শিরোনাম
৮০ বছরের অভিশাপ! এবার কি তাহলে ধ্বংস হচ্ছে ইজরায়েল?
ইসরায়েল কেন গাজায় ধ্বংসাত্মক আচরণ করছে—তার উত্তর খুঁজে পেতে দেশটিকে ঘিরে ‘অষ্টম দশকের অভিশাপ’ শব্দগুচ্ছটি আবারও জোরে-সোরে উচ্চারিত হচ্ছে। ইংরেজিতে এই টার্মটিকে বলা হয় Curse of the Eighth Decade(কারস অফ এইট ডেকেড), আর আরবিতে বলা হয়ে থাকে La'natul Aqdis Samina(লানাতুল আকদিস সামিন)—অর্থাৎ অষ্টম দশকের অভিশাপ।
এই টার্মটির জন্ম ইহুদিদের ধর্মীয় ন্যায়শাস্ত্র তালমুদের একটি ভবিষ্যদ্বাণী থেকে, যেখানে বলা হয়েছে—কোনো ইহুদি রাষ্ট্র আট দশকের বেশি টিকবে না। আর সে ভাঙন বাইরের কোনো শক্তির কারণে হবে না, বরং হবে নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব থেকে। বাস্তবতাও তাই দেখাচ্ছে।
ইতিহাস বলছে, বিগত ২,০০০ বছরে বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় সার্বভৌম ইহুদি রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে নবী দাউদ (আ.)-এর রাজত্ব, তথা কিং ডেভিডের রাজত্ব, এবং হাসমোনিয়ান রাজত্ব। তবে এর কোনোটিই ৮০ বছরের বেশি স্থায়ী হয়নি
কোনো পারমাণবিক আলোচনা হবে না : ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইসরায়েল যদি হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে পারমাণবিক আলোচনার টেবিলে বসবে না তেহরান। খবর বিবিসির।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো পেজেশকিয়ানকে ফোন করে উত্তেজনা কমাতে ও পারমাণবিক আলোচনা আবার শুরু করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সংঘাত এড়াতে সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম থাকতে হবে।
কিন্তু পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেন, ‘ইসরায়েল হামলা বন্ধ না করলে পারমাণবিক আলোচনায় ফেরার প্রশ্নই আসে না।’
রোববার নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পারমাণবিক আলোচনা এরই মধ্যে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান, ভেনেজুয়েলাসহ আরও অনেক দেশ ইসরায়েলকে উত্তেজনার জন্য দোষারোপ করেছে। তারা শিগগিরই ইসরায়েলকে দখলদারি মনোভাব পরিহার করে শান্তির পথে হাঁটার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। সংঘাত বন্ধে উদ্যোগটি গ্রহণ করার চাপ দিচ্ছে তেহরানকে।
রয়টার্সের বরাতে দ্য টাইম অব ইসরায়েল জানায়, জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শান্ত করার লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তাৎক্ষণিক আলোচনা করতে প্রস্তুত।
হামাসের সঙ্গে লড়াইয়ে গাজায় ইসরাইলি সেনা নিহত
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলে লড়াইয়ের সময় তাদের এক সেনা নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস (রিজার্ভ) নোয়াম শেমেশ (২১)। তিনি কফির ব্রিগেডের শিমশন ব্যাটালিয়নের একটি স্কোয়াডের কমান্ডার ছিলেন। জেরুজালেমের বাসিন্দা শেমেশ খান ইউনিসে রকেট চালিত গ্রেনেড (আরপিজি) হামলায় প্রাণ হারান বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
রোববার (১৫ জুন) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইসরাইল।
অন্যদিকে, শনিবার রাতে ইরান ইসরাইলে একযোগে ডজনখানেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর একটি ইসরাইলের হাইফার পূর্বে অবস্থিত আরব শহর তামরায় আঘাত হানে। এতে একটি দুইতলা বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং ৪ নারী নিহত হন। আহত হন আরও অন্তত ১০ জন।
নিহত নারীরা হলেন—মানার খাতিব ও তার দুই মেয়ে হালা (২০) ও শাদা (১৩), এবং তাদের এক আত্মীয় মনাল খাতিব।
শনিবার দিনভর অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকার পর রাতে এই হামলা ইরানের প্রথম পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। রাত ১১টার কিছু পরে হোম ফ্রন্ট কমান্ড দেশজুড়ে মোবাইল সতর্কবার্তা পাঠায়, যদিও সাইরেন কেবল উত্তরের এলাকা ও হাইফায় বাজানো হয়। ইসরাইলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সক্রিয় হয়ে উঠে এবং বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়। এই হামলার পর পুরো অঞ্চলে আবারও উত্তেজনা বেড়ে গেছে।
ইসরায়েলের তিনটি এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি ইরানের
এবার আরেক দফায় ইসরায়েলের এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। এ নিয়ে মোট তিনটি এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত ও বেশকিছু সংখ্যক ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করলো ইরান।
দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও একটি যুদ্ধবিমানকে আঘাত করা হয়েছে। খবর আলজাজিরার।
সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দফতরের বরাত দিয়ে ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, দেশের পশ্চিমাঞ্চলে ঘটনাটি ঘটেছে। পাইলট বিমান থেকে ইজেক্ট করেছেন, তার বর্তমান অবস্থান এখনও অজানা।
এদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদ্রায়ি ইরানি গণমাধ্যমের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ইরানি সামরিক বাহিনী ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে–এমন ভুয়া তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।
এর আগে, ইরানের সংবাদ সংস্থা, তাসনিম নিউজ জানায়, দেশটির সিরাজ ও ইসফাহান শহর থেকে মিসাইল ছোঁড়ে বিমান বাহিনী। ধ্বংস করা হয় ইসরায়েলের দুইটি এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান ও বেশকিছু সংখ্যক ড্রোন। এ হামলার পর যুদ্ধবিমানের একটিতে থাকা নারী পাইলটকে আটক করে সেনাবাহিনী।
নেতানিয়াহু এখন কোথায়?
ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধস্বরূপ ইরান একের পর এক পাল্টা বিমান হামলা শুরু করেছে। এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোপন স্থানে চলে গেছেন।
শুক্রবার (১৩ জুন) স্থানীয় সময় মধ্যরাতে ইরানে যে হামলা চালায় ইসরায়েল, তা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
রাজধানী তেহরানসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থানে বিমান হামলা হয়েছে- এর মধ্যেই ইরানের পালটা হামলায় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইরনা।
ইরনার প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে, হামলা শুরু হওয়ার সাথে সাথে বিশেষ নিরাপত্তার অংশ হিসেবে নেতানিয়াহুকে অজ্ঞাত গন্তব্যে স্থানান্তরিত করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে গ্রিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমও প্রকাশ করেছে যে, নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজকে ইসরায়েল ছাড়তে দেখা গেছে। সেই মুহূর্তে দুটি জঙ্গিবিমান তাকে পাহারা দিচ্ছিল- যা তার নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মোতায়েন ছিল।
ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২ জানিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে অবতরণ করেছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার ভোররাতে যে হামলা হয়েছে ইরানে, তা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মাত্রা অনেক বাড়িয়েছে। হামলায় ইরানের ২০ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন- যাদের মধ্যে রয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসিতে) প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামিসহ খাতাম আল-অনিবিয়া ঘাঁটির কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলাম আলী রশিদ।
ইরানে এই হামলার পর সেনাবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এর উপযুক্ত জবাব দেওয়ার, যা মধ্যপ্রাচ্যে আরও অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য