেলে’ বন্দি রাখা হয়েছে, দাবি পিটিআইয়ের
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির প্রধান বিরোধী নেতা ইমরান খানকে ‘ডেথ সেলে’ বন্দি করে অমানবিকভাবে রাখা হয়েছে। এমনকি আইনজীবী ও নিকট আত্মীয়দের সঙ্গেও তাকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।
এমনটাই দাবি করেছে ইমরান খানের প্রতিষ্ঠিত দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইমরান খানকে ‘ডেথ সেলে’ বন্দি রাখা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় তথ্য সচিব শেখ ওয়াকাস আকরাম অভিযোগ তোলেন।
তিনি জানান, ইমরান খানকে দিনে ২২ ঘণ্টা একা একটি কক্ষে আটকে রাখা হচ্ছে। তাকে পত্রিকা, টেলিভিশন বা বই পড়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি আইনজীবী ও নিকট আত্মীয়দের সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।
আকরাম বলেন, “এই অবস্থা আসলে এক ধরনের মানসিক নির্যাতন এবং মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের নামান্তর।”
পিটিআইয়ের এই মুখপাত্র দাবি করেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইমরান খানের ছয়জন নির্ধারিত ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করার অধিকার রয়েছে, কিন্তু সেটিও লঙ্ঘন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এটা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবিকেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না, আর ইমরান খানের বোন আলিমা খান পর্যন্ত তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারছেন না।
পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতির প্রতি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে আকরাম বলেন, “আদালতের আদেশ যেভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে, তাতে শুধু বিচার বিভাগের মর্যাদাই ক্ষুণ্ন হচ্ছে না, বরং দেশের পুরো বিচারব্যবস্থাকে উপহাস করা হচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনে আকরাম আরও দাবি করেন, কারাগারে বন্দি পিটিআই নেতাদের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে এবং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, (সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী) শাহ মেহমুদ কুরেশির শারীরিক অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে।
অর্থনৈতিক ইস্যুতেও সরকারকে আক্রমণ করে আকরাম বলেন, গত ১৫ মাসে পেট্রোলের দাম বেড়েছে ৮২ শতাংশ, যেখানে পিটিআই সরকারের আমলে মাত্র ৫১ রুপি বেড়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, “বর্তমান সরকার ভর্তুকি বাতিল করে পেট্রোলের দাম ২২০ রুপিতে তুলে দিয়েছে।”
আবার হামলার প্রস্তুতি ইরানের, হুঁশিয়ারি সেনাপ্রধানদের
ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আবারও শত্রুদের ওপর আঘাত হানতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুই বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি এবং আইআরজিসি কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুরের এক বৈঠকে এই বার্তা দেওয়া হয়। খবর মেহর নিউজ এজেন্সির।
বৈঠকে জেনারেল পাকপুর বলেন, ‘আইআরজিসি সদস্যদের মনোবল অত্যন্ত দৃঢ় এবং আমরা পূর্ণ সমন্বয়ে প্রস্তুত আছি শত্রুদের ওপর পুনরায় আঘাত হানার জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘১২ দিনের যুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে আমি বলব, ইরানি জনগণের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। জনগণের মহাকাব্যিক সমর্থনেই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল যুদ্ধ ও ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইরানি জাতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সাহসিকতা ও ঐক্য এই যুদ্ধ জয় এনেছে। আমরা একসঙ্গে আছি। শত্রুরা কখনও আমাদের পরাজিত করতে পারেনি।’
জেনারেল পাকপুর আরও বলেন, ‘যুদ্ধের শেষদিকে ইহুদিবাদীরা প্রতিশ্রুত নরক নিজের চোখে দেখেছে। আমরা আগ্রাসীদের ছাড় দেব না। যুদ্ধ যদি আবার শুরু হয়, তাহলে যেখানে থেমেছিল, সেখান থেকেই আমরা তা আবার শুরু করব।’
অপরদিকে, জেনারেল হাতামিও শহীদ আইআরজিসি কমান্ডার, বিশেষ করে লেফটেন্যান্ট জেনারেল সালামির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের অবদান আইআরজিসি ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, ‘শত্রুতাপূর্ণ ইহুদিবাদী রাষ্ট্র শুধু অঞ্চলের নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই হুমকি। তারা মুসলিমদের শত্রু এবং সুযোগ পেলে আশপাশের দেশগুলোতেও আঘাত হানবে।’
জেনারেল হাতামি আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি হাতে-হাত রেখে, এক আত্মিক বাহিনী হিসেবে ইসলামি ইরানের নিরাপত্তা, শক্তি ও মর্যাদা রক্ষায় কাজ করে যাবে।’
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে এবং ১২ দিনব্যাপী ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও আবাসিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইস্পাহানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
জবাবে ইরানি বাহিনী দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মহাকাশ ইউনিট ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’র আওতায় ইসরায়েলের দখলকৃত এলাকাজুড়ে ২২টি পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে একগুচ্ছ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যা পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি।
সবশেষে, ২৪ জুন কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতিতে এই সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য