ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ

ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করতে ইসরাইলকে সাহায্য করেছে ফ্রান্স

অনলাইন ডেস্ক
২৬ জুন, ২০২৫ ১৭:৫৬
অনলাইন ডেস্ক
ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করতে ইসরাইলকে সাহায্য করেছে ফ্রান্স

ইসরাইলকে ইরানি ড্রোন প্রতিহত করতে সাহায্য করেছে ফ্রান্স।দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লকোহনু ফ্রান্সের পার্লামেন্টে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, গত কয়েকদিন ধরে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন সামরিক অভিযানের সময় ফরাসি সেনাবাহিনী ভূমি থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা অথবা রাফায়েল যুদ্ধবিমানের সাহায্যে ১০টিরও কম ড্রোনকে প্রতিহত করেছে বলে আমি নিশ্চিত করতে পারি।

তার মতে, ১২ দিনের ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের সময় ইসরাইলে প্রায় ৪০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং এক হাজার ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল ইরান।

এদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় প্রায় দু বছর চলমান যুদ্ধের  তাৎক্ষণিক বিরতির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। 

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ম্যাক্রোঁ বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছি। 

এছাড়াও তিনি গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশাধিকারের আহ্বান জানান এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। 

ইরান ও ইসরাইলের যুদ্ধের বিয়ে তিনি আরও লেখেন, তিনি ফোনালাপের সময় সকল পক্ষের যুদ্ধবিরতিকে সম্মান করার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট আরও লেখেন, উভয় নেতা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

মন্তব্য

ইসরায়েল-ইরান সংঘাত

আলোচনার কেন্দ্রে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি

অনলাইন ডেস্ক
২৬ জুন, ২০২৫ ১৭:১৬
অনলাইন ডেস্ক
আলোচনার কেন্দ্রে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি

যুক্তরাষ্ট্রের চালানো বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস হয়নি। ভূগর্ভস্থ ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই হামলা দেশটির পারমাণবিক কার্যক্রম শুধু কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) প্রাথমিক মূল্যায়নে এমনটা বলা হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছেন। খোদ ইরানও স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে। 

সিএনএন জানিয়েছে, ডিআইএর প্রাথমিক মূল্যায়ন ট্রাম্পের বারবার দাবির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ যে হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ গত রোববার বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। 

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি এবং হামলার প্রভাব নিয়ে নানা পক্ষের বিশ্লেষণ চলছে। তবে ডিআইএর মূল্যায়নসহ এখন পর্যন্ত যেগুলো সামনে আসছে, তার সবই আগের তথ্য বিশ্লেষণ এবং অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। সুতরাং স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস, না ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে– তার প্রকৃত তথ্য এখনও অজানা। ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরীণ তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। 

এর আগে গত শনিবার অত্যাধুনিক বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই হামলাকে অত্যন্ত সফল বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র তিন দিনের মাথায় পেন্টাগন এই নতুন তথ্য জানাচ্ছে। 

মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত দুই কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস হয়নি। একজন বলেছেন, সেন্ট্রিফিউজগুলো মূলত অক্ষত। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থাপনাগুলো থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তাই ডিআইএর মূল্যায়ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরমাণবিক কার্যক্রম কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছে। 

এই মূল্যায়নের অস্তিত্ব স্বীকার করলেও হোয়াইট হাউস বলেছে, তারা এর সঙ্গে একমত নয়। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এক বিবৃতিতে বলেন, এই কথিত মূল্যায়ন সম্পূর্ণ ভুল এবং অতি গোপনীয় হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল। এটি ফাঁস করা প্রেসিডেন্টকে হেয় করার একটি চেষ্টা। সবাই জানে, ১৪টি ৩০ হাজার পাউন্ডের বোমা লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে ফেলে দিলে কী হয়, সম্পূর্ণ ধ্বংস। 

ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, ইরানে মার্কিন হামলার ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ শামিল। তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়, রাষ্ট্রদ্রোহের মতো এবং এটি অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত। 

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে নেদারল্যান্ডসে থাকা ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে লিখেছেন, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সামরিক হামলাগুলোর একটি। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। 

স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, ফর্দোর পারমাণবিক স্থাপনার দুটি প্রবেশপথের আশপাশে ছয়টি নতুন গর্ত এবং ধুলামাখা ধ্বংসস্তূপ। তবে সেই ছবিগুলো দেখে ভূগর্ভস্থ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বোঝা যায় না। 

আইএইএর সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিতে সম্মতি ইরানের পার্লামেন্টের

ইরানের পার্লামেন্ট সদস্যরা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন। গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত এই প্রস্তাবের বিপক্ষে কোনো ভোট পড়েনি। 

ইসলামী পরামর্শদাতা পরিষদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। আইএইএ তাদের দায়িত্ব পালন করেনি এবং একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বিলটিকে আইনে পরিণত করতে ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অনুমোদন নিতে হবে। 

বিল অনুমোদনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি সংস্থাটি। তবে গতকাল সংস্থাটির প্রধান রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, ইরানে পরিদর্শকদের আবার পাঠানোর চেষ্টা করছেন তিনি। 

বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে হামলাই দেশটিকে আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করতে বাধ্য করেছে। নিয়মিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বিনা উস্কানিতে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় নজিরবিহীন হামলার সরাসরি পরিণতি হলো এমন সিদ্ধান্ত।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাঈ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটা নিশ্চিত, কারণ এগুলোর ওপর একের পর এক হামলা হয়েছে। 

ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধের চেষ্টা করলে ফের হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প 

ইরান যদি পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করে, তাহলে আবারও হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, তারা বোমা বানাতে পারবে না এবং তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধও করতে পারবে না। 

ইরানে চালানো হামলাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানে জাপানে আমেরিকার পারমাণবিক হামলার সঙ্গে তুলনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমি হিরোশিমা বা নাগাসাকির উদাহরণ ব্যবহার করতে চাই না। তবে এটিও মূলত একই রকম ছিল। এর ফলেও যুদ্ধ শেষ হয়ে গেল। আমরা যদি এটি বন্ধ না করতাম, তাহলে তারা এখনও যুদ্ধ করত। আগামী সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করতে যাচ্ছে বলেও জানান ট্রাম্প। 

গত ১৩ জুন ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার মাধ্যমে তেহরান-তেল আবিবের সংঘাতের শুরু হয়। তার পর থেকে দুই দেশ একে অপরের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়ে যায়। পরে গত সোমবার রাতে দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। 

এদিকে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে দু’পক্ষই জয়ী হওয়ার দাবি করেছে। মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, টানা ১২ দিনের আগ্রাসনের পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চূড়ান্ত জবাবে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য হয়। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ইসরায়েলি আগ্রাসনের মধ্যে ঐক্য ও প্রতিরোধ ধরে রেখে বিজয়ের পর যে গর্ব, তা জনগণের কারণেই এসেছে এবং এই জন্য তাদের নিজেদের নিয়ে গর্বিত হওয়া উচিত। 

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, আমরা একটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছি। এই বিজয় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের আরাক, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দিয়েছি। 

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ‘আমাদের বিজয় হয়েছে’, ঘোষণা খামেনির

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৬ জুন, ২০২৫ ১৬:৫৮
    অনলাইন ডেস্ক
    ‘আমাদের বিজয় হয়েছে’, ঘোষণা খামেনির

    অবশেষে যুদ্ধবিরতির ২ দিন পর নীরবতা ভাঙলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় সংঘাতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান বিজয়ী হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি।

    এক্সপোস্টে খামেনি বলেন, “প্রতারণাপূর্ণ জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজয় উপলক্ষে আমি দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।”

    সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার দপ্তরের বরাত দিয়ে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শিগগিরই এ ইস্যুতে জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন তিনি।

    ইরান পরমাণু বোমা তৈরির দোরগোড়ায়— অভিযোগ তুলে গত ১৩ জুন রাজধানী তেহরান ও অন্যান্য এলাকায় বিমান অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। এই অভিযানের জবাবে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরানও।

    ইরান-ইসরায়েলের এ সংঘাত শুরুর ১০ দিন পর ২২ জুন মধ্যরাতে ইসরায়েলের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালায় মার্কিন বিমান বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড এ অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘দ্য মিডনাইট হ্যামার’।

    ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ পরিচালনার একদিন পর ইরান-ইসরায়েলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টা পর তা মেনে নিয়ে বিবৃতি দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে এবং ইসরায়েল পুনরায় হামলা না করলে তেহরান আর সংঘাতে যাবে না।

    সূত্র : আলজাজিরা

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন আয়াতুল্লাহ খামেনি

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৬ জুন, ২০২৫ ১৬:৫৩
      অনলাইন ডেস্ক
      জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন আয়াতুল্লাহ খামেনি

      ইরানের সুপ্রিম নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) টেলিভিশনে তার ভাষণটি প্রচার করা হবে। খামেনির এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়েছে, এ ভাষণে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবেন তিনি।

      দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে গত ১৩ জুন ইরানের যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর খামেনি গোপন স্থানে চলে যান। গত ২৪ জুন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। তবে দুইদিন কেটে গেলেও খামেনির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আজ তিনি ইরানিদের উদ্দেশ্যে কি বলেন সেটির দেখার বিষয়।

      দখলদারদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত এটি কার্যকর আছে।

      সূত্র: আলজাজিরা

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, উপসাগরীয় এক ‘দুঃস্বপ্নের বাস্তবতা’

        অনলাইন ডেস্ক
        ২৬ জুন, ২০২৫ ১৫:৩৭
        অনলাইন ডেস্ক
        মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, উপসাগরীয় এক ‘দুঃস্বপ্নের বাস্তবতা’

        সাধারণত জনসাধারণের কাছে নিরাপদ আর ঝাঁ চকচকে শপিংমলের জন্য পরিচিত কাতারের শান্ত-নিবিড় রাজধানী দোহা। কিন্তু ইরান দোহার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এক ডজনেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর সোমবার শহরটিতে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। 

        ধোঁয়া উড়ছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রের ধাতব টুকরো আকাশ থেকে মাটিতে পড়ছে। ক্ষেপণাস্ত্রকে বাধাদানকারী ইন্টারসেপ্টর মাঝ-আকাশেই বিস্ফোরিত হয় এবং দোহায় মানুষের তৈরি কৃত্রিম দ্বীপ ‌‘দ্য পার্ল’ থেকেও এই দৃশ্য দেখা যায়। বিলাসবহুল ওই এলাকায় আকাশচুম্বী সব ভবন রয়েছে। সেখানকার মানুষ বিস্ফোরণের শব্দে চমকে উঠেন এবং নিরাপত্তার খোঁজে দৌড়াতে থাকেন। ‘ভিলাজিও মলে’ আসা ক্রেতারা চিৎকার করে আশ্রয়ের খোঁজে ছোটেন। সেখানকার একটি খালে ছোট ছোট নৌকা তখনও চলছিল।

        হংকং থেকে দোহায় ঘুরতে এসেছেন ২২ বছর বয়সী পর্যটক লিনাস ইয়িম। ভিলাজিও মলে কেনাকাটা করার জন্য গিয়েছিলেন তিনি। লিনাস বলেন, আমি ভেবেছিলাম কোনও সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। কিন্তু তিনি বাইরে এসে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র দেখতে পান। হামলার বিষয়ে টেলিফোনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, ‘‘আমি জীবনে কখনও এমন পরিস্থিতিতে পড়িনি। ভেবেছিলাম হয়তো আর বাঁচব না।’’

        ইরান এই হামলা চালানোর আগে মধ্যস্থতকারীদের মাধ্যমে কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দিয়েছিল। যে কারণে সেখানে কেউ হতাহত হননি। তারপরও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের এই হামলা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য এক দুঃস্বপ্ন হিসেবে হাজির হয়।

        ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের মধ্যপ্রাচ্য-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ দীনা এসফানদিয়ারি বলেন, ‘‘উপসাগরীয় দেশগুলো আসলেই চরম অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে। তাদের সবচেয়ে বড় আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে। এই দেশগুলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার মাঝে পড়ে গেছে।’’

        হামলার পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দোহায় জরুরি বৈঠকে বসেন। আমেরিকার নিরাপত্তার উপর নির্ভরশীল এই ছয় দেশে হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য ও একাধিক বড় ঘাঁটি রয়েছে।

        ১৯৯০ সালে ইরাকের তৎকালীন নেতা সাদ্দাম হোসেন কুয়েতে হামলা চালানোর পর ওই অঞ্চল আর কোনও যুদ্ধে জড়ায়নি। এসব দেশ নিজেদেরকে নিরাপদ ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে। এই সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের নিরাপদ গন্তব্য ও বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে তারা। উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানি নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে পাল্টা পদেক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এমনকি তারা তাদের প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে।

        তেহরানের সঙ্গে তুলনামূলক ভালো সম্পর্ক রয়েছে কাতার ও ওমানের। হামলার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কাতারের আমিরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন বলে জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল-থানি।

        ইরানের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক রয়েছে সৌদি আরব ও বাহরাইনের। এমনকি ২০১৬ সালে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কাছাকাছি পৌঁছেছিল দেশ দুটি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থাও বিশেষভাবে জটিল। ইরানকে নিরাপত্তার হুমকি মনে করলেও তেহরানের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার আমিরাত।

        দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই টানাপড়েন কখনও কখনও সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। ২০১০-এর দশকে সৌদি ও আমিরাত যৌথভাবে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক বোমা হামলা শুরু করে।

        ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারে বলেও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর শঙ্কা রয়েছে। তবে এই সঙ্কটের সমাধানে সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দেয় তারা। এছাড়া ওই অঞ্চলে ধর্মীয় বিভাজনও এই সঙ্কটের পেছনে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। সুন্নি রাজতান্ত্রিক দেশগুলো শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানকে সন্দেহের চোখে দেখে। তারা মনে করে তাদের দেশে থাকা শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের মাঝে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিতে পারে ইরান।

        সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুলখালেক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘‘আমরা বছরের পর বছর ধরেই ইরানের পাশেই বসবাস করছি। আমরা জানি ইরানের পাশে থাকাটা কত কঠিন।’’

        গত সপ্তাহে সৌদি আরব, বাহরাইন ও আমিরাতের কর্মকর্তারা মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা জানান, তাদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো—ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রতিনিধি জিমি প্যানেট্টা বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন; এই তথ্য তিনি জানিয়েছেন।

        মধ্যপ্রাচ্য-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ দীনা এসফানদিয়ারি বলেন, এই আশঙ্কা একদিকে যেমন মার্কিন সৈন্যদের ব্যাপক উপস্থিতির বিষয়টিকে তাদের জনগণের কাছে স্পর্শকাতর করে তুলছে, অন্যদিকে পুরো অঞ্চলকে উত্তেজনার মঞ্চে পরিণত করছে।

        কাতারে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রায় সবই প্রতিহত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সহায়তায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হলেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র উন্মুক্ত স্থানে আঘাত হানে। এর কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহায়তায় ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে কাতার মধ্যস্থতা করেছে বলে ঘোষণা দেয় দোহা।

        দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বলেন, ‘‘আমরা শিগগিরই এই সঙ্কটের অবসান চাই এবং এই অধ্যায় যেন অতীত হয়ে যায়।’’ তবে ইরানের এই হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। যদিও তারা ধনাঢ্যশালী এবং মার্কিন নিরাপত্তা জোটের অন্তর্ভুক্ত। বাহরাইনে সাইরেন বেজে ওঠে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমান হাব হিসেবে পরিচিত দুবাইয়ের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

        কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সহকারী অধ্যাপক বাদার আল-সাইফ বলেন, ‘‘দশকের পর দশক ধরে আমরা সতর্ক করে আসছিলাম, এই ধরনের কিছু হতে পারে। সেটাই আজ হয়েছে। আমরা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছি।’’

        কাতারে আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে ইরানের এই হামলা ২০১৯ সালে সৌদি আরবের একাধিক তেল স্থাপনায় ইরান-সমর্থিত ড্রোন হামলার স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেয়। সেই সময় ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের হামলায় সৌদি আরবের তেলের উৎপাদন ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেকই অচল হয়ে পড়েছিল। এই ঘটনার পরই সৌদি আরব বুঝে যায়, মার্কিন নিরাপত্তা সহযোগিতা অত্যন্ত সীমিত। যে কারণে ২০২৩ সালে পুনরায় পুনরায় সম্পর্ক স্থাপন করে তারা।

        আমিরাত ও বাহরাইনও ইরানের দিকে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে এবং কাতারের হামলা এই প্রক্রিয়াকে থামাতে পারবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষক আবদুলখালেক আব্দুল্লাহ বলেন, ইরানমুখী হওয়াই এখন কৌশল, নীতি এবং ভবিষ্যতের পথ।

        একই সঙ্গে, এই হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতাকেও ধাক্কা দিয়েছে এবং তাদের শাসকদের অনেকটাই অস্বস্তিতে ফেলেছে। কয়েক বছর আগেও সৌদি ও আমিরাতের কর্মকর্তারা বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের কথা বলছিলেন; যেখানে তাদের আরও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটা পরিষ্কার যে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও পুরো অঞ্চলে শক্ত অবস্থানে ফিরে এসেছে।

        আব্দুল্লাহ বলেন, ‘‘আমরা এক মেরুকেন্দ্রিক বিশ্বে আটকে আছি। প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো উঠে আসছে। কিন্তু এখনও মূল নিয়ন্ত্রণ ওয়াশিংটনের হাতেই আছে।’’

        • নিউইয়র্ক টাইমসের ভিভিয়ান নেরিমের লেখা নিবন্ধ থেকে ভাষান্তর।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত