ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ইরানে হামলা

ইসরাইল আসলে কী অর্জন করতে চায়?

অনলাইন ডেস্ক
১৯ জুন, ২০২৫ ১৫:৪০
অনলাইন ডেস্ক
ইসরাইল আসলে কী অর্জন করতে চায়?

গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনের পর যুদ্ধবাজ ইসরাইল গত ১৩ জুন থেকে ইরানে হামলা চালানো শুরু করে। এরপর থেকে একটা বড় প্রশ্ন থেকেই গেছে— তাহলো, ইসরাইলের চূড়ান্ত লক্ষ্য আসলে কী?

ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, এটি ছিল একটি পূর্বাভাসভিত্তিক হামলা। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ক্ষতিগ্রস্ত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। কারণ ইরান নাকি ‘পারণমাবিক অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে’ পৌঁছে যাচ্ছিল।

যদিও তারা এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। বরং যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান এখনো তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে অস্ত্রায়নের সিদ্ধান্ত নেয়নি। ২০০৩ সালেই তারা এ পরিকল্পনা ত্যাগ করেছে।

পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) সদস্য রাষ্ট্র ইরান বলে আসছে, তারা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির অধিকার রাখে। একই সঙ্গে তারা বরাবরই পরমাণু অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

অন্যদিকে, ইসরাইল নিজে তো এনপিটি-এর সদস্য নয়-ই। উলটো ধারণা করা হয় যে, তাদের নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। যুদ্ধবাজ হিসেবে খ্যাত সেই দেশটি বরাবরই ইরানের এসব বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে এসেছে এবং বার বার হামলার হুমকি দিয়েছে।

এরই জেরে গত ১৩ জুন ইসরাইলি হামলা শুরুর ঠিক আগের দিন, ১২ জুন আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএ জানায়, ইরান দুই দশকে প্রথমবারের মতো তার অপ্রসারণ বাধ্যবাধকতা ভেঙেছে।

মূলত বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ইরানের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়ামের মজুদের পরিমাণ নিয়ে। যা একদিকে যেমন বিদ্যুৎ চুল্লির জ্বালানি তৈরি করতে পারে, তেমনি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহারযোগ্য।

আইএইএ আরও জানায়, ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা পরমাণু অস্ত্রমানের কাছাকাছি। উপরন্তু এতে অন্তত ৯টি পারমাণবিক বোমা তৈরির উপযোগী উপাদান রয়েছে।

এসবের জেরেই ইসরাইল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো—যেমন নাতানজ ও ইসফাহানে হামলা চালিয়েছে। এছাড়াও ইরানের সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি অবকাঠামো, সরকারি ভবন ও আবাসিক এলাকাও ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

তবে এখনো ফরদোর ওপর কোনো হামলা হয়নি—সেখানে একটি প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র গভীর পাহাড়ের নিচে অবস্থিত। তাছারা ইসরাইলের কাছেও এমন বোমা নেই, যা সেখানে আঘাত হানতে পারে। তা আছে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে।

ইসরাইলে পালটা হামলা চালানো ইরান বলছে, এটি একটি আগ্রাসী যুদ্ধ এবং তাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।

এ অবস্থায় যদি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়, তাহলে এর ফলে বড় পরিসরের সংঘাত শুরু হতে পারে। কারণ ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তারা আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাবে—এবং ইরানের মিত্র বাহিনীগুলো, যেমন ইরাক ও ইয়েমেনের গোষ্ঠীগুলোও এতে জড়াতে পারে। সূত্র: বিবিসি

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ইরানে হামলা করলে ‘ক্ষমতা হারাতে পারেন ট্রাম্প’?

    অনলাইন ডেস্ক
    ১৯ জুন, ২০২৫ ১৪:৫৮
    অনলাইন ডেস্ক
    ইরানে হামলা করলে ‘ক্ষমতা হারাতে পারেন ট্রাম্প’?

    চলমান ইরান-ইসরাইল সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক সংকটময় মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন, যেখানে তার সামনে দুটি পথ—একটি কূটনৈতিক সমঝোতার, অন্যটি ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধের’। এমনই মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় পররাষ্ট্র বিষয়ক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক এলি জেরানমায়েহ।

    তিনি সিএনএনকে বলেন, “এই ধরনের মুহূর্তে নেতাদের সবসময়ই একটি পছন্দ থাকে। অতীতেও ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে এসেছেন। এখনও তিনি সেটি করতে পারেন।”

    তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালান, তাহলে ইরান সেটিকে সরাসরি ‘যুদ্ধ ঘোষণার’ সমতুল্য বলেই দেখবে।”

    ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ কী?

    ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ (Pandora’s Box) মূলত একটি গ্রিক পুরাণভিত্তিক রূপক বা উপমা। যা এমন কোনো কাজ বা সিদ্ধান্তকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয় যার ফলাফল অপ্রত্যাশিত, অনিয়ন্ত্রিত এবং বিপর্যয়কর হতে পারে।

    প্যান্ডোরা কে ছিলেন? 

    গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী, দেবতা জিউস প্রথম নারী প্যান্ডোরাকে সৃষ্টি করেন এবং তাকে একটি সিন্দুক (box বা jar) দেন। তাকে বলা হয়েছিল, এই বাক্স কখনোই খোলা যাবে না।

    কিন্তু কৌতূহলবশত প্যান্ডোরা সেই বাক্স খুলে ফেলেন। তখন সেই বাক্স থেকে বেরিয়ে আসে- রোগ, দুঃখ, দারিদ্র্য, যুদ্ধ, মৃত্যু ইত্যাদি পৃথিবীর সব বিপদ ও দুর্ভোগ। 

    শুধু একটি জিনিসই ওই বাক্সে থেকে যায়। তা হলো- ‘আশা’ (Hope)। 

    আধুনিক অর্থে ‘প্যান্ডোরার বাক্স’

    আজকের ভাষায়, কেউ যদি বলে— ‘This will open Pandora’s Box’ (এটি ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলে দেবে) —তাহলে এর অর্থ হলো- এই সিদ্ধান্ত বা কাজ বিপজ্জনক। কারণ এটি একবার শুরু হলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং ভয়ংকর পরিণতি ঘটতে পারে। 

    মূল প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে:

    বিশ্লেষক এলি জেরানমায়েহ যখন বলেছেন, ‘Once you open up this Pandora’s box, we have no idea where things go’—এর দ্বারা তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন, যদি ট্রাম্প ইরানে সামরিক হামলা শুরু করেন, তাহলে যে পরিস্থিতি একবার শুরু হবে তা আর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে না। 

    এটি মূলত:

    • পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে;
    • মধ্যপ্রাচ্যে আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে;
    • যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোতে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বাড়াতে পারে;
    • বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার, শরণার্থী সংকট আরও খারাপ করে তুলতে পারে।

    ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ ও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির ভবিষ্যৎ

    জেরানমায়েহের ভাষায়, ‘যদি এই প্যান্ডোরার বাক্স একবার খুলে যায়, তাহলে পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ জানে না। এই যুদ্ধ সম্ভাব্যভাবে ট্রাম্পের পুরো প্রেসিডেন্সিকে গ্রাস করে ফেলবে’।

    তার মতে, ‘ইরানের পক্ষে আত্মসমর্পণ কোনো বিকল্প নয়। কেননা, ইরান জানে তারা সামরিকভাবে জয়ী হতে পারবে না। কিন্তু তাদের লক্ষ্য হবে এমন এক সংঘাত তৈরি করা, যেখানে কেউ বিজয়ী হবে না—সবাই পরাজিত হবে’।

    পটভূমি ও সংকটের প্রেক্ষাপট

    • গত ছয় দিন ধরে চলা ইসরাইল-ইরান যুদ্ধ এখন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়ে নেওয়ার আশঙ্কায়।

    • ইসরাইল ইতোমধ্যে তেহরানে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং ইরান পাল্টা সীমিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

    • ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ‘ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করে বিতর্ক তৈরি করেছেন।

    সিদ্ধান্ত এখন ট্রাম্পের কাঁধে

    এই মুহূর্তে বিশ্বের কূটনৈতিক, সামরিক এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশেই নির্ভর করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর।

    বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ যদি শুরু হয়, তাহলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়—পুরো বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, তেলের বাজার, অভিবাসন সংকট এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর তার বিরাট প্রভাব পড়বে। সূত্র: এপি ও সিএনএন 

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুদ্ধবিমান ও জাহাজ সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

      অনলাইন ডেস্ক
      ১৯ জুন, ২০২৫ ১৪:১৭
      অনলাইন ডেস্ক
      মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুদ্ধবিমান ও জাহাজ সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

      ইরানের সম্ভাব্য হামলার শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি ঘাঁটি থেকে কিছু বিমান ও যুদ্ধজাহাজ সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১৮ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

      এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও স্পষ্টভাবে জানাননি—যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা করবে কি না।

      এদিকে আজ বৃহস্পতিবার কাতারের মার্কিন দূতাবাস এক সতর্কবার্তা জারি করেছে।

      সেখানে তাদের মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের সাময়িকভাবে কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে প্রবেশ সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। দোহার বাইরে মরুভূমিতে অবস্থিত এই ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক স্থাপনা।
      দূতাবাসকর্মী ও কাতারে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দেওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ‘চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।’ 

      নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, বিমান ও যুদ্ধজাহাজ সরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সরঞ্জামকে নিরাপদ রাখা।

      তবে ঠিক কতগুলো বিমান ও জাহাজ সরানো হয়েছে এবং সেগুলো কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তারা কিছু জানাননি।
      একজন কর্মকর্তা বলেন, আল-উদেইদ ঘাঁটির যেসব বিমান শক্তিশালী সুরক্ষার আওতায় ছিল না, সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাহরাইনের একটি বন্দরের জাহাজগুলোও সেখান থেকে সরানো হয়েছে। এই বন্দরেই যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহর অবস্থান করে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        হাসপাতাল নয়, লক্ষ্য ছিল সেনাঘাঁটি, জানাল ইরান

        অনলাইন ডেস্ক
        ১৯ জুন, ২০২৫ ১৩:৫৮
        অনলাইন ডেস্ক
        হাসপাতাল নয়, লক্ষ্য ছিল সেনাঘাঁটি, জানাল ইরান

        ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের বিয়েরশেভা শহরের সরোকা হাসপাতালের কাছে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকালের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে ইরান। তাদের দাবি, মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল সেনাবাহিনীর ‘কমান্ড ও গোয়েন্দা সদর দফতর’, হাসপাতাল নয়। 

        ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের C4i হেডকোয়ার্টার এবং সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শিবির, যা গাভ-ইয়াম টেকনোলজি পার্কে অবস্থিত।

        এই পার্কটি বেন গুরিয়ন ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস ও আইডিএফ শিবিরের কাছেই। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমও আগেই জানিয়েছিল, সেখানে একটি সেনা ক্যাম্প তৈরি হচ্ছে।

        ইরান বলছে, “হাসপাতাল মূলত বিস্ফোরণের তরঙ্গে কেঁপে উঠেছে। বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু সামরিক অবকাঠামোতে সরাসরি আঘাত হেনেছে।”

        এই বক্তব্য ইসরায়েলের আগে দেওয়া দাবি থেকে কিছুটা আলাদা। ইসরায়েলের দাবিতে বলা হয়েছিল, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে হাসপাতালকে টার্গেট করেছে।

        বিবিসির সাংবাদিকরা বর্তমানে সরোকা হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিস্তারিত হালনাগাদ রিপোর্ট আসছে।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          হ্যালো আমেরিকা, তোমার দিকে প্রেতাত্মা ছুটে আসছে : যুক্তরাষ্ট্রকে শি জিনপিং

          অনলাইন ডেস্ক
          ১৯ জুন, ২০২৫ ১৩:৪৪
          অনলাইন ডেস্ক
          হ্যালো আমেরিকা, তোমার দিকে প্রেতাত্মা ছুটে আসছে : যুক্তরাষ্ট্রকে শি জিনপিং

          যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে আবারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এবারের এক্স পোস্টে তিনি স্পষ্ট ‍বিশ্ব মোড়ল যুক্তরাষ্ট্রের পতনের ভবিষ্যদ্বাণী দেন।

          বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) এক্সে শি জিনপিং লেখেন, ‘চীন জানে যে মহাশক্তিগুলো তাদের যুদ্ধযন্ত্রের কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।’ তিনি পূর্বেকার রাজবংশের ধ্বংসের ইতিহাস স্মরণ করেন। যুদ্ধবাজ মনোভাব কীভাবে একটি জাতিকে ধ্বংস করেছে তার বর্ণনা দেন।

          শি লিখেন, খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে শক্তিশালী কিন রাজবংশ যুদ্ধরত রাজ্যগুলোকে একত্র করে। তারা মহান প্রাচীর নির্মাণ করে এবং চীনের প্রথম সম্রাটের কাছে টেরাকোটা সেনাবাহিনীকে হস্তান্তর করে। কিন্তু সৈন্যদের অবিরাম যুদ্ধে বাধ্য করে এবং সাম্রাজ্যের গৌরবের জন্য জনগণের রক্ত শুষে নেওয়ার পর এই রাজবংশ মাত্র ১৫ বছরের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায়।

          অষ্টম শতাব্দীতে পরাক্রমশালী তাং রাজবংশ বিশ্বের দূরবর্তী প্রান্ত থেকে কর আদায় করত। কিন্তু বিজয়ের নেশায় মত্ত হয়ে এর সেনাবাহিনী মধ্য এশিয়ার গভীরে অভিযান চালায়। যার ফলে সামরিক দলগুলো নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বৃদ্ধি পায়। যখন দুর্বল রাষ্ট্র আর তাদের ক্ষুধা মেটাতে পারেনি তখন আন লুশানের বিদ্রোহ রাজধানী চাংআনকে পুড়িয়ে দেয় এবং সাম্রাজ্যকে অপরিবর্তনীয় পতনের দিকে ঠেলে দেয়।

          ১৩ শতাব্দীতে চেঙ্গিস খানের অজেয় অশ্বারোহী বাহিনী ইউরোপ থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিজয় তাড়া করে। কিন্তু অবিরাম সম্প্রসারণ সাম্রাজ্যকে যত দ্রুত বিজয় এনে দেয়, তত দ্রুত তা ক্ষয়প্রাপ্ত করে। এটিকে সবচেয়ে স্বল্পস্থায়ী রাজবংশগুলোর একটিতে পরিণত করে।

          ৫০০০ বছরের ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, যা আমেরিকা শিখতে অস্বীকার করে। সাম্রাজ্য শত্রুর কারণে পতন হয় না, তারা তাদের যুদ্ধযন্ত্রের অতৃপ্ত ক্ষুধার নিচে ভেঙে পড়ে।

          ৭৫০টি সামরিক ঘাঁটি দিয়ে বিশ্বকে ঘিরে রাখা এবং প্রতি বছর প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার ধোঁয়ায় উড়ে যাওয়ার সঙ্গে... আপনি (মার্কিন সাম্রাজ্য) কি ইতিমধ্যে আপনার প্যারেডে সেই প্রেতাত্মার পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন?

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত