ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

আল জাজিরার বিশ্লেষণ

যেভাবে ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে ইরান

অনলাইন ডেস্ক
১৯ জুন, ২০২৫ ২১:৫
অনলাইন ডেস্ক
যেভাবে ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে ইরান

ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, এমন দাবি করে গেল শুক্রবার ভোরে দেশটির বিভিন্ন সামরিক, পরমাণু স্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের বসতিতে নির্বিচার হামলা চালায় ইসরাইল। তাদের হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪০ জনের বেশি নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ৭০ জন নারী ও শিশু রয়েছে।

জবাবে ইসরাইলের মূল ভূখণ্ডে প্রায় ৪০০টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও শত শত ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান। যাতে অন্তত ২৪ জন ইসরাইলি নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছে। ইরানের লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশজুড়ে ইসরাইলিদের ভূ-গর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিতে হচ্ছে।

ইরানের কিছু হামলা মধ্য ইসরাইলের আবাসিক এলাকায় আঘাত করেছে, যেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তেলআবিবে অবস্থিত ইসরাইলের সুরক্ষিত সামরিক সদর দপ্তর ‘কিরিয়া’-তেও হামলা হয়েছে, যদিও সেখানকার ক্ষতি সীমিত ছিল।

মঙ্গলবার ইরান দাবি করে, তারা ইসরাইলের একটি সামরিক গোয়েন্দা কেন্দ্র এবং মোসাদের একটি অপারেশন প্ল্যানিং সেন্টারে আঘাত করেছে। যেখানে তারা ইসরাইলের বিশ্বের অন্যতম উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে।

সাম্প্রতিক ইতিহাসে ইসরাইল তার ‘আয়রন ডোম’সহ অন্যান্য ব্যবস্থা ব্যবহার করে বেশিরভাগ আকাশ থেকে আসা হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তাহলে কীভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করছে?

ইসরাইলের আয়রন ডোম কী?

‘আয়রন ডোম’ ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ব্যবস্থার শুধুমাত্র একাংশ। আল জাজিরার প্রতিরক্ষা সম্পাদক অ্যালেক্স গ্যাটোপোলাস জানান, এটি ‘মাল্টিটিয়ার্ড, ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’-এর সবচেয়ে নিচের স্তরের অংশ।

এই ডোম আসন্ন রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে, তার গতি ও পথ নির্ধারণ করে এবং তা প্রতিহত করে। ইসরাইল দাবি করে, এটি ৯০ শতাংশ কার্যকর। এটি ২০১১ সালে চালু হয়।

এটি মূলত স্বল্প-পরিসরের রকেট আটকানোর জন্য তৈরি, যেগুলো বড় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধরা পড়ে না।

অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

বারাক-৮: মধ্যম দূরত্বের ক্ষেপণাস্ত্র আটকায়;

ডেভিড’স স্লিং: মধ্যম থেকে দীর্ঘ দূরত্বের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে;

থাড সিস্টেম: স্বল্প, মধ্যম ও মাঝারি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারে;

অ্যারো-২ এবং অ্যারো-৩: দীর্ঘ দূরত্বের ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে ইরানের মতো দেশের ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে।

আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে?

প্রতিটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তিনটি উপাদান থাকে: রাডার, কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার এবং ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার। একবার শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হলে, সিস্টেম বিশ্লেষণ করে কোন লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে হবে এবং সাধারণত একটি শত্রু ক্ষেপণাস্ত্রের বিপরীতে দুটি ইন্টারসেপ্টর ছোড়া হয়।

ইরান কীভাবে এই প্রতিরক্ষা ভেদ করল?

১. ইন্টারসেপ্টর শেষ করে ফেলা

ইরান একযোগে বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুঁড়ে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্লান্ত করে তুলেছে। প্রতিটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সীমিত সংখ্যক ইন্টারসেপ্টর থাকে।

২. হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র

ইরান বর্তমানে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় কমিয়ে দেয়। এর মধ্যে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ‘হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল (এইচজিভি)’ যুক্ত থাকে, যেমন ফাতাহ-২।

এই এইচজিভিগুলো সাধারণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো পূর্বানুমানযোগ্য পথে চলে না, বরং জিগজ্যাগ করে চলে, যা প্রতিরক্ষা সিস্টেমের জন্য চ্যালেঞ্জিং।

৩. ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র

ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র যেমন হোভেইজেহ, ধীরে চললেও নিচু দিয়ে উড়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। এগুলো পাইলটবিহীন বিমানের মতো কাজ করে।

৪. বিভ্রান্তিকর টার্গেট

ইরান ছদ্ম-মিসাইল বা ড্রোন পাঠিয়ে রাডারকে বিভ্রান্ত করতে পারে, যাতে ইসরাইল তার ইন্টারসেপ্টর অপচয় করে ফেলে, এবং আসল ক্ষেপণাস্ত্র ভেদ করে ঢুকতে পারে।

৫. রাডার-প্রতিরোধ প্রযুক্তি:

কিছু ক্ষেপণাস্ত্রে এমন প্রযুক্তি থাকে যা রাডারকে ফাঁকি দেয়, ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা শনাক্ত করতে পারে না।

ইরান বা ইসরাইলের কি অস্ত্র ফুরিয়ে যেতে পারে?

গ্যাটোপোলাস বলেন, এই যুদ্ধ এখন একটি ‘অপচয়-ভিত্তিক যুদ্ধ’ (ওয়ার অব অ্যাট্রিশন)। ইসরাইল দাবি করছে তারা ইরানের আকাশে প্রভাব বিস্তার করছে, কিন্তু তেহরান থেকে তেলআবিবের দূরত্ব ১০০০ কিলোমিটার—যেখানে বিমান অনায়াসে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করতে পারে না।

ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় আকাশে জ্বালানি পূরণের সুযোগ পেলেও এতে তাদের বিমান স্টিলথ গুণ হারাতে পারে।

সবশেষে প্রশ্ন থেকে যায়, ইরানের হাতে কত ক্ষেপণাস্ত্র আছে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো? আর ইসরাইলের কাছে কতটি অ্যারো-২ ও ৩ রয়ে গেছে যার মাধ্যমে তারা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    মরো অথবা পালাও, ইসরায়েলের জন্য দুই বিকল্প দিল ইরান

    অনলাইন ডেস্ক
    ১৯ জুন, ২০২৫ ১৯:৫৪
    অনলাইন ডেস্ক
    মরো অথবা পালাও, ইসরায়েলের জন্য দুই বিকল্প দিল ইরান

    ইসরায়েলের জন্য দুই বিকল্প দিয়েছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাদের ভয়ংকর পরিণতি ভোগ অথবা পালিয়ে যাওয়ার জন্য দুটি বিকল্প বেছে নিতেম বলেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দ্য জুইশ প্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    আইআরজিসি এক বিবৃতি বলা হয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার মতো সক্ষমতা ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নেই। এই পরিস্থিতিতে দখলদারদের সামনে দুটি বিকল্প রয়েছে।

    প্রতিবেদনে ইসরায়েলিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে লুকিয়ে থেকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যথায় তাদের দখল করা ফিলিস্তিনি ভূমি ছেড়ে দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    আইআরজিসি জানিয়েছে, এখন ইসরায়েলের আকাশ যেন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বরণ করে নেওয়ার জন্য উন্মুক্ত হয়ে গেছে। দখলদারদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকবে। চলমান সংঘাতে শহীদ হওয়া আইআরজিসির সাবেক প্রধান হোসেইন সালামির পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, এবার জায়নবাদীদের বিরুদ্ধে ‘জাহান্নামের দরজা’ খুলে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাহিনীটি।

    ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলে এক মুহূর্তের জন্যও সাইরেনের শব্দ থামবে না। দখলদারদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং যত দ্রুত সম্ভব ফিলিস্তিনের দখলকৃত অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      সহযোগিতা করতে ইরানে ৬০০ রাশিয়ান, কঠোর অবস্থানে পুতিন

      অনলাইন ডেস্ক
      ১৯ জুন, ২০২৫ ১৯:৪১
      অনলাইন ডেস্ক
      সহযোগিতা করতে ইরানে ৬০০ রাশিয়ান, কঠোর অবস্থানে পুতিন

      ইরানে ইসরায়েলি হামলার পর পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। এবার ইরানের সঙ্গে শত শত রাশিয়ান কাজ করছে বলে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

      বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

      পুতিন বলেন, আমাদের ২৫০ জন বিশেষজ্ঞ বুশেহার কাজ করছে। এছাড়া আরও অনেকে বিভিন্নভাবে তাদের সহযোগিতা করছে। এ সংখ্যা প্রায় ৬০০ জনের কাছাকাছি। আমরা কখনো ইরানকে ছেড়ে যাব না।

      রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে (এসপিআইইএফ) এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানকে রাশিয়ার সমর্থনের বিষয়ে এ মন্তব্য করেন। তিনি ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে ধন্যবাদ জানান।

      এদিকে ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে রক্ষা করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক ভালো। তাই আমরা ইরানকে একটি প্রস্তাব দিয়েছি। যদি ইরান চায়, তাহলে রাশিয়া ইরানের পরমাণু প্রকল্পের কাজ নিজের তত্ত্বাবধানে চালাতে পারে। ইরানের ইউরেনিয়াম যাতে শুধু শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়েও রাশিয়া নজর রাখতে চায়। তবে এ সব কিছুই হবে যদি ইরান রাজি হয়।’

      তিনি আরও জানান, ইরানের বুশেহার শহরে দুটি পারমাণবিক চুল্লি তৈরি হচ্ছে। এ কাজের দায়িত্বে আছেন রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা। এ নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গেওে ফোনে কথা বলেছেন পুতিন। নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, বুশেহারের ওই এলাকা তারা আক্রমণ করবে না।

      রাশিয়া কি ইরানকে অস্ত্র দেবে এমন প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেন, জানুয়ারিতে রাশিয়া ও ইরান একটি চুক্তি করেছে। তবে সেই চুক্তিতে অস্ত্র দেওয়ার কথা নেই। তাছাড়া ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার কাছে অস্ত্র চায়নি।

      রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইরানের নিরাপত্তা আর ইসরায়েলের উদ্বেগ, দুটি বিষয়ই গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। শান্তিপূর্ণ উপায়ে ইরান যাতে পরমাণু শক্তি ব্যবহার করতে পারে আর ইসরায়েল যেন তাতে ভীত না হয়- এ দুই বিষয় একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব।’

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিশ্ব চলবে : চীনের কড়া বার্তা

        অনলাইন ডেস্ক
        ১৯ জুন, ২০২৫ ১৯:১৪
        অনলাইন ডেস্ক
        যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিশ্ব চলবে :  চীনের কড়া বার্তা
        চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

        ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো মুখ খোলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ইরানে ইসরাইলের হামলায় ‘মধ্যপ্রাচ্যে হঠাৎ উত্তেজনা বৃদ্ধি’ পাওয়ায় চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। চীন-মধ্য এশিয়ার দুদিনের শীর্ষ সম্মেলনে শি তখন কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায়। এর কয়েক ঘণ্টা পরই সাম্রাজ্য পতনের ইতিহাস টেনে বিশ্বমোড়ল যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন শি জিনপিং। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টের এক পোস্টে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিশ্ব চলবে।’ সিএনএন, সিনহুয়া, রয়টার্স। 

        এক্স-বার্তায় অতীতের পরাক্রমশালী সাম্রাজ্যের ধ্বংসকে স্মরণ করে শি লিখেছেন, ১০০ বছর আগে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিশ্ববাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। বিশ্বের ২০ শতাংশেরও বেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করেছিল। অনেকে বিশ্বাস করতেন এর সূর্য কখনো অস্ত যাবে না। এছাড়া ২০০ বছর আগে ফ্রান্স ইউরোপের মঞ্চে প্রভাব বিস্তার করেছিল। তাদের সেনাবাহিনী ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছিল। সংস্কৃতি ছিল ঈর্ষার বিষয়। নেপোলিয়ন নিজেকে অমর ঘোষণা করেছিলেন। ৪০০ বছর আগে স্প্যানিশ রাজত্ব ম্যানিলা থেকে মেক্সিকো পর্যন্ত শাসন করেছিল। প্রতিটি সাম্রাজ্য নিজেকে অপরিহার্য বলে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু প্রতিটিই শেষ পর্যন্ত ম্লান হয়ে গেছে। শি আরও লিখেছেন, ‘ক্ষমতা হ্রাস পায়। প্রভাব স্থানান্তরিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র যদি বিশ্বে সম্মান হারায় তবে তারাও সেই দেরিতেই শিখবে। বিশ্ব এগিয়ে যায় সব সময়।’ তারবার্তায় সম্মান হারানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা নেওয়ারই আহ্ববান জানিয়েছেন শি। চীনা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট শি মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। শি বলেছেন, ‘চীন অন্য কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা কিংবা আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনকারী যে কোনো কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে। সামরিক সংঘাত কোনো সমস্যার সমাধান নয়। বরং এটি আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে। যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বার্থের পরিপন্থি।’ শিগগিরই এই উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এদিনই রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইসরাইলকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর ‘অবৈধ হামলা’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো বর্তমান সংকটাপন্ন পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক শত্রুতার প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছে দেশটি। একইদিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানও ক্রুদ্ধ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গণহত্যার ক্ষেত্রে হিটলারকে ছাড়িয়ে গেছেন।’ আরও বলেছেন, ‘নেতানিয়াহু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।’ ইসরাইলের অবৈধ আক্রমণের বিরুদ্ধে ইরানের আত্মরক্ষা স্বাভাবিক এবং বৈধ বলেও মন্তব্য করেছেন এরদোগান। চলমান এ সংঘাতে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইরানকে দোষারোপ করছে জি-৭ জোটের নেতারা। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার জন্য ইরানকেই দায়ী করেছেন তারা। পাশাপাশি সোমবার রাতে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জি-৭ জোটের নেতারা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনারও আহ্বান জানিয়েছেন। এ বছর কানাডায় অনুষ্ঠিত হয় ৫১তম জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে এবারের দুদিনের সম্মেলন অনেকটা আড়ালেই পড়ে যায়।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে আছেন রুশ বিশেষজ্ঞরা, ইসরায়েলকে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

          অনলাইন ডেস্ক
          ১৯ জুন, ২০২৫ ১৯:১০
          অনলাইন ডেস্ক
          বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে আছেন রুশ বিশেষজ্ঞরা, ইসরায়েলকে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

          ইসরায়েলকে আজ বৃহস্পতিবার ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কো জানিয়েছে, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং ইরানে কর্মরত রুশ বিশেষজ্ঞদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে।

          আজ সেন্ট পিটার্সবার্গে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের এক সংবাদ সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ‘ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলাকে আমরা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করি। এটি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকির এবং বিশ্বকে একটি পারমাণবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’

          জাখারোভা এ সময় বিশেষভাবে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই কেন্দ্রে রুশ বিশেষজ্ঞরা অবস্থান করছেন।

          জাখারোভা বলেন, ‘আমরা বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিযুক্ত রুশ কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ তিনি ইসরায়েলকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর সামরিক অভিযান বন্ধ করারও আহ্বান জানান।

          রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকেও হুঁশিয়ার করেছে, যেন দেশটি এই সংঘাতে সামরিকভাবে জড়িয়ে না পড়ে। এ বিষয়ে জাখারোভা বলেন, ‘আমরা ওয়াশিংটনকে বিশেষভাবে সতর্ক করে দিতে চাই, যেন তারা কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ না করে। এটি হবে চরম বিপজ্জনক একটি পদক্ষেপ, যার ভয়াবহ পরিণতির পূর্ণ অনুমান করা অসম্ভব।’

          জাখারোভা ইসরায়েলের হামলাকে ‘কোনো প্ররোচনা ছাড়াই আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দেন এবং ‘পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের কল্পিত উদ্বেগ’ তুলে ধরে হামলার যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ‘মাথামোটা কৌশলী নির্মমতা’ বলে অভিহিত করেন।

          এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গত শুক্রবার ইসরায়েল ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র, সামরিক ঘাঁটি ও শীর্ষ বৈজ্ঞানিক ব্যক্তিত্বরা।

          ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে এই হামলার জবাবে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ২২০ জনের বেশি নিহত ও অন্তত ১ হাজার ৮০০ জন আহত হয়েছে। রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের মতে, নিহত বেসামরিক নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৩০০। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের ২০ জনের বেশি নাগরিক নিহত এবং ৮০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।

          আন্তর্জাতিক মহলের বারবার সংযমের আহ্বান সত্ত্বেও উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েল বলছে, তারা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস না করা পর্যন্ত থামবে না। আর ইরান ঘোষণা দিয়েছে, বোমাবর্ষণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রতিশোধ নিতে থাকবে।

          এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, এখন পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির কোনো যাচাই করা প্রমাণ নেই। তবে ইসরায়েল ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভিন্ন দাবি করে আসছে।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত