ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন আয়াতুল্লাহ খামেনি

অনলাইন ডেস্ক
২৬ জুন, ২০২৫ ১৬:৫৩
অনলাইন ডেস্ক
জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন আয়াতুল্লাহ খামেনি

ইরানের সুপ্রিম নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) টেলিভিশনে তার ভাষণটি প্রচার করা হবে। খামেনির এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়েছে, এ ভাষণে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবেন তিনি।

দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে গত ১৩ জুন ইরানের যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর খামেনি গোপন স্থানে চলে যান। গত ২৪ জুন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। তবে দুইদিন কেটে গেলেও খামেনির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আজ তিনি ইরানিদের উদ্দেশ্যে কি বলেন সেটির দেখার বিষয়।

দখলদারদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত এটি কার্যকর আছে।

সূত্র: আলজাজিরা

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, উপসাগরীয় এক ‘দুঃস্বপ্নের বাস্তবতা’

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৬ জুন, ২০২৫ ১৫:৩৭
    অনলাইন ডেস্ক
    মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, উপসাগরীয় এক ‘দুঃস্বপ্নের বাস্তবতা’

    সাধারণত জনসাধারণের কাছে নিরাপদ আর ঝাঁ চকচকে শপিংমলের জন্য পরিচিত কাতারের শান্ত-নিবিড় রাজধানী দোহা। কিন্তু ইরান দোহার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এক ডজনেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর সোমবার শহরটিতে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। 

    ধোঁয়া উড়ছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রের ধাতব টুকরো আকাশ থেকে মাটিতে পড়ছে। ক্ষেপণাস্ত্রকে বাধাদানকারী ইন্টারসেপ্টর মাঝ-আকাশেই বিস্ফোরিত হয় এবং দোহায় মানুষের তৈরি কৃত্রিম দ্বীপ ‌‘দ্য পার্ল’ থেকেও এই দৃশ্য দেখা যায়। বিলাসবহুল ওই এলাকায় আকাশচুম্বী সব ভবন রয়েছে। সেখানকার মানুষ বিস্ফোরণের শব্দে চমকে উঠেন এবং নিরাপত্তার খোঁজে দৌড়াতে থাকেন। ‘ভিলাজিও মলে’ আসা ক্রেতারা চিৎকার করে আশ্রয়ের খোঁজে ছোটেন। সেখানকার একটি খালে ছোট ছোট নৌকা তখনও চলছিল।

    হংকং থেকে দোহায় ঘুরতে এসেছেন ২২ বছর বয়সী পর্যটক লিনাস ইয়িম। ভিলাজিও মলে কেনাকাটা করার জন্য গিয়েছিলেন তিনি। লিনাস বলেন, আমি ভেবেছিলাম কোনও সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। কিন্তু তিনি বাইরে এসে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র দেখতে পান। হামলার বিষয়ে টেলিফোনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, ‘‘আমি জীবনে কখনও এমন পরিস্থিতিতে পড়িনি। ভেবেছিলাম হয়তো আর বাঁচব না।’’

    ইরান এই হামলা চালানোর আগে মধ্যস্থতকারীদের মাধ্যমে কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দিয়েছিল। যে কারণে সেখানে কেউ হতাহত হননি। তারপরও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের এই হামলা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য এক দুঃস্বপ্ন হিসেবে হাজির হয়।

    ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের মধ্যপ্রাচ্য-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ দীনা এসফানদিয়ারি বলেন, ‘‘উপসাগরীয় দেশগুলো আসলেই চরম অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে। তাদের সবচেয়ে বড় আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে। এই দেশগুলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার মাঝে পড়ে গেছে।’’

    হামলার পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দোহায় জরুরি বৈঠকে বসেন। আমেরিকার নিরাপত্তার উপর নির্ভরশীল এই ছয় দেশে হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য ও একাধিক বড় ঘাঁটি রয়েছে।

    ১৯৯০ সালে ইরাকের তৎকালীন নেতা সাদ্দাম হোসেন কুয়েতে হামলা চালানোর পর ওই অঞ্চল আর কোনও যুদ্ধে জড়ায়নি। এসব দেশ নিজেদেরকে নিরাপদ ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে। এই সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের নিরাপদ গন্তব্য ও বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে তারা। উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানি নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে পাল্টা পদেক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এমনকি তারা তাদের প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে।

    তেহরানের সঙ্গে তুলনামূলক ভালো সম্পর্ক রয়েছে কাতার ও ওমানের। হামলার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কাতারের আমিরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন বলে জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল-থানি।

    ইরানের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক রয়েছে সৌদি আরব ও বাহরাইনের। এমনকি ২০১৬ সালে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কাছাকাছি পৌঁছেছিল দেশ দুটি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থাও বিশেষভাবে জটিল। ইরানকে নিরাপত্তার হুমকি মনে করলেও তেহরানের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার আমিরাত।

    দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই টানাপড়েন কখনও কখনও সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। ২০১০-এর দশকে সৌদি ও আমিরাত যৌথভাবে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক বোমা হামলা শুরু করে।

    ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারে বলেও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর শঙ্কা রয়েছে। তবে এই সঙ্কটের সমাধানে সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দেয় তারা। এছাড়া ওই অঞ্চলে ধর্মীয় বিভাজনও এই সঙ্কটের পেছনে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। সুন্নি রাজতান্ত্রিক দেশগুলো শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানকে সন্দেহের চোখে দেখে। তারা মনে করে তাদের দেশে থাকা শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের মাঝে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিতে পারে ইরান।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুলখালেক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘‘আমরা বছরের পর বছর ধরেই ইরানের পাশেই বসবাস করছি। আমরা জানি ইরানের পাশে থাকাটা কত কঠিন।’’

    গত সপ্তাহে সৌদি আরব, বাহরাইন ও আমিরাতের কর্মকর্তারা মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা জানান, তাদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো—ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রতিনিধি জিমি প্যানেট্টা বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন; এই তথ্য তিনি জানিয়েছেন।

    মধ্যপ্রাচ্য-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ দীনা এসফানদিয়ারি বলেন, এই আশঙ্কা একদিকে যেমন মার্কিন সৈন্যদের ব্যাপক উপস্থিতির বিষয়টিকে তাদের জনগণের কাছে স্পর্শকাতর করে তুলছে, অন্যদিকে পুরো অঞ্চলকে উত্তেজনার মঞ্চে পরিণত করছে।

    কাতারে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রায় সবই প্রতিহত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সহায়তায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হলেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র উন্মুক্ত স্থানে আঘাত হানে। এর কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহায়তায় ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে কাতার মধ্যস্থতা করেছে বলে ঘোষণা দেয় দোহা।

    দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বলেন, ‘‘আমরা শিগগিরই এই সঙ্কটের অবসান চাই এবং এই অধ্যায় যেন অতীত হয়ে যায়।’’ তবে ইরানের এই হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। যদিও তারা ধনাঢ্যশালী এবং মার্কিন নিরাপত্তা জোটের অন্তর্ভুক্ত। বাহরাইনে সাইরেন বেজে ওঠে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমান হাব হিসেবে পরিচিত দুবাইয়ের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

    কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সহকারী অধ্যাপক বাদার আল-সাইফ বলেন, ‘‘দশকের পর দশক ধরে আমরা সতর্ক করে আসছিলাম, এই ধরনের কিছু হতে পারে। সেটাই আজ হয়েছে। আমরা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছি।’’

    কাতারে আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে ইরানের এই হামলা ২০১৯ সালে সৌদি আরবের একাধিক তেল স্থাপনায় ইরান-সমর্থিত ড্রোন হামলার স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেয়। সেই সময় ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের হামলায় সৌদি আরবের তেলের উৎপাদন ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেকই অচল হয়ে পড়েছিল। এই ঘটনার পরই সৌদি আরব বুঝে যায়, মার্কিন নিরাপত্তা সহযোগিতা অত্যন্ত সীমিত। যে কারণে ২০২৩ সালে পুনরায় পুনরায় সম্পর্ক স্থাপন করে তারা।

    আমিরাত ও বাহরাইনও ইরানের দিকে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে এবং কাতারের হামলা এই প্রক্রিয়াকে থামাতে পারবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষক আবদুলখালেক আব্দুল্লাহ বলেন, ইরানমুখী হওয়াই এখন কৌশল, নীতি এবং ভবিষ্যতের পথ।

    একই সঙ্গে, এই হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতাকেও ধাক্কা দিয়েছে এবং তাদের শাসকদের অনেকটাই অস্বস্তিতে ফেলেছে। কয়েক বছর আগেও সৌদি ও আমিরাতের কর্মকর্তারা বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের কথা বলছিলেন; যেখানে তাদের আরও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটা পরিষ্কার যে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও পুরো অঞ্চলে শক্ত অবস্থানে ফিরে এসেছে।

    আব্দুল্লাহ বলেন, ‘‘আমরা এক মেরুকেন্দ্রিক বিশ্বে আটকে আছি। প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো উঠে আসছে। কিন্তু এখনও মূল নিয়ন্ত্রণ ওয়াশিংটনের হাতেই আছে।’’

    • নিউইয়র্ক টাইমসের ভিভিয়ান নেরিমের লেখা নিবন্ধ থেকে ভাষান্তর।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ড্যাডি’ বললেন ন্যাটো প্রধান

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৬ জুন, ২০২৫ ১৫:১০
      অনলাইন ডেস্ক
      ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ড্যাডি’ বললেন ন্যাটো প্রধান

      ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর রাজনৈতিক ও সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ড্যাডি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

      বুধবার (২৫ জুন) নেদারল্যান্ডসে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতার জন্য তারকা হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করা হয়। ইসরায়েল ও ইরানের সমালোচনা করতে গিয়ে মূলত তিনি ট্রাম্পকে এই সম্বোধন করেন। 

      এর আগে গত মঙ্গলবার ইরান ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একটি অশ্লীল শব্দের ব্যবহার করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

      ইসরায়েল ও ইরানের সমালোচনা করতে গিয়ে ট্রাম্প গালি দিয়ে যে কথা বলেছিলেন সেই প্রসঙ্গেই রুট এমন মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি ইরান-ইসরায়েলের সংঘাতকে স্কুলে দুই শিশুর মধ্যে মারামারির সঙ্গেও তুলনা করেন তিনি।

      ন্যাটো প্রধান বলেন, ‘তারা নরকের মতো লড়াই করছে। আপনি তাদের থামাতে পারবেন না। তাদের দুই-তিন মিনিট লড়তে দিন। তারপর থামানো সহজ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে বাবাকে মাঝেমধ্যে কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেই হয়।‘

      তারপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মাঝেমধ্যে আপনাকে কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেই হয়, কিছু নির্দিষ্ট শব্দ বলতেই হয়।’

      বিশ্ব নেতাদের সাথে শীর্ষ সম্মেলনের যোগ দেওয়ার আগে দুজন এক সাথে বসে কথা বলার সময় ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে এসব কথা হয়।  

      রুট ট্রাম্পকে তার আগের দিনের জোরালো বক্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, যেখানে তিনি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর একে অপরের উপর বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখার জন্য ইসরায়েল এবং ইরানের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘জানি না তারা কী যে করছে!’

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে প্রশংসা করায় ন্যাটো প্রধানকে ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া

        অনলাইন ডেস্ক
        ২৬ জুন, ২০২৫ ১৫:৪
        অনলাইন ডেস্ক
        যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে প্রশংসা করায় ন্যাটো প্রধানকে ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া
        মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ন্যাটো মহাসচিব। ছবি: সংগৃহীত

        যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনের প্রশংসা করায় ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটেকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

        বুধবার এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে মুখপাত্র ইসমাইল বাকাঈ বলেন, ‘একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সংঘটিত একটি ‘বিশেষভাবে জঘন্য’ আগ্রাসনকে অভিনন্দন জানানো ন্যাটো মহাসচিবের জন্য লজ্জাজনক, নিন্দনীয় ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।’

        তিনি আরও বলেন, ‘যে অন্যায়কে সমর্থন করে, তার নৈতিকতা নেই। আর যে অপরাধকে সমর্থন করে, সে সেই অপরাধে অংশীদার।

        ইরানি মুখপাত্রের এই প্রতিক্রিয়া আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক পোস্টের পর, যেখানে তিনি ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের পাঠানো একটি বার্তার স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। ওই বার্তায় রুটে তাকে ইরানে ‘অসাধারণ’ সামরিক অভিযানের জন্য অভিনন্দন জানান এবং ইউরোপীয় ন্যাটো মিত্রদের ‘বড় অঙ্কে প্রতিরক্ষা ব্যয়’ দিতে রাজি করানোর জন্য প্রশংসা করেন।

        প্রসঙ্গত, ১৩ জুন দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে এবং টানা ১২ দিন ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও আবাসিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নাতাঞ্জ, ফোর্ডো ও ইসফাহানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়।

        এর জবাবে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সোমবার রাতে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই পাল্টা হামলা ছিল ওয়াশিংটনের আগ্রাসনের সরাসরি জবাব।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          ইসরায়েলকে বাঁচিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, বললেন ট্রাম্প

          অনলাইন ডেস্ক
          ২৬ জুন, ২০২৫ ১৪:৫৩
          অনলাইন ডেস্ক
          ইসরায়েলকে বাঁচিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, বললেন ট্রাম্প

          “আমেরিকাই ইসরায়েলকে বাঁচিয়েছে” বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকেও যুক্তরাষ্ট্র রক্ষা করবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

          তার মতে, নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত। মূলত দুর্নীতির অভিযোগে ইসরায়েলের আদালতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিচার চলছে। আর সেদিকে ইঙ্গিত করেই ট্রাম্প একথা বলেন।

          বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

          সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার বিচার বন্ধ করার বা তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

          নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “নেতানিয়াহুর বিচার অবিলম্বে বাতিল করা উচিত, অথবা এমন এক মহান নায়ককে ক্ষমা করা উচিত, যিনি ইসরায়েলের জন্য অনেক কিছু করেছেন।”

          তিনি আরও জানান, সোমবার নেতানিয়াহুর আদালতে হাজিরার কথা রয়েছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, “ইসরায়েলকে বাঁচিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, আর এখন নেতানিয়াহুকেও রক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্রই।”

          মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সেই সহায়তার দিকেই ইঙ্গিত করে, যার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ইরানের পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলের অবৈধ হামলার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং সরাসরি হামলাও চালায়।

          ধারণা করা হচ্ছে. ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ মিত্র নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে রক্ষা করতে চাচ্ছেন, বিশেষ করে এমন সময়, যখন নেতানিয়াহুর সরকার ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছে।

          এছাড়া গাজা যুদ্ধ, ইরান অভিযানের পরিণতি এবং ঘরে-বাইরে ক্রমবর্ধমান ব্যাপক চাপে রয়েছে নেতানিয়াহুর সরকার।

          মূলত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলাগুলো ইসরায়েলে বহুল আলোচিত। তবে ট্রাম্পের এই আহ্বান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত