ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ইরানে মার্কিন হামলার পরিকল্পনায় অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
১৯ জুন, ২০২৫ ১৬:১২
অনলাইন ডেস্ক
ইরানে মার্কিন হামলার পরিকল্পনায় অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এখনই হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ দিচ্ছেন না তিনি। মূলত ইরান শেষ পর্যন্ত তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করে কিনা এটিই দেখতে অপেক্ষা করছেন তিনি।

ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার রাতে তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছেন। তবে এখনই হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ দিচ্ছেন না। ইরান শেষ পর্যন্ত তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করে কিনা সেটাই দেখতে তিনি অপেক্ষা করছেন।

এই পরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে ইরানের সুদৃঢ়ভাবে সুরক্ষিত ফোর্দো পারমাণবিক সমৃদ্ধিকরণ কেন্দ্র। এটি পাহাড়ের নিচে অবস্থিত এবং সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ অস্ত্রে এই স্থাপনা ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব। শুধুমাত্র সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা দিয়েই এটিকে আঘাত করা সম্ভব।

এর আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি (ইরানে) হামলা করতে পারি, আবার নাও করতে পারি”। তিনি আবারও ইরানের প্রতি “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের” দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, “আগামী সপ্তাহটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে— সম্ভবত এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে।”

এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, “ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না” এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক হস্তক্ষেপ করে, তবে তার ফলাফল হবে “অপূরণীয় ক্ষতি”।

এমন অবস্থায় গত কয়েকদিনে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি আরও বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর তৃতীয় একটি ডেস্ট্রয়ার প্রবেশ করেছে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে। আর একটি দ্বিতীয় এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠানো হচ্ছে আরব সাগরের দিকে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই প্রস্তুতি “প্রতিরক্ষামূলক”, তবে এতে মার্কিন বাহিনী আরও ভালো অবস্থানে থাকবে, যদি ট্রাম্প ইসরায়েলের মতো করে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

একইসঙ্গে, এটি ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশলও হতে পারে, যেন তেহরান পারমাণবিক ইস্যুতে মাথা নত করে বা কিছু ছাড় দেয়।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    যে শর্ত মানলে ইরানে হামলার চিন্তা থেকে সরে আসতে পারেন ট্রাম্প

    অনলাইন ডেস্ক
    ১৯ জুন, ২০২৫ ১৬:৪
    অনলাইন ডেস্ক
    যে শর্ত মানলে ইরানে হামলার চিন্তা থেকে সরে আসতে পারেন ট্রাম্প

    ইরান ও ইসরাইল সংঘাতের সপ্তম দিনও বুধবার রাতে একে অপরের উপর পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার কথা ভাবছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিলের শর্তে ট্রাম্প হামলা শুরুর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখতে পারেন।

    মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে হামলার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন, কিন্তু হামলা চালানো হবে কিনা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছে বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস।

    ইরান যদি তাদের পারমানবিক কর্মসূচি বাতিল করতে রাজি হয়, তবে ট্রাম্প হামলা শুরুর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখবেন বলে একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা সূত্র সিবিএসকে জানিয়েছে। এই খবরটি প্রথম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশ করা হয়।

    বুধবার ইরানের ওপর ইসরাইলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জড়াবে কিনা এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেছিলেন, আমি এটা করতে পারি, আমি নাও করতে পারি।

    আমেরিকা এখনো পর্যন্ত সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি বা ডিয়েগো গার্সিয়াকে কোনো সম্ভাব্য হামলায় ব্যবহার করার জন্য বলেনি বলে জানিয়েছেন বিবিসির সংবাদদাতা জোনাথন বিল। তবে ইরানিরা বলেছে, তারা হোয়াইট হাউসের দরজায় ঝুঁকবে না।

    সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্পের বৈঠক শেষ

    যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গতকাল বিকেলে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অংশ নিয়েছেন এবং এই বৈঠক শেষ হয়েছে।

    সামরিক ও গোয়েন্দা বিষয়ের অত্যন্ত স্পর্শকাতর আলোচনা এবং ব্রিফিং করার জন্য সিচুয়েশন রুমের মতো নিরাপদ স্থাপনাগুলো ব্যবহার করা হয়। ইরান ও ইসরাইল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করার সময় সাম্প্রতিক দিনগুলোয় ট্রাম্প তার শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টাদের একত্রিত করেছেন। এর মধ্যে ইরান আলোচনা করতে চায় আবার এমন দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

    ইরান সম্পর্কে তিনি বলেন, তাদের চুক্তি করা উচিত ছিল, তাদের জন্য আমার অনেক ভালো ডিল ছিল। শেষ পর্যন্ত তারা এটি করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এখন তারা চায় তারা এটি করবে।

    ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানি প্রতিনিধিরা ‘সাক্ষাৎ করতে চায়’ এবং ‘হোয়াইট হাউসে আসতে চায়’ বলে আবার দাবি করেন তিনি।

    ট্রাম্প এই প্রথমবারই ইরান দেখা করতে চায় এমন কথা বলেননি। এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানি সরকার এক পোস্টে বলেছিল, কোন ইরানি কর্মকর্তাকে হোয়াইট হাউসের দরজায় বসে থাকতে বলা হয়নি।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরাইলি হামলায় যোগ দেয় তবে অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

    ধারাবাহিক হামলার দাবি ইসরাইলি বাহিনীর

    ইরানের তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। ইসরাইলি বিমান বাহিনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে তেহরান এবং অন্যান্য এলাকায় ধারাবাহিক হামলা শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে আরও বিস্তারিত কিছু জানায়নি ইসরাইলি বিমান বাহিনী।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী সামরিক অবকাঠামো টার্গেট করার আগে ইরানের আরাক এবং খান্দাবের বাসিন্দাদের ওই এলাকা থেকে সরে যেতে সতর্কতাও জারি করেছিল।

    ইরানের আহতের সংখ্যা

    ইসরাইলি হামলায় আজ তেহরানে পুলিশ সদর দপ্তরের কাছে অল্প সংখ্যক কর্মী আহত হয়েছেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইরানিয়ান পুলিশ। হামলার নিন্দা জানিয়ে ওই বিবৃতিতে পুলিশ বলেছে, কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এই হামলা তাদের কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না।

    ইরান নতুন করে ইসরাইলে আরও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। তারা দাবি করেছে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষা সীমানা অতিক্রম করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সফলভাবে সেখানে প্রবেশ করেছে।

    যদিও ইসরাইলি সেনাবাহিনী এ ধরনের কোনো হামলার কথা স্বীকার করেনি। তবে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় ইসরাইল ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে।

    এদিকে, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ যদি অব্যাহত থাকে তবে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

    তার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আজ সেন্ট পিটার্সবার্গে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে এক গোলটেবিল বৈঠকে ইসরাইল ও ইরানের সংঘাত নিয়ে কথা বলেছেন।

    এসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, পুতিন বলেছেন, রাশিয়া কারও ওপর কিছু চাপিয়ে দিচ্ছে না। আমরা কেবল পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাব্য উপায় কিভাবে দেখতে পাচ্ছি তা নিয়ে কথা বলছি। তিনি বলেন, সিদ্ধান্তটি এই সব দেশের বিশেষ করে ইরান ও ইসরাইলের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। 

    ইরান রাশিয়ার সাহায্য চেয়েছে কিনা, বার্তা সংস্থা এএফপি এমন বিষয় জানতে চাইলে পুতিন উত্তর দেন, আমাদের ইরানি বন্ধুরা আমাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা (সাহায্য চায়নি) করেনি।

    এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, আমি এ বিষয়ে আলোচনা করতে চাই না।

    এ বিষয়ে সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করলে পুতিন বলেন, আমি এই সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতেও চাই না। চাই না আমি।

    সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি অর্থনৈতিক ফোরাম চলার এক ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি এই সব শুনেছি, কিন্তু আমি এটি নিয়ে আলোচনা করতেও চাই না।

    তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      শত্রুদের জন্য চীনের ভয়ংকর ‘পাখি ড্রোন’

      অনলাইন ডেস্ক
      ১৯ জুন, ২০২৫ ১৫:৫৮
      অনলাইন ডেস্ক
      শত্রুদের জন্য চীনের ভয়ংকর ‘পাখি ড্রোন’

      অবাক মনে দেখছেন আকাশে উড়ছে এক ঝাঁক পাখি। হয়তো কাক বা মাছরাঙা। তবে ভালোভাবে দেখলেই বুঝবেন যে, এগুলো পাখির ঝাঁক না। এগুলো আসলে যন্ত্র। ডানা খুব নিখুঁতভাবে ঝাপটাচ্ছে তারা, চলাফেরায় অস্বাভাবিক রকমের শৃঙ্খলা, নেই কোনো কিচিরমিচির শব্দ।

      হুবহু পাখির মতো এগুলো আসলে ড্রোন। নীরবে করবে নজরদারি, আঘাত হানবে নিঃশব্দে। তবু টের পাবে না কেউ। ৯০ গ্রামের ম্যাগপাই ড্রোন থেকে শুরু করে বিশাল ঈগল আকৃতির সশস্ত্র ড্রোন- চীনে সবই তৈরি হয়েছে গোপনে যুদ্ধ চালানোর জন্য।

      শত্রুদের জন্য চীনের ভয়ংকর ‘পাখি ড্রোন’

      প্রকৃতির অনুকরণে আধুনিক ড্রোন

      নজরদারির জন্য আগে যেসব ড্রোন ব্যবহার করা হতো, তা শব্দ করে উড়ত। তবে এখনকার পাখি-আকৃতির এ নতুন ড্রোনগুলো যেন একেবারে প্রকৃতিরই অংশ। এগুলো ডানা মেলে উড়ে, ঘুরে বেড়ায় আবার বিশ্রাম নিতেও বসে কোথাও। সবই জীবন্ত পাখির মতো।

      এ ড্রোনগুলো তৈরি করা হয়ে থাকে বিভিন্ন পাখির আকৃতিতে। যেমন- ম্যাগপাই, গাংচিল, বাজপাখি ইত্যাদি। শহরে ছোট পাখির মতো আর প্রাকৃতিক এলাকায় বড় পাখির মতো ব্যবহার করা হয় এসব ড্রোনকে।

      শত্রুদের জন্য চীনের ভয়ংকর ‘পাখি ড্রোন’

      ডানাগুলো পাখির পাখার মতো ঝাপটালেও এতে তেমন শব্দ হয় না। রাডারও বুঝতে পারে না এটা ড্রোন। এগুলোর শরীর হালকা রাবারের মতো পদার্থে দিয়ে তৈরি, তাই নমনীয় হলেও মজবুত। ছোট ম্যাগপাই ড্রোনগুলোতে আছে ক্যামেরা। ঈগল-আকৃতির ড্রোন দুই মিটার পর্যন্ত ডানা মেলে উড়তে পারে এবং বোমাও বহন করতে পারে।

      যুদ্ধক্ষেত্রে পাখি ড্রোনের বিস্তার

      এ প্রযুক্তি আবিষ্কারের প্রাথমিক পর্যায়ে এগুলো শুধু নজরদারির কাজে ব্যবহার হতো। তবে এখন এগুলো শত্রুদের আক্রমণের কাজেও ব্যবহার করা হয়। ছোট ম্যাগপাই ড্রোনগুলো শহরের ভেতরে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে বেড়ায়। একাধিক ড্রোন একসঙ্গে কাজ করায় শত্রুদের নজরদারিতেও পড়ে না।

      শত্রুদের জন্য চীনের ভয়ংকর ‘পাখি ড্রোন’

      অন্যদিকে বড় ঈগল-আকৃতির ড্রোনগুলো ৪০ মিনিট পর্যন্ত টানা উড়তে পারে, যেতে পারে ৮ কিলোমিটার দূর। এগুলোতে ছোট মিসাইলও বসানো যায়। এ ছাড়া আছে হামিংবার্ড নামের ড্রোন, যার ওজন ১০ কেজি এবং এটি ৭ কেজি ওজনের বিস্ফোরক নিয়ে আক্রমণ করতে পারে সহজেই। যে কোনো সৈনিক এ ড্রোন নিজে বহন করতে পারে এবং নিজেই ব্যবহার করতে পারে।

      ড্রোনের ফলে পাল্টাচ্ছে যুদ্ধের ধরন

      এখন আর শুধু যুদ্ধবিমান বা হেলিকপ্টার নয়, ছোট-বড় পাখির মতো ড্রোন দিয়েও নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হচ্ছে আকাশের। একসঙ্গে অনেক ড্রোন ছেড়ে একযোগে নজরদারি, লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণ এবং আক্রমণ চালানোও সম্ভব হচ্ছে।

      শত্রুদের জন্য চীনের ভয়ংকর ‘পাখি ড্রোন’

      এ পদ্ধতিতে শত্রু বুঝে ওঠার আগেই আক্রমণ করে ফেলা যায় সহজেই। ম্যাগপাই ড্রোনগুলো একত্রে উড়ে শহরের অলিগলি পর্যবেক্ষণ করে বেড়ায়। এমনকি শত্রুর রাডারকেও করে বিভ্রান্ত। বড় ড্রোনগুলোও একইভাবে ব্যবহার করা যায় প্রয়োজনমতো। ফলে ছোট এ সেনাদলগুলো নিজেরাই আকাশে আক্রমণ চালাতে পারে উচ্চ কমান্ডের সাহায্য ছাড়াই, নিজে নিজেই।

      এ প্রযুক্তি বিশেষ করে কাজে লাগে সেসব এলাকায়, যেখানে জিপিএস সিগন্যাল বন্ধ থাকে বা যুদ্ধবিমান পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হয়। এগুলো আধা-স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে, তাই সিগন্যাল না থাকলেও চলতে পারে।

      প্রতিরোধ আর নৈতিকতার প্রশ্ন

      চীন শুধু ড্রোন বানাচ্ছে না; বরং এগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থাও তৈরি করছে। কে-২৫ নামের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থা ছোট ড্রোন চিনে ফেলতে পারে এবং ২০০ মিটার দূর থেকে তা লক্ষ্য করে গুলি করতে পারে। এতে ৯০ শতাংশ সফলতার হারও দেখা গেছে।

      তবে ড্রোনগুলো দেখতে পাখির মতো হওয়ায়, এগুলোকে শনাক্ত করা কঠিন। রাডার, ক্যামেরা, এমনকি তাপমাত্রা শনাক্ত করতে পারা যন্ত্রও এগুলো নিয়ে বিভ্রান্ত হতে পারে। এতে নিরাপত্তা ও নৈতিকতার প্রশ্ন আসে সহজেই। সাধারণ মানুষ জানে না বা বুঝতেও পারেন না, তারা কখন-কোথা থেকে নজরদারিতে আছে। একটি পাখি যে আসলে ড্রোন হতে পারে- এই ভাবনাই সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়াতে যথেষ্ট।

      শত্রুদের জন্য চীনের ভয়ংকর ‘পাখি ড্রোন’

      আন্তর্জাতিক আইন এখনো এমন প্রযুক্তির জন্য তৈরি নয়। ফলে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এগুলো ছড়িয়ে পড়লে বিপদ আরও বাড়তে পারে। এক সময় হয়তো অন্য দেশ বা সন্ত্রাসীরা এমন ড্রোন বানিয়ে ভুল কাজেও ব্যবহার করতে পারে। এ প্রযুক্তিগুলোকে দ্রুত আইনের আওতায় না আনা গেলে এ ধরনের বিপদ আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

      এমন বাস্তবতায় মানুষের মধ্যে মানসিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বেশি, সেখানে এ প্রযুক্তি দিয়ে মানুষকে আরও বেশি আতঙ্কিত করা সম্ভব।

      এটা শুধু প্রযুক্তির প্রশ্ন না, এটা নৈতিকতার প্রশ্ন। ড্রোন যদি প্রকৃতির সঙ্গে মিলে যায়, তবে যুদ্ধও আর যুদ্ধের মতো দেখা যায় না। আর তাই এটি নিয়ে সবার আলোচনা ও চিন্তা করা জরুরি।

      পাখির মতো দেখতে ড্রোন শুধু প্রযুক্তির উন্নয়ন না, বরং এটা একটি নতুন যুগের সূচনা। যেখানে যুদ্ধ আর খোলা আকাশে নয়, আকাশে থাকা নিরীহ পাখি থেকেও আসতে পারে বিপদ।

      তথ্যসূত্র: অ্যাডভাইস ফর লাইফ

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ইরানে হামলা

        ইসরাইল আসলে কী অর্জন করতে চায়?

        অনলাইন ডেস্ক
        ১৯ জুন, ২০২৫ ১৫:৪০
        অনলাইন ডেস্ক
        ইসরাইল আসলে কী অর্জন করতে চায়?

        গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনের পর যুদ্ধবাজ ইসরাইল গত ১৩ জুন থেকে ইরানে হামলা চালানো শুরু করে। এরপর থেকে একটা বড় প্রশ্ন থেকেই গেছে— তাহলো, ইসরাইলের চূড়ান্ত লক্ষ্য আসলে কী?

        ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, এটি ছিল একটি পূর্বাভাসভিত্তিক হামলা। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ক্ষতিগ্রস্ত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। কারণ ইরান নাকি ‘পারণমাবিক অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে’ পৌঁছে যাচ্ছিল।

        যদিও তারা এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। বরং যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান এখনো তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে অস্ত্রায়নের সিদ্ধান্ত নেয়নি। ২০০৩ সালেই তারা এ পরিকল্পনা ত্যাগ করেছে।

        পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) সদস্য রাষ্ট্র ইরান বলে আসছে, তারা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির অধিকার রাখে। একই সঙ্গে তারা বরাবরই পরমাণু অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

        অন্যদিকে, ইসরাইল নিজে তো এনপিটি-এর সদস্য নয়-ই। উলটো ধারণা করা হয় যে, তাদের নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। যুদ্ধবাজ হিসেবে খ্যাত সেই দেশটি বরাবরই ইরানের এসব বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে এসেছে এবং বার বার হামলার হুমকি দিয়েছে।

        এরই জেরে গত ১৩ জুন ইসরাইলি হামলা শুরুর ঠিক আগের দিন, ১২ জুন আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএ জানায়, ইরান দুই দশকে প্রথমবারের মতো তার অপ্রসারণ বাধ্যবাধকতা ভেঙেছে।

        মূলত বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ইরানের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়ামের মজুদের পরিমাণ নিয়ে। যা একদিকে যেমন বিদ্যুৎ চুল্লির জ্বালানি তৈরি করতে পারে, তেমনি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহারযোগ্য।

        আইএইএ আরও জানায়, ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা পরমাণু অস্ত্রমানের কাছাকাছি। উপরন্তু এতে অন্তত ৯টি পারমাণবিক বোমা তৈরির উপযোগী উপাদান রয়েছে।

        এসবের জেরেই ইসরাইল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো—যেমন নাতানজ ও ইসফাহানে হামলা চালিয়েছে। এছাড়াও ইরানের সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি অবকাঠামো, সরকারি ভবন ও আবাসিক এলাকাও ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

        তবে এখনো ফরদোর ওপর কোনো হামলা হয়নি—সেখানে একটি প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র গভীর পাহাড়ের নিচে অবস্থিত। তাছারা ইসরাইলের কাছেও এমন বোমা নেই, যা সেখানে আঘাত হানতে পারে। তা আছে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে।

        ইসরাইলে পালটা হামলা চালানো ইরান বলছে, এটি একটি আগ্রাসী যুদ্ধ এবং তাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।

        এ অবস্থায় যদি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়, তাহলে এর ফলে বড় পরিসরের সংঘাত শুরু হতে পারে। কারণ ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তারা আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাবে—এবং ইরানের মিত্র বাহিনীগুলো, যেমন ইরাক ও ইয়েমেনের গোষ্ঠীগুলোও এতে জড়াতে পারে। সূত্র: বিবিসি

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          ইরানে হামলা করলে ‘ক্ষমতা হারাতে পারেন ট্রাম্প’?

          অনলাইন ডেস্ক
          ১৯ জুন, ২০২৫ ১৪:৫৮
          অনলাইন ডেস্ক
          ইরানে হামলা করলে ‘ক্ষমতা হারাতে পারেন ট্রাম্প’?

          চলমান ইরান-ইসরাইল সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক সংকটময় মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন, যেখানে তার সামনে দুটি পথ—একটি কূটনৈতিক সমঝোতার, অন্যটি ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধের’। এমনই মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় পররাষ্ট্র বিষয়ক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক এলি জেরানমায়েহ।

          তিনি সিএনএনকে বলেন, “এই ধরনের মুহূর্তে নেতাদের সবসময়ই একটি পছন্দ থাকে। অতীতেও ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে এসেছেন। এখনও তিনি সেটি করতে পারেন।”

          তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালান, তাহলে ইরান সেটিকে সরাসরি ‘যুদ্ধ ঘোষণার’ সমতুল্য বলেই দেখবে।”

          ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ কী?

          ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ (Pandora’s Box) মূলত একটি গ্রিক পুরাণভিত্তিক রূপক বা উপমা। যা এমন কোনো কাজ বা সিদ্ধান্তকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয় যার ফলাফল অপ্রত্যাশিত, অনিয়ন্ত্রিত এবং বিপর্যয়কর হতে পারে।

          প্যান্ডোরা কে ছিলেন? 

          গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী, দেবতা জিউস প্রথম নারী প্যান্ডোরাকে সৃষ্টি করেন এবং তাকে একটি সিন্দুক (box বা jar) দেন। তাকে বলা হয়েছিল, এই বাক্স কখনোই খোলা যাবে না।

          কিন্তু কৌতূহলবশত প্যান্ডোরা সেই বাক্স খুলে ফেলেন। তখন সেই বাক্স থেকে বেরিয়ে আসে- রোগ, দুঃখ, দারিদ্র্য, যুদ্ধ, মৃত্যু ইত্যাদি পৃথিবীর সব বিপদ ও দুর্ভোগ। 

          শুধু একটি জিনিসই ওই বাক্সে থেকে যায়। তা হলো- ‘আশা’ (Hope)। 

          আধুনিক অর্থে ‘প্যান্ডোরার বাক্স’

          আজকের ভাষায়, কেউ যদি বলে— ‘This will open Pandora’s Box’ (এটি ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলে দেবে) —তাহলে এর অর্থ হলো- এই সিদ্ধান্ত বা কাজ বিপজ্জনক। কারণ এটি একবার শুরু হলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং ভয়ংকর পরিণতি ঘটতে পারে। 

          মূল প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে:

          বিশ্লেষক এলি জেরানমায়েহ যখন বলেছেন, ‘Once you open up this Pandora’s box, we have no idea where things go’—এর দ্বারা তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন, যদি ট্রাম্প ইরানে সামরিক হামলা শুরু করেন, তাহলে যে পরিস্থিতি একবার শুরু হবে তা আর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে না। 

          এটি মূলত:

          • পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে;
          • মধ্যপ্রাচ্যে আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে;
          • যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোতে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বাড়াতে পারে;
          • বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার, শরণার্থী সংকট আরও খারাপ করে তুলতে পারে।

          ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ ও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির ভবিষ্যৎ

          জেরানমায়েহের ভাষায়, ‘যদি এই প্যান্ডোরার বাক্স একবার খুলে যায়, তাহলে পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ জানে না। এই যুদ্ধ সম্ভাব্যভাবে ট্রাম্পের পুরো প্রেসিডেন্সিকে গ্রাস করে ফেলবে’।

          তার মতে, ‘ইরানের পক্ষে আত্মসমর্পণ কোনো বিকল্প নয়। কেননা, ইরান জানে তারা সামরিকভাবে জয়ী হতে পারবে না। কিন্তু তাদের লক্ষ্য হবে এমন এক সংঘাত তৈরি করা, যেখানে কেউ বিজয়ী হবে না—সবাই পরাজিত হবে’।

          পটভূমি ও সংকটের প্রেক্ষাপট

          • গত ছয় দিন ধরে চলা ইসরাইল-ইরান যুদ্ধ এখন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়ে নেওয়ার আশঙ্কায়।

          • ইসরাইল ইতোমধ্যে তেহরানে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং ইরান পাল্টা সীমিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

          • ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ‘ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করে বিতর্ক তৈরি করেছেন।

          সিদ্ধান্ত এখন ট্রাম্পের কাঁধে

          এই মুহূর্তে বিশ্বের কূটনৈতিক, সামরিক এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশেই নির্ভর করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর।

          বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ যদি শুরু হয়, তাহলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়—পুরো বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, তেলের বাজার, অভিবাসন সংকট এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর তার বিরাট প্রভাব পড়বে। সূত্র: এপি ও সিএনএন 

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত