ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
 
শিরোনাম

মার্কিন হামলার জবাব কিভাবে দেবে ইরান

অনলাইন ডেস্ক
২২ জুন, ২০২৫ ১৯:৫৮
অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন হামলার জবাব কিভাবে দেবে ইরান

ডোনাল্ড ট্রাম্প অনুমোদিত তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন হামলার পর ইরান এখন পাল্টা জবাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্ভাব্য এই প্রতিক্রিয়াগুলোই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ওয়াশিংটনে বলেও জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ।

প্রভাবশালী এই ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি বলছে, ইরানি হামলার আশংকায় মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও সৌদি আরবে মোতায়েনকৃত ৪০,০০০ মার্কিন সেনাকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, শনিবার রাতে ৬টি ‘বাংকার বাস্টার’ মিসাইল দিয়ে ইরানের ৩টি পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।এর কোনো ‘ফলো-আপ’ আক্রমণ আপাতত পরিকল্পনায় নেই। তবে ইরান প্রতিশোধ নিলে জবাব দিতে প্রস্তুত আছে মার্কিন বাহিনী।

এ বিষয়ে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ইরান যদি অবিলম্বে শান্তি স্থাপন না করে, তাহলে আরও হামলা চালানো হবে।”

এদিকে ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই সংস্থা প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। যার মধ্যে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণও রয়েছে। যাতে ভুক্তভোগী ইরানি জাতির অধিকার রক্ষা করা যায়।”

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্ভাব্য হুমকিগুলো হলো:

১. ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা: ইরানের সবচেয়ে প্রচলিত প্রতিক্রিয়া হতে পারে ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করে হামলা।ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইরান।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টিরও বেশি ঘাঁটি রয়েছে। যার অনেকগুলোই ইরানের সেজিল-২ ক্ষেপণাস্ত্রের ২,০০০ কিমি রেঞ্জের মধ্যে।তবে ইরাক ও সিরিয়ার ঘাঁটিগুলোই প্রথম টার্গেটে হতে পারে।

টেলিগ্রাফের দাবি, ২০২০ সালে সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরান যে ধরনের হামলা চালিয়েছিল, তা প্রাণহানির কারণ না হলেও ১১০ জন মার্কিন সেনা মাথায় আঘাত ও কনকাশনে আক্রান্ত হয়। এবারও তেমন আঘাত হানার চেষ্টা হতে পারে।

তবে ইরানি হামলার জবাব দিতে মার্কিন বাহিনীর এফ-২২, এফ-১৬ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে।

২. মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে হামলা

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসকে প্রধান লক্ষ্য বানাতে পারে ইরান।এই আশংকায় দূতাবাসটি ইতোমধ্যে প্রায় পুরোপুরি খালি করে ফেলা হয়েছে।এছাড়া ইসরাইলের মার্কিন দূতাবাসও খালি করে ফেলা হয়েছে।

৩. তেল ও এলএনজি স্থাপনা

টেলিগ্রাফের ভাষ্য, ইরান যদি মনে করে তার অস্তিত্ব হুমকির মুখে, তাহলে সৌদি আরব, ইউএইসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হতে পারে।

২০১৯ সালে আবকাইক ও খুরাইস তেল স্থাপনায় ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালানো হয়েছিল—যা তখন সৌদির অর্ধেক উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আবকাইক সবচেয়ে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এছাড়া ইউএই-তে ফুজাইরাহ উপকূলে তেলবাহী জাহাজেও হামলা হতে পারে।

৪. হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে যায়। ইরান সহজেই এই প্রণালীকে মাইন পুঁতে বন্ধ করে দিতে পারে এবং জাহাজ চলাচল স্তব্ধ করতে পারে।

তবে, এটি করলে চীনসহ অন্যান্য বড় ক্রেতা দেশ ক্ষিপ্ত হবে—যা ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে সম্পূর্ণভাবে একঘরে করে ফেলতে পারে।

৫. প্রক্সি গোষ্ঠী ব্যবহার

ইরানের সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো প্রক্সি গোষ্ঠী ব্যবহার করে হামলা চালানো—যেমন: হিজবুল্লাহ ও হামাসকে দিয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা, হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনি বাহিনীর মাধ্যমে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, কাতাইব হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীকে দিয়ে ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ইত্যাদি।

তবে হামাস ও হিজবুল্লাহ’র ওপর ইসরাইল যে বিপর্যয় নামিয়ে এনেছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্বস্তির বিষয় হয়ে এসেছে।

৬. সাইবার হামলা

ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলো ইসরাইলে বহু সাইবার হামলা চালিয়েছে। যেমন- ডেটা নষ্ট, ফিশিং, অপপ্রচার ইত্যাদি। এজন্য অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র “CyberAv3ngers” নামক একটি দলকে ধরিয়ে দিতে ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, বর্তমান সংকটে ইরান বড় ধরনের সাইবার হামলা চালাতে পারবে না।

পরিশেষে বলা যায়, মার্কিন হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আঘাত হানতে পারে ব্যালিস্টিক মিসাইল, প্রক্সি হামলা, হরমুজ প্রণালী বন্ধ বা তেলের স্থাপনায় আঘাতের মাধ্যমে। তবে প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে রয়েছে রাজনৈতিক ঝুঁকি—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যুদ্ধ জড়ানোর আশঙ্কা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ মুহূর্তে ইরান সীমিত প্রতিক্রিয়া জানাবে। কারণ পুরোপুরি যুদ্ধ শুরু করলে তা তেহরানের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    মধ্যপ্রাচ্যে ‘জুয়া’ খেলছেন ট্রাম্প?

    অনলাইন ডেস্ক
    ২২ জুন, ২০২৫ ১৯:৪২
    অনলাইন ডেস্ক
    মধ্যপ্রাচ্যে ‘জুয়া’ খেলছেন ট্রাম্প?

    ‘শান্তির দূত’ হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়ে ফেলার জন্য একটি নাটকীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা তো দূরের কথা, ট্রাম্প এখন এমন একটি অঞ্চলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যেটা আরও বড় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে আমেরিকা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে।

    ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় আমেরিকা হামলা চালিয়েছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করার মাত্র দুই ঘণ্টা পর হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশ্যে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই অভিযানটি ছিল একটি অসাধারণ সাফল্য।

    তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, তার এই পদক্ষেপ আরও স্থায়ী শান্তির দরজা খুলে দেবে, যেখানে ইরানের আর পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। ইরান বলেছে, তাদের শক্তিশালী ফোরদো পারমাণবিক কেন্দ্রে স্থাপনার সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে সময়ই বলে দেবে কোন পক্ষ সঠিক।

    ইরান বলেছে, তাদের শক্তিশালী ফোরদো পারমাণবিক কেন্দ্রে স্থাপনার সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে সময়ই বলে দেবে কোন পক্ষ সঠিক।

    যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে পাশে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, যদি তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বাদ না দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন হামলার মুখোমুখি হবে যা অনেক ভয়াবহ।

    ট্রাম্প বলেন, অনেক টার্গেট এখনও বাকি আছে, এবং আমেরিকা গতি, নির্ভুলতা এবং দক্ষতার সঙ্গে সেদিকেও যাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ ধরনের হুমকি সত্ত্বেও ইরানে আমেরিকার অব্যাহত সামরিক সম্পৃক্ততা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ওই অঞ্চল এবং বিশ্বের জন্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি বয়ে আনতে পারে।

    জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকা সংঘাত বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার ফলে মধ্যপ্রাচ্য একটি নিয়ন্ত্রণহীন বিশৃঙ্খলার চক্রে পড়ে যেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন অঞ্চলটি ইতোমধ্যে সেই পরিস্থিতির দ্বারপ্রান্তে।

    যদি ইরান প্রতিশোধ নেয়, যেমন মার্কিন হামলা হলে ঘটবে বলে সতর্ক করেছিলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, সেক্ষেত্রে আমেরিকাও জবাব দিতে বাধ্য হতে পারে।

    • দুই সপ্তাহ দুই দিনে পরিণত

    চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, ইরানকে নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করতে হবে, সেটা প্রেসিডেন্টকে এমন একটা অবস্থায় ফেলে দেয় যেখান থেকে তার ফিরে আসা ছিলো কঠিন। ইরানও যে হুমকি দিচ্ছিল, সেটাও তাকে একই অবস্থায় ফেলে দিয়েছিল।

    এভাবেই যুদ্ধ শুরু হয় এবং যারা এর সাথে সংশ্লিষ্ট, যুদ্ধটা তাদের কল্পনা ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের দুই সপ্তাহের সময়সীমা দিয়েছিলেন, কিন্তু সেটা যা প্রত্যাশা করা হয়েছিল তারচেয়েও কমে আসে মাত্র দু’দিনে। শনিবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন, তিনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।

    • দুই সপ্তাহ ধরে আলোচনা কি কেবলই ভান?

    এই সপ্তাহ শেষে ইরানিদের একটা মিথ্যা নিরাপত্তার অনুভূতিতে প্রলুব্ধ করার একটি প্রচেষ্টা? নাকি পর্দার আড়ালে ট্রাম্পের মনোনীত দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেছে?

    হামলার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে এর ফলাফল খুব কমই জানা যায়। কিন্তু ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট এবং টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে শান্তির দ্বার উন্মুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। তবে এটি হয়তো অতিরিক্ত আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি। কারণ ইসরায়েল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালালেও আয়াতুল্লাহর হাতে এখনও অনেক অস্ত্র রয়েছে।

    তবে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়েও উঠতে পারে। এখন অপেক্ষার পালা শুরু। ইরান তার তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রতিক্রিয়া কীভাবে দেখাবে, যার মধ্যে ফোরদোও রয়েছে, যেটিকে তার পারমাণবিক কর্মসূচির রাজকীয় মুকুট হিসেবে দেখা হয়?

    ট্রাম্প আশা করছেন, মার্কিন হামলা ইরানকে আলোচনার টেবিলে আরও বেশি ছাড় দিতে বাধ্য করবে। কিন্তু এটির সম্ভাবনা খুব কম, কারণ যে দেশটি ইসরায়েলি হামলার সময় আলোচনায় রাজি নয়, তারা আমেরিকান বোমা পড়ার সময় আরও আগ্রহী হবে—এমন ভাবা কঠিন।

    আর যদিও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, মার্কিন আক্রমণ ছিল একটি একক ও সফল অভিযান। কিন্তু যদি বাস্তবে তা না হয়, তাহলে আবারও আক্রমণ করার জন্য চাপ বাড়বে অথবা প্রেসিডেন্টকে ন্যূনতম একটা সামরিক লাভের জন্য গুরুতর রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে হবে।

    • শান্তির দূত প্রেসিডেন্ট পাল্টা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিতে

    সেই ঝুঁকির মধ্যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় রাজনৈতিক উদ্বেগের মতো বিষয়ও আছে। ইরানের ওপর মার্কিন হামলার সম্ভাবনা ইতোমধ্যে কেবল ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে নয়, ট্রাম্পের নিজস্ব ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ আন্দোলনের ভেতর থেকেও তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

    জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্টের অস্বাভাবিকভাবে তার তিনজন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাকে পাশে রাখা সম্ভবত তার দলের মধ্যে ঐক্য প্রদর্শনের একটি প্রচেষ্টা ছিল। বিশেষ করে ভ্যান্স, যিনি বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের আরও সংযত পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে কথা বলেছেন, সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, ট্রাম্প এখনও একজন অনাক্রমণবাদী এবং তার সমর্থকদের তাকে ‘বেনিফিট অব ডাউট’ দেওয়া উচিত।

    যদি এই আক্রমণ শুধু একবারের জন্য হয়ে থাকে, তাহলে ট্রাম্প হয়তো তার সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে খুব সহজেই বিভক্তি দূর করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু যদি এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বৃহত্তর সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট তার দলের ভেতর থেকেই প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারেন।

    শনিবারের আক্রমণ প্রেসিডেন্টের জন্য এমন একটি আগ্রাসী পদক্ষেপ ছিল, যিনি তার প্রথম মেয়াদে কোনও নতুন যুদ্ধ শুরু না করার গর্ব করেছিলেন। গত বছর নির্বাচনী প্রচারে বিদেশি সংঘাতে দেশকে জড়ানো পূর্বসূরিদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে সমালোচনা করেছিলেন। ট্রাম্প তার পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু এখান থেকে এটি কোথায় যাবে তা পুরোপুরি তার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই।

    সূত্র: বিবিসি।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      হামলার খবর কি আগেই পেয়েছিল ইরান?

      অনলাইন ডেস্ক
      ২২ জুন, ২০২৫ ১৯:৩৩
      অনলাইন ডেস্ক
      হামলার খবর কি আগেই পেয়েছিল ইরান?

      যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্টিলথ বিমান হামলার ঠিক আগে ইরানের অন্যতম গোপন পারমাণবিক স্থাপনা ফোরদো ফুয়েল এনরিচমেন্ট সাইটে (FFEP) ব্যতিক্রমধর্মী কর্মকাণ্ড ধরা পড়েছে স্যাটেলাইট চিত্রে। এতে প্রশ্ন উঠেছে—তেহরান কি আগেই জানতে পেরেছিল হামলার পরিকল্পনার কথা?

      যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উপগ্রহ চিত্র সংস্থা ম্যাক্সার গত ১৯ ও ২০ জুন উচ্চমানের স্যাটেলাইট ছবি তুলেছে, যেখানে ফোরদো এলাকার প্রবেশপথ ও টানেল সংলগ্ন এলাকায় অস্বাভাবিক যানবাহন চলাচলের প্রমাণ পাওয়া গেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, অন্তত ১৬টি মালবাহী ট্রাক ফোরদোর অ্যাক্সেস রোড বরাবর সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করছে, যেগুলো সরাসরি টানেলের প্রবেশপথের দিকে যাচ্ছে।

      কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশিরভাগ ট্রাক প্রবেশপথ থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সরিয়ে নেওয়া হয়, যা ইঙ্গিত দেয় কোনো ধরনের স্থানান্তর বা রক্ষণমূলক প্রস্তুতি চলছিল। ছবিতে বুলডোজার, ট্রাক এবং অতিরিক্ত যানবাহনও দেখা গেছে, যা প্রতিরক্ষা বা সরবরাহ অপসারণসংক্রান্ত সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।

      বিশ্লেষকদের মতে, এই তৎপরতা যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কদিন আগেই দেখা গেছে, যা বোঝায় তেহরান হয়তো উপগ্রহ নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা চালিয়েছিল। অন্য এক ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, ইরান হয়তো হামলার পূর্বাভাস আগেই পেয়েছিল এবং সে অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও উপকরণ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

      উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ফোরদোসহ ইরানের ৩টি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে ইরান পাল্টা দাবি করেছে, স্থাপনাগুলো আগেই খালি করে ফেলা হয়েছিল, ফলে ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বললেই চলে।

      এখন উপগ্রহ চিত্রে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা ইঙ্গিত দিচ্ছে—ইরান হয়তো হামলার পরিকল্পনা আগেই আঁচ করতে পেরেছিল এবং সতর্ক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল। এতে করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে দেশটি নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

      সূত্র: আল জাজিরা, ম্যাক্সার টেকনোলজিস।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        এবার যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাহরাইন ও কুয়েত!

        অনলাইন ডেস্ক
        ২২ জুন, ২০২৫ ১৯:১৯
        অনলাইন ডেস্ক
        এবার যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাহরাইন ও কুয়েত!

        ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যে শনিবার রাতে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে শক্তিশালী ‘খায়বার’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে তেহরান। এ অবস্থায় এই অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বাহরাইন ও কুয়েত।

        রবিবার (২২ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের লাইভ আপডেটে এ তথ্য জানানো হয়।

        এতে বলা হয়, ইরান সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনায় বাহরাইন এবং কুয়েত প্রস্তুতি নিয়েছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন হামলার পর বাহরাইন তার নাগরিকদের নিরাপদে চলাচল করতে আহ্বান জানিয়েছে এবং কুয়েত একটি মন্ত্রণালয় কমপ্লেক্সে আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছে।

        বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সে এক পোস্টে জানায়, বর্তমান আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্থা বিবেচনা করে আমরা নাগরিক এবং বাসিন্দাদের কেবলমাত্র প্রয়োজনে প্রধান রাস্তা ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করছি, যাতে জননিরাপত্তা বজায় থাকে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দক্ষতার সাথে রাস্তা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হলো।

        দেশটির সিভিল সার্ভিস ব্যুরো অনুসারে, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে বাহরাইন ৭০ শতাংশ সরকারি কর্মচারীকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

        এর আগে, তেহরান সতর্ক করে দিয়ে বলেছিল, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আক্রমণ করে তাহলে তারা এই অঞ্চলে অবস্থিত আমেরিকান সম্পদ, যার মধ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে, যেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

        বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত এবং কুয়েতে বেশ কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে।

        উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন দিনগত রাত হঠাৎ ইরানে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামের এই অভিযানে রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র ও আবাসিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইহুদিবাদী সেনারা।

        হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি, দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার হোসেইন সালামি, খাতাম আল-আনবিয়া সদরদপ্তরের কমান্ডার ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল গোলাম আলি রশিদ ও দশজন পরমাণু বিজ্ঞানীসহ ৪০০ এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

        ইসরায়েলের হামলার পর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে শুক্রবার রাতে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৩ নামে’ অভিযান শুরু করে ইরান। তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ভেদ করে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এতে  হতাহত কম হলেও ইসরায়েলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। চলমান এই সংঘাতের মধ্যে ২১ জুন দিনগত রাতে ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান—তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
         

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          আঞ্চলিক যুদ্ধ নিয়ে সতর্ক করলেন বিশ্লেষক

          তেহরানের নির্দেশ ছাড়াই হামলা করতে পারে ইরানের মিত্ররা

          অনলাইন ডেস্ক
          ২২ জুন, ২০২৫ ১৯:৮
          অনলাইন ডেস্ক
          তেহরানের নির্দেশ ছাড়াই হামলা করতে পারে ইরানের মিত্ররা

          মার্কিন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন অস্ট্রেলিয়ার ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়ন ফোরামের পরিচালক শাহরাম আকবরজাদেহ।

          আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের জবাব দেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে তাদের আঞ্চলিক মিত্র ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো তেহরানের আনুষ্ঠানিক নির্দেশের অপেক্ষা নাও করতে পারে।

          তার ভাষায়, ‘মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের এত মিত্র এবং প্রক্সি রয়েছে যে- তারা তেহরানের নির্দেশের আগে থেকেই নিজ উদ্যোগে মার্কিন স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। আর এখানে প্রচুর মার্কিন সম্পদ রয়েছে।’

          এর আগে ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার (২২ জুন) সকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ তথ্য জানান

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত