শিরোনাম
হাইফায় ইরানের হামলায় ভারতের আদানির ৪.২ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি!
ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আবারও আঘাত হেনেছে ইসরায়েলের উপকূলীয় শহর হাইফায়। রোববার (১৫ জুন) রাতে চালানো এই হামলায় বন্দরের কাছাকাছি কিছু এলাকায় সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
এর আগের দিন, শনিবার (১৪ জুন) হাইফা বন্দরে চালানো আরেকটি হামলার পর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে—হামলায় ভারতীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান আদানি গ্রুপের প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য সুবিধা ধ্বংস হয়ে গেছে।
তবে এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আদানি গ্রুপের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার জুগেশিন্দর রবি সিং। রোববার (১৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ গুজবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আদানির মালিকানাধীন হাইফা বন্দরের স্থাপনাগুলোতে কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি। [সূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস]
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে আদানি পোর্টস ইসরায়েলের গ্যাডোট গ্রুপের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় হাইফা বন্দর অধিগ্রহণ করে। প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বন্দরের ৭০ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করছে।
হাইফা বন্দর ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র। দেশটির মোট আমদানির ৩০ শতাংশেরও বেশি পরিচালিত হয় এখান থেকেই। ফলে এই অঞ্চলে হামলা ইসরায়েলের অর্থনীতির জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্যও তা উদ্বেগজনক।
সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হাইফার একটি তেল শোধনাগারের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরিত হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও আদানি বন্দরের সরাসরি কোনো ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত হয়নি।
তবে যুদ্ধাবস্থা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে শুষ্ক বাল্ক জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায়, আগের সংঘর্ষের সময় আদানি পোর্টসের শেয়ারমূল্যে পতন দেখা দিয়েছিল। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ নয়, বরং ইসরায়েল ও ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তুরস্ক-সৌদি-ইরান-পাকিস্তান মিলে ইসলামিক আর্মি গঠনের প্রস্তাব
মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইসলামিক সেনাবাহিনী’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটি বলেছে, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে সঙ্গে নিয়ে এই সেনাবাহিনী গঠন করা হতে পারে।
ইরানি নেতা মহসেন রেজাই জানিয়েছেন, এই সেনাবাহিনী গঠন করা হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
ইরান বলছে, মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আত্মরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ইসলামিক সেনাবাহিনী গঠিত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার সমীকরণে নতুন মোড় নিতে পারে এবং সংঘাত আরও বিস্তার লাভ করার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে সোমবার আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় রাজধানী তেল আবিব ও বন্দরনগরী হাইফায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও অনেক আহত হয়েছেন। হামলায় ঘরবাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ও বিদ্যুত কেন্দ্রে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও এই হামলায় কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দূতাবাসটি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সেখানে আশ্রয় নেওয়া প্রায় সাত লাখ মার্কিনিকে ঘরেই থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি মার্কিন ঘাঁটি বা স্বার্থে হামলা হয়, তাহলে ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ শক্তিতে জবাব দেবে।
সূত্র: ডেইলি মেইল, আল জাজিরা
মোসাদ গুপ্তচরের ফাঁসি কার্যকর করল ইরান
ইরানের বিচার বিভাগের অধীনে থাকা একটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে কাজ করা এক গোপন এজেন্টের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম কোর্টে রায় বহাল থাকার পর এ শাস্তি কার্যকর করা হয়।
মিজান অনলাইন জানায়, ইসমাইল ফিকরি নামের ওই ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের শত্রুদের কাছে গোপন ও সংবেদনশীল তথ্য পাচারের দায়ে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিকরি ইসরায়েলের হয়ে কাজ করার সময় দুজন মোসাদ কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে তাকে ইরানে গ্রেপ্তার করে মামলা দায়ের করা হয়।
মিজান অনলাইনের বরাতে ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই ফাঁসি ইসরায়েলের গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের জন্য বড় একটি আঘাত।
ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ইরানের হামলা, নিহত বেড়ে ১৭
ইসরায়েলে মধ্যাঞ্চলে ইরানের সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন। দেশটির জাতীয় জরুরি সেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) এর বরাত দিয়ে আজ সোমবার (১৬ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সম্প্রচার মাধ্যম সিএনএন।
এমডিএ জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের মধ্য ও উপকূলীয় অঞ্চলের একাধিক স্থানে আঘাত হানে, যার মধ্যে আবাসিক ভবনও রয়েছে। তারা চারটি ভিন্ন স্থানে জরুরি সাড়া দিয়েছে এবং অনেক আহত ব্যক্তিকে মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নতুন এই তিনজনের মৃত্যুর ফলে শুক্রবার থেকে ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলায় ইসরায়েলে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।
অপরদিকে, ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটির সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের হামলায় ইরানে অন্তত ২২৪ জন নিহত এবং এক হাজার ২৭৭ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
উভয় দেশের মধ্যে চলমান এই ভয়াবহ সংঘাতে হতাহতের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, আর পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগও বাড়ছে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েল গত সপ্তাহে ইরানের পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানায় হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন ইরানি সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। এরপরই ইরান এই পাল্টা হামলা চালায়। যদিও তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, তবে ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমকে ইসরায়েল সামরিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
কখনো কখনো যুদ্ধ করেই সমস্যার সমাধান করতে হয় : ট্রাম্প
কখনো কখনো দেশগুলোকে যুদ্ধ করেই সমস্যার সমাধান করতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যখন হামলা-পাল্টা হামলা ও সংঘাত তীব্র পর্যায়ে পৌঁছেছে তখন এই মন্তব্য করলেন তিনি।
এছাড়া ইসরায়েল ও ইরান একসময় সমঝোতায় পৌঁছাবে বলেও জানিয়েছেন মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট। সোমবার (১৬ জুন) এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আশা করেন ইসরায়েল ও ইরান একসময় একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে। তবে কখনো কখনো দেশগুলোর মধ্যে আগে যুদ্ধ বাধেই এবং যুদ্ধ করেই সমস্যার সমাধান করতে হয়।
জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে কানাডার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে আছে এবং থাকবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেননি, তিনি ইসরায়েলকে ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করতে বলেছেন কিনা।
রোববার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টেও ট্রাম্প একই রকম মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “ইরান ও ইসরায়েলকে একটা সমঝোতায় আসতেই হবে এবং তারা আসবেই।”
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার একটি পরিকল্পনায় সায় দেননি বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস। তারা বলছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ওই পরিকল্পনা সামনে এনেছিলেন।
তিনটি সূত্র সিবিএস-কে জানায়, গত শুক্রবার ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের মধ্যে একটি আলোচনা হয়, যেখানে ট্রাম্প খামেনিকে হত্যা করার পরিকল্পনাকে ভালো সিদ্ধান্ত মনে করেননি। তবে ট্রাম্প এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।
একই বিষয়ে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু রয়টার্সের প্রতিবেদনটি সরাসরি অস্বীকার বা স্বীকার কোনোটিই করেননি, যেখানে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনায় ভেটো দিয়েছিলেন।
নেতানিয়াহু বলেন, “অনেক কথোপকথন নিয়েই ভুল প্রতিবেদন আসে, যেগুলো আসলে ঘটেইনি। আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলব না। তবে আমি এটুকু বলব, আমরা যা করার দরকার, তা করব। এবং আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্রও তাদের স্বার্থ ভালো বোঝে। তাই আমি এ বিষয়ে আর কিছু বলছি না।”
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য