শিরোনাম
ইসরাইলি বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান
ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ বেন-গুরিয়ন বিমানবন্দর, গবেষণা কেন্দ্র ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। রোববার সকালে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা তাসনিমের।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলছে, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলো তেলআবিবে অবস্থিত ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ বেন-গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গবেষণা কেন্দ্র এবং ‘সহায়তা ঘাঁটি এবং বিভিন্ন স্তরের নিয়ন্ত্রণ ও কমান্ড সেন্টার’ লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
এসব হামলায় দূরপাল্লার তরল ও কঠিন জ্বালানি- উভয় ধরণের ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে আইআরজিসি।
এদিকে টাইমস অব ইসরাইল জানায়, শনিবার রাতে চালানো মার্কিন হামলার জবাবে রোববার সকালে ইসরাইলের বিভিন্ন স্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।যেগুলো তেলআবিবসহ ইসরাইলের অন্তত ১০টি স্থানে আঘাত হেনেছে। তেহরানের সর্বশেষ এ হামলার পর ইসরাইলে কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছে।
ইসরাইলের জাতীয় জরুরি পরিষেবা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডমের (এমডিএ) বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে একজনের শরীরে গুলি লেগেছে এবং ওপর ১০ জন ‘সামান্য আহত’ হয়েছেন।
এমডিএ আরও জানিয়েছে, রোববার সকালে ইরানের রকেট ও শ্যাপ্রেল ইসরাইলের ১০টি স্থানে আঘাত হেনেছে।
এমডিএর একজন মুখপাত্র বলেছেন, প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে ইসরাইলের ১০টি স্থানে রকেট ও শ্যাপ্রেল পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- কারমেল, হাইফা, তেলআবিব এলাকা এবং উত্তর উপকূলীয় সমভূমি।
এদিকে ইরানের সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়ে ইসরাইলি সামরিক হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, লোকেরা এখন বোমা আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।
তারা আরও জানিয়েছে, জরুরি পরিষেবাকর্মীরা দেশজুড়ে ‘যেখানে প্রভাবের রিপোর্ট পাওয়া গেছে’ সেখানে বেশ কয়েকটি এলাকায় কাজ করছে।
ইরানের অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে আগামী ৭ জুলাই পর্যন্ত সব ফ্লাইটের টিকেট বিক্রি স্থগিত করেছে ইসরাইলি বিমান সংস্থা ইসরাইর।
ইসরাইরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৭ জুলাই পর্যন্ত ফ্লাইট রিজার্ভেশন থাকা সব যাত্রী ফি ছাড়াই তাদের ভ্রমণ বাতিল করতে পারবেন। যাত্রীরা এর জন্য একটি ক্রেডিট ভাউচার পাবেন,যা ভবিষ্যতে ইসরাইরের যেকোনো ফ্লাইটে দুই বছরের জন্য বৈধ থাকবে।
‘সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে’ মার্কিন আক্রমণ প্রতিহত করা হবে: ইরান
‘সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে’ মার্কিন আক্রমণ প্রতিহত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘ঘোরতর ও অভূতপূর্ব লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর আল-জাজিরার।
রোববার এক বিবৃতিতে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা আন্তর্জাতিক আইনের ‘ঘোরতর ও অভূতপূর্ব লঙ্ঘন’। এ ধরনের ‘আগ্রাসন’ প্রতিরোধ করার অধিকার তাদের রয়েছে।
বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি বলেছে, ‘বিশ্বকে ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে যুক্তরাষ্ট্রই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে ইসরাইলের ‘আগ্রাসী পদক্ষেপ’ সমর্থন করে কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং এখন ইরানের বিরুদ্ধে একটি বিপজ্জনক যুদ্ধ চালাচ্ছে।’
এতে আরও বলা হয়েছে, ‘এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে যুক্তরাষ্ট্র কোনো নিয়ম বা নীতি মেনে চলে না। তারা গণহত্যাকারী এবং দখলদার সরকারের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোনো আইনহীনতা বা অপরাধকে ছাড় দেয় না।’
ইরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান মনে করে, মার্কিন সামরিক আগ্রাসন ও এই দুর্বৃত্ত সরকারের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে তার সর্বশক্তি দিয়ে দাঁড়ানো এবং ইরানের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা তার অধিকার।’
এর আগে, শনিবার রাতে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।পরে ট্রাম্প নিজেই ঘোষণা দেন যে, তার দেশ ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় সফল হামলা সম্পন্ন করেছে। স্থাপনাগুলো হলো- ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান।
নিন্দা জানিয়ে এ হামলাকে জঘন্য কাজ বলে আখ্যায়িত করেছে ইরান। দেশটির পারমাণবিক সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তিন পারমাণবিক স্থাপনায় শক্রর হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে, বিশেষ করে নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফেরেশন চুক্তি (এনপিটি)।
‘১০ বছরের মধ্যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হবে, এটা নিশ্চিত’
কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফট-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেছেন, ইরান কোনো তাৎক্ষণিক বা অস্তিত্ব সংকট সৃষ্টি করছিল— এমন কোনো প্রমাণই ছিল না।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে তিনি বলেন, “ইরান কোনও ধরনের অস্তিত্ব-সংকটমূলক বা তাৎক্ষণিক কোনও হুমকিও সৃষ্টি করেনি”। তার মতে, মার্কিন হামলায় একরকম নিশ্চিত হয়ে গেছে যে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হয়ে উঠবে।
আল জাজিরাকে এই বিশ্লেষক বলেন, আমরা যদি বাস্তবতার দিকে তাকাই, তাহলে দেখব, দুটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) অপারমাণবিক রাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এমনকি ইরান তাদের ওপর প্রথমে কোনও হামলাও করেনি।
ত্রিতা পারসি বলেন, “ইসরায়েল প্রথমে ইরানকে আক্রমণ করেই যুদ্ধ শুরু করেছে। আর এখন যুক্তরাষ্ট্র তাতে যুক্ত হয়ে এই সংঘর্ষকে আরও এগিয়ে নিয়েছে।”
পারসি সতর্ক করে বলেন, এই হামলার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বিশ্বব্যাপী একটা প্রবল নাড়া দেবে। কারণ, এখন এমন দেশগুলো যারা মনে করে তারা একদিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের টার্গেট হতে পারে, তারা ভাবতে বাধ্য হবে— নিরাপদ থাকতে হলে পারমাণবিক অস্ত্রই একমাত্র প্রতিরক্ষা।
তার ভাষায়, “আমার ভয়, এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের হার বাড়বে। এবং ইরানের ক্ষেত্রেও এর মানে দাঁড়াবে— আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে তারা পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হয়ে উঠবে, এটা এখন প্রায় নিশ্চিত।”
ইসরাইলি বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান
ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ বেন-গুরিয়ন বিমানবন্দর, গবেষণা কেন্দ্র ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। রোববার সকালে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা তাসনিমের।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলছে, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলো তেলআবিবে অবস্থিত ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ বেন-গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গবেষণা কেন্দ্র এবং ‘সহায়তা ঘাঁটি এবং বিভিন্ন স্তরের নিয়ন্ত্রণ ও কমান্ড সেন্টার’ লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
এসব হামলায় দূরপাল্লার তরল ও কঠিন জ্বালানি- উভয় ধরণের ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে আইআরজিসি।
এদিকে টাইমস অব ইসরাইল জানায়, শনিবার রাতে চালানো মার্কিন হামলার জবাবে রোববার সকালে ইসরাইলের বিভিন্ন স্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।যেগুলো তেলআবিবসহ ইসরাইলের অন্তত ১০টি স্থানে আঘাত হেনেছে। তেহরানের সর্বশেষ এ হামলার পর ইসরাইলে কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছে।
ইসরাইলের জাতীয় জরুরি পরিষেবা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডমের (এমডিএ) বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে একজনের শরীরে গুলি লেগেছে এবং ওপর ১০ জন ‘সামান্য আহত’ হয়েছেন।
এমডিএ আরও জানিয়েছে, রোববার সকালে ইরানের রকেট ও শ্যাপ্রেল ইসরাইলের ১০টি স্থানে আঘাত হেনেছে।
এমডিএর একজন মুখপাত্র বলেছেন, প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে ইসরাইলের ১০টি স্থানে রকেট ও শ্যাপ্রেল পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- কারমেল, হাইফা, তেলআবিব এলাকা এবং উত্তর উপকূলীয় সমভূমি।
এদিকে ইরানের সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়ে ইসরাইলি সামরিক হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, লোকেরা এখন বোমা আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।
তারা আরও জানিয়েছে, জরুরি পরিষেবাকর্মীরা দেশজুড়ে ‘যেখানে প্রভাবের রিপোর্ট পাওয়া গেছে’ সেখানে বেশ কয়েকটি এলাকায় কাজ করছে।
ইরানের অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে আগামী ৭ জুলাই পর্যন্ত সব ফ্লাইটের টিকেট বিক্রি স্থগিত করেছে ইসরাইলি বিমান সংস্থা ইসরাইর।
ইসরাইরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৭ জুলাই পর্যন্ত ফ্লাইট রিজার্ভেশন থাকা সব যাত্রী ফি ছাড়াই তাদের ভ্রমণ বাতিল করতে পারবেন। যাত্রীরা এর জন্য একটি ক্রেডিট ভাউচার পাবেন,যা ভবিষ্যতে ইসরাইরের যেকোনো ফ্লাইটে দুই বছরের জন্য বৈধ থাকবে।
ইরানে মার্কিন হামলায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি একে ‘উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চলে পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি’ হিসেবেও অভিহিত করেন।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে আরো ভয়াবহ সংকট তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেন এবং অবিলম্বে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদরদপ্তর থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
এক বিবৃতিতে গুতেরেস আরো বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এটি ইতোমধ্যে অস্থিতিশীল অঞ্চলটিতে ভয়ানক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি, এর কোন সামরিক সমাধান নেই।
তিনি বলেন, সমাধানের একমাত্র পথ কূটনীতি, একমাত্র আশা হল শান্তি।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য