শিরোনাম
দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাজ্যের যুদ্ধবিমান ভারতে নেমেছিল কেন
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাজ্যের একটি যুদ্ধবিমান ভারতে জরুরি অবতরণ করে। যুক্তরাজ্যের ফিফথ জেনারেশনের উন্নতমানের ফাইটার জেট এফ-৩৫বি। এটি ইন্ডিয়ান নেভির সঙ্গে যৌথ মহড়া শেষে নিজের ঘাঁটিতে ফিরছিল। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এটি তিরুবনন্তপুরম বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানটি নিরাপদে নামলেও পরে একটি যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। এতে সেটি আর উড়তে পারেনি। ব্রিটিশ নৌবাহিনীর ইঞ্জিনিয়াররা প্রথমে বিমানটি পরীক্ষা করেন। পরে যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ দল আনতে হয়।
যুদ্ধবিমানটি যেন বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কাজে বাধা না দেয়, তাই সেটিকে আলাদা হ্যাঙ্গারে সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ দল আসছে যুক্তরাজ্য থেকে।
ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া তাদের হ্যাঙ্গার ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ব্রিটিশরা তা গ্রহণ করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, বিমানের গোপন প্রযুক্তি নিরাপদ রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, ভারতের সহযোগিতা প্রশংসনীয়। বিমান অবতরণ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা—সবখানে ভারতের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হয়েছে। এখনো ঠিক জানা যায়নি কবে বিমানটি উড্ডয়ন করবে।
সূত্র : এনডিটিভি
নেতানিয়াহু ‘একজন যোদ্ধা’, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত: ট্রাম্প
দুর্নীতির অভিযোগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলা বিচারকাজ বাতিল করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু ‘একজন যোদ্ধা’, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত।
বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।
নেতানিয়াহুকে ‘একজন যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইসরায়েলকে রক্ষা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এখন যুক্তরাষ্ট্রই নেতানিয়াহুকে রক্ষা করবে।’
ইসরায়েলে ২০১৯ সালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ, প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে করা তিনটি ফৌজদারি মামলার বিচার ২০২০ সালে শুরু হয়। বিচার চলাকালেও নেতানিয়াহু নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিচার অবিলম্বে বাতিল করা উচিত কিংবা তার মতো একজন মহান নায়ককে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত; যিনি রাষ্ট্রের (ইসরায়েল) জন্য অনেক কিছু করেছেন।’
তিনি আরও লেখেন, তিনি জানতে পেরেছেন, সোমবার আদালতে নেতানিয়াহুর হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে।
ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট ইসাক হারজোগ নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তবে দেশটির গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি টেনে ট্রাম্প বলেন, ‘এ মুহূর্তে ক্ষমা করার বিষয়টি বিবেচনায় নেই। আর এ ধরনের কোনো অনুরোধ করা হয়নি।’
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে কেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশ করেছিল, জানালেন খামেনি
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ইসরায়েলকে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘প্রায় খাদের কিনারায়’ নিয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশ না করলে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলত।
বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে খামেনি বলেন, “ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ইসরায়েলকে খাদের কিনারায় নিয়ে গিয়েছিল। যদি আরও কিছুদিন এই সংঘাত চলত— তাহলে ইসরায়েল পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতো।”
“এ ব্যাপারটি বুঝতে পেরেই যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে প্রবেশ করে; কিন্তু এই সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই অর্জন করতে পারেনি। উপরন্তু ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মুখে শক্ত চপোটাঘাত করেছে।”
“সেই সঙ্গে এত সব হৈচৈ-হট্টগোলের মধ্যে জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী ইসলামি প্রজানন্ত্র ইরানের আঘাতে একই সঙ্গে উৎখাত ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়েছে।”
ইরান পরমাণু বোমা তৈরির দোরগোড়ায়— অভিযোগ তুলে গত ১৩ জুন রাজধানী তেহরান ও অন্যান্য এলাকায় বিমান অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। এই অভিযানের জবাবে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরানও।
ইরান-ইসরায়েলের এ সংঘাত শুরুর ১০ দিন পর ২২ জুন মধ্যরাতে ইসরায়েলের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালায় মার্কিন বিমান বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড এ অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘দ্য মিডনাইট হ্যামার’।
‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ পরিচালনার একদিন পর ইরান-ইসরায়েলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টা পর তা মেনে নিয়ে বিবৃতি দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে এবং ইসরায়েল পুনরায় হামলা না করলে তেহরান আর সংঘাতে যাবে না।
সূত্র : আলজাজিরা
বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালো ইরান
ইসরায়েল এবং তার সমর্থকদের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার, জনগণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য ও বিবৃতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ঢাকার ইরান দূতাবাস।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ঢাকার ইরান দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, সহানুভূতিপূর্ণ বক্তৃতা-বিবৃতি এবং বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ, শিক্ষাবিদ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের স্পষ্ট অবস্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত এই সংহতি মানবিক সচেতনতা এবং ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও জাতীয় মর্যাদার নীতিগুলোর প্রতি গভীর প্রতিশ্রুতির স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি।
ইরানি জনগণের এই প্রতিরোধ জাতীয় ইচ্ছাশক্তির প্রতিফলন, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রকাশ। একইসঙ্গে এটি আধিপত্যবাদ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বিশ্বের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুধু একটি বৈধ অধিকারই নয়, বরং একটি নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি যে, সহিংসতা, আগ্রাসন ও সম্প্রসারণবাদী নীতির মোকাবিলায় জাতিসমূহের পারস্পরিক সংহতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ মূল্যবান সমর্থন ও সংহতি প্রকাশের জন্য আমরা বন্ধুপ্রতিম ও ভ্রাতৃপ্রতিম বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
ইরান কখনও আত্মসমর্পণ করবে না : খামেনি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে ইরান কখনও আত্মসমর্পণ করবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ ইস্যুতে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
নিজ বক্তব্যে খামেনি বলেছেন, “ট্রাম্প আমাদের সামনে সত্য স্পষ্ট করেছেন, পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী চায়। যুক্তরাষ্ট্র তখনই সন্তুষ্ট হবে— যখন আমরা পরাজয় স্বীকার করব এবং তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করব।”
“কিন্তু এমনটা কখনও ঘটবে না; ইরান কখনও মাথা নত করবে না। আমরা শক্তিশালী জাতি।”
টানা ১২ দিন সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে গত ২৩ জুন যুদ্ধবিরতিতে যায় ইরান এবং ইসরায়েল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বিবৃতিতে বলেন, তেহরান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে নিয়েছে এবং ইসরায়েল যদি আঘাত না করে— তাহলে ইরানও আর আঘাত করবে না।
বিরতি ঘোষণার দু’দিন পর আজ বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন খামেনি। সেই ভাষণে তিনি বলেন— ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে ইরানের বিজয় হয়েছে।
সূত্র : সিএনএন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য