শিরোনাম
ইসরায়েলকে বাঁচিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, বললেন ট্রাম্প
“আমেরিকাই ইসরায়েলকে বাঁচিয়েছে” বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকেও যুক্তরাষ্ট্র রক্ষা করবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
তার মতে, নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত। মূলত দুর্নীতির অভিযোগে ইসরায়েলের আদালতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিচার চলছে। আর সেদিকে ইঙ্গিত করেই ট্রাম্প একথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার বিচার বন্ধ করার বা তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “নেতানিয়াহুর বিচার অবিলম্বে বাতিল করা উচিত, অথবা এমন এক মহান নায়ককে ক্ষমা করা উচিত, যিনি ইসরায়েলের জন্য অনেক কিছু করেছেন।”
তিনি আরও জানান, সোমবার নেতানিয়াহুর আদালতে হাজিরার কথা রয়েছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, “ইসরায়েলকে বাঁচিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, আর এখন নেতানিয়াহুকেও রক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্রই।”
মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সেই সহায়তার দিকেই ইঙ্গিত করে, যার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ইরানের পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলের অবৈধ হামলার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং সরাসরি হামলাও চালায়।
ধারণা করা হচ্ছে. ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ মিত্র নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে রক্ষা করতে চাচ্ছেন, বিশেষ করে এমন সময়, যখন নেতানিয়াহুর সরকার ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছে।
এছাড়া গাজা যুদ্ধ, ইরান অভিযানের পরিণতি এবং ঘরে-বাইরে ক্রমবর্ধমান ব্যাপক চাপে রয়েছে নেতানিয়াহুর সরকার।
মূলত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলাগুলো ইসরায়েলে বহুল আলোচিত। তবে ট্রাম্পের এই আহ্বান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরান-ইসরায়েল ‘ক্লান্ত’, ফের শুরু হতে পারে সংঘাত : ট্রাম্প
টানা ১২ দিন সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে ইরান এবং ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে গেলেও তারা ‘সত্যিকার অর্থে’ বিরতিতে যায়নি বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘শিগগিরই কোনো দিন’ তারা ফের সংঘাতে মেতে উঠতে পারে বলে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন তিনি।
ন্যাটোর সম্মেলন উপলক্ষে বুধবার নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে ছিলেন ট্রাম্প। সেখানে সম্মেলনের অবসরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে ইরান-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাত প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আমরা অনেকেই ভাবছি এটা শেষ হয়ে গেছে; কিন্তু আমার মনে হয় না ইরান এবং ইসরায়েল সত্যিকার অর্থেই বিরতি মেনে নিয়েছে। আমার ধারণা, একটানা কঠিন এবং ভয়াবহ সংঘাতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল, তাই বিশ্রাম নিচ্ছে।”
“আবার কি সংঘাত শুরু হতে পারে? আমার মনে হয় কোনো দিন এটা শুরু হতে পারে এবং সেই দিন হয়তো শিগগিরই আসবে।”
উল্লেখ্য, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির দোরগোড়ায়— অভিযোগ তুলে গত ১৩ জুন রাজধানী তেহরান ও অন্যান্য এলাকায় বিমান অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। এই অভিযানের জবাবে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরানও।
ইরান-ইসরায়েলের এ সংঘাত শুরুর ১০ দিন পর ২২ জুন মধ্যরাতে ইসরায়েলের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালায় মার্কিন বিমান বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড এ অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘দ্য মিডনাইট হ্যামার’।
‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ পরিচালনার একদিন পর ইরান-ইসরায়েলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানে ইরানের পরমাণু সক্ষমতার মূলে আঘাত হানা হয়েছে এবং দেশটির আর কখনও পরমাণু প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করতে পারবে না।
হেগ শহরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব যুক্তরাষ্ট্রের বলে দাবি করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “এ সংঘাতে তখনই বিরতির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে— যখন যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশ করেছে। যখন আমাদের যুদ্ধবিমান ইরানের একাধিক পরমাণু স্থাপনায় আঘাত হেনেছে— তখনই আসলে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে।”
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করলে ফের হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি ফের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালু করে তাহলে আবারও দেশটিতে হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার নেদারল্যান্ডসের হেগে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাট সম্মেলনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইরানকে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইরান আবার পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা করবে কিনা- সাংবাদিকের এই প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘অবশ্যই। আমি মনে করি না তারা আবার কখনও এটি (পামাণবিক কর্মসূচি) করবে।' খবর- টাইমস অব ইসরায়েল
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান আবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করবে। তারা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা পরমাণু বোমা পাবে না। তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না।'
ইরানের পরমাণুকেন্দ্রে মার্কিন হামলাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমায় পরমাণু বোমা হামলার সঙ্গে তুলনা করে ট্রাম্প বলেন, সেই হামলার ফলে যুদ্ধ থেমেছিল। আমি হিরোশিমা-নাগাসাকির উদাহরণ দিতে চাই না। তবে ঘটনা একই। এর মাধ্যমেই যুদ্ধ থেমেছিল।'
ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, হামলার পর ইরান ঘটনাস্থলে গেছে। তারা বলেছে, স্থাপনাগুলো বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। আমরা কী করেছি সেটা দেখার পরই তারা স্থির হয়েছে। আমরা এটা না করলে তারা প্রচুর অস্ত্র তৈরি চালিয়ে যেত। তারা থামতো না। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর যে অবস্থা হয়েছে, তাতে সেগুলোতে পুনরায় কাজ শুরু করা কঠিন।
যুদ্ধবিরতি কি আসলে যুদ্ধের অবসান ঘটায়?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সন্ধ্যায় ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এটি একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইরানে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর, ইরানও প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলে মিসাইল হামলা শুরু করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় বোমা হামলা করে। প্রায় ১২ দিন ধরে চলা সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে দুই দেশ।
ইরান বলেছে, ইসরায়েল যদি তাদের আক্রমণ বন্ধ করে দেয়, তবে তারা গোলাবর্ষণ বন্ধ করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে ইসরায়েল বলেছে, ইরানে তাদের আক্রমণের উদ্দেশ্য অর্জন হয়েছে। তাই তারা এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে।
তবে, যুদ্ধবিরতি আদৌ টেকসই হবে কি না; তা নিয়ে ইতোমধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল এবং ইরান উভয়ই এটি লঙ্ঘন করেছে। অবশ্য ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েল ও ইরান উভয়েই সমানভাবে যুদ্ধ বন্ধ চেয়েছিল।
যদি যুদ্ধবিরতি বহাল থাকে, তাহলে আশা করা হচ্ছে, এটি একটি স্থায়ী শান্তিতে রূপ লাভ করবে। কিন্তু এর জন্য প্রচুর দক্ষ কূটনীতির প্রয়োজন হবে।
• যুদ্ধবিরতি বলতে কী বোঝায়?
জাতিসংঘের মতে, যুদ্ধবিরতি শব্দটির কোন একক, সর্বজনস্বীকৃত সংজ্ঞা নেই। যদিও শব্দটি সামরিক আদেশ ‘Cease fire- যুদ্ধবিরতি’ শব্দটি থেকে এসেছে, যা ‘Open fire- গুলি করো’ আদেশের বিপরীত।
এর মানে হলো যুদ্ধরত দুই পক্ষ তাদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে যে সব শর্ত সাপেক্ষে যুদ্ধ বন্ধ করতে সম্মত হয়, সেটিই যুদ্ধবিরতি। একে শান্তি চুক্তি এবং অস্ত্রসংবরণ বলা যেতে পারে।
জাতিসংঘ বলেছে, যুদ্ধবিরতি এবং সংঘর্ষ বন্ধ করার মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। জাতিসংঘের মতে, সংঘর্ষ বন্ধ করা সাধারণত যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য একটি অনানুষ্ঠানিক চুক্তি। সাধারণত ‘যুদ্ধবিরতি’ অনেকটা আনুষ্ঠানিক হয় এবং এতে কিছু শর্ত থাকে, যেগুলোর আওতায় দুই পক্ষ চুক্তিবদ্ধ হয় এবং কেউ চুক্তি ভঙ্গ করলে পুরনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ থাকে, যেমন-
• যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্য।
• কখন থেকে এটি কার্যকর হবে।
• এর পরে কোন রাজনৈতিক প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করা হবে।
• এটি কোন ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
চুক্তিবদ্ধ পক্ষগুলো কোন কোন সামরিক কার্যকলাপ চালাতে পারবে, আর কোনটি পারবে না এবং যুদ্ধবিরতি কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, তাও স্পষ্ট উল্লেখ থাকে।
উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৩ সালে লাইবেরিয়ার গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে যখন অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় ঐক্যের সরকার ন্যাশনাল প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট অফ লাইবেরিয়া এবং ইউনাইটেড লিবারেশন মুভমেন্ট অফ লাইবেরিয়ার সাথে একটি চুক্তি করে।
এতে উভয় পক্ষই অস্ত্র ও গোলাবারুদ আমদানি বন্ধ, সামরিক অবস্থান পরিবর্তন না করা বা অপর পক্ষকে আক্রমণ না করা, আরও শত্রুতা উস্কে না দেওয়া এবং মাইন ও অগ্নিসংযোগকারী কোনও ডিভাইস ব্যবহার না করতে সম্মত হয়।
• যুদ্ধবিরতি কি স্থায়ী নাকি কেবল অস্থায়ী?
জাতিসংঘ বলছে, এটি উভয়ই হতে পারে। কখনও কখনও, যুদ্ধে লিপ্ত দুটি বিরোধী পক্ষ একটি অস্থায়ী বা প্রাথমিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এটি সহিংসতা কমাতে বা মানবিক সংকট কমানোর লক্ষ্যেও হতে পারে।
যখন ইসরায়েল এবং হামাস-নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, তখন হামাস প্রায় ২৪০ জন বন্দির বিনিময়ে ১০৫ জন জিম্মিকে মুক্তি দেয়।
একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি অনেক সময় এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে পারে, যাতে তা শান্তি আলোচনায় সহায়তা করে এবং একটি স্থায়ী বা একটি নির্দিষ্ট যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করতে সাহায্য করে।
যেমন ২০০০ সালের জুনে ইথিওপিয়া এবং ইরিত্রিয়া সংঘাত থামাতে একটি অস্থায়ী শান্তি চুক্তি করে; যাতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করা যায়। পরে ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে আলজিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা ওই সংঘাতের পুরোপুরি অবসান ঘটায়।
তবে, অনেক সময় প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি ভেস্তে গেলে যুদ্ধ তীব্র আকারও ধারণ করতে পারে। যেমন, জাতিসংঘ লেবাননে গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য ১৯৭৮, ১৯৮১ এবং ১৯৮২ সালে একাধিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে। তবে প্রতিটি যুদ্ধবিরতির পর পুনরায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয় এবং ১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধটি ১৯৯০ সালে এসে শেষ হয়।
কিছু ক্ষেত্রে, যুদ্ধরত পক্ষের একজন বা উভয়পক্ষই যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সময় ক্ষেপণের জন্য প্রাথমিক যুদ্ধবিরতিকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। তবে দুটি বিবাদমান পক্ষের মধ্যে সফল শান্তি আলোচনার পরেই সাধারণত একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি স্থাপন করার সুযোগ হয়।
এতে সাধারণত যুদ্ধরত বাহিনীগুলোকে নিরস্ত্রীকরণ, তাদের সামরিক সক্ষমতা কমানো বা কোনও বাহিনীকে পুরোপুরি বিলুপ্ত ও নিরস্ত্র করার মতো প্রক্রিয়া জড়িত থাকে। চুক্তি স্বাক্ষরের পরে বহু বছর ধরে এসব প্রক্রিয়াগুলোও চলতে থাকে।
উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৮ সালে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ‘গুড ফ্রাইডে’ চুক্তিতে ‘প্রবিশনাল আইআরএ’ এবং ‘লয়ালিস্ট গ্রুপ’ তাদের অস্ত্র ‘ব্যবহারের বাইরে’ রাখতে সম্মত হয়েছিল।
চুক্তিতে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে শান্তি ও সম্প্রীতি উন্নয়নের জন্য কিছু ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যেমন উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের মধ্যে সীমান্ত সংঘাতমুক্ত রাখা এবং শুল্কমুক্ত বাণিজ্যে চালিয়ে যাওয়া।
• সীমিত যুদ্ধবিরতি মানে কী?
ইসরায়েল এবং হামাস ২০২৩ সালের নভেম্বরে তাদের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে ‘মানবিক বিরতি’ বলে অভিহিত করেছিল। মানবিক বিরতি কখনও কখনও যুদ্ধের সহিংসতা কমাতে বা মানবিক সংকট কমানোর জন্য করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ, সুদান সরকার দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘সুদান লিবারেশন মুভমেন্ট’ এবং ‘জাস্টিস এন্ড ইক্যুইলিটি মুভমেন্ট’র সাথে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। যা দারফুরে লড়াই বন্ধ করে স্থানীয় জনগণের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংস্থাগুলোকে ৪৫ দিনের সময় দেয়।
২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ায় সুনামির আঘাত হানার পর, ইন্দোনেশিয়ার সরকার এবং ‘ফ্রি আচেহ মুভমেন্ট’ উভয়ই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। যাতে তারা যে এলাকায় লড়াই করছে, সেখানে জরুরি সাহায্য পৌঁছে দেওয়া যায়।
অনেক সময় একটি নির্দিষ্ট এলাকায় যুদ্ধ বন্ধ করার জন্যও চুক্তি হতে পারে, যাকে ভৌগোলিক যুদ্ধবিরতি বলা হয়। ২০১৮ সালে জাতিসংঘ স্থানীয় জনগণকে রক্ষা করার জন্য লোহিত সাগরে ‘হোদেইদা’ বন্দরের আশপাশে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য ইয়েমেন সরকার এবং হুথিদের মধ্যে একটি চুক্তি করে। বিবিসি বাংলা।
এখন কী করবে ইরান?
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রাথমিক মূল্যায়ন যদি সঠিক হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ দেখা দেবে এবং প্রশ্ন উঠবে যে ইরান এখন কী করবে?
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা কি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিলম্বিত করার পরিবর্তে আরও গতিশীল করতে উদ্বুদ্ধ করবে? বিশেষ করে যখন ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে এবং নিহত বিজ্ঞানীদের জায়গায় নতুনদের নিযুক্ত করা হবে, তখন কি এই কর্মসূচির গতি বাড়বে?
দুই দেশের হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে ইরান, তা নিরূপণ করতে সময়ের দরকার হবে। এছাড়া ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে ইসরায়েল যে দাবি করতো এতদিন, সেটি নিয়ে এখনও বিতর্ক চলছে।
ইরানি কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে বলেছেন, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান আর কখনই পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে পারবে না।
তবে ইরানের ক্ষমতাসীন নেতারা এখন বুঝে গেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করা হয়েছে এবং এমন অস্ত্রই হয়তো ভবিষ্যতের হামলা থেকে তাদের কেবল রক্ষা হতে পারে।
পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিল করার দাবিতে উত্তর কোরিয়ার ওপর সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করা সত্ত্বেও দেশটির ভাণ্ডারে পারমাণবিক অস্ত্র যুক্ত হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্রধারী হওয়ায় এই দেশটি কখনই কোনও ধরনের হামলার শিকার হয়নি।
বুধবার ইরানের সংসদ বৈশ্বিক পারমাণবিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধে একটি বিল পাস করেছে। এমনকি দেশটির কিছু কর্মকর্তা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকেও বেরিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।
এছাড়া ৬০ শতাংশ মাত্রা সমৃদ্ধ করা প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের ক্ষেত্রে কী ঘটেছে সেটিও এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। ইরানের এই মাত্রায় পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণকে অস্ত্র তৈরির জন্য নির্ধারিত মাত্রার কেবল এক ধাপ নিচে রয়েছে বলে মনে করা হয়।
ইসরায়েল-ইরানের যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা একটি নতুন চুক্তির জন্য আবারও আলোচনা শুরুর চেষ্টা করবেন। আর এই চুক্তি উভয়পক্ষেরই মানার যৌক্তিক কারণ রয়েছে।
তবে ইরান বর্তমানে দুর্বল অবস্থানে থাকলেও এই আলোচনা কঠিন হবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শর্তই হচ্ছে, ইরানের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। আর ইরান বরাবরের মতো এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, ‘‘ইরানিদের সঙ্গে আমাদের বসার এবং একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি করার সময় এসেছে।’’
সূত্র: বিবিসি।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য