ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

শেখ মুজিবের প্রিয় ‘র’ এজেন্টের মৃত্যু নিয়ে নতুন তথ্য

অনলাইন ডেস্ক
২৮ জুন, ২০২৫ ১৭:২৭
অনলাইন ডেস্ক
শেখ মুজিবের প্রিয় ‘র’ এজেন্টের মৃত্যু নিয়ে নতুন তথ্য

১৯৭৪ সালে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ঢাকায় মৃত্যু হয়। তাকে গোপন মিশনে ওই সময় ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। এর পরের বছর ১৯৭৫ সালে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানে শেখ মুজিব সপরিবারে সপরিবারে নিহত হন।

ভারতীয় সাংবাদিক মানস ঘোষ তার নতুন বই ‘মুজিবের ভুল’-এ দাবি করেছেন, শেখ মুজিবকে উৎখাতের অংশ হিসেবে ওই ‘র’ এজেন্টকে হয়ত হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে হার্ট অ্যাটাককে উল্লেখ করা হয়েছে।

মানস ঘোষ তার বইয়ে লিখেছেন, “(র এজেন্ট) ফণীন্দ্র নাথ ব্যানার্জির মৃত্যুটা ছিল রহস্যময়। তিনি নাথ বাবু নামে পরিচিত ছিলেন। কলকাতাভিত্তিক ‘র’ কর্মকর্তা ছিলেন তিনি। তার মৃত্যু আমাদের জন্য পীড়াদায়ক ছিল। নাথ বাবু প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং শেখ মুজিবের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম ছিলেন।”

তিনি আরও লিখেছেন, “শেখ মুজিবের মতো ব্যক্তির সঙ্গে নাথ বাবুর সম্পর্ক বজায় রাখা ছিল তার পেশাদারিত্বের একটি সাফল্য। তবে ইন্দিরা গান্ধী শেখ মুজিবের সঙ্গে নাথ বাবুর সম্পর্ককে পেশাদার ও ব্যক্তিগত উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। তিনি ইন্দিরা গান্ধীর কাছে সরাসরি রিপোর্ট করতেন এবং কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই তার কাছ থেকে দিকনির্দেশনা পেতেন।”

ওই ‘র’ এজেন্টের সঙ্গে শুধু শেখ মুজিবেরেই না, তার স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবেরও ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। র এজেন্ট নাথ বাবু বেগম মুজিবের আস্থা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছিলেন।

মানস ঘোষ জানিয়েছেন, নাথ বাবু ঢাকার কূটনীতিক সার্কেলে নিজেকে আড়াল করে রাখতেন। তবে তাজউদ্দিন আহমেদ এবং শেখ মুজিবের বাড়ির মানুষের সঙ্গে তার বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। মুজিবের বাড়িতে তিনি প্রায়ই যেতেন।

এই সাংবাদিক আরও জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর তৎকালীন যেসব কর্মকর্তা শেখ মুজিবকে উৎখাতের পরিকল্পনা করেছিলেন, তারা সম্ভবত ‘র’ এজেন্ট নাথ বাবুকে তাদের মিশনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে দেখেছিল।

তিনি বলেছেন, “তারা সম্ভবত ভেবেছিল নাথ বাবু তাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে জেনেছিলেন এবং মুজিব ও তার পরিবারকে বাঁচানোর জন্য ভারত সরকার হয়ত তাকে নিয়োগ করেছে। তারা ভেবে থাকতে পারেন, নাথ বাবু ঢাকায় থাকলে হয়ত তাদের মিশন সফল করা সম্ভব হবে না।”

কোনো প্রমাণ ছাড়া এ সাংবাদিক তার বইয়ে লিখেছেন, ‘র’ এজেন্ট নাথ বাবু হয়ত খাদ্যে বিষপ্রয়োগের কারণে মারা গেছেন। তিনি মৃত্যুর আগে এক বিখ্যাত সংখ্যালঘু নেতার সঙ্গে বৈঠকের সময় খাবার খেয়েছিলেন।

সূত্র: দ্য হিন্দু

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    যুদ্ধবিরতির মাঝে তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ, এয়ার ডিফেন্স চালু করল ইরান

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৮ জুন, ২০২৫ ১৫:২২
    অনলাইন ডেস্ক
    যুদ্ধবিরতির মাঝে তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ, এয়ার ডিফেন্স চালু করল ইরান

    ইরানের রাজধানী তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে এসলামশাহরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অঞ্চলটিতে সঙ্গে সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়।

    ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চতুর্থ দিনে ফের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে তেহরানে। শুক্রবার শেষ রাতে পশ্চিম তেহরানের এসলামশহর, শাহরিয়ারসহ বিভিন্ন এলাকায় পর পর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

    প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে,  বিস্ফোরণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই পশ্চিম তেহরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। 

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। সেই ভিডিওতে পর পর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

    ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন কিংবা গোলা— ঠিক কোন যুদ্ধাস্ত্র নিক্ষেপের ফলে বিস্ফোরণ ঘটেছে তা এখনও জানা যায়নি। তেমনি কোথা থেকে হামলা করা হয়েছে বা কারা হামলা কলেছে এবং হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে— এসব তথ্য এখনও অজানা।

    প্রসঙ্গত, পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সংলাপ চলার মধ্যেই ‘ইরান পরমাণু বোমা তৈরির দোরগোড়ায়’- অভিযোগ তুলে  ১২ জুন রাজধানী তেহরান ও অন্যান্য শহরে বিমান অভিযান শুরু করে ইসরয়েল। সেই অভিযানের জবাব দিতে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো শুরু করে ইরানও।

    সূত্র : ইরান ইন্টারন্যাশনাল

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      খামেনিকে ‘নিকৃষ্ট মৃত্যু’ থেকে বাঁচিয়েছি : দাবি ট্রাম্পের

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৮ জুন, ২০২৫ ১৪:৫৪
      অনলাইন ডেস্ক
      খামেনিকে ‘নিকৃষ্ট মৃত্যু’ থেকে বাঁচিয়েছি : দাবি ট্রাম্পের
      মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

      ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিজয় ঘোষণার জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় খামেনিকে তিনি ‘এক কুৎসিত ও অপমানজনক মৃত্যু’ থেকে রক্ষা করেছেন।

      শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “আমি জানতাম খামেনি ঠিক কোথায় লুকিয়ে আছেন। আমি চাইলে ইসরায়েল ও মার্কিন সেনাবাহিনী দিয়ে তার জীবন শেষ করে দিতে পারতাম। কিন্তু আমি তা করিনি। আমি তাকে একটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট ও অপমানজনক মৃত্যু থেকে বাঁচিয়েছি।”

      বিদ্রূপের সুরে তিনি আরও বলেন, “...এরপরেও তাকে আমাকে ধন্যবাদ জানাতে হবে না। ‘ধন্যবাদ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প’ বলারও প্রয়োজন নেই।”

      ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধের শেষ দিকে তিনি ইসরায়েলকে একটি বিশাল বিমানবহর ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা তেহরানের দিকে যাচ্ছিল। তার ভাষায়, “ওই হামলাটি হলে যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ধ্বংসযজ্ঞ ঘটত। বহু ইরানি মারা যেত। তবে আমি তা হতে দিইনি।”

      এর একদিন আগে খামেনি এক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করার দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমার প্রিয় ইরানের জনগণকে অভিনন্দন। তারা মার্কিন শাসনের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে নামতে বাধ্য হয়েছিল, কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল যুদ্ধে না নামলে ইসরায়েল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। তবুও তারা কিছুই অর্জন করতে পারেনি।”

      খামেনির এই দাবিকে ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে তার মিথ্যা বলা উচিত নয়। তিনি কীভাবে এতটা স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেন যে তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে জিতেছেন? এটা পুরোপুরি মিথ্যা এবং তিনি নিজেও তা জানেন।”

      মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা—ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তার মতে, দেশটি এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

      ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ শেষে তিনি ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা ভাবছিলেন, যেন দেশটি দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে। কিন্তু খামেনির শত্রুতামূলক বক্তব্যের পর তিনি সেই পরিকল্পনা বাতিল করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে কাজ করছিলাম, যা ইরানের জন্য একটি ভালো পুনরুদ্ধারের সুযোগ হতে পারত। কিন্তু এর বদলে আমি পেলাম কেবল রাগ আর ঘৃণার বার্তা। তাই আমি সবকিছু বাতিল করে দিয়েছি।”

      ইরানকে ‘রাগান্বিত, বৈরী ও অসন্তুষ্ট’ দেশ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “এই বৈশিষ্ট্যগুলোই দেশটিকে ধ্বংস করেছে। আমি চাই ইরানের নেতৃত্ব এটা বুঝুক যে, মধু দিয়ে অনেক সময় ভিনেগারের চেয়ে বেশি কিছু অর্জন করা যায়।” তিনি ইরানকে বিশ্ব ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে বলেন, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

      এদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও স্বীকার করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে তারা খামেনিকে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি একটি গভীর সুড়ঙ্গে আশ্রয় নেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ইরানে আবারও বোমা হামলার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

        অনলাইন ডেস্ক
        ২৮ জুন, ২০২৫ ১৪:১৬
        অনলাইন ডেস্ক
        ইরানে আবারও বোমা হামলার হুমকি দিলেন ট্রাম্প
        ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

        ইরানে আবারও বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৭ জুন) হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেছেন।

        ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হলে দেশটিতে আবারও বোমা হামলা করা হবে। সূত্র : সিএনএন

        গত ২১ জুন ইরানের ফরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান পরমাণু স্থাপনায় বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলার পর তেহরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির আকাঙ্ক্ষা যদি দমানো না যায়, তাহলে ট্রাম্প নতুন করে হামলার কথা বিবেচনা করবেন কি না- সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অবশ্যই। এটি প্রশ্নাতীত।’

        সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ ট্রাম্প করেন, ইরানের মার্কিন হামলার আগে গত ১৩ জুন হামলা চালায় ইসরায়েল। এর পর থেকে টানা ১২ দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলে। এই সংঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ‘বাজেভাবে মার খেয়েছেন’।

        শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২৩ জুন ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির বিষয়ে তিনি বলেন, সংঘাত থামানোর জন্য সেটিই ছিল উপযুক্ত সময়।

        এর আগে ন্যাটো সম্মেলনে এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেছিলেন, তেহরান যদি আবার পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু করে, যুক্তরাষ্ট্র কি আবার বোমাবর্ষণ করবে? এ সময় ট্রাম্প সরাসরি জবাব দেন, ‘অবশ্যই’। এ মুহূর্তে ইরান কিছুই সমৃদ্ধ করতে চায় না। তারা কেবল ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে।’ 

        ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা বোমা পাবে না, আর তারা ইউরেনিয়ামও সমৃদ্ধ করতে পারবে না।’ তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে কিছুটা সম্পর্কোন্নয়নের সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, শেষ পর্যন্ত আমাদের ইরানের সঙ্গে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠবে।’

        সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে বিশাল বিনিয়োগ করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন

          অনলাইন ডেস্ক
          ২৮ জুন, ২০২৫ ১৩:১৬
          অনলাইন ডেস্ক
          ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে বিশাল বিনিয়োগ করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন

          বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ খাতে পরমাণু শক্তি ব্যবহারের জন্য ইরানকে সহযোগিতা করতে চায় ওয়াশিংটন; আর সেই সহযোগিতার খাতিরে ইরানের বিধ্বস্ত পরমাণু প্রকল্পে ৩ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন।

          বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলেছে, চলতি জুনের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র ও অংশীদার ও তেহরানের মধ্যে এ ইস্যুতে গোপনে এ ইস্যুতে আলোচনা চলছে। অর্থাৎ ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর আগেই শুরু হয়েছিল এ সংক্রান্ত আলোচনা।

          ট্রাম্প প্রশাসনের চার জন কর্মকর্তা এ ব্যাপরে সিএনএনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান যেন তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে। অন্যদিকে তেহরান এই ব্যাপারটিকে নিজেদের রেডলাইন বলে ঘোষণা করেছে।

          “কিন্তু আমরা এখনও আমাদের চাওয়া থেকে সরে যাইনি। ইরানের সঙ্গে আমরা একটা সমঝোতায় আসতে চাইছি এবং তা যেন সহজে হয়— সেজন্যই আমরা সেখানে বিনিয়োগ করতে চাই। আপাতত ২ হাজার থেকে ৩ হাজার ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই অর্থের একটি অংশ সরবরাহ করবে যুক্তরাষ্ট্র, বাকিটা আসবে মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের কাছ থেকে”, সিএনএনকে বলেছেন ওই কর্মকর্তা।

          ইরানকে সমঝোতার পথে আনতে পরমাণু প্রকল্প খাতে বিনিয়োগের পাশপাশি বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে ইরানের ফ্রিজড হিসাবগুলো খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বর্তমানে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে ইরানের ৬০০ কোটি ডলার ফ্রোজেন অবস্থায় আছে। এছাড়া দেশটির তেল রপ্তানির ওপর যেসব নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন, সেসবও শিথিল করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

          তবে এসব আকর্ষণীয় প্রস্তাবে সম্মত হয়ে ইরান শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় আসতে রাজি হবে কি না— তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয় ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসনের অপর এক কর্মকর্তা সিএনএনকে এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা আভাস-ইঙ্গিতে আমাদের প্রস্তাব ইরানকে দিয়েছি। তেহরান এখনও ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আমরা আমদের চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

          প্রসঙ্গত, পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত মে মাস থেকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছিল তেহরান। কিন্তু তার মধ্যেই ‘ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির দোরগোড়ায়’— অভিযোগ তুলে গত ১২ জুন তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিমান অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। এই হামলার জবাব দিতে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরানও।

          উভয়পক্ষের সংঘাত প্রায় চরম পর্যায়ে ওঠার পর ২৩ জুন এতে প্রবেশ করে যুক্তরাষ্ট্র; ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালায় মার্কিন বিমান বাহিনী। এই হামলার পরের দিন ইরান-ইসরায়েলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

          সূত্র : আরটি, সিএনএন

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত