শিরোনাম
ইসরায়েলে চতুর্থ প্রজন্মের ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান
ইসরায়েলের ওপর সাম্প্রতিক হামলায় ইরান খায়বার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে। কিছুক্ষণ আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের জারি করা একটি বিবৃতিতে ইসরায়েলের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতে প্রথমবারের মতো ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছে।
এই ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য তুলে ধরা হল :
খাইবার ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের সর্বশেষ মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি। আনুষ্ঠানিকভাবে খোররামশহর-৪ নামে পরিচিত। এটি দেশীয়ভাবে উৎপন্ন খোররামশাহর ক্ষেপণাস্ত্র সিরিজের ফোর্থ জেনারেশন।
২০০০ কিলোমিটার পাল্লার খায়বার ক্ষেপণাস্ত্র দেড় হাজার কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম, যা ইরানের মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে সবচেয়ে ভারী ওয়ারহেডগুলোর একটি।
তরল জ্বালানিচালিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে উড়ন্ত অবস্থাতেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
এর পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলের বাইরে ওয়ারহেডের গতিপথ সামঞ্জস্য করার সক্ষমতাও রয়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্রটির। ইরানে নির্মিত এর আগের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর তুলনায় অনেকটাই নির্ভুলভাবে লক্ষবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এটি।
প্রযুক্তিগতভাবে খাইবারের সর্বোচ্চ গতি বায়ুমণ্ডলের বাইরে আনুমানিক ম্যাক ১৬। যা শব্দের গতির ১৬ গুণ এবং এর ভেতরে আনুমানিক ম্যাক ৮। প্রযুক্তিগতভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র এতটাই শক্তিশালী যে প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো বেশ কঠিন।
সূত্র: বিবিসি।
ইরানে মার্কিন হামলায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি দেখছে রাশিয়া
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে ইরানে মার্কিন এই হামলাকে ‘‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’’ ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলেও অভিহিত করেছে মস্কো।
রোববার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘যেকোনও যুক্তিই দেখানো হোক না কেন, একটি সার্বভৌম দেশের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা হামলা চালানোর মতো এই দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার স্পষ্ট লঙ্ঘন।’’
বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ঝুঁকি ‘‘অত্যন্ত’’ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি রোববার মস্কো সফর করছেন। সেখানে সোমবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তার। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘আমরা আগ্রাসন বন্ধই এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার জন্য আরও উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাই।’’
এদিকে, রোববার রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, ইরানে হামলা চালিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন যুদ্ধ শুরু করেছেন।
এর আগে, শনিবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে জানান। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তেহরান শান্তিতে রাজি না হলে আরও বিধ্বংসী হামলার মুখোমুখি হবে।
নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া বিবৃতিতে মেদভেদেভ বলেছেন, শান্তির দূত হিসেবে যিনি প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন, সেই ট্রাম্প এখন যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন এক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছেন। এ ধরনের সাফল্য নিয়ে ট্রাম্প শান্তিতে নোবেল জয় করতে পারবেন না।
রুশ লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপিআর) নেতা লিওনিদ স্লুটস্কি বলেছেন, এই হামলার কোনও সামরিক কারণ ছিল না এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এর কোনও বৈধতা নেই।
রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমার ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রধান লিওনিদ বলেন, এই উত্তেজনার ফলাফল শুধু এই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ওয়াশিংটন জানে, তেহরানের জবাব অবধারিত। এসব কিছু সংঘাতের চক্রকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স।
ইসরাইলে সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো ইরান
ইসরাইলে এখন পর্যন্ত যত হামলা হয়েছে এরমধ্যে রোববারের ক্ষেপণাস্ত্র ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। যার ওজন এক হাজার ৫০০ ওয়্যারহেড। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে খোররামশাহর-৪ ক্ষেপণাস্ত্রের পূর্ববর্তী পরীক্ষামূলক ফুটেজ সম্প্রচার করা হয়েছে। যার অনস্ক্রিন ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ‘এটি আজ ইসরাইলের ওপর হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে।’
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহরের মধ্যে খোররামশাহর-৪ এর পেলোড সবচেয়ে ভারী। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটারের মধ্যে রেখে নকশা করতে বলেছিলেন।
ইরান বলছে ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটার (১,২৪০ মাইল) এবং এর ওয়ারহেড এক হাজার ৫০০ কিলোগ্রাম (৩,৩০০ পাউন্ড। এই ক্ষেপণাস্ত্রটির নামকরণ করা হয়েছে ইরানের একটি শহরের নামে, যেখানে ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তীব্র লড়াই হয়েছিল।
রোববার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরাইলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গবেষণা কেন্দ্র এবং ‘সহায়তা ঘাঁটি, বিভিন্ন স্তরের নিয়ন্ত্রণ ও কমান্ড সেন্টার’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
টাইমস অব ইসরাইল জানায়, হামলায় দূরপাল্লার তরল এবং কঠিন জ্বালানি উভয় ধরণের ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার করা হয়। এদিকে, বিমানবন্দর ছাড়াও ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ৮৬ জনের বেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরাইলের জরুরি সেবা সংস্থা জানায়, অন্তত ১০টি স্থানে হামলা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে কারমেল, হাইফা, তেলআবিব আবিব এবং উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা।
ইসরাইলের সেনাবিাহিনী জানায়, দুই দফায় সব মিলিয়ে ২৭টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। প্রথম দফায় ২২টি আর দ্বিতীয় দফায় পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এই প্রথমবারের মতো দুই দফায় হামলা চালানো ইরান।
পুতিনের সাথে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’র জন্য রাশিয়া যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’র জন্য আজ রাশিয়া যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
রোববার (২২ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। তবে মস্কোর উদ্দেশে আজ রওনা হলেও বৈঠকটি আগামীকাল সোমবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
ইস্তাম্বুলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাশিয়া ইরানের পরম বন্ধু। এর বাইরেও আমরা একটি কৌশলগত অংশীদারত্বের মধ্যে আছি। আমরা সবসময় একে অপরের সমস্যা ও পারস্পরিক বিষয়গুলো নিয়ে আলচনা করি, একে অপরের পরামর্শ গ্রহণ করি এবং আমাদের অবস্থানের সমন্বয় সাধন করি। এ সময়, রাশিয়া জেসিপিওএ-তে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে একটি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সেইসাথে, আগামীকাল রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সাথে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’র পর একে অপরের সাথে সমন্বয় করে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে একযোগে কাজ চালিয়ে যাবেন বলেও নিশ্চয়তা দেন তিনি।
এর আগে, গত রাতে মার্কিন বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে বলেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন। সেইসাথে তিনি সতর্ক করেন, এই হামলার ‘চিরস্থায়ী পরিণতি’ ভোগ করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।
পোস্টে হুঁশিয়ারি দিয়ে আরাঘচি আরও বলেন, ইরান তার সার্বভৌমত্ব, স্বার্থ এবং জনগণকে রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।
এর পরপরই ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমান বন্দরসহ বেশ কিছু স্থানকে টার্গেট করে মিসাইল হামলা চালায় ইরান।
ইরানের ড্রোন হামলায় হতবাক ইসরাইল
পালটা হামলায় ইসরাইলকে নিজের ক্ষেপণাস্ত্র চমক দেখানোর পর এবার ড্রোন কারিশমা দেখাচ্ছে ইরান। হামলার শুরুর দিন থেকেই ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। কিন্তু শুক্রবার মধ্যরাতের পর থেকেই অত্যাধুনিক ড্রোনের অব্যর্থ হামলায় হতবাক হয়ে গেছে ইসরাইল। বেসামরিক নাগরিকরা তো বটেই, হতভম্ব হয়ে গেছে খোদ ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীও। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ঠেকাতে পারেনি।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এটি একটি বিরল ঘটনা। ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণাধীন গোলান মালভূমি, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, জেরুজালেম, হাইফাসহ দেশটির বেশ কয়েকটি স্থানে রাত থেকে শুরু করে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থেমে থেমে হামলা চালায় ইরান। পালটা হামলা চালায় ইসরাইলও। খোররামবাদ শহরসহ ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রেও নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। ১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া এ সংঘাত বন্ধে গতি ফিরেছে আলোচনাতেও।
শনিবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বৈঠকে ৫৭ দেশের ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নেতারা। শান্তি প্রক্রিয়া চলছে ইউরোপের উঠানেও। কিন্তু বিশ্বনেতাদের আলোচনা-সমালোচনা কোনো কিছুতেই ফায়দা হবে না বলে স্পস্ট জানিয়ে দিয়েছে ইসরাইল। তবে আলোচনার কূটনীতিতে ইরানের বিন্দুমাত্র অনাগ্রহ নেই বলে জানিয়েছে তেহরান। এদিকে সর্বাত্মক হামলার আগে ইরানকে দুই সপ্তাহের সময়সীমা দেওয়ার পরদিনই দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার জাল ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এএফপি, বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স।
শনিবার সকালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ‘অপারেশন ট্র– প্রমিজ ৩’-এর অংশ হিসাবে ইসরাইলে তারা ১৮তম দফা হামলা চালিয়েছে। এতে বলা হয়, দখল করা ফিলিস্তিনি (বর্তমানে ইসরাইল) ভূখণ্ডের কেন্দ্রস্থল, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর, সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং ইসরাইলি সেনাবাহিনীর রসদ ও পরিচালনা কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানতে শাহেদ-১৩৬ নামের যুদ্ধ ও আত্মঘাতী ড্রোনের ঝাঁক এবং কঠিন ও তরল জ্বালানিচালিত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের দুটি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে দেশটির উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে পৃথক হামলা চালিয়েছে। ড্রোনের এই সক্ষমতা তাদের বিস্মিত করেছে বলেও জানায় সেনাবাহিনী। সিএনএনের খবরে বলা হয়, শনিবার ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে জর্ডান সীমান্তসংলগ্ন বেইত শেইন শহরে একটি ড্রোন আঘাত হানে। এতে একটি দোতলা বাড়ি বিধ্বস্ত হয়। উদ্ধারকর্মীরা জানান, বিস্ফোরণে বাড়িটির পাশে বড় ধরনের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, জানালা ও দরজা উড়ে গেছে।
জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড আডম (এমডিএ) জানিয়েছে, তারা ধ্বংসস্তূপের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। হতাহত কারও খোঁজ পায়নি।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) তথ্যমতে, ইরানের দ্বিতীয় ড্রোনটি দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি খোলা এলাকায় আঘাত হানে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আইডিএফ জানিয়েছে, ইরানের সর্বশেষ হামলায় অন্তত ছয়টি ড্রোন ছিল। এর মধ্যে কয়েকটি ড্রোন আরাভা মরুভূমি ও গোলান মালভূমিসহ অন্যান্য অঞ্চলে পৌঁছানোর আগেই ঠেকানো হয়।
গত সপ্তাহে ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে ইরান হামলার জন্য হাজারের বেশি ড্রোন পাঠায়। যা লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই নিষ্ক্রিয় করা হয় বলেও জানিয়েছে আইডিএফ। গত রাতে ইরান থেকে ছোড়া প্রায় ৪০টি ড্রোন ইসরাইলের আকাশসীমায় পৌঁছানোর আগেই সেগুলো প্রতিহত করেছে। এ নিয়ে অভিযানের শুরু থেকে মোট ৪৭০টিরও বেশি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে, যার সফলতা প্রায় ৯৯ শতাংশ।
পালটা হামলায় ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরাইল। খুজেস্তান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। ইস্পাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সেই ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেছে ইসরাইল। হামলায় ইরানের খোররামাবাদ শহরেও এদিন অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
পরমাণু বিকিরণের শঙ্কা, প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান: ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলায় পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ক্ষতি হলে সৃষ্ট বিকিরণজনিত ক্ষয়ক্ষতির শিকারদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। শনিবার এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছেন ইরানের উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী আলী জাফারিয়ান। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ইসরাইল কোনো অনানুষ্ঠানিক বা অপ্রচলিত অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে কোনো প্রতিবেদন পাইনি। তবে পারমাণবিক চুল্লিগুলো যদি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং সেখান থেকে কোনো ধরনের বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত আছি। যদিও আমরা আশাবাদী যে পরিস্থিতি সেই স্তরে পৌঁছাবে না।’
জাফারিয়ান আরও জানান, এখন পর্যন্ত তিনটি হাসপাতাল ইসরাইলি হামলার শিকার হয়েছে এবং কেরমানশাহ হাসপাতাল সম্পূর্ণরূপে খালি করে ফেলা হয়েছে। ইসরাইলি হামলায় হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে একটি হালনাগাদ তথ্যও এদিন দিয়েছেন ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন সম্পর্ক বিভাগের প্রধান হোসেন কেরমানপুর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, গত নয় দিনের হামলায় ৪০০-এর বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫৪ জন নারী ও শিশু রয়েছে। এছাড়া আরও ৩ হাজার ৫৬ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে ২ হাজার ২২০ জনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ২৩২ জনকে ঘটনাস্থলেই বহির্বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে, ইরানজুড়ে ৪৫৭টি অস্ত্রোপচার করেছে মেডিকেল টিম।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ওআইসি সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরাইলি সরকারই আঞ্চলিক শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা: ইরানের আটটি প্রতিষ্ঠান, একজন ব্যক্তিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি জাহাজকে অবরুদ্ধ সম্পত্তি হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি এবং জাহাজ ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য চীন থেকে সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও পরিবহণে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতঃপূর্বে কালো তালিকাভুক্ত করে। তারা হলো- রায়ান রোশদ আফজার কোম্পানি (আরআরএ) এবং এই কোম্পানির নিয়ন্ত্রিত একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘তোসে সানায়ে নিম রেসানায়ে তারাশে’-এর জন্য সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি পরিবহণে সহায়তা করেছে। যে জাহাজটি এই সরবরাহে ব্যবহৃত হয়েছিল, সেটিকেও অবরুদ্ধ সম্পত্তি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা স্মারকলিপি-২ অনুসরণ করে গৃহীত হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ পুনরায় শুরু করা।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য