শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে একযোগে প্রতিরোধের আহ্বান উত্তর কোরিয়ার
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে একযোগে প্রতিরোধ করার আহ্বান জানান তিনি।
পাশাপাশি এই উত্তেজনার জন্য ইসরাইলের অব্যাহত যুদ্ধ প্রচেষ্টা ও ভূমি দখলের নীতিকে দায়ী করে মুখপাত্র বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো স্বীকৃতি ও উৎসাহেই মূলত ইসরাইল এসব কাজ করে যাচ্ছে।
সোমবার আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া ইরানের ওপর চালানো মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে, যা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার স্বার্থকে সহিংসভাবে পদদলিত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই উসকানিমূলক ও সংঘর্ষমুখী আচরণের বিরুদ্ধে একযোগে নিন্দা ও প্রত্যাখ্যানের আওয়াজ তুলতে হবে।’
উল্লেখ্য, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার সন্দেহ রয়েছে।
তেহরানে ‘অযৌক্তিক আগ্রাসন’ চালিয়েছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র : পুতিন
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলাকে ‘বিনা উসকানিতে আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চলমান এই সংঘাতে মস্কো ইরানি জনগণকে সহায়তা করার চেষ্টা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সোমবার মস্কোতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকে এই মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
ইরানের তিন পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে মস্কো সফরে গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সোমবার সকালে তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তেহরানে চালানো ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘‘বিনা উসকানির আগ্রাসন’’ বলে আখ্যায়িত করেন পুতিন।
পুতিন বলেন, ‘‘এটি ইরানের বিরুদ্ধে একেবারে বিনা উসকানিতে আগ্রাসন।’’ তিনি এই হামলাকে ‘অযৌক্তিক’ বলেও উল্লেখ করেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়া ইরানি জনগণকে সহায়তা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: এএফপি।
ইসরাইলে ২০ লাখ রুশভাষী, ইরান ইস্যুতে যা বলেলেন পুতিন
চলমান ইরান-ইসরাইল সংঘাতে রাশিয়াকে ব্যাপক আলোচনা হলেও সরাসরি কোনো শক্তির পক্ষ নেওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমার পুতিন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের মূল অধিবেশনে এ ইস্যুতে রাশিয়ার অবস্থান তুলে ধরে তিনি এ কথা বলেন।
পুতিনের ভাষায়, রাশিয়ার সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ ও ঐতিহাসিক। অন্যদিকে ইসরাইলের জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ রুশভাষী। তাই সরাসরি কোনো পক্ষকে সমর্থন না করে কূটনৈতিক সমাধান চায় রাশিয়া।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে পুতিন বলেন, ‘ইসরাইলে প্রায় ২০ লাখ রুশভাষী রয়েছেন। এ কারণে ইসরাইলকে একটি রুশভাষী দেশ বললেও ভুল হবে না। আমাদের ইতিহাস ও বর্তমান পররাষ্ট্রনীতিতে বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পায়। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রায় ১৫ শতাংশ নাগরিকই মুসলমান। এর বাইরেও আরব ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ, আস্থানির্ভর এবং অনেক ক্ষেত্রেই মিত্রসুলভ। আমরা ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পর্যবেক্ষক সদস্যও।’
ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির পক্ষে রাশিয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পুতিন বলেন, ‘আমরা কেবল কথায় নয়, বাস্তব পদক্ষেপেও ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিকে সমর্থন করি। বুশেহারে আমরা একটি পরমাণু রিঅ্যাক্টর নির্মাণ করেছি। নানা চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি সত্ত্বেও এর কাজ আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।’
মস্কো ইরানকে আরও বেশি সমর্থন দিতে পারত—এ বিষয়ে পুতিন প্রশ্ন তোলেন, ‘তাহলে কি ইরানের হয়ে আমরা যুদ্ধ করলে ঠিক মাত্রার সমর্থন দেওয়া হতো?’ এ সময় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন রুশ নেতা বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই রাশিয়ার স্বার্থ ও আদর্শ রক্ষায় লড়াই করছি। আমাদের প্রতিপক্ষ ও ইরানের প্রতিপক্ষ—দুপক্ষই মূলত একই ধাঁচের শক্তি।’
‘একই ধাঁচের শক্তি’ বলতে পুতিন হয়তো ইউক্রেন ও ইসরাইল দুপক্ষই পশ্চিমা মদদপুষ্ট—এ বিষয়টিই তিনি বোঝাতে চেয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, সংঘাত শুরুর পর থেকেই তিনি ইসরাইল, ইরান ও মার্কিন নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখেছেন এবং তাদের কাছে সমঝোতার কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। এসব প্রস্তাবে দুই পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার এবং ইসরাইলের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা—উভয় বিষয়েই ভারসাম্য রাখার কথা বলা হয়েছে।
তবে রাশিয়া মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নামতে চায় না বলেও স্পষ্ট করেছেন পুতিন। তিনি বলেন, ‘আমরা কেবল কিছু ধারণা দিচ্ছি। যদি তেহরান ও পশ্চিম জেরুজালেম এগুলোতে সাড়া দেয়, আমরা তাতে খুশি হবো।’
পুতিন বলেন, ‘প্রত্যেকটি সংঘাতের পেছনে একটি নির্দিষ্ট বাস্তবতা থাকে। তাই সব ক্ষেত্রেই এক রকম সমীকরণ প্রয়োগ করা যায় না।’ তিনি বলেন, ‘রাশিয়া এই সংকটে পক্ষ নেওয়ার বদলে যোগাযোগ ও সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান খুঁজছে।’সূত্র: এএফপি
যুদ্ধ শুরু করেছেন ট্রাম্প, শেষ করব আমরা : ইরানের হুমকি
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর প্রত্যাঘাতের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে ইরানের সামরিক বাহিনীর হুমকি- ‘এই যুদ্ধের শুরুটা আপনি করে থাকতে পারেন, কিন্তু শেষটা আমরাই করব।’ এ সময় ট্রাম্পকে ‘জুয়াড়ি’ বলেও সম্বোধন করে ইরান সেনাবাহিনী।
স্থানীয় সময় সোমবার সকালে ইরানের সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়ার মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারির একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ্যে এসেছে।
ভিডিও বার্তায় ইরান সেনাবাহিনী বলেছে, পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তুর পরিধি বৃদ্ধি করেছে। এ সময় ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘জুয়াড়ি’ বলে অভিহিত করা হয়।
রোববার ভোরের দিকে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বাঙ্কার-বাস্টার বোমা ফেলে ইসরায়েলের অভিযানে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর পর থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে ইরান।
যদিও ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রাখলেও, এখনও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তেহরান। ট্রাম্প প্রশাসন বারবার বলে আসছে যে, তাদের লক্ষ্য কেবল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা, বৃহত্তর যুদ্ধ শুরু করা নয়।
তবে রোববার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প খোলাখুলিভাবে ‘রেজিম চেইঞ্জ’ কথাটি উল্লেখ করেছেন। তিনি লেখেন, “রেজিম চেইঞ্জ’ শব্দটি ব্যবহার করা রাজনৈতিকভাবে সঠিক নয়, তবে বর্তমান ইরানি শাসন যদি ইরানকে আবার মহান করে তুলতে অক্ষম হয়, তাহলে কেন শাসন পরিবর্তন হবে না? মিগা!!!”
১২৫ বিমান দিয়ে ইরানে মার্কিন হামলা
ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এ অভিযানে সব মিলিয়ে অন্তত ১২৫ বিমান অংশ নিয়েছে।
সোমবার (২৩ জুন) সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে অপারেশন মিডনাইট হ্যামার পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান দিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের ৩টি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এগুলো হলো ফোরদো, নাতানজ এবং ইসফাহান।
ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, আমরা ইরানের ৩টি পারমাণবিক স্থাপনা—ফোরদো, নাতানজ এবং ইসফাহানে আমাদের অত্যন্ত সফল হামলা সম্পন্ন করেছি। সব বিমান এখন ইরানের আকাশসীমার বাইরে রয়েছে।
সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলায় বি-২ স্টিলথ বিমান ছাড়াও আরও বিভিন্ন বিমান অংশ নিয়েছে। এরমধ্যে ট্যাংকার, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন বিমান রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানে সাতটি বি-২ বোমারু বিমান অংশ নিয়েছে। এসব বিমানের প্রতিটি দুটি করে বাংকার বিধ্বংসী বোমা বহনে সক্ষম। যার প্রতিটি বোমার ওজন ৩০ হাজার পাউন্ড। এছাড়া অভিযানে জ্বালানি ভরার ট্যাংকার নজরদারি উড়োজাহাজ ও যুদ্ধবিমান অন্তর্ভূক্ত ছিল।
এদিকে ইরানে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘শাস্তি অব্যাহত থাকবে’ বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা চালানোর পর এটি তার প্রথম সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জায়োনিস্ট শত্রু একটি বড় ভুল করেছে, গুরুতর অপরাধ করেছে; এটিকে শাস্তি দিতে হবে এবং তারা শাস্তি পাচ্ছে; এটি এখনই শাস্তি পাচ্ছে।
পোস্টটির সঙ্গে একটি জ্বলন্ত ভবনের পটভূমিতে আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি খুলির ছবি শেয়ার করা হয়েছে। এটার ওপর ডেভিড তারকা চিহ্ন আঁকা রয়েছে, যা ইসরায়েলি প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
গত ১৩ জুন ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। দেশটির এ হামলায় পরমাণু, সামরিক ও আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে ৪০০-এর বেশি ইরানি নাগরিক নিহত হন। নিহতদের মধ্যে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা, পরমাণুবিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষ রয়েছেন।
ইরান ওই হামলার পরপরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুরু করে। ২৩ জুন পর্যন্ত ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস থ্রি’-এর আওতায় ইরান ইসরায়েলে মোট ২১ দফায় পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য