শিরোনাম
যুদ্ধবিরতি এখন কার্যকর, অনুগ্রহ করে লঙ্ঘন করবেন না : ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অল্প সময় আগে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ঘোষণা দিয়েছেন- যুদ্ধবিরতি এখন কার্যকর।
অনুগ্রহ করে এটিকে লঙ্ঘন করবেন না! এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। উল্লেখ্য, এর আগে তিনি এক ঘোষণায় জানিয়েছেন ইরান ও ইসরাইল যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।
তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইরান বা ইসরাইল কেউই তাৎক্ষণিকভাবে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেয় নি। অনেকটা বিলম্বে ইরানের রাষ্ট্রীয় একটি টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, ইসরাইলের ওপর যুদ্ধবিরতি চাপিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।
একই খবরে বলা হয়, ইরানে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। তবে ইসরাইল থেকে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৩
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইসরায়েলে ইরানের হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জরুরি পরিষেবা বিভাগ। তারা জানিয়েছে, দক্ষিণ ইসরায়েলের বিয়ার শেভা শহরে একটি আবাসিক ভবনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন।
এর আগে, দেশটির জরুরি পরিষেবা বিভাগ ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) জানিয়েছে, হামলায় ৪০ বছর বয়সী একজন পুরুষ, ৩০ বছর বয়সী একজন নারী এবং ২০ বছর বয়সী এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।
হামলায় আরো ছয়জন আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন এমডিএ’র এক মুখপাত্র।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে যে, তারা ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত করেছে এবং বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সূত্র : সিএনএন
যুদ্ধ শেষ করতে চায় ইসরায়েল, ইরানের কাছে পাঠিয়েছে বার্তা
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার আরব মিত্রদের মাধ্যমে ইরানের কাছে ইসরায়েলের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। আরব ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল-১২ এর খবরে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ‘অপারেশন রাইজিং লায়নের’ মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি নির্মূল করে নিজেদের সামরিক লক্ষ্য খুব দ্রুত অর্জন করতে পারবে বলে প্রত্যাশা ইসরায়েলের।
আরবের কর্মকর্তারা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, ইসরায়েল এই অভিযান শিগগিরই শেষ করতে চায় বলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আরব মিত্রদের মাধ্যমে ইরানকে বার্তা দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দেওয়া ছাড়া ইরান এখনই অভিযান শেষ করতে চায় না।
ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা রোববার টাইমস অফ ইসরায়েলকে বলেছেন, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিল করতে রাজি হলে ইসরায়েল এখনই বোমা হামলা বন্ধ করার জন্য প্রস্তুত আছে। তিনি বলেন, ‘‘এই অভিযান বন্ধের বিষয়টি আমাদের ওপর নয়, বরং ইরানের ওপর নির্ভর করছে। আমরা চাইলে এখনই শেষ করতে পারি। সেক্ষেত্রে যদি একটি চুক্তি হয়, তাহলে ইসরায়েল তার অভিযানের ফলাফলে সন্তুষ্ট থাকবে।’’
চ্যানেল-১২ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযান শেষ করার দুটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, ইসরায়েল একতরফাভাবে ঘোষণা করতে পারে যে, তারা তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করেছে।
দ্বিতীয়ত, উভয়পক্ষই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিতে পারে। যদিও ইসরায়েল এটিকে কম গ্রহণযোগ্য হিসেবে মনে করে।
তবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ না করলে ইসরায়েল আরও জোরালোভাবে পাল্টা হামলা চালাবে। আর এই হামলার প্রধান টার্গেট হবে ইরানি শাসকগোষ্ঠী। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা বলছে, সোমবার তেহরানের কেন্দ্রস্থলে সরকার-নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল এক ধরনের বার্তা দিতে চেয়েছে। সেটি হলো ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে এই ধরনের ইসরায়েলি হামলা আরও বৃদ্ধি পাবে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে ওয়াল্লা বলছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিই এই লড়াই বন্ধে তেহরানের রাজি হওয়ার পথে প্রধান অন্তরায়।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনবে এবং শেষ পর্যন্ত তারা পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে রাজি হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।
তবে যদি ইসরায়েল মনে করে ইরান আবারও এই কর্মসূচি শুরু করতে চাইছে, তাহলে তারা পুনরায় বিমান হামলা চালাবে। এর আগে, রোববার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল তাদের লক্ষ্য অর্জনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর গুরুতর ক্ষতি করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, ইসরায়েল কোনও দীর্ঘস্থায়ী ‘যুদ্ধে’ জড়াতে চায় না। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান বন্ধ করার প্রশ্নই আসে না বলেও মন্তব্য করেছেন নেতানিয়াহু।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন ইতিহাসবিদ
‘ট্রাম্প ফ্যাসিস্ট, দ্বিতীয় প্রজন্মের অপরাধী’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একজন ফ্যাসিস্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের জন্য বাস্তব হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন আধুনিক আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ইতিহাস বিশারদ মার্কিন অধ্যাপক এভার্ন শোয়্যাপ।
এমনকি ট্রাম্পকে ‘বোকা সুযোগসন্ধানী’ ও ‘শ্বেতাঙ্গ দ্বিতীয় প্রজন্মের অপরাধী’ বলেও অভিহিত করেছেন এভার্ন শোয়্যাপ।বলেছেন, তিনি এমনই একজন অপরাধী যিনি কিনা নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মতাদর্শে বিশ্বাসী, আর এই দলটিই জায়োনিস্ট শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করে।
শোয়্যাপের মতে, ট্রাম্পের নীতিগুলো কাঁচা, অপরিপক্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে।
তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প যা কিছু সিদ্ধান্ত নেবে, তা ক্ষতিকরই হবে।’
একই সঙ্গে তিনি মার্কিনিদের সতর্ক করে বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সেনা পাঠানো আরও বিপজ্জনক হতে পারে, তবে ট্রাম্প তা করবেন না।’
এই মার্কিন বিশ্লেষক বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের জটিল বাস্তবতা বোঝার মতো মেধা ট্রাম্পের নেই। তাই তার বক্তব্যে ছিল স্ববিরোধিতা ও অস্পষ্টতা।’
ইসরাইল-ইরান চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ এবং এর সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে এভার্ন শোয়্যাপ বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের এক কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতে আছি। আমরা জানি না, বিশেষত আমরা জানিই না আমেরিকার এই হস্তক্ষেপের প্রকৃতি কী এবং এর দীর্ঘমেয়াদি ফল কী হতে পারে।’
প্রসঙ্গত, পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে টানা পাঁচদফা আলোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র। ষষ্ঠ দফার আলোচনায় বসার আগেই গত ১৩ জুন থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা শুরু করে যুদ্ধবাজ ইসরাইল।
জবাবে শতশত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইসরাইলে পালটা হামলা চালায় ইরানও। যাতে রীতিমত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ইসরাইল। এর জেরে মিত্র দেশকে সাহায্য ও ইরানের কোমর ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে শনিবার রাতে ইরানের প্রধান তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা- ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইস্ফাহানে বাংকার বাস্টার বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
ইরান-ইসরাইল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের এভাবে জড়িয়ে পড়াকেই এ অঞ্চলে বৃহত্তর সংঘাতের জন্য দায়ী করছেন অনেকে।তারই ধারাবাহিকতায় ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করলেন মার্কিন বিশ্লেষক এভার্ন শোয়্যাপও।
হরমুজ প্রণালী কী? কেন এই জলপথ গুরুত্বপূর্ণ?
ইরানের তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান বাহিনীর হামলার যে অভূতপূর্ব নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তা নিশ্চিতভাবেই গোটা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাকে আরও গভীর ও পোক্ত করেছে।
বস্তুত, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে ইরানের সাবেক রাজা বা শাহ রেজা পাহালভীর পতন এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় ইসলামপন্থি শাসকগোষ্ঠী আসীন হওয়ার পর এই প্রথম ইরানে হামলা চালাল পশ্চিমের কোনো দেশ।
এখন ইরানের জবাব দেওয়ার পালা। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে মার্কিন এই হামলার জবাব দিতে পারে ইরান।
প্রস্থ হরমুজ প্রণালীর দৈর্ঘ ৩৩ কিলোমিটার এবং প্রস্থ স্থানভেদে সর্বোচ্চ ৩৯ কিলোমিটার থেকে সর্বনিম্ম তিন কিলোমিটার। এই প্রণালীর একপাশে ইরান, অপরপাশে ওমান। জলপথটি একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরকে আরব সাগর ও ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং ইরানকে আরব উপদ্বীপ থেকে ইরানকে পৃথক করেছে।
বিশ্বের শীর্ষ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথগুলোর একটি এই হরমুজ প্রণালী। প্রতিদিন এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্দরে পৌঁছায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এবং তার সমপরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতি গ্যাস। প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে যত তেল এবং তরলীকৃত গ্যাস সরবরাহ হয়, তার এক পঞ্চমাংশই হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে।
জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থা ভোরটেক্সা’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে ১ কোটি ৭৮ লাখ থেকে ২ কোটি ৮ লাখ পরিশোধিত-অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস।
জ্বালানি তেল উত্তোলন ও বিপননকারী দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের সদস্যরাষ্ট্র সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং ইরাক তাদের বেশিরভাগ তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে এশিয়ার দেশগুলোতে পাঠায়।
এই পথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ৫ম নৌবহর।
ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে কী হবে?
ইরান যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তাহলে বিশ্ববাজারে তার ব্যাপক প্রভাব পড়বে। প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে যে পরিমান তেল সরবরাহ হয়, হঠাৎ করে তার এক পঞ্চমাংশ কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়বে লাফিয়ে লাফিয়ে।
তবে ইরান যদি সত্যিই এমন করে, তাহলে তা হবে দেশটির জন্য এক প্রকার আত্মঘাতী পদক্ষেপ। কারণ জ্বালানি তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ইরানের তেলও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যায় এই জলপথ বেয়ে। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো বর্তমানের ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ইরানের পাশে আছে। যদি হরমুজ প্রণালী ইরান বন্ধ করে দেয়— তাহলে নিজেদের স্বার্থেই তারা সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবে— এমন আশঙ্কা রয়েছে ব্যাপক।
এবং শুধু ইরানের নিজের বা উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলোই নয়— হরমুজ প্রনালী বন্ধ হয়ে গেলে বড় ক্ষতি হবে চীনেরও। কারণ, চীন ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ইরানের মোট উৎপাদিত তেলের ৯০ শতাংশই যায় চীনে।
ইরান কি সত্যিই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে?
রোববার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের পার্লামেন্ট মজলিশে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া বিষয়ক একটি বিল পাস হয়েছে; তবে সেখানে উল্লেখ আছে যে এ ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি রোববার জানিয়েছেন, ইরানে মার্কিন বাহিনীর বোমাবর্ষণের জন্য ‘গুরুতর পরিণতি’ ঘটবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিও জানিয়েছেন ইরানকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া থেকে বিরত রাখতে বেইজিংয়ের সহযোগিতা চেয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে সোমবার তিনি বলেছেন, “যদি তারা সত্যিই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়— তাহলে তা হবে একটি ভয়াবহ ভুল পদক্ষেপ এবং একই সঙ্গে তাদের নিজেদের জন্য অর্থনৈতিক আত্মহত্যা। কারণ এই প্রণালী দিয়ে তাদের তেলও পরিবহন করা হয়।”
“আমি বেইজিংকে এ ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছি। কারণ তারা ইরানের তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।”
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য