শিরোনাম
ইরানি হামলায় হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ইসরায়েলের
ইসরায়েলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী উরিয়েল বুসো দাবি করেছেন, বিয়ের শেভা শহরে সোরোকা হাসপাতালের পাশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ‘লাল সীমানা পেরিয়ে গেছে’ ইরান। তিনি একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন।
ইসরায়েলি আর্মি রেডিওতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বুসো বলেন, এই হামলা ইরানি শাসকগোষ্ঠীর একটি যুদ্ধাপরাধ।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, বিয়ের শেভা শহরে ইরানের বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলায় সোরোকা হাসপাতাল এবং তেল আবিবে অবস্থিত ইসরায়েলি স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
জর্ডান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানান, হাসপাতালটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তু না হলেও পাশে থাকা একটি সামরিক স্থাপনায় আঘাতের পর সেই বিস্ফোরণের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাও দাবি করেছে, লক্ষ্য ছিল হাসপাতালের পাশের একটি ‘সংবেদনশীল’ সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনা, যা সোরোকা হাসপাতালের পাশে গাভ-ইয়াম প্রযুক্তি পার্কে অবস্থিত।
সোরোকা হাসপাতালটি বর্তমানে গাজা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আহত সেনাদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় বলে জানা যায়।
ইরান এখন পর্যন্ত ৪ শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, জানাল ইসরাইল
ইসরাইল-ইরানের মধ্যে ছয় দিন ধরে সংঘাত চলছে। পাল্টাপাল্টি হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলের দিকে ৪০০ টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। এ ছাড়া ইসরাইলে হামলার জন্য তেহরান কয়েক শ ড্রোন পাঠিয়েছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর আজ বুধবার এসব তথ্য জানিয়েছে। খবর সিএনএনের।
নেতানিয়াহুর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি হামলায় ইসরাইলে এখন পর্যন্ত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮০০ জনের বেশি।
ইরানের হামলার জেরে ৩ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষকে তাদের বাড়ি থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।
আর ইসরাইলের হামলায় এ পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা ২৪০ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ৭০ জনেরও বেশি নারী ও শিশু।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, যারা ইরানের ইতিহাস জানে, তারা কখনো ধমকের সুরে এ জাতির সঙ্গে কথা বলে না।
আলি খামেনি বুধবার এক টেলিভিশন ভাষণে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, ইসরাইলকে ভুলের মাশুল দিতে হবে। ইরান কখনোই পরাজয় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করবে না।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, আমেরিকানরা জেনে রাখুক, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ করে, তবে এর ফলাফল হবে অপূরণীয়।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার খামেনিকে ইরানের ‘তথাকথিত’ সর্বোচ্চ নেতা বলে ব্যঙ্গ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোস্যালে এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, খামেনির অবস্থান তারা জানেন। তবে তাকে এখনই হত্যা করবেন না।
আরেক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের আকাশ পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে ।‘ তবে ‘আমাদের’ বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন তা ব্যাখ্যা করেননি।
কাতারের আমিরের কাছে গোপন চিঠি পাঠালেন ইরানি প্রেসিডেন্ট
ইসরাইলি আগ্রাসনের মধ্যে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে একটি গোপন চিঠি পাঠিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
চিঠিটি ইতোমধ্যেই কাতারের আমিরের হাতে পৌঁছেছে। খবর আল জাজিরার।
বুধবার (১৮ জুন) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে চিঠিতে কি লেখা হয়েছে তা প্রকাশ করেনি।
কাতারে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি সালেহাবাদির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল মুরাইখি চিঠিটি গ্রহণ করেন।
কাতার সেই দেশগুলোর মধ্যে একটি যারা ওয়াশিংটনের কাছে আবেদন জানিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক চুক্তির লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে ইসরাইলের ওপর দৃষ্টি আকর্ষণ করুক।
এদিকে, ইসরাইলি আগ্রাসন নিয়ে জাতির উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। বলেছেন, চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়বে তার দেশ। কারও কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।
তিনি বলেন, ইরান চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে। একইভাবে চাপিয়ে দেয়া শান্তির বিরুদ্ধেও দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে। এই জাতি চাপের মুখে কারো কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।
মিসাইল আটকানোর ক্ষমতা কমে আসছে ইসরায়েলের : যুক্তরাষ্ট্র
দখলদার ইসরায়েলের ইরানের মিসাইল আটকানোর ক্ষমতা কমে আসছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েলিদের অন্যতম শক্তিশালী অ্যারো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফুরিয়ে আসছে।
অ্যারোর সক্ষমতা কমে আসায় ইরানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল আটকাতে বেগ পেতে হবে দখলদারদের।
তবে ইসরায়েল ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের এ প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল দাবি করেছে, ইরান এখন পর্যন্ত যেসব মিসাইল ছুড়েছে সেগুলোর বেশিরভাগই ইসরায়েল সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।
ইরানে গত শুক্রবার ভোরে হামলা চালায় ইসরায়েল। টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, এ হামলার পরিকল্পনা ইসরায়েল কয়েক মাস আগেই করেছে। এছাড়া এখন ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, এখন পর্যন্ত ইরানের ৪০ শতাংশ মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস করে দিয়েছে তারা।
দখলদার ইসরায়েলে বেশ কয়েকটি আকাশ প্রকিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের থাড ও প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা ব্যবহার করে তারা। এছাড়া তাদের নিজস্ব আয়রন ডোম ও ডেভিড স্লিং নামে দুটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।
সূত্র: ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল
তিন দিনে তিন ঘাঁটিতে ৩০টি যুদ্ধবিমান পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র
গত তিন দিনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপের কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটির উদ্দেশে উড়ে গেছে অন্তত ৩০টি যুদ্ধবিমান। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার ২৪ এর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
বিবিসির নিজস্ব অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেসি-১৩৫ নামের বিমানগুলো নামে যুদ্ধবিমান হলেও সাধারণত এগুলোকে যুদ্ধে ব্যবহার করা হয় না। এগুলো মূলত ট্যাংকার বিমান; অর্থাৎ অপারেশনে ব্যবহৃত যুদ্ধ ও বোমাবাহী বিমানগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা কেসি-১৩৫ বিমানগুলোর কাজ।
স্পেন, স্কটল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের মার্কিন ঘাঁটিগুলোর উদ্দেশে এ বিমানগুলো উড়ে গেছে বলে জানতে পেরেছে বিবিসি।
সাধারণ সময়ে এটি মনোযোগ আকর্ষণের মতো কোনো ঘটনা নয়; কারণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মার্কিন ঘাঁটির যুদ্ধবিমানগুলোর নিয়মিতই জ্বালানির প্রয়োজন হয় এবং সেই জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী কেসি-১৩৫ এবং আরও কয়েকটি সিরিজের ট্যাংকার উড়োজাহাজ ব্যবহার করে।
কিন্তু বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত পরিস্থিতিতে মার্কিন ঘাঁটি থেকে তিন দিনে ৩০টি ট্যাংকার যুদ্ধবিমানের ইউরোপের সামরিক ঘাঁটির উদ্দেশে উড়ে যাওয়াকে ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ বলে মনে করছেন একাধিক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক।
প্রসঙ্গত, ইরানে ইসরায়েল সংঘাতে এখনও সরাসরি অংশ না নিলেও যুক্তরাষ্ট্র যে এর সঙ্গে গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট— তা ইতোমধ্যে প্রকাশিত। কারণ ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আসার জন্য ইরানকে যে ডেডলাইন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তা অতিক্রমের একদিন পরেই ইরানে বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল।
এদিকে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের চতুর্থ দিনে দক্ষিণ চীন সাগরে যাত্রাপথ পরিবর্তন করে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইএসএস নিমিৎজ। এটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও সমরাস্ত্র সজ্জিত রণতরী হিসেবে পরিচিত।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক সংস্থা রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউট (রুসি)-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জাস্টিন ব্রঙ্ক বিবিসিকে এ প্রসঙ্গে বলেন, “ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতের বর্তমানে যে অবস্থা, তাতে ইতোমধ্যে আঁচ পাওয়া যাচ্ছে যে সামনের সপ্তাহগুলোতে তা আরও ব্যাপক আকার নেবে; আর সংঘাত ঘনীভূত হলে যে কোনো সময় তাতে যে কোনো সময় ঢুকে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র। মাত্র তিন দিনের মধ্যে ৩৯টি ট্যাংকার বিমানের যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে উড়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।”
সূত্র : বিবিসি
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য