শিরোনাম
ইসরাইলে ফের হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান
ইসরাইলি আগ্রাসনে জবাব দিতে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ব্যবহার করছে ইরান। এর মধ্যে গেল মঙ্গলবার রাতে ইসরাইলের তেলআবিব লক্ষ্য করে বর্তমান যুদ্ধে প্রথমবার হাইপারসোনিক ‘ফাত্তাহ-১’ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে দেশটির সামরিক বাহিনী।
বার্তা এএফপি বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইসরাইলের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ফের হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
ফাত্তাহ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ‘সফলভাবে ইসরাইলি শাসনব্যবস্থার প্রতিরক্ষা ভেদ করতে পেরেছে’ বলেও উল্লেখ করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
এর আগে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ইসরাইলে ইরানের আক্রমণের সময় তারা কয়েক ডজন ‘ফাত্তাহ-১’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
‘ফাত্তাহ’ ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রথম ২০২৩ সালে উন্মোচিত হয়েছিল এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এর নামকরণ করেছিলেন।
আইআরজিসি ক্ষেপণাস্ত্রটিকে ‘ইসরাইল-স্ট্রাইকার’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং এর উন্মোচনের সময়, ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি বড় ব্যানার স্থাপন করা হয়েছিল, যেখানে হিব্রু ভাষায় লেখা ছিল, ‘তেল আবিবে ৪০০ সেকেন্ড।’
যদিও আইআরজিসি দাবি করে যে, ফাত্তাহ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা এর প্রকৃত হাইপারসনিক ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৩ জুন) থেকে শুরু হওয়া ইরান ও ইসরাইলের পালটা-পালটি হামলা ভয়াবহ সংঘাতে রুপ নিয়েছে। উভয় দেশই একে অন্যকে লক্ষ্য করে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালাচ্ছে। এতে দুদেশেরই বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন।
ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের ওপর আগামী দিনগুলোতে সম্ভাব্য হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্লুমবার্গ নিউজ। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। খবর আলজাজিরার।
ব্লুমবার্গ নিউজ অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘আগামী দিনে ইরানে সম্ভাব্য হামলার চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।’
এতে আরও বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ এটির লক্ষণ যে, ‘ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার জন্য অবকাঠামো তৈরি করছে’।
তবে জনসাধারণের মতে, পরিস্থিতি এখনও বিকশিত হচ্ছে এবং পরিবর্তিত হতে পারে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সপ্তাহান্তে হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘এক ব্যক্তি বলেছেন যে, মুষ্টিমেয় ফেডারেল সংস্থার শীর্ষ নেতারাও আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছেন।’
তবে প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এদিকে, ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।তবে এখনো পর্যন্ত তিনি চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন- ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামাতে শেষ পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন তিনি। তবে তেহরান শেষ মুহূর্তে কোনো সমঝোতায় আসে কিনা, তা দেখার জন্য কিছুটা সময় নিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ফোর্দো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র। এটি পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত এবং সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কেবলমাত্র সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা দিয়েই এ স্থাপনাটি ধ্বংস করা সম্ভব।
প্রকাশ্যে খামেনিকে হত্যার ঘোষণা ইসরায়েলের
ইরানের সুপ্রিম নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা হবে বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন দখলদার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বীরসেবার সোরোকা মেডিকেল সেন্টারে যান এই দখলদার। যেটি ইরানের মিসাইল হামলায় কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, খামেনি এই হাসপাতালে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া তিনি ইসরায়েলকে ধ্বংস করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ কারণে তাকে এখন তারা হত্যা করবেন।
ইসরায়েল কাৎজ বলেন, “নিজের এজেন্ট দ্বারা খামেনি সবসময় ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চেয়েছেন। এই ব্যক্তি, যিনি আমাদের ওপর হামলা চালাতে ইচ্ছুক, তার বেঁচে থাকা উচিত নয়। খামেনিকে হত্যা করা এই যুদ্ধের অন্যতম অংশ।”
এদিকে ইরানে হামলার পর দেশটির সরকার পতনের চেষ্টা চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েল। যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানের সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন তারা যেন রাস্তায় নেমে এসে খামেনির নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটান।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তারা জানেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কোথায় আছেন। তবে এ মুহূর্তে তারা খামেনিকে হত্যার চেষ্টা চালাবেন না। তবে ট্রাম্প ওই সময় উল্লেখ করেন, তাদের ধৈয্য কমে আসছে।
সূত্র: আলজাজিরা
হোয়াটসঅ্যাপ দিয়ে ইরানিদের টার্গেট করছে ইসরাইল
ইরান-ইসরাইল উত্তেজনার মধ্যে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে নাগরিকদের মোবাইল ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপ মুছে ফেলতে সরাসরি আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।
মঙ্গলবার বিকালে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বার্তায় ইরানি নাগরিকদের হোয়াটসঅ্যাপ মোবাইল থেকে মুছে ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানের দাবি, এই জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপটি ব্যবহার করেই ইসরাইল তাদের নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। যদিও কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেনি দেশটি।
তবে চলমান সংঘাতের মধ্যে দেওয়া এই সতর্কবার্তায় মেসেজিং প্ল্যাটফর্মটির মালিকানা সংস্থা মেটা গভীর ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে। এপি।
ইরান দাবি করছে, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের তথ্য গোপনে সংগ্রহ করে তা বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বললেও, ইরান এটিকে জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যু হিসাবেই দেখছে।
নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের নির্দেশনার পর ইতিমধ্যেই দেশটির ইন্টারনেট ব্যবহার ৭৫ শতাংশ কমে গেছে। যা ‘সংঘাতের সময় জনগণের তথ্য প্রাপ্তি সীমিত করতে পারে’। তবে এই নিষেধাজ্ঞা ইরানের নাগরিকদের সঙ্গে বৈশ্বিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হিসাবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে, যখন দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও যুদ্ধবিষয়ক তথ্য নিয়ন্ত্রণ জরুরি হয়ে উঠেছে। ইরান কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ প্রদান না করায় এই অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এ প্রসঙ্গে মেটার মুখপাত্র সিবিএস নিউজকে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ইরানের মিথ্যা দাবিগুলো যেন আমাদের পরিষেবা বন্ধের অজুহাত না হয়, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো সব মেসেজ এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড। অর্থাৎ প্রেরক ও প্রাপক ছাড়া কেউই এসব বার্তা দেখতে পায় না। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপও না। আমরা ব্যবহারকারীদের সঠিক লোকেশন ট্র্যাক করি না, বার্তাপ্রেরণের লগ রাখি না বা ব্যক্তিগত বার্তা মনিটর করি না। আমরা কোনো সরকারকে গণ তথ্য সরবরাহ করি না।’
যদিও হোয়াটসঅ্যাপের শক্তিশালী গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তবে এটি সম্পূর্ণ অপ্রবেশযোগ্য নয়। ইসরাইলেরই একটি নথিভুক্ত ইতিহাস রয়েছে অত্যাধুনিক সাইবার অপারেশন পরিচালনার। ২০১৯ সালে এনএসও গ্রুপের পেগাসাস স্পাইওয়্যার দিয়ে ১,৪০০ জনের ডেটা হ্যাক করে দেশটি।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে সাংবাদিক, কর্মী ও রাজনীতিবিদরা ছিলেন। এই হ্যাকিংয়ের জন্য একটি মার্কিন ফেডারেল আদালত নেসো গ্রুপকে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেটাকে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে। গত মাসেই এই নির্দেশনা দেন আদালত।
সম্প্রতি আরেকটি ইসরাইলি কোম্পানি প্যারাগন সলিউশন্স প্রায় ১০০টি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট টার্গেট করেছে। এই কোম্পানি ডি-এনক্রিপ্ট হওয়ার পর ব্যক্তিগত যোগাযোগ অ্যাক্সেস করতে উন্নত স্পাইওয়্যার ব্যবহার করেছে। বিশ্বের শীর্ষ ১০ সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানির মধ্যে ৭টিরই গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রই রয়েছে ইসরাইলে। দেশটির স্টার্টআপগুলো প্রায়শই নতুন আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তি বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ইসরাইলি কোম্পানিগুলোর নাম বারবারই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, হোয়াটসঅ্যাপ হলো মেটার মালিকানাধীন একটি বিনামূল্যের মেসেজিং অ্যাপ। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩ বিলিয়ন ব্যবহারকারী নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এটি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই অ্যাপ দিয়ে টেক্সট মেসেজ, কল এবং ছবিসহ বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদান করা যায়।
মিসাইল ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের সুনান থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে ১০টি মাল্টিলঞ্চার মিসাইল ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকালে তারা এ মিসাইলগুলো ছুড়ে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী।
তবে মিসাইল ছোড়ার ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানায়নি দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী। উত্তর কোরিয়া যেসব মাল্টিলঞ্চার মিসাইল নিক্ষেপ করেছে সেগুলো স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল হিসেবে বিবেচনা করে দক্ষিণ কোরিয়া। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের রেজ্যুলেশন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করতে পারবে না। তবে দেশটি এসব নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করে না।
সূত্র: রয়টার্স
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য