শিরোনাম
ইরানে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানাল মিশরসহ ২১ মুসলিম দেশ
ইরানে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র মিশরসহ ২১টি মুসলিম দেশ। নিন্দা জানানোর পাশাপাশি উত্তেজনা হ্রাস এবং পরমাণু প্রকল্প বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো।
মঙ্গলবার মিশরের সরকারি বার্তা সংস্থা (মেনা) এর বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও সিএনএন।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো- মিশর, আলজেরিয়া, বাহরাইন, ব্রুনেই, চাদ, কমোরোস, জিবুতি, গাম্বিয়া, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সুদান, সোমালিয়া, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওই বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যে সংঘাত শুরু হয়েছে— তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে এবং এখন জরুরিভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। তারা চান, মধ্যপ্রাচ্য যেন পরমাণু অস্ত্রমুক্ত থাকে এবং এই অঞ্চলের সব রাষ্ট্র যেন জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প বিষয়ক চুক্তি নন-প্রোলিফারেশন অব নিউক্লিয়ার উইপন বা এনপিটিতে স্বাক্ষর করে।
বিবৃতিতে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং সদ্ভাবপূর্ণ প্রতিবেশী সম্পর্কের নীতিমালা সম্মান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান।
তারা আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যকে পরমাণু ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি।” এ লক্ষ্যে তারা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত চুক্তি (এনপিটি)-তে যোগদানের জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ইসরায়েল এখনও এনপিটি চুক্তির সদস্য নয়। এই আন্তর্জাতিক চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বব্যাপী পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা।
বিবৃতিতে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জোর দিয়ে বলেন, এ সংঘাতের সমাধান কেবল কূটনৈতিক পথেই সম্ভব—সামরিক উপায়ে নয়।
ইরানের নতুন শীর্ষ কমান্ডার নিহত, দাবি ইসরায়েলের
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ট এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর নতুন শীর্ষ কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী শাদমানি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। মেজর জেনারেল আলী শাদমানি ইরানের সামরিক বাহিনীর কমান্ড হেডকোয়ার্টার খতম-আল আনবিয়া-এর প্রধান ছিলেন।
গত ১৩ জুন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী রাজধানী তেহরানসহ ইরানের ৮ শহরে বোমা বর্ষণ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিহত হন খতম-আল আলবিয়া-এর শীর্ষ নির্বাহী লেফটেন্যান্ট জেনারেল গোলাম আলী রশীদ। তিনি নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, অর্থাৎ ১৩ জুন সন্ধ্যায় মেজর জেনারেল শাদমানিকে খতম আল আনবিয়া-এর শীর্ষ কমান্ডার ও নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দেন খামেনি।
মেজর জেনারেল শাদমানি ইরানের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ কমান্ডার ছিলেন। এছাড়া তিনি ছিলেন ইরানের অতি অল্পসংখ্যক সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন, যার সঙ্গে খামেনির ঘনিষ্ঠতা ছিল।
শাদমানির নিহত হওয়া সম্পর্কে ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আলজাজিরা, কিন্তু কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সূত্র : আলজাজিরা
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধে আইন পরিবর্তন করায় জাতিসংঘের উদ্বেগ
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিষিদ্ধের সুযোগ তৈরিতে আইন সংশোধনে উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ৫৯তম মানবাধিকার পরিষদে পেশ করা বার্ষিক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের বিবৃতিতে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে ভলকার তুর্ক তাদের নানা পদক্ষেপের বিষয় তুলে ধরেন। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তুর্ক বলেন, ‘আমি অনুপ্রাণিত বোধ করছি যে, অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো সংলাপের মাধ্যমে অগ্রগতি অর্জন করছে। সংস্কার, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে অর্থবহভাবে এগিয়ে যেতে আমি আহ্বান জানিয়েছি। অবশ্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিষিদ্ধের সুযোগ তৈরি করে সম্প্রতি আইনে পরিবর্তন আনা এবং এ সংক্রন্ত সব কর্মকাণ্ড নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। এটা সংগঠনের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সমাবেশের স্বাধীনতা সীমিত করবে।’
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি নয়, অপেক্ষা করছে আরও বড় কিছু: ট্রাম্প
তড়িঘড়ি করে কানাডায় চলমান জি-৭ সম্মেলন ছেড়ে যাওয়ার কারণ ইরান ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি নয়, বরং আরও বড় কিছু বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, ট্রাম্প ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত কোনও আলোচনায় অংশগ্রহণ করার জন্য ওয়াশিংটন ফিরে গেছেন।
তবে, এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ‘ভুল’ বলেছেন উল্লেখ করে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, আমি কেন ওয়াশিংটন ফিরে যাচ্ছি, ম্যাক্রোঁর সে ব্যাপারে কোনো ধারণাই নেই। তবে, এটা নিশ্চিত যে এর সাথে যুদ্ধবিরতির কোনো সম্পর্ক নেই। এটির তার থেকেও বড় কিছু।
যদিও পোস্টে সেই ‘বড়’ ব্যাপারটি ঠিক কী- তার বিস্তারিত কিছু বলেননি ট্রাম্প। তবে, তিনি পোস্ট শেষ করেছেন রহস্যময়ভাবে ‘স্টে টিউনড’ বা ‘সাথেই থাকুন’ লিখে।
এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র কিছু একটা করতে যাচ্ছে। কানাডায় জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পেশ করেছে।
ম্যাক্রোঁ ইসরায়েল-ইরান উভয়কেই বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে ইসরায়েলকে সতর্ক করে তনি বলেন, ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাত করার লক্ষ্যে হামলা করাটা ‘কৌশলগত ভুল’ হবে।
তিনি বলেন, যারা ভেবেছেন যে বাইরে থেকে হামলা চালিয়ে কোনো দেশকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চালানো যায়, তারা সবসময় ভুল করেছে।
ম্যাক্রোঁ সাংবাদিকদের আরও বলেন, একটি বৈঠক ও আলোচনার প্রস্তাব সত্যিই রয়েছে। বিশেষ করে, যুদ্ধবিরতি অর্জন এবং তারপর বৃহত্তর আলোচনা শুরু করার জন্য একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন দেখতে হবে, পক্ষগুলো এটি মানে কিনা।
এদিকে, ম্যাক্রোঁ যখন কথা বলেন ঠিক সেই সময় হোয়াইট হাউজ ঘোষণা করে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংকটের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মেলন থেকে তাড়াতাড়ি চলে যাবেন। এরপরই ঘোষণা আসে জরুরিভিত্তিতে ইরানের রাজধানী তেহরানের বাসিন্দাদের সরে গিয়ে শহরটি খালি করতে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করা উচিত ছিল। আমি তাদের চুক্তি স্বাক্ষর করতে বলেছিলাম। এটা লজ্জার, আর মানব জীবনের ক্ষতি। সাধারণভাবে বলছি, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। আমি এটি বারবার বলেছি। এখন জরুরিভিত্তিতে তেহরান খালি করুন।
ইরানের সঙ্গে সব সীমান্ত বন্ধ করল পাকিস্তান
ইরানের সঙ্গে যুক্ত সব সীমান্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান। বালুচিস্তান প্রদেশের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরা।
আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কাদির বখশ পিরকানি এএফপিকে বলেন- চাগাই, ওয়াশুক, পাঞ্জগুর, কেচ ও গাদার—এই পাঁচ জেলার সব সীমান্ত কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পাকিস্তানের এই পাঁচ জেলার সঙ্গে ইরানের সীমান্ত রয়েছে।
চাগাই জেলার একটি সীমান্ত চৌকির কর্মকর্তা আতাউল মুনিম জানান, ইরানে প্রবেশ আপাতত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
তবে সীমান্তে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই বলে জানান তিনি। ইরানে অবস্থানরত পাকিস্তানি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরার ক্ষেত্রেও কোনো বাধা থাকবে না।
আতাউল মুনিম আরও বলেন, আজ প্রায় ২০০ পাকিস্তানি শিক্ষার্থী ফেরার কথা রয়েছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য