ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

মস্কো ও বেইজিংয়ে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প, চাঞ্চল্যকর অডিও ফাঁস

অনলাইন ডেস্ক
৯ জুলাই, ২০২৫ ১৭:১৪
অনলাইন ডেস্ক
মস্কো ও বেইজিংয়ে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প, চাঞ্চল্যকর অডিও ফাঁস

ইউক্রেনে হামলা ঠেকাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে কড়া বার্তায় হুমকি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, পুতিন ইউক্রেনে হামলা করলে, তিনি মস্কোয় বোমা ফেলে প্রতিশোধ নেবেন। এছাড়া তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়েও বোমা ফেলারও হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। গত বছর নির্বাচনী প্রচারের সময় ব্যক্তিগত অনুদানকারীদের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প এমন দাবি করেন। ওই কথোপকথনের একটি অডিও হাতে পেয়েছে সিএনএন।

২০২৪ সালে এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে আলাপের অডিওটিতে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পুতিনকে বলেছিলাম, তুমি ইউক্রেনে ঢুকলে আমি মস্কোয় বোমা ফেলব। আমি বলছি, আমার আর অন্য কোনো বিকল্প নেয়। তারপর পুতিন আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার কথা বিশ্বাস করি না।’ তবে অন্তত ১০ ভাগ হলেও তিনি আমার কথা বিশ্বাস করেছিলেন।’

ওই বৈঠকে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তাইওয়ান ইস্যুতে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকেও একই ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন। ট্রাম্প তাকে বলেছিলেন, যদি চীন তাইওয়ানে হামলা করে, তাহলে তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র বেইজিংয়ে বোমা ফেলবে। ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (শি জিনপিং) ভেবেছিলেন আমি উন্মাদ।’ 

আরও পড়ুন: চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারতের প্রতিরক্ষা প্রধান

২০২৪ সালে নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় তার দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছিলেন ট্রাম্প, যা অডিও টেপে রেকর্ড করা হয়। পরে সাংবাদিক জোশ ডসি, টাইলার পেজার ও আইজ্যাক আর্নসডরফ ওই অডিওগুলো সংগ্রহ করেন। তারা তাদের নতুন বই ‘২০২৪’-এমন কিছু তথ্য বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন।

অডিও রেকর্ডগুলোতে ট্রাম্পের এমন এক রূপ দেখা গেছে, যা সাধারণত জনসমক্ষে দেখা যায় না। বন্ধ দরজার আড়ালে ধনী দাতাদের মন জয় করতে গিয়ে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি শুধু তাঁর আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির কথাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ করা শিক্ষার্থীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার পরিকল্পনার কথাও বলেছিলেন।

ট্রাম্প পুতিন এবং শি’র সাথে তার কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে যুক্তি দিয়েছিলেন যে জো বাইডেনের পরিবর্তে তিনি প্রেসিডেন্ট হলে ইউক্রেন এবং গাজায় সংঘাত বন্ধ করতেন তিনি। এই দাবিটি তিনি এখনও পুনরাবৃত্তি করে চলেছেন, কারণ তিনি এখন উভয় যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চেষ্টা করছেন।

২০২৪ সালের তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আরও জানান, তিনি ছাত্র বিক্ষোভকারীদের নির্বাসনের পরিকল্পনা করছেন। বলেন, ‘আমি একটি কাজ করব তা হলো, কোনও ছাত্র প্রতিবাদ করলে, আমি তাদের দেশ থেকে বের করে দেব।’

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা

    ট্রাম্পের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে ইলন মাস্কের ‘আমেরিকা পার্টি’

    অনলাইন ডেস্ক
    ৮ জুলাই, ২০২৫ ২০:৩৭
    অনলাইন ডেস্ক
    ট্রাম্পের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে ইলন মাস্কের ‘আমেরিকা পার্টি’

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইলন মাস্কের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনাকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিলেও বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই উদ্যোগ রিপাবলিকানদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যখন কংগ্রেসে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সীমিত।

    মঙ্গলবার (৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

    গত সপ্তাহে ইলন মাস্ক ‘আমেরিকা পার্টি’ চালু করেছেন, যা ট্রাম্পের একটি বিশাল ঘরোয়া নীতিমালার বিল সই করার পরের পর্যায়ে এলো। মাস্ক ওই বিলের সমালোচনা করে বলেছেন, এতে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়বে।

    টেসলার প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক বিস্তারিত নীতিমালা না দিলেও ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আগামী বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের কিছু আসন লক্ষ্য করবেন, যেখানে সংশ্লিষ্ট রিপাবলিকানরা বাজেট দায়িত্বের কথা বলার পরও ট্রাম্পের বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাবেক রিপাবলিকান প্রার্থী ম্যাট শুমেকার বলেন, ‘ইলন মাস্কের ‘আমেরিকা পার্টি’ ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কংগ্রেসে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা যেহেতু অল্প, তাই তাদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’

    মাস্কের বিপুল সম্পদ এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা তাকে অন্য তৃতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে আলাদা করেছে। জুনে মাস্কের করা এক অনলাইন জরিপে ৫৬ লাখের বেশি অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৮০ শতাংশ তার নতুন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন জানিয়েছেন।

    শুমেকার এএফপিকে বলেন, ‘মাস্কের ব্র্যান্ড এমন তরুণ ভোটার এবং প্রযুক্তি-সচেতন স্বাধীন ভোটারদের কাছে আকর্ষণীয়, যারা সাধারণত রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকতেন।’

    জনপ্রিয়তায় ট্রাম্পের চেয়ে পিছিয়ে

    ৪০৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক মাস্ক রাজনীতিতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে আগ্রহী। ট্রাম্পের ২০২৪ সালের প্রচারণায় তিনি ২৭৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন। তবে উইসকনসিনে একটি স্থানীয় নির্বাচনে ২০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেও তার সমর্থিত প্রার্থী হেরে যাওয়ায় দেখা গেছে, অর্থ ও খ্যাতিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

    নেইট সিলভার পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে মাস্কের নেট ফেভারেবিলিটি মাইনাস ১৮.১, যেখানে ট্রাম্পের মাইনাস ৬.৬।

    ওয়াশিংটন কলেজের রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফ্লাভিও হিকেল বলেন, ‘আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় রিপাবলিকান ঘাঁটি এবং MAGA আন্দোলন একেবারে অভিন্ন হয়ে গেছে। মাস্কের কোনো রাজনৈতিক প্রকল্প ট্রাম্পের পক্ষে থাকা ভোটারদের কাছ থেকে ভোট কেড়ে নেবে, তা কল্পনা করা কঠিন।’

    তৃতীয় দলের ইতিহাস

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় দলের প্রার্থীরা খুব কমই নির্বাচনে জিততে পেরেছেন। গত শতকে নিউইয়র্কের কনজারভেটিভ পার্টি এবং ফার্মার-লেবার পার্টি একমাত্র দুটি ছোট দল যারা সিনেট আসন জিততে পেরেছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, তৃতীয় দল হিসেবে আসন জেতা কঠিন হলেও মাস্ক রিপাবলিকানদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারেন, কারণ তিনি রিপাবলিকানদের ভোট কেটে নিতে পারেন বা ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থীর বিপক্ষে প্রাথমিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সহায়তা করতে পারেন।

    গ্লোবাল ক্রাইসিস পিআর ফার্ম রেড বানিয়ানের প্রধান ইভান নায়ারম্যান বলেন, ‘মাস্কের দল আসন জিততে নাও পারে, কিন্তু রিপাবলিকানদের জন্য এটা ব্যয়বহুল হতে পারে। কঠিন আসনগুলোতে কয়েকটি ভোট কেটে নিলেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কা তৈরি হবে।’

    মন্তব্য

    ভয়ংকর আকাশ প্রতিরক্ষা দিল চীন

    ইরানের ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে ঢুকতে পারবে না ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান

    অনলাইন ডেস্ক
    ৮ জুলাই, ২০২৫ ১৯:২৬
    অনলাইন ডেস্ক
    ইরানের ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে ঢুকতে পারবে না ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান

    মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৈরী দুটি দেশ ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্ততায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে দেশ দুটি। তবে এই যুদ্ধবিরতিতে ভরসা করতে পারছে না ইরান।

    তেহরানের আশঙ্কা, যে কোনো সময় আবারো হামলা করতে পারে ইসরায়েল। আর সেই আশঙ্কা থেকেই এবার জোরকদমে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে খামেনি প্রশাসন। ইরান দেখেছে, সর্বশেষ সংঘাতে ইসরায়েলের স্টেলথ ফাইটার গুলোর সামনে কীভাবে অসহায় হতে হয়েছে তাকে। তাই শত্রুকে আকাশেই প্রতিরোধে এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চাইছে তেহরান।

    জানা গেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই চীন থেকে অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের (এসএএম) বিশাল চালান হাতে পেয়েছে ইরান। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই শক্তিশালী, ইরানের আকাশসীমার ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান প্রবেশ করাই কঠিন হয়ে পড়বে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

    মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন একাধিক আরব গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তারা জানান, ২৪ জুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরই চীনা এসএএম HQ-9 বা HQ-16 এর এসব ব্যাটারি ইরানে পৌঁছায়। যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া প্রতিরক্ষা কাঠামো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই এই সরঞ্জাম হস্তান্তর হয়েছে।

    আরেক আরব কর্মকর্তা জানান, ইরান তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে তীব্র গতিতে কাজ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকেও এ অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত রাখা হয়েছে। জানা গেছে, চীন থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার বিনিময়ে ইরান বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করছে।

    চীন বর্তমানে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তৃতীয় দেশের মাধ্যমে চীন নিয়মিতভাবে ইরানি তেল আমদানি করছে, যা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চীনা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের আকাশে ইসরায়েলি আধিপত্যের সমাপ্তি ঘটাতে পারে। কারণ, সম্প্রতি ইসরায়েল ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও সামরিক বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে ধ্বংসাত্মক হামলা চালায়।

    তবে পাল্টা হামলায় ইরানও ইসরায়েলের তেলআবিব ও হাইফার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়।

    বর্তমানে ইরান রাশিয়ার এস-৩০০ ছাড়াও দেশীয় প্রযুক্তির খোরদাদ ও বাভার-৩৭৩ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরিচালনা করছে, যদিও সেগুলো মার্কিন স্টেলথ ফাইটার F-35 প্রতিরোধে পুরোপুরি কার্যকর নয়। তাই চীনা HQ-9 বা HQ-16 এর মতো আধুনিক এসএএম সিস্টেম ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।

    চীন ইতোমধ্যেই পাকিস্তান ও মিসরের মতো মিত্রদের কাছে এসব ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করেছে। এবার ইরানেও তা হস্তান্তর, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      বরখাস্ত হওয়ার পর গাড়িতে মিলল রুশ মন্ত্রীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ

      অনলাইন ডেস্ক
      ৮ জুলাই, ২০২৫ ১৮:১
      অনলাইন ডেস্ক
      বরখাস্ত হওয়ার পর গাড়িতে মিলল রুশ মন্ত্রীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ

      বরখাস্ত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাশিয়ার এক মন্ত্রী ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির তদন্ত কর্মকর্তা। তার শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। 

      রোমান স্তারোভোয়িত নামে ৫৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি রাশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে ক্রেমলিন থেকে ভ্লাদিমির পুতিনের সই করা একটি আদেশে তাকে মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

      সোমবার মস্কোর উপকণ্ঠে একটি গাড়ির ভেতর তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। তদন্ত কর্মকর্তা বলছেন, রোমান স্তারোভোয়িত আত্মহত্যা করেছেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও আত্মহত্যার কথা জানিয়েছে। 

      ২০২৪ সালের মে মাস থেকে তিনি যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তবর্তী কুরস্ক অঞ্চলের গভর্নর ছিলেন। রাশিয়ার এই অঞ্চলের বেশ কিছুটা অংশ দখল করে নিয়েছিল ইউক্রেন। সম্প্রতি সেখানে ইউক্রেনের সেনাদের সঙ্গে রুশ সেনাদের তীব্র লড়াই হয়েছে।

      রাশিয়ার গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, স্তারোভোয়িতকে সরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে কুরস্ক অঞ্চলে দুর্নীতি এবং সীমান্ত অঞ্চল সুরক্ষিত করার তহবিল তছরুপের একটি সম্ভাব্য মামলার যোগসূত্র থাকতে পারে। রাশিয়ার ইনভেস্টিগেটিভ কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, আজ ওদিন্তোসোভো এলাকায় নিজের প্রাইভেট কারের ভেতর সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী রোমান স্তারোভোয়িতের মরদেহ পাওয়া গেছে। তাঁর শরীরে গুলির আঘাতের চিহ্ন ছিল। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

      তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলছেন, এই বরখাস্তের সঙ্গে ‘আস্থাহীনতার’কোনো সম্পর্ক নেই। 

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        যে ১৪ দেশের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ

        অনলাইন ডেস্ক
        ৮ জুলাই, ২০২৫ ১৬:২৮
        অনলাইন ডেস্ক
        যে ১৪ দেশের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ

        যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে 'বাণিজ্যযুদ্ধ' আরও তীব্র করেছেন। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশসহ তুলনামূলক ছোট বাণিজ্য অংশীদার দেশের উদ্দেশে পাঠানো ১৪টি চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে এসব দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন হারে শুল্ক বসবে। সোমবার (স্থানীয় সময়) ১৪ দেশকে পাঠানো চিঠিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক আরোপের এই ঘোষণা দেন।

        পূর্বঘোষিত খাতভিত্তিক শুল্ক যেমন গাড়ি, ইস্পাত বা অ্যালুমিনিয়ামের সঙ্গে এই শুল্ক একীভূত হবে না।

        ওই ১৪ দেশের তালিকায় বাংলাদেশেও রয়েছে। অন্য দেশগুলো হলো- জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, লাওস, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, সার্বিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা, তিউনিসিয়া ও কাজাখাস্তান।

        যে হারে শুল্ক আরোপ হয়েছে

        লাওসের ওপর ৪০ শতাংশ, মিয়ানমারের ওপর ৪০ শতাংশ, কম্বোডিয়া ৩৬ শতাংশ, থাইল্যান্ড ৩৬ শতাংশ, বাংলাদেশ ৩৫ শতাংশ, সার্বিয়া ৩৫ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ৩২ শতাংশ, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ৩০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩০ শতাংশ, তিউনিসিয়া ২৫ শতাংশ, কাজাখাস্তান ২৫ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়া ২৫ শতাংশ, জাপান ২৫ শতাংশ ও মালয়েশিয়ার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

        ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় ওয়ালস্ট্রিটের শেয়ার বাজারে ধাক্কা লাগে। এক ধাক্কায় এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে উল্লেখযোগ্যভাবে ধস নামে। তবে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে তেমন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।

        এমন ঘোষণার পর কেউ পাল্টা শুল্ক আরোপ করলে তার ওপরও সমপরিমাণ বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হবে বলে চিঠিতে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন। তবে এ ক্ষেত্রে তিনি বাণিজ্য আলোচনার সুযোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

        জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে লেখা চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, আপনারা যদি কোনো কারণে শুল্ক বাড়ান, তবে যে হারে বাড়াবেন তা আমাদের ২৫ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে যোগ হবে।

        যুক্তরাষ্ট্রে এই ঘোষণার পর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৮ শতাংশ কমে যায়। যদিও জাপানের নিক্কেই সূচক প্রাথমিক পতনের পর ঘুরে দাঁড়ায় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার ১.৮ শতাংশ বেড়ে যায়।

        এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া ট্রাম্পের এই বাণিজ্যযুদ্ধ বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় তুলেছে। এতে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকেরা নিজেদের অর্থনীতি রক্ষায় তৎপর হয়েছেন।

        ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, আলোচনার সময়সীমা আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যদিও তিনি বলেছেন, সময়সীমা কঠোর হলেও শতভাগ কার্যকর নয়। যদি কেউ বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে আসে, আমরা তা বিবেচনা করব।

        এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বাণিজ্য আলোচক ও এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের সহ-সভাপতি ওয়েন্ডি কাটলার বলেন, সংবাদটি হতাশাজনক হলেও এখনও আলোচনার সুযোগ আছে। খেলা শেষ হয়ে যায়নি।

        এদিকে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

        বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান রয়টার্সকে বলেন, 'এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক খবর। আমরা আশা করেছিলাম শুল্কহার ১০-২০ শতাংশের মধ্যে থাকবে। ৩৫ শতাংশ শুল্ক আমাদের শিল্পের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসবে।'

        বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত পোশাকশিল্প, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ এবং ৪০ লাখের বেশি শ্রমিক নিয়োজিত।

        জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা বলেছেন, উচ্চ শুল্ক এড়াতে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ১ আগস্টের মধ্যে দ্রুত আলোচনা এগিয়ে নিতে প্রস্তাব পেয়েছি। জাপানের প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে চিঠির বিষয়বস্তু বদলাতেও পারে।

        দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা জোরদার করবে এবং কোনো চুক্তিতে গাড়ি ও ইস্পাতের শুল্ক অব্যাহতির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

        ইন্দোনেশিয়া বলেছে, তাদের পক্ষে এখনও আলোচনার সুযোগ আছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ওয়াশিংটন যাচ্ছে দেশটির প্রতিনিধি দল।

        দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ শতাংশ শুল্ক অন্যায্য, কারণ দক্ষিণ আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ৭৭ শতাংশ পণ্যে কোনো শুল্ক নেই।

        চীনের সঙ্গে ১২ আগস্টের মধ্যে একটি চুক্তি না হলে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। চীন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপের পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসবে এবং যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরবরাহ চেইনে চীনকে বাদ দিয়ে চুক্তি করবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

        এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরও কয়েকটি বাণিজ্য ঘোষণা আসবে।

        এছাড়াও ট্রাম্প ব্রিকসভুক্ত (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীনসহ) উন্নয়নশীল দেশগুলোকে হুমকি দিয়েছেন, অ্যান্টি-আমেরিকান নীতিতে চললে তাদের পণ্যে আরও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

        মন্তব্য
        সর্বশেষ সংবাদ
          সর্বাধিক পঠিত