ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ইরানের ড্রোন হামলায় হতবাক ইসরাইল

অনলাইন ডেস্ক
২২ জুন, ২০২৫ ১৭:২৮
অনলাইন ডেস্ক
ইরানের ড্রোন হামলায় হতবাক ইসরাইল

পালটা হামলায় ইসরাইলকে নিজের ক্ষেপণাস্ত্র চমক দেখানোর পর এবার ড্রোন কারিশমা দেখাচ্ছে ইরান। হামলার শুরুর দিন থেকেই ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। কিন্তু শুক্রবার মধ্যরাতের পর থেকেই অত্যাধুনিক ড্রোনের অব্যর্থ হামলায় হতবাক হয়ে গেছে ইসরাইল। বেসামরিক নাগরিকরা তো বটেই, হতভম্ব হয়ে গেছে খোদ ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীও। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ঠেকাতে পারেনি।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এটি একটি বিরল ঘটনা। ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণাধীন গোলান মালভূমি, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, জেরুজালেম, হাইফাসহ দেশটির বেশ কয়েকটি স্থানে রাত থেকে শুরু করে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থেমে থেমে হামলা চালায় ইরান। পালটা হামলা চালায় ইসরাইলও। খোররামবাদ শহরসহ ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রেও নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। ১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া এ সংঘাত বন্ধে গতি ফিরেছে আলোচনাতেও।

শনিবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বৈঠকে ৫৭ দেশের ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নেতারা। শান্তি প্রক্রিয়া চলছে ইউরোপের উঠানেও। কিন্তু বিশ্বনেতাদের আলোচনা-সমালোচনা কোনো কিছুতেই ফায়দা হবে না বলে স্পস্ট জানিয়ে দিয়েছে ইসরাইল। তবে আলোচনার কূটনীতিতে ইরানের বিন্দুমাত্র অনাগ্রহ নেই বলে জানিয়েছে তেহরান। এদিকে সর্বাত্মক হামলার আগে ইরানকে দুই সপ্তাহের সময়সীমা দেওয়ার পরদিনই দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার জাল ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এএফপি, বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স।

শনিবার সকালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ‘অপারেশন ট্র– প্রমিজ ৩’-এর অংশ হিসাবে ইসরাইলে তারা ১৮তম দফা হামলা চালিয়েছে। এতে বলা হয়, দখল করা ফিলিস্তিনি (বর্তমানে ইসরাইল) ভূখণ্ডের কেন্দ্রস্থল, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর, সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং ইসরাইলি সেনাবাহিনীর রসদ ও পরিচালনা কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানতে শাহেদ-১৩৬ নামের যুদ্ধ ও আত্মঘাতী ড্রোনের ঝাঁক এবং কঠিন ও তরল জ্বালানিচালিত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের দুটি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে দেশটির উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে পৃথক হামলা চালিয়েছে। ড্রোনের এই সক্ষমতা তাদের বিস্মিত করেছে বলেও জানায় সেনাবাহিনী। সিএনএনের খবরে বলা হয়, শনিবার ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে জর্ডান সীমান্তসংলগ্ন বেইত শেইন শহরে একটি ড্রোন আঘাত হানে। এতে একটি দোতলা বাড়ি বিধ্বস্ত হয়। উদ্ধারকর্মীরা জানান, বিস্ফোরণে বাড়িটির পাশে বড় ধরনের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, জানালা ও দরজা উড়ে গেছে।

জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড আডম (এমডিএ) জানিয়েছে, তারা ধ্বংসস্তূপের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। হতাহত কারও খোঁজ পায়নি।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) তথ্যমতে, ইরানের দ্বিতীয় ড্রোনটি দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি খোলা এলাকায় আঘাত হানে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আইডিএফ জানিয়েছে, ইরানের সর্বশেষ হামলায় অন্তত ছয়টি ড্রোন ছিল। এর মধ্যে কয়েকটি ড্রোন আরাভা মরুভূমি ও গোলান মালভূমিসহ অন্যান্য অঞ্চলে পৌঁছানোর আগেই ঠেকানো হয়।

গত সপ্তাহে ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে ইরান হামলার জন্য হাজারের বেশি ড্রোন পাঠায়। যা লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই নিষ্ক্রিয় করা হয় বলেও জানিয়েছে আইডিএফ। গত রাতে ইরান থেকে ছোড়া প্রায় ৪০টি ড্রোন ইসরাইলের আকাশসীমায় পৌঁছানোর আগেই সেগুলো প্রতিহত করেছে। এ নিয়ে অভিযানের শুরু থেকে মোট ৪৭০টিরও বেশি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে, যার সফলতা প্রায় ৯৯ শতাংশ।

পালটা হামলায় ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরাইল। খুজেস্তান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। ইস্পাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সেই ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেছে ইসরাইল। হামলায় ইরানের খোররামাবাদ শহরেও এদিন অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

পরমাণু বিকিরণের শঙ্কা, প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান: ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলায় পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ক্ষতি হলে সৃষ্ট বিকিরণজনিত ক্ষয়ক্ষতির শিকারদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। শনিবার এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছেন ইরানের উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী আলী জাফারিয়ান। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ইসরাইল কোনো অনানুষ্ঠানিক বা অপ্রচলিত অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে কোনো প্রতিবেদন পাইনি। তবে পারমাণবিক চুল্লিগুলো যদি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং সেখান থেকে কোনো ধরনের বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত আছি। যদিও আমরা আশাবাদী যে পরিস্থিতি সেই স্তরে পৌঁছাবে না।’

জাফারিয়ান আরও জানান, এখন পর্যন্ত তিনটি হাসপাতাল ইসরাইলি হামলার শিকার হয়েছে এবং কেরমানশাহ হাসপাতাল সম্পূর্ণরূপে খালি করে ফেলা হয়েছে। ইসরাইলি হামলায় হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে একটি হালনাগাদ তথ্যও এদিন দিয়েছেন ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন সম্পর্ক বিভাগের প্রধান হোসেন কেরমানপুর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, গত নয় দিনের হামলায় ৪০০-এর বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫৪ জন নারী ও শিশু রয়েছে। এছাড়া আরও ৩ হাজার ৫৬ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে ২ হাজার ২২০ জনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ২৩২ জনকে ঘটনাস্থলেই বহির্বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে, ইরানজুড়ে ৪৫৭টি অস্ত্রোপচার করেছে মেডিকেল টিম।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধে মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ওআইসি সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরাইলি সরকারই আঞ্চলিক শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা।


ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা: ইরানের আটটি প্রতিষ্ঠান, একজন ব্যক্তিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি জাহাজকে অবরুদ্ধ সম্পত্তি হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি এবং জাহাজ ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য চীন থেকে সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও পরিবহণে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতঃপূর্বে কালো তালিকাভুক্ত করে। তারা হলো- রায়ান রোশদ আফজার কোম্পানি (আরআরএ) এবং এই কোম্পানির নিয়ন্ত্রিত একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘তোসে সানায়ে নিম রেসানায়ে তারাশে’-এর জন্য সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি পরিবহণে সহায়তা করেছে। যে জাহাজটি এই সরবরাহে ব্যবহৃত হয়েছিল, সেটিকেও অবরুদ্ধ সম্পত্তি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা স্মারকলিপি-২ অনুসরণ করে গৃহীত হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ পুনরায় শুরু করা।  

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    হরমুজ প্রণালী বন্ধ ও মার্কিন নৌবহরে হামলার হুঁশিয়ারি

    অনলাইন ডেস্ক
    ২২ জুন, ২০২৫ ১৭:২৩
    অনলাইন ডেস্ক
    হরমুজ প্রণালী বন্ধ ও মার্কিন নৌবহরে হামলার হুঁশিয়ারি

    অবশেষে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইরান-ইসরাইল সংঘাতে সরাসরি নিজেকে জড়ালো যুক্তরাষ্ট্র। এ হামলার জবাবে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাবশালী একজন উপদেষ্টা। খবর সিএনএনের।

    ইরানের কায়হান পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হোসেইন শরিয়তমাদারি সতর্ক করে বলেন, ‘ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর, এখন আমাদের পালা।’

    হোসেইন শরিয়তমাদানি ইরানের রক্ষণশীল কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। অতীতে তিনি নিজেকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতিনিধি বলে দাবি করেছেন।


    ‘ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর, এখন আমাদের পালা।’

    সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামে কায়হানের এক বার্তায় শরিয়তমাদারিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘কোনো সংশয় বা বিলম্ব না করে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আমরা অবশ্যই বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবো। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্সের জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

    ওই বার্তায় পবিত্র কুরআনের একটি বাণী দিয়ে শেষ করা হয়।  বাণীতে বলা হয়, ‘তাদের যেখানে পাবে সেখানেই হত্যা করো।’

    যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এখনও ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

    শনিবার রাতে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন। পরে ট্রাম্প নিজেই ঘোষণা দেন যে, তার দেশ ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় সফল হামলা সম্পন্ন করেছে। স্থাপনাগুলো হলো- ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান।

    নিন্দা জানিয়ে এ হামলাকে জঘন্য কাজ বলে আখ্যায়িত করেছে ইরান। দেশটির পারমাণবিক সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তিন পারমাণবিক স্থাপনায় শক্রুর হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে, বিশেষ করে নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফেরেশন চুক্তি (এনপিটি)।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ইসরাইলি বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান

      অনলাইন ডেস্ক
      ২২ জুন, ২০২৫ ১৭:১৩
      অনলাইন ডেস্ক
      ইসরাইলি বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান

      ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ বেন-গুরিয়ন বিমানবন্দর, গবেষণা কেন্দ্র ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। রোববার সকালে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা তাসনিমের। 

      আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলছে, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলো তেলআবিবে অবস্থিত ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ বেন-গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গবেষণা কেন্দ্র এবং ‘সহায়তা ঘাঁটি এবং বিভিন্ন স্তরের নিয়ন্ত্রণ ও কমান্ড সেন্টার’ লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।

      এসব হামলায় দূরপাল্লার তরল ও কঠিন জ্বালানি- উভয় ধরণের ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে আইআরজিসি। 

      এদিকে টাইমস অব ইসরাইল জানায়, শনিবার রাতে চালানো মার্কিন হামলার জবাবে রোববার সকালে ইসরাইলের বিভিন্ন স্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।যেগুলো তেলআবিবসহ ইসরাইলের অন্তত ১০টি স্থানে আঘাত হেনেছে। তেহরানের সর্বশেষ এ হামলার পর ইসরাইলে কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছে। 

      ইসরাইলের জাতীয় জরুরি পরিষেবা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডমের (এমডিএ) বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে একজনের শরীরে গুলি লেগেছে এবং ওপর ১০ জন ‘সামান্য আহত’ হয়েছেন।

      এমডিএ আরও জানিয়েছে, রোববার সকালে ইরানের রকেট ও শ্যাপ্রেল ইসরাইলের ১০টি স্থানে আঘাত হেনেছে।

      এমডিএর একজন মুখপাত্র বলেছেন, প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে ইসরাইলের ১০টি স্থানে রকেট ও শ্যাপ্রেল পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- কারমেল, হাইফা, তেলআবিব এলাকা এবং উত্তর উপকূলীয় সমভূমি।

      এদিকে ইরানের সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়ে ইসরাইলি সামরিক হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, লোকেরা এখন বোমা আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

      তারা আরও জানিয়েছে, জরুরি পরিষেবাকর্মীরা দেশজুড়ে ‘যেখানে প্রভাবের রিপোর্ট পাওয়া গেছে’ সেখানে বেশ কয়েকটি এলাকায় কাজ করছে।

      ইরানের অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে আগামী ৭ জুলাই পর্যন্ত সব ফ্লাইটের টিকেট বিক্রি স্থগিত করেছে ইসরাইলি বিমান সংস্থা ইসরাইর। 

      ইসরাইরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৭ জুলাই পর্যন্ত ফ্লাইট রিজার্ভেশন থাকা সব যাত্রী ফি ছাড়াই তাদের ভ্রমণ বাতিল করতে পারবেন। যাত্রীরা এর জন্য একটি ক্রেডিট ভাউচার পাবেন,যা ভবিষ্যতে ইসরাইরের যেকোনো ফ্লাইটে দুই বছরের জন্য বৈধ থাকবে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ‘সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে’ মার্কিন আক্রমণ প্রতিহত করা হবে: ইরান

        অনলাইন ডেস্ক
        ২২ জুন, ২০২৫ ১৭:৪
        অনলাইন ডেস্ক
        ‘সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে’ মার্কিন আক্রমণ প্রতিহত করা হবে: ইরান

        ‘সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে’ মার্কিন আক্রমণ প্রতিহত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘ঘোরতর ও অভূতপূর্ব লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর আল-জাজিরার। 

        রোববার এক বিবৃতিতে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা আন্তর্জাতিক আইনের ‘ঘোরতর ও অভূতপূর্ব লঙ্ঘন’। এ ধরনের ‘আগ্রাসন’ প্রতিরোধ করার অধিকার তাদের রয়েছে। 

        বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি বলেছে, ‘বিশ্বকে ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে যুক্তরাষ্ট্রই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে ইসরাইলের ‘আগ্রাসী পদক্ষেপ’ সমর্থন করে কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং এখন ইরানের বিরুদ্ধে একটি বিপজ্জনক যুদ্ধ চালাচ্ছে।’

        এতে আরও বলা হয়েছে, ‘এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে যুক্তরাষ্ট্র কোনো নিয়ম বা নীতি মেনে চলে না। তারা গণহত্যাকারী এবং দখলদার সরকারের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোনো আইনহীনতা বা অপরাধকে ছাড় দেয় না।’

        ইরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান মনে করে, মার্কিন সামরিক আগ্রাসন ও এই দুর্বৃত্ত সরকারের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে তার সর্বশক্তি দিয়ে দাঁড়ানো এবং ইরানের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা তার অধিকার।’

        এর আগে, শনিবার রাতে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।পরে ট্রাম্প নিজেই ঘোষণা দেন যে, তার দেশ ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় সফল হামলা সম্পন্ন করেছে। স্থাপনাগুলো হলো- ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান।

        নিন্দা জানিয়ে এ হামলাকে জঘন্য কাজ বলে আখ্যায়িত করেছে ইরান। দেশটির পারমাণবিক সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তিন পারমাণবিক স্থাপনায় শক্রর হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে, বিশেষ করে নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফেরেশন চুক্তি (এনপিটি)।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          ‘১০ বছরের মধ্যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হবে, এটা নিশ্চিত’

          অনলাইন ডেস্ক
          ২২ জুন, ২০২৫ ১৬:৩৭
          অনলাইন ডেস্ক
          ‘১০ বছরের মধ্যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হবে, এটা নিশ্চিত’
          ইরানের তেহরানে সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানের অনুষ্ঠানে ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। ছবিটি ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট তোলা

          কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফট-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেছেন, ইরান কোনো তাৎক্ষণিক বা অস্তিত্ব সংকট সৃষ্টি করছিল— এমন কোনো প্রমাণই ছিল না।

          সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে তিনি বলেন, “ইরান কোনও ধরনের অস্তিত্ব-সংকটমূলক বা তাৎক্ষণিক কোনও হুমকিও সৃষ্টি করেনি”। তার মতে, মার্কিন হামলায় একরকম নিশ্চিত হয়ে গেছে যে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হয়ে উঠবে।

          আল জাজিরাকে এই বিশ্লেষক বলেন, আমরা যদি বাস্তবতার দিকে তাকাই, তাহলে দেখব, দুটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) অপারমাণবিক রাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এমনকি ইরান তাদের ওপর প্রথমে কোনও হামলাও করেনি।

          ত্রিতা পারসি বলেন, “ইসরায়েল প্রথমে ইরানকে আক্রমণ করেই যুদ্ধ শুরু করেছে। আর এখন যুক্তরাষ্ট্র তাতে যুক্ত হয়ে এই সংঘর্ষকে আরও এগিয়ে নিয়েছে।”

          পারসি সতর্ক করে বলেন, এই হামলার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বিশ্বব্যাপী একটা প্রবল নাড়া দেবে। কারণ, এখন এমন দেশগুলো যারা মনে করে তারা একদিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের টার্গেট হতে পারে, তারা ভাবতে বাধ্য হবে— নিরাপদ থাকতে হলে পারমাণবিক অস্ত্রই একমাত্র প্রতিরক্ষা।

          তার ভাষায়, “আমার ভয়, এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের হার বাড়বে। এবং ইরানের ক্ষেত্রেও এর মানে দাঁড়াবে— আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে তারা পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হয়ে উঠবে, এটা এখন প্রায় নিশ্চিত।”

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত