ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল ইরাক

অনলাইন ডেস্ক
১৩ জুলাই, ২০২৫ ২০:৩৭
অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল ইরাক

মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র থেকে চিরশত্রু ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিল ইসরায়েল। এ লক্ষ্যেই আমেরিকার গ্রিন সিগন্যাল নিয়ে গত ১৩ জুন হঠাৎ ঘুমন্ত ইরানিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নেতানিয়াহুর বাহিনী। অপারেশন রাইজিং লায়ন নামের ওই বিমান হামলায় ইসরায়েল বিশ্বের তাবৎ আইন লঙ্ঘন করে। এমনকি এই হামলায় লঙ্ঘন করেছে ইরাকের আকাশসীমাও। এতে ক্ষুব্ধ বাগদাদ। শত্রু দেশের এমন আচরণের মোক্ষম জবাব দিতে এবার ইরাক নিয়েছে কড়া ব্যবস্থা।

আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। বিশেষ করে পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানো আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু তাও লঙ্ঘন করেছে নেতানিয়াহুর বাহিনী। এমনকি হামলা চালাতে গিয়ে অবৈধভাবে ব্যবহার করে ইরাকের আকাশসীমা। কিন্তু তখন কিছুই করার ছিল না বাগদাদের। কেননা দেশটির হাতে নেই কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বিনা অনুমতিতে ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করায়, তা হজম হচ্ছে না ইরাকের। বিবিসি ফার্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই কথাই বলেছেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাইইয়া আল সুদানি।

কিন্তু ইসরায়েলের বিমানবাহিনীকে শায়েস্তা করতে না পারায় ফুঁসছেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ইসরায়েল আকাশসীমা লঙ্ঘন করলেও কিছু করতে পারেনি তার দেশ। কারণ তাদের কাছে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কোনো প্রযুক্তি নেই। এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিতে চেয়েছিল ইরাক। কিন্তু আমেরিকার বাধার মুখে ভেস্তে যায় সেই প্রচেষ্টা।

তবে ইসরায়েল যে ভুল ধারণার মধ্যে আছে, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন আল-সুদানি। তার ভাষায়, ইরানি শাসক গোষ্ঠীর সমর্থক অনেক বেশি। তাই সহজেই ইরানে সরকার বদলানো যাবে না। এমনকি যুদ্ধের সময় ইরানের সরকার বিরোধীরাও শাসক শ্রেণির পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। আর এটাই ইরানের জাতীয় পরিচয়ের অংশ, যা নিয়ে তারা সবসময় গর্ব করে থাকে।

অবশ্য এরই মধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে ইরাক। দেশটির পার্লামেন্টারি সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটির প্রধান করিম আলিউয়ি আল মোহাম্মাদাউয়ি জানান, ইসরায়েলের বিমানবাহিনী ইরাকের আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে বাগদাদ। এর অংশ হিসেবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরাক আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছে।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

হামলার ভয়ে হেলমেটে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে ঘুরছেন যুবক

অনলাইন ডেস্ক
১৩ জুলাই, ২০২৫ ১৮:৪৮
অনলাইন ডেস্ক
হামলার ভয়ে হেলমেটে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে ঘুরছেন যুবক

মাথায় হেলমেট লাগিয়ে তাতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে রাস্তায় ঘুরছেন এক যুবক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ডাকা হচ্ছে ‘হেলমেট ম্যান’ নামে। বিষয়টি মজার মনে হলেও ওই যুবক বলছেন, হামলার ভয়েই হেলমেটে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে ঘুরছেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮ জানিয়েছে, হেলমেটে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে ঘোরা ওই যুবকের নাম সতীশ চৌহান। তিনি ভারতের ইন্দোর শহরের বাসিন্দা। সম্প্রতি তার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায়—তিনি কালো রঙের একটি হেলমেটে ছোট একটি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে রাস্তায় হাঁটছেন।

ভিডিওতে সতীশ বলেন, প্রতিবেশী বলিরাম চৌহান ও মুন্না চৌহানের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে তীব্র বিরোধে জড়িয়েছেন তিনি। একারণে তিনি যে কোনো সময় নিজের ওপর হামলার আশঙ্কা করছে। নিরাপত্তার জন্য তিনি হেলমেটে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে ঘুরছেন, যাতে তার ওপর কোনো হামলা হলে পুলিশ হামলাকারীদের শণাক্ত করতে পারেন।

সতীশ জানান, তার প্রতিবেশীরা তার জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং প্রায় প্রতিদিনই এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হচ্ছে। এতে তার পরিবার আতঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি একাধিকবার ইন্দোরের হিরানগর থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ অভিযোগ নেয়নি, কোনো ধরনের নিরাপত্তাও দেয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমি বহুবার প্রশাসনের দ্বারে গিয়েছি, কিন্তু কেউ আমার কথা শোনেনি। শেষ পর্যন্ত, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য নিজেই ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, অনেকে ভাবতে পারেন এটা কোনো নাটক। কিন্তু আমার জন্য এই হেলমেট-ক্যামেরা হলো ঢাল। যদি আমার বা পরিবারের কারও ক্ষতি হয়, তাহলে অন্তত প্রমাণ থাকবে যে আমাদের সঙ্গে কী ঘটেছে।

সতীশের এই উদ্যোগ যেমন সামাজিক মাধ্যমে হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে, তেমনি বহু মানুষ এটিকে এক দুঃখজনক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হিসেবেও দেখছেন।

এক্স (সাবেক টুইটার)-এ অনুরাগ দ্বারী নামে একজন এই ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘দেখতে যেমন অদ্ভুত লাগছে, বিষয়টি ততটাই সিরিয়াস। প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সুরক্ষা না পেয়ে মানুষ আজ নিজেই নিজের প্রহরী হয়ে উঠতে বাধ্য হচ্ছে।’

ইন্দোর পুলিশ সতীশের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছে। এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সতীশের বিরোধ পুরোনো এবং তা ইতোমধ্যেই শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা উভয় পক্ষকে মীমাংসার জন্য আহ্বান জানিয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। নতুন কোনো তথ্য সামনে এলে তা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনেকে বলছেন, এই ঘটনাটি সামাজিক বাস্তবতার একটি করুণ চিত্র তুলে ধরে—যেখানে নাগরিক নিজেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়, কারণ রাষ্ট্র তাকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে পারছে না।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    এবার ইসরায়েলে নেতানিয়াহু সরকারের পতনের ডাক

    অনলাইন ডেস্ক
    ১৩ জুলাই, ২০২৫ ১৮:২৯
    অনলাইন ডেস্ক
    এবার ইসরায়েলে নেতানিয়াহু সরকারের পতনের ডাক

    গাজা যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—এমনটাই বলছেন ইসরায়েলের বিরোধী নেতা ইয়াইর গোলান। শনিবার তিনি স্পষ্টভাবে নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, ‘জীবন বাঁচাতে এবং দেশকে রক্ষা করতে হলে এই সরকারকে অবিলম্বে বিদায় নিতে হবে।’

    গোলান দাবি করেন, মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেই প্রমাণ মিলেছে- নেতানিয়াহু, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার স্বার্থে বন্দি মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাগুলো বারবার নস্যাৎ করেছেন।

    এক্স (টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা গোলান বলেন, ‘এই চুক্তি বাধাগ্রস্ত করছেন নেতানিয়াহু ও তার উগ্রপন্থি মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সেনা ও বন্দিদের জীবন তাদের কাছে ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যতটা গুরুত্বপূর্ণ নিজেদের মন্ত্রিত্ব ও পদ রক্ষা করা।’

    তিনি আরও বলেন, ‘নেতানিয়াহু, স্মোত্রিচ ও বেন গাভির হলো চরমপন্থি সংখ্যালঘু গোষ্ঠী, যারা পুরো দেশকে এক নির্মম নরকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বারবার শান্তি প্রচেষ্টা বানচাল করে এরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার খেলায় মেতেছে।’

    গোলানের এই কঠোর মন্তব্য এমন সময় সামনে এলো, যখন নিউইয়র্ক টাইমস তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে জানায়—গাজায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার সিদ্ধান্ত ছিল মূলত রাজনৈতিক। এতে বলা হয়, নেতানিয়াহু এবং তার ডানপন্থি জোটসঙ্গীরা গাজায় যুদ্ধ ও মানবিক সংকট অব্যাহত রেখে নিজেদের ক্ষমতা ও জনসমর্থন ধরে রাখার কৌশল বেছে নিয়েছেন।

    এদিকে বন্দি বিনিময় চুক্তি দ্রুত কার্যকরের দাবিতে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে শনিবার রাতভর হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভকারীরা যুদ্ধ বন্ধ করে গাজায় আটক থাকা ইসরায়েলি বন্দিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান।

    নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ এবং চাপ বাড়ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আহ্বান যুক্তরাজ্যের অর্ধশতাধিক এমপির

      অনলাইন ডেস্ক
      ১৩ জুলাই, ২০২৫ ১৬:৪৯
      অনলাইন ডেস্ক
      ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আহ্বান যুক্তরাজ্যের অর্ধশতাধিক এমপির

      ফিলিস্তিনকে অবিলম্বে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির প্রায় ৬০ জন এমপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে গাজায় চলমান ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নিতেও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

      শনিবার (১২ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

      সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। লেবার ফ্রেন্ডস অব প্যালেস্টাইন অ্যান্ড দ্য মিডল ইস্ট নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে এই চিঠি পাঠানো হয়।

      এতে স্বাক্ষর করেছেন ৫৯ জন লেবার এমপি। তারা দলটির মধ্যপন্থি ও বামঘরানার উভয় অংশের প্রতিনিধি।

      চিঠিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাফাহ শহরের ধ্বংসস্তূপে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প বা তথাকথিত “মানবিক শহর” গড়ে তুলতে চান, যেখানে সব গাজাবাসীকে স্থানান্তর করা হবে। এমপিরা এটিকে “জোরপূর্বক জনগণ সরিয়ে নেওয়া” ও “ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার পরিকল্পনা” বলে অভিহিত করেছেন।

      চিঠিতে লেখা হয়েছে, “গাজার সব ফিলিস্তিনি নাগরিককে রাফাহে নিয়ে গিয়ে বন্দি করে রাখার যে পরিকল্পনার কথা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, তা এক ধরনের জাতিগত নির্মূল প্রক্রিয়া। এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।”

      চিঠিতে এমপিরা আরও দাবি করেছেন, ফিলিস্তিন শরণার্থীদের সহায়তায় জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর অর্থায়ন পুনরায় চালু করা হোক, ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হোক, বন্দি করে রাখা নাগরিকদের মুক্তির বিষয়েও জোর দেওয়া হোক।

      তারা বলেছেন, “আমরা যদি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি না দিই, তাহলে নিজেরাই আমাদের দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান নীতিকে দুর্বল করে ফেলি। এর ফলে এই বার্তা যায় যে বর্তমান দখলদারিত্ব ও স্থিতাবস্থা অব্যাহত রাখা যাবে, যা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ধীরে ধীরে দখল ও অন্তর্ভুক্তির পথ তৈরি করে দেয়।”

      মন্তব্য

      ট্রাম্পকে ড্রোন হামলায় হত্যার হুমকি ইরানের

      অনলাইন ডেস্ক
      ১২ জুলাই, ২০২৫ ১৭:৪৯
      অনলাইন ডেস্ক
      ট্রাম্পকে ড্রোন হামলায় হত্যার হুমকি ইরানের

      ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জীবন ঝুঁকিতে ছিল। এ প্রেক্ষাপটে ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ড্রোন হামলার হুমকি দিয়েছেন।

      ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা জাওয়াদ লারিজানি সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্প আর ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্টে নির্বিঘ্নে সময় কাটাতে পারবেন না। তিনি ইরানি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প এমন কাজ করেছেন, যার ফলে তিনি এখন আর রোদ পোহাতে পারবেন না। একটি ছোট ড্রোন যে কোনো সময় তার নাভিতে আঘাত করতে পারে। এটি খুবই সহজ কাজ।

      রিজানি ইরানের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য এবং খামেনির দীর্ঘদিনের সহযোগী। তার এই বক্তব্য এসেছে এমন সময়, যখন 'ব্লাড প্যাক্ট' নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আলোচনায় উঠে এসেছে। এই প্ল্যাটফর্মটি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জীবনকে হুমকি দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

      ব্লাড প্যাক্টের দাবি, তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ১০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করছে। ইতোমধ্যেই তাদের সংগ্রহ চার কোটির বেশি ডলারে পৌঁছেছে বলে তারা জানিয়েছে। ওয়েবসাইটটিতে লেখা রয়েছে, যারা আল্লাহর শত্রু এবং সর্বোচ্চ নেতার জীবনকে হুমকিতে ফেলেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য পুরস্কার দেওয়া হবে।

      ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট সংবাদ মাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সিও এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। তারা দেশ-বিদেশের ইসলামি গোষ্ঠীগুলোকে পশ্চিমা দূতাবাস ও বড় সমাবেশস্থলগুলোতে বিক্ষোভ করার আহ্বান জানিয়েছে।

      তিপূর্বে ইরানের কয়েকজন শীর্ষ ধর্মীয় নেতা ও রাজনীতিবিদ ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইসলামি শাস্তি 'মোহারেবেহ' (আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ) প্রয়োগের দাবি তুলেছে। ইরানি আইনে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

      উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরাকের বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হন। এই হামলার নির্দেশ ট্রাম্পই দিয়েছিলেন। এর পর থেকে ইরানে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ট্রাম্পকে হত্যার একাধিক পরিকল্পনা করেছে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য
        সর্বশেষ সংবাদ
          সর্বাধিক পঠিত