শিরোনাম
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ড্যাডি’ বললেন ন্যাটো প্রধান
ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর রাজনৈতিক ও সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ড্যাডি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বুধবার (২৫ জুন) নেদারল্যান্ডসে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতার জন্য তারকা হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করা হয়। ইসরায়েল ও ইরানের সমালোচনা করতে গিয়ে মূলত তিনি ট্রাম্পকে এই সম্বোধন করেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার ইরান ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একটি অশ্লীল শব্দের ব্যবহার করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইসরায়েল ও ইরানের সমালোচনা করতে গিয়ে ট্রাম্প গালি দিয়ে যে কথা বলেছিলেন সেই প্রসঙ্গেই রুট এমন মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি ইরান-ইসরায়েলের সংঘাতকে স্কুলে দুই শিশুর মধ্যে মারামারির সঙ্গেও তুলনা করেন তিনি।
ন্যাটো প্রধান বলেন, ‘তারা নরকের মতো লড়াই করছে। আপনি তাদের থামাতে পারবেন না। তাদের দুই-তিন মিনিট লড়তে দিন। তারপর থামানো সহজ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে বাবাকে মাঝেমধ্যে কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেই হয়।‘
তারপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মাঝেমধ্যে আপনাকে কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেই হয়, কিছু নির্দিষ্ট শব্দ বলতেই হয়।’
বিশ্ব নেতাদের সাথে শীর্ষ সম্মেলনের যোগ দেওয়ার আগে দুজন এক সাথে বসে কথা বলার সময় ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে এসব কথা হয়।
রুট ট্রাম্পকে তার আগের দিনের জোরালো বক্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, যেখানে তিনি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর একে অপরের উপর বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখার জন্য ইসরায়েল এবং ইরানের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘জানি না তারা কী যে করছে!’
যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে প্রশংসা করায় ন্যাটো প্রধানকে ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনের প্রশংসা করায় ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটেকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
বুধবার এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে মুখপাত্র ইসমাইল বাকাঈ বলেন, ‘একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সংঘটিত একটি ‘বিশেষভাবে জঘন্য’ আগ্রাসনকে অভিনন্দন জানানো ন্যাটো মহাসচিবের জন্য লজ্জাজনক, নিন্দনীয় ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে অন্যায়কে সমর্থন করে, তার নৈতিকতা নেই। আর যে অপরাধকে সমর্থন করে, সে সেই অপরাধে অংশীদার।
ইরানি মুখপাত্রের এই প্রতিক্রিয়া আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক পোস্টের পর, যেখানে তিনি ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের পাঠানো একটি বার্তার স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। ওই বার্তায় রুটে তাকে ইরানে ‘অসাধারণ’ সামরিক অভিযানের জন্য অভিনন্দন জানান এবং ইউরোপীয় ন্যাটো মিত্রদের ‘বড় অঙ্কে প্রতিরক্ষা ব্যয়’ দিতে রাজি করানোর জন্য প্রশংসা করেন।
প্রসঙ্গত, ১৩ জুন দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে এবং টানা ১২ দিন ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও আবাসিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নাতাঞ্জ, ফোর্ডো ও ইসফাহানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়।
এর জবাবে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সোমবার রাতে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই পাল্টা হামলা ছিল ওয়াশিংটনের আগ্রাসনের সরাসরি জবাব।
ইসরায়েলকে বাঁচিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, বললেন ট্রাম্প
“আমেরিকাই ইসরায়েলকে বাঁচিয়েছে” বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকেও যুক্তরাষ্ট্র রক্ষা করবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
তার মতে, নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত। মূলত দুর্নীতির অভিযোগে ইসরায়েলের আদালতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিচার চলছে। আর সেদিকে ইঙ্গিত করেই ট্রাম্প একথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার বিচার বন্ধ করার বা তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “নেতানিয়াহুর বিচার অবিলম্বে বাতিল করা উচিত, অথবা এমন এক মহান নায়ককে ক্ষমা করা উচিত, যিনি ইসরায়েলের জন্য অনেক কিছু করেছেন।”
তিনি আরও জানান, সোমবার নেতানিয়াহুর আদালতে হাজিরার কথা রয়েছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, “ইসরায়েলকে বাঁচিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, আর এখন নেতানিয়াহুকেও রক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্রই।”
মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সেই সহায়তার দিকেই ইঙ্গিত করে, যার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ইরানের পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলের অবৈধ হামলার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং সরাসরি হামলাও চালায়।
ধারণা করা হচ্ছে. ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ মিত্র নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে রক্ষা করতে চাচ্ছেন, বিশেষ করে এমন সময়, যখন নেতানিয়াহুর সরকার ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছে।
এছাড়া গাজা যুদ্ধ, ইরান অভিযানের পরিণতি এবং ঘরে-বাইরে ক্রমবর্ধমান ব্যাপক চাপে রয়েছে নেতানিয়াহুর সরকার।
মূলত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলাগুলো ইসরায়েলে বহুল আলোচিত। তবে ট্রাম্পের এই আহ্বান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরান-ইসরায়েল ‘ক্লান্ত’, ফের শুরু হতে পারে সংঘাত : ট্রাম্প
টানা ১২ দিন সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে ইরান এবং ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে গেলেও তারা ‘সত্যিকার অর্থে’ বিরতিতে যায়নি বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘শিগগিরই কোনো দিন’ তারা ফের সংঘাতে মেতে উঠতে পারে বলে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন তিনি।
ন্যাটোর সম্মেলন উপলক্ষে বুধবার নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে ছিলেন ট্রাম্প। সেখানে সম্মেলনের অবসরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে ইরান-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাত প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আমরা অনেকেই ভাবছি এটা শেষ হয়ে গেছে; কিন্তু আমার মনে হয় না ইরান এবং ইসরায়েল সত্যিকার অর্থেই বিরতি মেনে নিয়েছে। আমার ধারণা, একটানা কঠিন এবং ভয়াবহ সংঘাতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল, তাই বিশ্রাম নিচ্ছে।”
“আবার কি সংঘাত শুরু হতে পারে? আমার মনে হয় কোনো দিন এটা শুরু হতে পারে এবং সেই দিন হয়তো শিগগিরই আসবে।”
উল্লেখ্য, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির দোরগোড়ায়— অভিযোগ তুলে গত ১৩ জুন রাজধানী তেহরান ও অন্যান্য এলাকায় বিমান অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। এই অভিযানের জবাবে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরানও।
ইরান-ইসরায়েলের এ সংঘাত শুরুর ১০ দিন পর ২২ জুন মধ্যরাতে ইসরায়েলের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালায় মার্কিন বিমান বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড এ অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘দ্য মিডনাইট হ্যামার’।
‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ পরিচালনার একদিন পর ইরান-ইসরায়েলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানে ইরানের পরমাণু সক্ষমতার মূলে আঘাত হানা হয়েছে এবং দেশটির আর কখনও পরমাণু প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করতে পারবে না।
হেগ শহরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব যুক্তরাষ্ট্রের বলে দাবি করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “এ সংঘাতে তখনই বিরতির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে— যখন যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশ করেছে। যখন আমাদের যুদ্ধবিমান ইরানের একাধিক পরমাণু স্থাপনায় আঘাত হেনেছে— তখনই আসলে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে।”
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করলে ফের হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি ফের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালু করে তাহলে আবারও দেশটিতে হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার নেদারল্যান্ডসের হেগে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাট সম্মেলনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইরানকে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইরান আবার পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা করবে কিনা- সাংবাদিকের এই প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘অবশ্যই। আমি মনে করি না তারা আবার কখনও এটি (পামাণবিক কর্মসূচি) করবে।' খবর- টাইমস অব ইসরায়েল
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান আবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করবে। তারা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা পরমাণু বোমা পাবে না। তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না।'
ইরানের পরমাণুকেন্দ্রে মার্কিন হামলাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমায় পরমাণু বোমা হামলার সঙ্গে তুলনা করে ট্রাম্প বলেন, সেই হামলার ফলে যুদ্ধ থেমেছিল। আমি হিরোশিমা-নাগাসাকির উদাহরণ দিতে চাই না। তবে ঘটনা একই। এর মাধ্যমেই যুদ্ধ থেমেছিল।'
ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, হামলার পর ইরান ঘটনাস্থলে গেছে। তারা বলেছে, স্থাপনাগুলো বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। আমরা কী করেছি সেটা দেখার পরই তারা স্থির হয়েছে। আমরা এটা না করলে তারা প্রচুর অস্ত্র তৈরি চালিয়ে যেত। তারা থামতো না। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর যে অবস্থা হয়েছে, তাতে সেগুলোতে পুনরায় কাজ শুরু করা কঠিন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য