শিরোনাম
ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহরের কাছে অবস্থান নিলো এক লাখের বেশি রুশ সেনা
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পোকরোভস্ক শহরের কাছে অবস্থান নিয়েছে রাশিয়ার ১ লাখ ১০ হাজার সেনা। ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার স্রেসকি শুক্রবার (২৭ জুন) জানান, রুশ বাহিনীর শহরটি দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছে।
তিনি বলেছেন, যুদ্ধের ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার সম্মুখভাগের মধ্যে এখন এই জায়গাটি সবচেয়ে উত্তপ্ত।
রুশ সেনারা প্রায় এক বছর ধরে পোকরোভস্ক দখলের চেষ্টা করছে। সেনা ও অস্ত্রের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকলেও রুশ বাহিনী এখনো এটি দখল করতে পারেনি।
পোকরোভস্ক রাশিয়ার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগেই জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য হলো ইউক্রেনের লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক পুরোপুরি দখল করা।
পোকরোভস্ক বড় কোনো শহর না হলেও, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেলপথের কাছে অবস্থিত। এই শহরটির মাধ্যমে সেখানকার অন্যান্য সামরিক হাবগুলো সংযুক্ত হয়েছে। যারমাধ্যমে ইউক্রেনীয় সেনারা এখনো দোনেৎস্কের বৃহৎ অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ হয়েছেন।
শহরটিতে যুদ্ধের আগে ৬০ হাজার মানুষ থাকতেন। কিন্তু এখন বেশিরভাগ বাসিন্দা সেখান থেকে সরে গেছেন।
এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু হলেও; এটি আবার থমকে গেছে। ইউক্রেনের দাবি, রুশ বাহিনী যেন তাদের আরও অঞ্চল দখল করতে পারে সেজন্য আলোচনায় স্থগিত রেখেছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
সূত্র: সিএনএন
গাজায় ৩ দিনে ১৫ ইসরায়েলি সেনা নিহত
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় আজ শুক্রবার এবং গত ২ দিনে অন্তত ১৫ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে এ তথ্য।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, আজ শুক্রবার উত্তর গাজার তুফাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর একটি সাঁজোয়া যানকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরক রকেট ছোড়ে গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের সামরিক শাখা আল কাসাম ব্রিগেড। এতে ওই সাঁজোয়া যানে থাকা ১৭ জন ইসরায়েলি সেনার মধ্যে ৭ জন নিহত হন এবং আহত হন বাকি ১০ জন।
তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার গাজার প্রধান শহর গাজা সিটি এলাকায় আল কাসামের ব্রিগেডের গুলিতে নিহত হন এক ইসরায়েলি সেনা। এছাড়া এ সময় বিস্ফোরক রকেট ছুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর দু’টি মেরকাভা ট্যাংক, একটি সাঁজোয়া যান এবং একটি বুলডোজার ধ্বংস করা হয়।
তার আগের দিন বুধবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে আল কাসাম ব্রিগেডের গুলি ও রকেট হামলায় নিহত হন আরও ৭ জন ইসরায়েলি সেনা। নিহতদের মধ্যে একজন লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদার সেনা কর্মকর্তা ছিলেন।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুসারে, গত মার্চে যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজায় ফের ইসরায়েলি বানিহরি অভিযান শুরু হওয়ার পর এই প্রথম এত অল্প সময়ের ব্যবধানে গাজায় এত সংখ্যক ইসরায়েলি সেনা নিহত হলো।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায় গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যার পাশাপাশি ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় তারা।
হামাসের হামলার জবাব দিতে এবং জিম্মিদের মুক্ত করতে ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সেই অভিযানে এ পর্যন্ত সরকারি হিসেব অনুযায়ী গাজায় নিহত হয়েছেন ৫৬ হাজার ৩৬৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ২৩৯ জন।
টানা ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে টানা অভিযান চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী অন্যান্য দেশগুলোর চাপে বাধ্য হয়ে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ইসরায়েল।
কিন্তু বিরতির দু’মাস শেষ হওয়ার আগেই গত ১৮ মার্চ থেকে ফের গাজায় অভিযান শুরু করে আইডিএফ। সেই সঙ্গে গাজায় খাবার ও অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী প্রবেশেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় শুরু হয়েছে গাজায়।
যে ২৫১ জন জিম্মিকে হামাসের যোদ্ধারা ধরে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন এখনও জীবিত আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করার ঘোষণা দিয়েছে আইডিএফ।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধের জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানিয়েছে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের আদালত নামে পরিচিত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
এই যুদ্ধের শুরু থেকেই মধ্যস্থতার ভূমিকায় আছে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার এই তিন দেশ। কয়েক মাস আগে তেল আবিব এবং হামাস— উভয়পক্ষকে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব দিয়েছিল মধ্যস্থতাকারীরা, কিন্তু কোনো পক্ষই এ পর্যন্ত এ ইস্যুতে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।
পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৩ সেনা নিহত
পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২৯ জন। শনিবার দুপুরে প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলায় ঘটেছে এই ঘটনা।
উত্তর ওয়াজিরিস্তানের একজন সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, “সেনাবাহিনীর গাড়িবহরের মধ্যে একটি বিস্ফোরকবাহী গাড়ি ঢুকে পড়েছিল এবং ঢোকার প্রায় পরপরই ঘটে বিস্ফোরণ। এতে ১৩ জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন। নিতহদের সবাই সেনাবাহিনীর। আহতদের মধ্যে ১০ জন সামরিক বাকে ১০ জন বেসামরিক।”
এছাড়া বিস্ফোরনে ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী দু’টি বাড়ির ছাদ উড়ে গেছে এবং এতে ৬ জন শিশু আহত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
আহত দশ জন সেনার মধ্যে চার জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে হাসপাতালসূত্রে।
আলোচনায় ফেরাতে ইরানকে যেসব ‘লোভ’ দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক অবকাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছিল ইরানের। এরমধ্যে গত ১৩ জুন দখলদার ইসরায়েল ইরানে হামলা করে বসে। দখলদারদের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘ ১২দিন যুদ্ধ হয়।
ইসরায়েল হামলা চালানোর পর ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা থেকে সরে আসে। তবে এখন ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে বিভিন্ন প্রস্তাব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন শুক্রবার (২৭ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে প্রস্তাব দিয়েছে, যদি তারা আলোচনায় আসে তাহলে তাদের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম ছাড়া বেসামরিক কাজের জন্য পারমাণবিক কার্যক্রম চালাতে অন্তত ৩০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবস্থা করে দেবে। সঙ্গে নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকে ইরানের যে ৬ বিলিয়ন ডলার জব্দ করে রাখা হয়েছে সেগুলোতে ছাড় করার ব্যবস্থা করবে।
সিএনএনকে কয়েকজন সূত্র জানিয়েছেন, দখলদার সঙ্গে যুদ্ধ চলার সময়ই ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রতিনিধিদের আলোচনা হয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরও এ আলোচনা চলতে থাকে।
তবে ইরানকে শর্ত দেওয়া হচ্ছে একটাই— ইরান কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না। তবে ইরান জানিয়ে আসছে, বেসামরিক কাজের জন্যই তাদের এ উপাদান লাগবে।
যুক্তরাষ্ট্র এর বিকল্প হিসেবে বলেছে, তারা ইরানকে ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ব্যবস্থা করে দেবে। যারমাধ্যমে সমৃদ্ধকরণ-বহির্ভূত পারমাণবিক কর্মসূচি চালাতে পারবে তেহরান।
সূত্র: সিএনএন
শেখ মুজিবের প্রিয় ‘র’ এজেন্টের মৃত্যু নিয়ে নতুন তথ্য
১৯৭৪ সালে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ঢাকায় মৃত্যু হয়। তাকে গোপন মিশনে ওই সময় ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। এর পরের বছর ১৯৭৫ সালে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানে শেখ মুজিব সপরিবারে সপরিবারে নিহত হন।
ভারতীয় সাংবাদিক মানস ঘোষ তার নতুন বই ‘মুজিবের ভুল’-এ দাবি করেছেন, শেখ মুজিবকে উৎখাতের অংশ হিসেবে ওই ‘র’ এজেন্টকে হয়ত হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে হার্ট অ্যাটাককে উল্লেখ করা হয়েছে।
মানস ঘোষ তার বইয়ে লিখেছেন, “(র এজেন্ট) ফণীন্দ্র নাথ ব্যানার্জির মৃত্যুটা ছিল রহস্যময়। তিনি নাথ বাবু নামে পরিচিত ছিলেন। কলকাতাভিত্তিক ‘র’ কর্মকর্তা ছিলেন তিনি। তার মৃত্যু আমাদের জন্য পীড়াদায়ক ছিল। নাথ বাবু প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং শেখ মুজিবের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম ছিলেন।”
তিনি আরও লিখেছেন, “শেখ মুজিবের মতো ব্যক্তির সঙ্গে নাথ বাবুর সম্পর্ক বজায় রাখা ছিল তার পেশাদারিত্বের একটি সাফল্য। তবে ইন্দিরা গান্ধী শেখ মুজিবের সঙ্গে নাথ বাবুর সম্পর্ককে পেশাদার ও ব্যক্তিগত উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। তিনি ইন্দিরা গান্ধীর কাছে সরাসরি রিপোর্ট করতেন এবং কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই তার কাছ থেকে দিকনির্দেশনা পেতেন।”
ওই ‘র’ এজেন্টের সঙ্গে শুধু শেখ মুজিবেরেই না, তার স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবেরও ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। র এজেন্ট নাথ বাবু বেগম মুজিবের আস্থা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছিলেন।
মানস ঘোষ জানিয়েছেন, নাথ বাবু ঢাকার কূটনীতিক সার্কেলে নিজেকে আড়াল করে রাখতেন। তবে তাজউদ্দিন আহমেদ এবং শেখ মুজিবের বাড়ির মানুষের সঙ্গে তার বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। মুজিবের বাড়িতে তিনি প্রায়ই যেতেন।
এই সাংবাদিক আরও জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর তৎকালীন যেসব কর্মকর্তা শেখ মুজিবকে উৎখাতের পরিকল্পনা করেছিলেন, তারা সম্ভবত ‘র’ এজেন্ট নাথ বাবুকে তাদের মিশনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে দেখেছিল।
তিনি বলেছেন, “তারা সম্ভবত ভেবেছিল নাথ বাবু তাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে জেনেছিলেন এবং মুজিব ও তার পরিবারকে বাঁচানোর জন্য ভারত সরকার হয়ত তাকে নিয়োগ করেছে। তারা ভেবে থাকতে পারেন, নাথ বাবু ঢাকায় থাকলে হয়ত তাদের মিশন সফল করা সম্ভব হবে না।”
কোনো প্রমাণ ছাড়া এ সাংবাদিক তার বইয়ে লিখেছেন, ‘র’ এজেন্ট নাথ বাবু হয়ত খাদ্যে বিষপ্রয়োগের কারণে মারা গেছেন। তিনি মৃত্যুর আগে এক বিখ্যাত সংখ্যালঘু নেতার সঙ্গে বৈঠকের সময় খাবার খেয়েছিলেন।
সূত্র: দ্য হিন্দু
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য