ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ইরান কখনও আত্মসমর্পণ করবে না : খামেনি

অনলাইন ডেস্ক
২৬ জুন, ২০২৫ ১৮:৫৫
অনলাইন ডেস্ক
ইরান কখনও আত্মসমর্পণ করবে না : খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে ইরান কখনও আত্মসমর্পণ করবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ ইস্যুতে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।

নিজ বক্তব্যে খামেনি বলেছেন, “ট্রাম্প আমাদের সামনে সত্য স্পষ্ট করেছেন, পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী চায়। যুক্তরাষ্ট্র তখনই সন্তুষ্ট হবে— যখন আমরা পরাজয় স্বীকার করব এবং তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করব।”

“কিন্তু এমনটা কখনও ঘটবে না; ইরান কখনও মাথা নত করবে না। আমরা শক্তিশালী জাতি।”

টানা ১২ দিন সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে গত ২৩ জুন যুদ্ধবিরতিতে যায় ইরান এবং ইসরায়েল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বিবৃতিতে বলেন, তেহরান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে নিয়েছে এবং ইসরায়েল যদি আঘাত না করে— তাহলে ইরানও আর আঘাত করবে না।

বিরতি ঘোষণার দু’দিন পর আজ বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন খামেনি। সেই ভাষণে তিনি বলেন— ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে ইরানের বিজয় হয়েছে।

সূত্র : সিএনএন

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    আমেরিকার মুখে ‘কঠিন থাপ্পড়’ মেরেছে ইরান : খামেনি

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৬ জুন, ২০২৫ ১৮:৩
    অনলাইন ডেস্ক
    আমেরিকার মুখে ‘কঠিন থাপ্পড়’ মেরেছে ইরান : খামেনি

    দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) টিভিতে দেওয়া  ভাষণে তিনি বলেন, “ভুয়া ইহুদিবাদী সরকারের (ইসরায়েলের) বিরুদ্ধে জয়ের জন্য আপনাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। যেটি পরাজিত হয়েছে এবং ইসলামিক রিপাবলিকের ধাক্কায় চূর্ণবিচূর্ণ ও ধ্বংস হয়েছে। ইহুদিবাদীরা অনেক উচ্চবাচ্য করলেও ইরানের ধাক্কায় তারা পতনের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছিল।”

    তিনি আরও বলেছেন, “মার্কিন সরকার যুদ্ধে সরাসরি জড়িত হয়েছিল, কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল যদি তারা হস্তক্ষেপ না করে তাহলে ইহুদিবাদীদের পতন ঘটবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন কোনো কিছু অর্জন করেনি। এখানে বিজয়ী হয়েছে ইরান এবং আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে চূড়ান্ত আঘাত করেছি। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জয় পাওয়ায় আমি সবাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।"

    খামেনি বলেন, “ইরানি জনগণের অসাধারণ একতাকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। ৯ কোটি জনগণের দেশ ইরান আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ইরানিরা তাদের নিজেদের স্বতন্ত্র চরিত্র প্রদর্শন করেছে এবং প্রমাণ করেছে, যখন প্রয়োজন হবে তারা সবাই এক হবে।”

    ইরানের বিরুদ্ধে যদি কেউ যদি আবারও আগ্রাসন দেখানোর চেস্টা করে তাহলে এরজন্য চড়া মূল্য দিতে হবে বলেও হঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম নেতা। তিনি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের মূল্য চড়া হবে। ইহুদিবাদীরা (ইসরায়েল) কখনো ভাবেনি তারা ইরানের কাছ থেকে এমন ধাক্কা খাবে। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুদের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে তাদের প্রাণকেন্দ্রগুলোতে আঘাত হেনেছে।”

    ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়েও কথা বলেছেন আয়াতুল্লাহ খামেনি। তিনি জানিয়েছেন, ট্রাম্প তাদের পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়ার যে দাবি করেছেন সেটি সত্য নয়। খামেনি বলেন, “আমাদের পারমাণবিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিছু অর্জন করতে পারেনি। ইরানিরা একত্রিত। সবাই একত্রিত ছিল। কাতারের আল উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে যে হামলা হয়েছে সেটিকে তারা উড়িয়ে দিয়েছে, সত্যকে আড়াল করার জন্য। সময়ই শত্রুদের ক্ষয়ক্ষতি প্রকাশ করবে।

    ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না জানিয়ে খামেনি বলেন, “ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। ট্রাম্প সত্য প্রকাশ করেছেন, তিনি বলেছেন, ইরান শুধুমাত্র আত্মসমর্পণ করলেই যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট হবে।। কিন্তু আত্মসমর্পণ কখনো হবে না। আমাদের দেশ শক্তিশালী। ইরান মার্কিনিদের মুখে চপেটাঘাত করেছে।”

    তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল ইরানকে বশীভূত করা। ইরানিদের মার্কিনিরা যেসব অপমান করেছে সেগুলো কখনো সফল হবে না। আমাদের জনগণ অসাধারণ, আমাদের দেশ শক্তিশালী এবং আমাদের সভ্যতা ইতিহাসের অংশ। আমাদের জনগণ বিজয়ী এবং সম্মানিত এবং তারা এমনটা থাকবে। আল্লাহকে তার শক্তির জন্য ধন্যবাদ।”

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ

      ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করতে ইসরাইলকে সাহায্য করেছে ফ্রান্স

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৬ জুন, ২০২৫ ১৭:৫৬
      অনলাইন ডেস্ক
      ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করতে ইসরাইলকে সাহায্য করেছে ফ্রান্স

      ইসরাইলকে ইরানি ড্রোন প্রতিহত করতে সাহায্য করেছে ফ্রান্স।দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লকোহনু ফ্রান্সের পার্লামেন্টে এ তথ্য জানিয়েছেন।

      তিনি বলেছেন, গত কয়েকদিন ধরে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন সামরিক অভিযানের সময় ফরাসি সেনাবাহিনী ভূমি থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা অথবা রাফায়েল যুদ্ধবিমানের সাহায্যে ১০টিরও কম ড্রোনকে প্রতিহত করেছে বলে আমি নিশ্চিত করতে পারি।

      তার মতে, ১২ দিনের ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের সময় ইসরাইলে প্রায় ৪০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং এক হাজার ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল ইরান।

      এদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় প্রায় দু বছর চলমান যুদ্ধের  তাৎক্ষণিক বিরতির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। 

      বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ম্যাক্রোঁ বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছি। 

      এছাড়াও তিনি গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশাধিকারের আহ্বান জানান এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। 

      ইরান ও ইসরাইলের যুদ্ধের বিয়ে তিনি আরও লেখেন, তিনি ফোনালাপের সময় সকল পক্ষের যুদ্ধবিরতিকে সম্মান করার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন।

      ফরাসি প্রেসিডেন্ট আরও লেখেন, উভয় নেতা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

      মন্তব্য

      ইসরায়েল-ইরান সংঘাত

      আলোচনার কেন্দ্রে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৬ জুন, ২০২৫ ১৭:১৬
      অনলাইন ডেস্ক
      আলোচনার কেন্দ্রে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি

      যুক্তরাষ্ট্রের চালানো বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস হয়নি। ভূগর্ভস্থ ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই হামলা দেশটির পারমাণবিক কার্যক্রম শুধু কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) প্রাথমিক মূল্যায়নে এমনটা বলা হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছেন। খোদ ইরানও স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে। 

      সিএনএন জানিয়েছে, ডিআইএর প্রাথমিক মূল্যায়ন ট্রাম্পের বারবার দাবির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ যে হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ গত রোববার বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। 

      ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি এবং হামলার প্রভাব নিয়ে নানা পক্ষের বিশ্লেষণ চলছে। তবে ডিআইএর মূল্যায়নসহ এখন পর্যন্ত যেগুলো সামনে আসছে, তার সবই আগের তথ্য বিশ্লেষণ এবং অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। সুতরাং স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস, না ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে– তার প্রকৃত তথ্য এখনও অজানা। ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরীণ তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। 

      এর আগে গত শনিবার অত্যাধুনিক বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই হামলাকে অত্যন্ত সফল বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র তিন দিনের মাথায় পেন্টাগন এই নতুন তথ্য জানাচ্ছে। 

      মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত দুই কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস হয়নি। একজন বলেছেন, সেন্ট্রিফিউজগুলো মূলত অক্ষত। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থাপনাগুলো থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তাই ডিআইএর মূল্যায়ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরমাণবিক কার্যক্রম কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছে। 

      এই মূল্যায়নের অস্তিত্ব স্বীকার করলেও হোয়াইট হাউস বলেছে, তারা এর সঙ্গে একমত নয়। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এক বিবৃতিতে বলেন, এই কথিত মূল্যায়ন সম্পূর্ণ ভুল এবং অতি গোপনীয় হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল। এটি ফাঁস করা প্রেসিডেন্টকে হেয় করার একটি চেষ্টা। সবাই জানে, ১৪টি ৩০ হাজার পাউন্ডের বোমা লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে ফেলে দিলে কী হয়, সম্পূর্ণ ধ্বংস। 

      ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, ইরানে মার্কিন হামলার ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ শামিল। তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়, রাষ্ট্রদ্রোহের মতো এবং এটি অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত। 

      ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে নেদারল্যান্ডসে থাকা ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে লিখেছেন, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সামরিক হামলাগুলোর একটি। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। 

      স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, ফর্দোর পারমাণবিক স্থাপনার দুটি প্রবেশপথের আশপাশে ছয়টি নতুন গর্ত এবং ধুলামাখা ধ্বংসস্তূপ। তবে সেই ছবিগুলো দেখে ভূগর্ভস্থ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বোঝা যায় না। 

      আইএইএর সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিতে সম্মতি ইরানের পার্লামেন্টের

      ইরানের পার্লামেন্ট সদস্যরা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন। গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত এই প্রস্তাবের বিপক্ষে কোনো ভোট পড়েনি। 

      ইসলামী পরামর্শদাতা পরিষদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। আইএইএ তাদের দায়িত্ব পালন করেনি এবং একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বিলটিকে আইনে পরিণত করতে ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অনুমোদন নিতে হবে। 

      বিল অনুমোদনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি সংস্থাটি। তবে গতকাল সংস্থাটির প্রধান রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, ইরানে পরিদর্শকদের আবার পাঠানোর চেষ্টা করছেন তিনি। 

      বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে হামলাই দেশটিকে আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করতে বাধ্য করেছে। নিয়মিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বিনা উস্কানিতে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় নজিরবিহীন হামলার সরাসরি পরিণতি হলো এমন সিদ্ধান্ত।

      আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাঈ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটা নিশ্চিত, কারণ এগুলোর ওপর একের পর এক হামলা হয়েছে। 

      ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধের চেষ্টা করলে ফের হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প 

      ইরান যদি পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করে, তাহলে আবারও হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, তারা বোমা বানাতে পারবে না এবং তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধও করতে পারবে না। 

      ইরানে চালানো হামলাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানে জাপানে আমেরিকার পারমাণবিক হামলার সঙ্গে তুলনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমি হিরোশিমা বা নাগাসাকির উদাহরণ ব্যবহার করতে চাই না। তবে এটিও মূলত একই রকম ছিল। এর ফলেও যুদ্ধ শেষ হয়ে গেল। আমরা যদি এটি বন্ধ না করতাম, তাহলে তারা এখনও যুদ্ধ করত। আগামী সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করতে যাচ্ছে বলেও জানান ট্রাম্প। 

      গত ১৩ জুন ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার মাধ্যমে তেহরান-তেল আবিবের সংঘাতের শুরু হয়। তার পর থেকে দুই দেশ একে অপরের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়ে যায়। পরে গত সোমবার রাতে দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। 

      এদিকে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে দু’পক্ষই জয়ী হওয়ার দাবি করেছে। মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, টানা ১২ দিনের আগ্রাসনের পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চূড়ান্ত জবাবে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য হয়। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ইসরায়েলি আগ্রাসনের মধ্যে ঐক্য ও প্রতিরোধ ধরে রেখে বিজয়ের পর যে গর্ব, তা জনগণের কারণেই এসেছে এবং এই জন্য তাদের নিজেদের নিয়ে গর্বিত হওয়া উচিত। 

      এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, আমরা একটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছি। এই বিজয় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের আরাক, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দিয়েছি। 

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ‘আমাদের বিজয় হয়েছে’, ঘোষণা খামেনির

        অনলাইন ডেস্ক
        ২৬ জুন, ২০২৫ ১৬:৫৮
        অনলাইন ডেস্ক
        ‘আমাদের বিজয় হয়েছে’, ঘোষণা খামেনির

        অবশেষে যুদ্ধবিরতির ২ দিন পর নীরবতা ভাঙলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় সংঘাতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান বিজয়ী হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি।

        এক্সপোস্টে খামেনি বলেন, “প্রতারণাপূর্ণ জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজয় উপলক্ষে আমি দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।”

        সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার দপ্তরের বরাত দিয়ে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শিগগিরই এ ইস্যুতে জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন তিনি।

        ইরান পরমাণু বোমা তৈরির দোরগোড়ায়— অভিযোগ তুলে গত ১৩ জুন রাজধানী তেহরান ও অন্যান্য এলাকায় বিমান অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। এই অভিযানের জবাবে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরানও।

        ইরান-ইসরায়েলের এ সংঘাত শুরুর ১০ দিন পর ২২ জুন মধ্যরাতে ইসরায়েলের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালায় মার্কিন বিমান বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড এ অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘দ্য মিডনাইট হ্যামার’।

        ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ পরিচালনার একদিন পর ইরান-ইসরায়েলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টা পর তা মেনে নিয়ে বিবৃতি দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে এবং ইসরায়েল পুনরায় হামলা না করলে তেহরান আর সংঘাতে যাবে না।

        সূত্র : আলজাজিরা

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত