ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

যুদ্ধবিরতি কি আসলে যুদ্ধের অবসান ঘটায়?

অনলাইন ডেস্ক
২৫ জুন, ২০২৫ ১৯:৩
অনলাইন ডেস্ক
যুদ্ধবিরতি কি আসলে যুদ্ধের অবসান ঘটায়?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সন্ধ্যায় ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এটি একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইরানে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর, ইরানও প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলে মিসাইল হামলা শুরু করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় বোমা হামলা করে। প্রায় ১২ দিন ধরে চলা সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে দুই দেশ।

ইরান বলেছে, ইসরায়েল যদি তাদের আক্রমণ বন্ধ করে দেয়, তবে তারা গোলাবর্ষণ বন্ধ করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে ইসরায়েল বলেছে, ইরানে তাদের আক্রমণের উদ্দেশ্য অর্জন হয়েছে। তাই তারা এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে।

তবে, যুদ্ধবিরতি আদৌ টেকসই হবে কি না; তা নিয়ে ইতোমধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল এবং ইরান উভয়ই এটি লঙ্ঘন করেছে। অবশ্য ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েল ও ইরান উভয়েই সমানভাবে যুদ্ধ বন্ধ চেয়েছিল।

যদি যুদ্ধবিরতি বহাল থাকে, তাহলে আশা করা হচ্ছে, এটি একটি স্থায়ী শান্তিতে রূপ লাভ করবে। কিন্তু এর জন্য প্রচুর দক্ষ কূটনীতির প্রয়োজন হবে।

• যুদ্ধবিরতি বলতে কী বোঝায়?

জাতিসংঘের মতে, যুদ্ধবিরতি শব্দটির কোন একক, সর্বজনস্বীকৃত সংজ্ঞা নেই। যদিও শব্দটি সামরিক আদেশ ‘Cease fire- যুদ্ধবিরতি’ শব্দটি থেকে এসেছে, যা ‘Open fire- গুলি করো’ আদেশের বিপরীত।

এর মানে হলো যুদ্ধরত দুই পক্ষ তাদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে যে সব শর্ত সাপেক্ষে যুদ্ধ বন্ধ করতে সম্মত হয়, সেটিই যুদ্ধবিরতি। একে শান্তি চুক্তি এবং অস্ত্রসংবরণ বলা যেতে পারে।

জাতিসংঘ বলেছে, যুদ্ধবিরতি এবং সংঘর্ষ বন্ধ করার মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। জাতিসংঘের মতে, সংঘর্ষ বন্ধ করা সাধারণত যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য একটি অনানুষ্ঠানিক চুক্তি। সাধারণত ‘যুদ্ধবিরতি’ অনেকটা আনুষ্ঠানিক হয় এবং এতে কিছু শর্ত থাকে, যেগুলোর আওতায় দুই পক্ষ চুক্তিবদ্ধ হয় এবং কেউ চুক্তি ভঙ্গ করলে পুরনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ থাকে, যেমন-

• যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্য।

• কখন থেকে এটি কার্যকর হবে।

• এর পরে কোন রাজনৈতিক প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করা হবে।

• এটি কোন ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

চুক্তিবদ্ধ পক্ষগুলো কোন কোন সামরিক কার্যকলাপ চালাতে পারবে, আর কোনটি পারবে না এবং যুদ্ধবিরতি কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, তাও স্পষ্ট উল্লেখ থাকে।

উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৩ সালে লাইবেরিয়ার গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে যখন অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় ঐক্যের সরকার ন্যাশনাল প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট অফ লাইবেরিয়া এবং ইউনাইটেড লিবারেশন মুভমেন্ট অফ লাইবেরিয়ার সাথে একটি চুক্তি করে।

এতে উভয় পক্ষই অস্ত্র ও গোলাবারুদ আমদানি বন্ধ, সামরিক অবস্থান পরিবর্তন না করা বা অপর পক্ষকে আক্রমণ না করা, আরও শত্রুতা উস্কে না দেওয়া এবং মাইন ও অগ্নিসংযোগকারী কোনও ডিভাইস ব্যবহার না করতে সম্মত হয়।

• যুদ্ধবিরতি কি স্থায়ী নাকি কেবল অস্থায়ী?

জাতিসংঘ বলছে, এটি উভয়ই হতে পারে। কখনও কখনও, যুদ্ধে লিপ্ত দুটি বিরোধী পক্ষ একটি অস্থায়ী বা প্রাথমিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এটি সহিংসতা কমাতে বা মানবিক সংকট কমানোর লক্ষ্যেও হতে পারে।

যখন ইসরায়েল এবং হামাস-নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, তখন হামাস প্রায় ২৪০ জন বন্দির বিনিময়ে ১০৫ জন জিম্মিকে মুক্তি দেয়।

একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি অনেক সময় এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে পারে, যাতে তা শান্তি আলোচনায় সহায়তা করে এবং একটি স্থায়ী বা একটি নির্দিষ্ট যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করতে সাহায্য করে।

যেমন ২০০০ সালের জুনে ইথিওপিয়া এবং ইরিত্রিয়া সংঘাত থামাতে একটি অস্থায়ী শান্তি চুক্তি করে; যাতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করা যায়। পরে ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে আলজিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা ওই সংঘাতের পুরোপুরি অবসান ঘটায়।

তবে, অনেক সময় প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি ভেস্তে গেলে যুদ্ধ তীব্র আকারও ধারণ করতে পারে। যেমন, জাতিসংঘ লেবাননে গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য ১৯৭৮, ১৯৮১ এবং ১৯৮২ সালে একাধিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে। তবে প্রতিটি যুদ্ধবিরতির পর পুনরায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয় এবং ১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধটি ১৯৯০ সালে এসে শেষ হয়।

কিছু ক্ষেত্রে, যুদ্ধরত পক্ষের একজন বা উভয়পক্ষই যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সময় ক্ষেপণের জন্য প্রাথমিক যুদ্ধবিরতিকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। তবে দুটি বিবাদমান পক্ষের মধ্যে সফল শান্তি আলোচনার পরেই সাধারণত একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি স্থাপন করার সুযোগ হয়।

এতে সাধারণত যুদ্ধরত বাহিনীগুলোকে নিরস্ত্রীকরণ, তাদের সামরিক সক্ষমতা কমানো বা কোনও বাহিনীকে পুরোপুরি বিলুপ্ত ও নিরস্ত্র করার মতো প্রক্রিয়া জড়িত থাকে। চুক্তি স্বাক্ষরের পরে বহু বছর ধরে এসব প্রক্রিয়াগুলোও চলতে থাকে।

উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৮ সালে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ‘গুড ফ্রাইডে’ চুক্তিতে ‘প্রবিশনাল আইআরএ’ এবং ‘লয়ালিস্ট গ্রুপ’ তাদের অস্ত্র ‘ব্যবহারের বাইরে’ রাখতে সম্মত হয়েছিল।

চুক্তিতে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে শান্তি ও সম্প্রীতি উন্নয়নের জন্য কিছু ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যেমন উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের মধ্যে সীমান্ত সংঘাতমুক্ত রাখা এবং শুল্কমুক্ত বাণিজ্যে চালিয়ে যাওয়া।

• সীমিত যুদ্ধবিরতি মানে কী?

ইসরায়েল এবং হামাস ২০২৩ সালের নভেম্বরে তাদের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে ‘মানবিক বিরতি’ বলে অভিহিত করেছিল। মানবিক বিরতি কখনও কখনও যুদ্ধের সহিংসতা কমাতে বা মানবিক সংকট কমানোর জন্য করা হয়।

উদাহরণস্বরূপ, সুদান সরকার দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘সুদান লিবারেশন মুভমেন্ট’ এবং ‘জাস্টিস এন্ড ইক্যুইলিটি মুভমেন্ট’র সাথে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। যা দারফুরে লড়াই বন্ধ করে স্থানীয় জনগণের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংস্থাগুলোকে ৪৫ দিনের সময় দেয়।

২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ায় সুনামির আঘাত হানার পর, ইন্দোনেশিয়ার সরকার এবং ‘ফ্রি আচেহ মুভমেন্ট’ উভয়ই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। যাতে তারা যে এলাকায় লড়াই করছে, সেখানে জরুরি সাহায্য পৌঁছে দেওয়া যায়।

অনেক সময় একটি নির্দিষ্ট এলাকায় যুদ্ধ বন্ধ করার জন্যও চুক্তি হতে পারে, যাকে ভৌগোলিক যুদ্ধবিরতি বলা হয়। ২০১৮ সালে জাতিসংঘ স্থানীয় জনগণকে রক্ষা করার জন্য লোহিত সাগরে ‘হোদেইদা’ বন্দরের আশপাশে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য ইয়েমেন সরকার এবং হুথিদের মধ্যে একটি চুক্তি করে। বিবিসি বাংলা।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    এখন কী করবে ইরান?

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৫ জুন, ২০২৫ ১৮:৫৮
    অনলাইন ডেস্ক
    এখন কী করবে ইরান?

    যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রাথমিক মূল্যায়ন যদি সঠিক হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ দেখা দেবে এবং প্রশ্ন উঠবে যে ইরান এখন কী করবে?

    ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা কি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিলম্বিত করার পরিবর্তে আরও গতিশীল করতে উদ্বুদ্ধ করবে? বিশেষ করে যখন ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে এবং নিহত বিজ্ঞানীদের জায়গায় নতুনদের নিযুক্ত করা হবে, তখন কি এই কর্মসূচির গতি বাড়বে?

    দুই দেশের হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে ইরান, তা নিরূপণ করতে সময়ের দরকার হবে। এছাড়া ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে ইসরায়েল যে দাবি করতো এতদিন, সেটি নিয়ে এখনও বিতর্ক চলছে।

    ইরানি কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে বলেছেন, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান আর কখনই পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে পারবে না।

    তবে ইরানের ক্ষমতাসীন নেতারা এখন বুঝে গেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করা হয়েছে এবং এমন অস্ত্রই হয়তো ভবিষ্যতের হামলা থেকে তাদের কেবল রক্ষা হতে পারে।

    পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিল করার দাবিতে উত্তর কোরিয়ার ওপর সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করা সত্ত্বেও দেশটির ভাণ্ডারে পারমাণবিক অস্ত্র যুক্ত হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্রধারী হওয়ায় এই দেশটি কখনই কোনও ধরনের হামলার শিকার হয়নি।

    বুধবার ইরানের সংসদ বৈশ্বিক পারমাণবিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধে একটি বিল পাস করেছে। এমনকি দেশটির কিছু কর্মকর্তা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকেও বেরিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।

    এছাড়া ৬০ শতাংশ মাত্রা সমৃদ্ধ করা প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের ক্ষেত্রে কী ঘটেছে সেটিও এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। ইরানের এই মাত্রায় পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণকে অস্ত্র তৈরির জন্য নির্ধারিত মাত্রার কেবল এক ধাপ নিচে রয়েছে বলে মনে করা হয়।

    ইসরায়েল-ইরানের যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা একটি নতুন চুক্তির জন্য আবারও আলোচনা শুরুর চেষ্টা করবেন। আর এই চুক্তি উভয়পক্ষেরই মানার যৌক্তিক কারণ রয়েছে।

    তবে ইরান বর্তমানে দুর্বল অবস্থানে থাকলেও এই আলোচনা কঠিন হবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শর্তই হচ্ছে, ইরানের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। আর ইরান বরাবরের মতো এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

    মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, ‘‘ইরানিদের সঙ্গে আমাদের বসার এবং একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি করার সময় এসেছে।’’

    সূত্র: বিবিসি।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      খামেনি কি যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছেন?

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৫ জুন, ২০২৫ ১৮:৩৮
      অনলাইন ডেস্ক
      খামেনি কি যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছেন?

      ইরানের পরমাণু প্রকল্পের স্থাপনায় মার্কিন বিমান হামলার পরের দিন অর্থাৎ ১৩ জুন ইরান-ইসরায়েলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির কয়েক জন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাও যুদ্ধবিরতির ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছেন।

      তবে এখনও যুদ্ধবিরতি নিয়ে খানিকটা অস্বস্তি রয়ে গেছে, কারণ ইরানের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি— তাতে দেশটির যে কোনো ইস্যুতে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং যুদ্ধবিরতির দু’দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত খামেনি এ ইস্যুতে প্রকাশ্যে বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।

      ফলে এই মুহূর্তে ইরান এবং ইরানের বাইরে সবারই মনোযোগের কেন্দ্রে আছেন খামেনি। সবাই জানতে চাইছেন যে খামেনি আদৌ এই যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছেন কি না।

      প্রসঙ্গত, ‘ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির দোরগোড়ায়’— ইরান পরমাণু বোমা তৈরির দোরগোড়ায়— অভিযোগ তুলে গত ১৩ জুন রাজধানী তেহরান ও অন্যান্য এলাকায় বিমান অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। ইসরায়েলের এ অভিযান শুরুর ৯ দিন পর ২২ জুন মধ্যরাতে ইসরায়েলের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালায় মার্কিন বিমান বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড এ অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘দ্য মিডনাইট হ্যামার’।

      ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ পরিচালনার একদিন পর ইরান-ইসরায়েলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানে ইরানের পরমাণু সক্ষমতার মূলে আঘাত হানা হয়েছে এবং দেশটির আর কখনও পরমাণু প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করতে পারবে না।

      ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টা পর তা মেনে নিয়ে বিবৃতি দেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে এবং ইসরায়েল পুনরায় হামলা না করলে তেহরান আর সংঘাতে যাবে না।

      কিন্তু খামেনি এখনও নীরব আছেন। কোনো বিবৃতি-ভিডিওবার্তা তো নয়ই, এমনকি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও এ ব্যাপারে তার কোনো প্রতিক্রিয়া বা কথাবার্তা নেই।

      ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে সর্বশেষ টেলিভিশনে ভাষন দিতে দেখা গিয়েছিল গত ১৮ জুন। সেদিন যে ভাষণ তিনি দিয়েছিলেন, সেটি আরও আগে ধারণ করা হয়েছিল।

      প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে ‘নিঃশর্ত’ আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। গত ১৮ জুনের ভাষণে সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন খামেনি।

      সূত্র : বিবিসি

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        যুদ্ধবিরতির আগে ইরানের ১৪ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে ইসরাইলে

        অনলাইন ডেস্ক
        ২৫ জুন, ২০২৫ ১৭:৪০
        অনলাইন ডেস্ক
        যুদ্ধবিরতির আগে ইরানের ১৪ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে ইসরাইলে

        ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তারা ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে ১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

        আইআরজিসি এক বিবৃতিতে  জানিয়েছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৩’-এর অংশ হিসেবে দখলদার ইসরাইলি শাসনের বিরুদ্ধে এটি ছিল ইরানের ২২তম হামলা। এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মঙ্গলবার সকালেই পরিচালিত হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে’।

        বিবৃতিতে বলা হয়, সর্বশেষ এই প্রতিশোধমূলক হামলায় ইরানি বাহিনী ইসরাইলি সামরিক ও লজিস্টিক কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানে। যা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে বিস্তৃত ছিল। সর্বশেষ এই হামলা ছিল সোমবার রাতে ইসরাইলি বাহিনীর ‘অন্ধ ও অপরাধমূলক’ হামলার জবাব। রাতের ওই হামলায় কয়েকজন ইরানি শহীদ হন।

        আইআরজিসি আরও জানায়, ‘সন্ত্রাসী ও অপরাধী জায়োনিস্ট শাসনব্যবস্থা’ ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সামনে হতাশ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দিতে ‘আকুতি-মিনতি’ জানিয়েছে।

        ইরানি সশস্ত্র বাহিনী সফলভাবে জায়োনিস্ট শত্রুর ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিয়েছে এবং শত্রুদের প্রতিটি তৎপরতা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানানো হয়।

        প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন ইসরাইল বিনা উসকানিতে ইরানে আক্রমণ চালায়। তারা ইরানের পারমাণবিক, সামরিক ও আবাসিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। যার ফলে ৬০০-র বেশি ইরানি শহীদ হন, যাদের মধ্যে ছিলেন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার, পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং সাধারণ নাগরিক।

        এই হামলার পরই ইরানি সেনাবাহিনী পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। আইআরজিসি-এর এয়ারোস্পেস ফোর্স অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৩-এর আওতায় ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে ২২ দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যা অধিকৃত অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।পাশাপাশি ইসরাইলে অন্তত ২৮ জনের প্রাণহানী ঘটে।

        সূত্র: বার্তা সংস্থা তাসনিম

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে গ্রেপ্তার ৭০০ জন

          অনলাইন ডেস্ক
          ২৫ জুন, ২০২৫ ১৬:৫৮
          অনলাইন ডেস্ক
          ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে গ্রেপ্তার ৭০০ জন

          ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি ও নাশকতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইরানে ১২ দিনের সংঘাতে ৭০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি।

          বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফারস জানায়, “এই ভাড়াটেরা মূলত গুপ্তচর ও নাশকতামূলক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করছিল। জনগণের অভিযোগ ও গোয়েন্দা অভিযানের ভিত্তিতে তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

          ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ স্বীকার করেছে, তারা ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এর অংশ হিসেবে ইরানে গুপ্তচর ও গোপন অভিযান পরিচালনা করেছে। ১৩ জুন এই অভিযানের সূচনা হয় ইরানে ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার মাধ্যমে।

          মোসাদ তাদের এজেন্টদের গোপন তৎপরতার ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায়— তারা ইরানের ভেতরে ঘাঁটি তৈরি করে ড্রোন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

          এই ঘটনায় ইরানের নিরাপত্তা মহলে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়। সরকার বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলের পক্ষে মতামত প্রকাশ করেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে “সমাজের মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার” অভিযোগ আনা হয়।

          ফারস জানিয়েছে, ইরানের কেরমানশাহ, ইসফাহান, খুজেস্তান, ফারস এবং লোরেস্তান প্রদেশে এসব গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তবে রাজধানী তেহরানে কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

          ইরানের অন্যান্য সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন ইসরায়েলি এজেন্টকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত