শিরোনাম
রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করলে
ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন ট্রাম্প!
রাশিয়ার সঙ্গে কোনো দেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখলে তাদের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এর প্রভাব পড়তে পারে ভারতেও। ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের ফলে ধাক্কা খেতে পারে ভারতের শেয়ার বাজার।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিনেটের একটি বিলে অনুমোদন দিয়েছে, ভারত ও চীনসহ রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে। সিনেটে ৮৪ জন সদস্য এই বিল সমর্থন করেছেন। অগস্টে এটি পেশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বিল অনুমোদিত হলে তার প্রত্যক্ষ এবং নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয় অর্থনীতিতে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
এ খবর প্রকাশ্যে এনেছেন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। এবিসি নিউজের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আপনি যদি রাশিয়া থেকে পণ্য কেনার পাশাপাশি ইউক্রেনকে সাহায্য না করেন, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা আপনার পণ্যের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ভারত ও চীন পুতিনের ৭০ শতাংশ তেল কেনে। যা রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রকে সচল রেখেছে।
রিপাবলিকান এ সিনেটর জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাকে বলেছিলেন, এখন আপনার বিলটি উপস্থাপনের সময় এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আগে লিন্ডসে গ্রাহামকে আইনের বাধ্যতামূলক শর্তাবলী- যেমন ‘হবে’ এর পরিবর্তে ‘হতে পারে’ এর মতো আরও বিচক্ষণ শব্দ ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। যাতে এর বাধ্যতামূলক প্রয়োগের বিধানগুলোকে দুর্বল করা যায়।
নতুন বিলটি ভারত ও চীনকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে
প্রস্তাবিত শুল্কগুলো ভারত ও চীনকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করবে। পরিসংখ্যান বলছে, ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে সর্বকালের সর্বোচ্চ ৬৮.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা মহামারী-পূর্বে ১০.১ বিলিয়ন ডলারের পরিসংখ্যান থেকে বেশি।
ভারতের বর্ধিত রপ্তানি এবং রাশিয়ান তেল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের উল্লেখযোগ্য আমদানির কারণে এই বৃদ্ধি মূলত ইন্ধন পেয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর হওয়ায় উভয় দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
ইসরায়েলের ‘গণহত্যায়’ জড়িত যেসব কোম্পানি, তালিকা দিলো জাতিসংঘ
ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ নতুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। এতে তিনি দেখিয়েছেন ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত এবং গাজায় গণহত্যা চালাতে কোন কোন আন্তর্জাতিক কোম্পানি সহায়তা করছে। এর সঙ্গে জড়িত সেগুলোর তালিকা দিয়েছেন তিনি।
ফ্রান্সেসকা আলবানিজ নামে এই বিশেষজ্ঞ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলিদের মানবাধিকার লঙ্ঘনগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। তার নতুন প্রতিবেদনটি আগামীকাল বৃহস্পতিবার জেনেভায় একটি সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তিনি তার প্রতিবেদনে ৪৮টি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করেছেন। যারমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট, গুগলের পেরেন্ট কোম্পানি আলফাবেট এবং বহুজাতিক কোম্পানি অ্যামাজন রয়েছে।
এই কোম্পানিগুলো শুধুমাত্র এখন আর ফিলিস্তিনে দখলদারিত্বেই জড়িত না, এগুলো গাজার গণহত্যাতেও সহায়তা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। জাতিসংঘের এ বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এসব কোম্পানি সহযোগিতা করছে বলেই ইসরায়েল এখনো গণহত্যা চালিয়ে যেতে পারছে।
যেসব কোম্পানিকে এই প্রতিবেদনে চিহ্নিত করা হয়েছে
সামরিক খাত: মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন এবং ইতালির লিওনার্দো এসপিএ-এর মতো কোম্পানিগুলো ইসরায়েলকে যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে, যা গাজায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি খাত: মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট (গুগলের পেরেন্ট কোম্পানি), অ্যামাজন, এবং আইবিএম-এর মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে নজরদারি এবং বায়োমেট্রিক ডেটা ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করছে। প্যালান্টির টেকনোলজিস ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি: ক্যাটারপিলার (যুক্তরাষ্ট্র), ভলভো (সুইডেন), এবং হাইডি হুন্ডাই (দক্ষিণ কোরিয়া)-এর মতো কোম্পানিগুলোর ভারী যন্ত্রপাতি ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংস এবং অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পর্যটন ও আবাসন: বুকিং.কম এবং এয়ারবিএনবি-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো দখলকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিতে হোটেল এবং সম্পত্তি তালিকাভুক্ত করে লাভবান হচ্ছে।
জ্বালানি ও সম্পদ: ড্রামন্ড কোম্পানি (যুক্তরাষ্ট্র) এবং গ্লেনকোর (সুইজারল্যান্ড) ইসরায়েলের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা সরবরাহ করছে।
বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান: বিশ্বের দুটি বৃহত্তম অ্যাসেট ম্যানেজার, ব্ল্যাকরক এবং ভ্যানগার্ড— অভিযুক্ত অনেক কোম্পানির প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইনের দায়বদ্ধতা
জাতিসংঘের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমে মানবাধিকার লঙ্ঘন এড়ানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, এই ধরনের কার্যকলাপের জন্য কোম্পানি এবং তাদের কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন।
সূত্র: আলজাজিরা
জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেল ইরান
জাতিসংঘের পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ও সহযোগিতা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এর ফলে সংস্থাটির সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেল তেহরান।
বুধবার (২ জুন) দেশটির গণমাধ্যম মেহের নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরমাণু সংস্থাটির সঙ্গে তার সরকারের সম্পর্ক স্থগিত করার জন্য আইন অনুমোদন করেছেন। এর আগে গত সপ্তাহে আইএইএ’র সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করার জন্য আইন পাস হয় ইরানের পার্লামেন্টে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর ইরানের পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে সংস্থাটির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা না থাকায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। এছাড়া দেশটির অভিযোগ ছিল, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিতে ইসরায়েলের হামলার পর কোনো নিন্দা বা প্রতিবাদ জানায়নি আইএইএ।
ভারতে মন্দিরে নামাজ পড়ায় মুসলিম কর্মচারী গ্রেপ্তার
ভারতে মন্দিরে নামাজ পড়ায় এক মুসলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ওই ব্যক্তির নাম আলী মোহাম্মদ। তিনি ওই মন্দিরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন। দেশটির উত্তর প্রদেশের বদায়ুঁ জেলায় এই ঘটনাটি ঘটেছে।
মূলত মন্দিরে নামাজ আদায়ের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার (১ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, উত্তর প্রদেশের বদায়ুঁ জেলার এক মন্দিরে নামাজ পড়ার দায়ে আলী মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই ব্যক্তি প্রায় ৩৫ বছর ধরে বদায়ুঁর দাতাগঞ্জ এলাকার পাপড় গ্রামে অবস্থিত ব্রহ্মদেব মন্দিরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন।
মূলত তিন মাস আগে ধারণ করা একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনাটি সামনে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, আলী মোহাম্মদ মন্দিরের ভেতরে নামাজ আদায় করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আলী মোহাম্মদ বলেন, “আমি গরু-গোবর পরিষ্কার করে নামাজ পড়েছিলাম। এটা আমার ভুল ছিল। আমি ক্ষমা চাইছি।”
এর আগে কখনও মন্দিরে নামাজ পড়েছেন কিনা পুলিশ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না, না। কেউ কেউ বলেছিল— যেহেতু আপনি এখানে কাজ করেন, চাইলে এখানে নামাজ পড়তে পারেন।”
পুলিশ কর্মকর্তা কেকে তিওয়ারি জানান, “একজন ব্যক্তি মন্দিরে নামাজ পড়ছিলেন, যার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। আমরা তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
এদিকে আলী মোহাম্মদের পরিবার এ ঘটনাকে অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেছে। তার পুত্রবধূ সায়েমা বলেন, “এই বিষয়টা তেমন কিছু না। মিথ্যা গুজব ছড়ানো হয়েছে। উনি পুরো জীবন মন্দিরেই কাটিয়েছেন।”
মন্দিরের পুরোহিত পরমাত্মা দাসও বিষয়টিকে বড় করে না দেখতে অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, “আলী মোহাম্মদ মানসিকভাবে কিছুটা দুর্বল। তিনি বহু ধর্মীয় স্থানে সেবা দিয়েছেন। গত ৩৫ বছর ধরে এই মন্দিরেই কাজ করছেন।”
বন্ধু মাস্কই এখন ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় শত্রু
- ট্রাম্পের ‘বিগ বিউটিফুল বিল’র বিরুদ্ধে ইলন মাস্ক
- যুক্তরাষ্ট্রে নতুন দল ‘আমেরিকান পার্টি’ গঠনের হুমকি
কয়েকদিন আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আতিথেয়তায় ছিলেন বিশ্বসেরা ধনকুবের টেসলা কর্তা ইলন মাস্ক। মার-এ-লাগোর রাজকীয় ডাইনিং টেবিলে বসে একসঙ্গে করেছেন নৈশভোজ। আলোচনায় এসেছে রাজনীতি, অর্থনীতি থেকে শুরু করে পারিবারিক গল্পও। একসময় ট্রাম্পের ‘সরকারি ব্যয় হ্রাস’ অভিযানে মাস্ক ছিলেন ঘরের ছেলে। বিশ্বাসভাজন দক্ষতার দূত। ট্রাম্পের শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন প্রায় ৪ মাস। অথচ হঠাৎ করেই বদলে গেল সম্পর্কের সমীকরণ। গলায় গলায় বন্ধুত্ব ছেড়ে এবার সম্মুখ সমরে নেমেছেন তারা। ট্রাম্পের ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ নিয়েই বেঁধেছে দ্বন্দ্ব।
ট্রাম্প বলছেন, এই বিল কর ও ব্যয় সংকোচন ও সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দেশের আত্মনির্ভরতা গড়ে তুলবে। অন্যদিকে, মাস্ক বলছেন, এ বিল অর্থনীতির গায়ে নতুন ঋণের দাগ বসাতে চলেছে। মাস্ক শুধু সমালোচনাই করেননি বরং, সিনেটরদের ধমকি দিয়ে বলেছেন, এই বিল পাশ হলে পর দিনই তিনি গঠন করবেন নতুন রাজনৈতিক দল- ‘আমেরিকান পার্টি’। অর্থাৎ দিন শেষে, বন্ধু মাস্কই হয়ে উঠলেন বড় শত্রু। ট্রাম্পও অবশ্য থেমে থাকেননি। কটাক্ষ করেন মাস্ককে বলেছেন, ‘ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি খাওয়া ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক! তার পুরো ব্যবসা দাঁড়িয়ে আছে করদাতাদের পয়সায়। ভর্তুকি বন্ধ হলে ওকে টেসলা ফ্যাক্টরি নয়, লাগেজ গুছিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যেতে হবে।’ বন্ধুত্ব থেকে শত্রুতার এই দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মার্কিন রাজনীতি। এএফপি, সিএনএন, আলজাজিরা, সিবিএস।
মঙ্গলবার (স্থানীয় সময় সোমবার) ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেট বিল নিয়ে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে চলেছে এ ‘ভোট-এ-রামা’। সিনেটররা একের পর এক ভোটে অংশ নেন। ফলাফল কবে নাগাদ হতে পারে তা এখনো নিশ্চিত করেনি দেশটি। তবে ট্রাম্প ৪ জুলাইয়ের মধ্যে বিলটিতে স্বাক্ষর করে সেটিকে আইনে পরিণত করতে চান। আর এই নিয়েই মূলত রেষারেষি। একের পর এক তোপ ছাড়ছেন ইলন। ট্রাম্প প্রশাসনের পদ ছাড়ার সময় (৩০ মে) নিজেকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বললেও সোমবার আবারও রাজনীতিতে সরব হয়ে উঠেন মাস্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই মার্কিন ধনকুবের লিখেছেন, ‘যেসব কংগ্রেস সদস্য সরকারের খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন, আর পরে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঋণ বৃদ্ধির প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তাদের উচিত লজ্জায় মাথা নিচু করে থাকা। আর আমি যদি এই পৃথিবীতে আমার শেষ কাজ হিসাবেও কিছু করি তাহলেও নিশ্চিত করব যে, তারা যেন পরবর্তী নির্বাচনে প্রাথমিক বাছাইয়েই হেরে যান।’ এর কিছুক্ষণ পরে মাস্ক আরেকটি পোস্টে লিখেছেন, ‘ট্রাম্পের বিগ বিউটিফুল বিল’ সিনেটে পাস হলে ‘আমেরিকা পার্টি’ নামের নতুন দল গঠন করবেন তিনি। মাস্কের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান মিলিয়ে একদলীয় শাসন চলছে। দেশটিতে এমন একটা নতুন রাজনৈতিক দল দরকার, যেখানে সাধারণ মানুষের সত্যিকারের কণ্ঠস্বর শোনা যাবে।
মাস্ক আরও বলেছেন, ‘এই বিলের আওতায় পাগলাটে খরচের কারণে ঋণের পরিমাণ বেড়ে রেকর্ড ৫ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছাবে। এতেই স্পষ্ট হয় যে আমরা এখন একটা ‘একদলীয়’ দেশে বসবাস করছি। যেটাকে বলা যায় ‘পর্কি পিগ পার্টি!’ যেখানে জনগণের প্রকৃত কোনো কণ্ঠ নেই। এখন এমন একটা নতুন রাজনৈতিক দল গড়ার সময় এসেছে, যারা সত্যিকারভাবেই মানুষের কথা ভাববে।’
মাস্ক দাবি করেছেন, বিলটি দেশের ঋণ বাড়িয়ে দেবে, সবুজ জ্বালানি প্রকল্প ব্যাহত করবে এবং অতীতের শিল্পগুলোকে সুবিধা দেবে। যেগুলো ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর। মাস্কের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন সিনেটে ট্রাম্পের এই বিল নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। এই বিল নিয়ে মাস্কের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্ক এখন বেশ তিক্ত।
পালটা গলা ছেড়েছেন ট্রাম্পও। মঙ্গলবার (সিনেটের বাজেট ভোটাভুটির মধ্যেই) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ইলনের ‘ফুলেফেঁপে কলাগাছ’ হয়ে ওঠার গোমড় ফাঁস করেন। বলেন, ‘ইলন যে পরিমাণ সরকারি ভর্তুকি নিচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগে কেউ কখনও এত পরিমাণ ভর্তুকি পায়নি। সব ভর্তুকি বন্ধ করে দিলে তাকে ব্যবসা গুটিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যেতে হবে।’
ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, মাস্কের ব্যবসায় নজর দেওয়ার জন্য ডজকে কাজে লাগানো যেতে পারে। তিনি আরও লেখেন, ‘আর কোনো রকেট উৎক্ষেপণ, স্যাটেলাইট বা ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদন নয়। এতে আমাদের দেশের বিরাট অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হবে। হয়তো ডজকে বলা উচিত, এগুলো নিয়ে ভালো করে তদন্ত করুক। প্রচুর অর্থ বাঁচানো যাবে।’ জবাবে আবার মাস্ক বলেছেন, ‘সব ভর্তুকিই তুলে নিন। এখনই বন্ধ করুন।’
প্রসঙ্গত, বিলটিতে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের কর ছাড়গুলো স্থায়ী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, সীমান্ত নিরাপত্তা ও ‘অবৈধ’ অভিবাসী ফেরতের কর্মসূচিতে অর্থায়নের কথাও বলা হয়েছে। তবে এর সমালোচকরা বলছেন, এটি দেশের ঋণ কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার বাড়াবে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে ব্যাপক কাটছাঁট করতে বাধ্য করবে।
গত বছর অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের পক্ষে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি খরচ করেছেন মাস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, ইলন মাস্কের রাজনৈতিক কার্যনির্বাহী কমিটি ‘আমেরিকা পিএসি’ সর্বশেষ মার্চ মাসে ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত দুটি বিশেষ নির্বাচনের জন্য অর্থ দিয়েছে। র্যান্ডি ফাইন ও জিমি পেট্রোনিস নামের দুই রিপাবলিকান প্রার্থী ওই অর্থ সহায়তা পেয়েছেন। মাস্ক দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া, অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো এবং অবৈধ অভিবাসন বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। যা ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নীতি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় বসার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সির (ডিওজিই) প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিলকে’ নিজের রাজনৈতিক জীবনের বড় সাফল্য হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে চান। বিলটি পাস হলে তার প্রথম মেয়াদে দেওয়া কর ছাড়ের মেয়াদ বাড়বে। যার মূল্য প্রায় সাড়ে ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তাও জোরদার হবে। তবে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে রিপাবলিকানদের মধ্যেই এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কারণ, বিলটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ বেড়ে যাবে এবং লাখ লাখ দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য