শিরোনাম
ইসরায়েলের তিনটি এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি ইরানের
এবার আরেক দফায় ইসরায়েলের এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। এ নিয়ে মোট তিনটি এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত ও বেশকিছু সংখ্যক ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করলো ইরান।
দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও একটি যুদ্ধবিমানকে আঘাত করা হয়েছে। খবর আলজাজিরার।
সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দফতরের বরাত দিয়ে ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, দেশের পশ্চিমাঞ্চলে ঘটনাটি ঘটেছে। পাইলট বিমান থেকে ইজেক্ট করেছেন, তার বর্তমান অবস্থান এখনও অজানা।
এদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদ্রায়ি ইরানি গণমাধ্যমের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ইরানি সামরিক বাহিনী ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে–এমন ভুয়া তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।
এর আগে, ইরানের সংবাদ সংস্থা, তাসনিম নিউজ জানায়, দেশটির সিরাজ ও ইসফাহান শহর থেকে মিসাইল ছোঁড়ে বিমান বাহিনী। ধ্বংস করা হয় ইসরায়েলের দুইটি এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান ও বেশকিছু সংখ্যক ড্রোন। এ হামলার পর যুদ্ধবিমানের একটিতে থাকা নারী পাইলটকে আটক করে সেনাবাহিনী।
নেতানিয়াহু এখন কোথায়?
ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধস্বরূপ ইরান একের পর এক পাল্টা বিমান হামলা শুরু করেছে। এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোপন স্থানে চলে গেছেন।
শুক্রবার (১৩ জুন) স্থানীয় সময় মধ্যরাতে ইরানে যে হামলা চালায় ইসরায়েল, তা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
রাজধানী তেহরানসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থানে বিমান হামলা হয়েছে- এর মধ্যেই ইরানের পালটা হামলায় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইরনা।
ইরনার প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে, হামলা শুরু হওয়ার সাথে সাথে বিশেষ নিরাপত্তার অংশ হিসেবে নেতানিয়াহুকে অজ্ঞাত গন্তব্যে স্থানান্তরিত করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে গ্রিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমও প্রকাশ করেছে যে, নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজকে ইসরায়েল ছাড়তে দেখা গেছে। সেই মুহূর্তে দুটি জঙ্গিবিমান তাকে পাহারা দিচ্ছিল- যা তার নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মোতায়েন ছিল।
ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২ জানিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে অবতরণ করেছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার ভোররাতে যে হামলা হয়েছে ইরানে, তা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মাত্রা অনেক বাড়িয়েছে। হামলায় ইরানের ২০ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন- যাদের মধ্যে রয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসিতে) প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামিসহ খাতাম আল-অনিবিয়া ঘাঁটির কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলাম আলী রশিদ।
ইরানে এই হামলার পর সেনাবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এর উপযুক্ত জবাব দেওয়ার, যা মধ্যপ্রাচ্যে আরও অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।
হামলার লাইভ দেখতে বিশ্ববাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইরান!
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে। ইরান ঘোষণা দিয়েছে, তারা আবারও ইসরায়েলে হামলা চালাবে এবং সেই হামলার দৃশ্য ‘বিশ্ববাসীকে সরাসরি দেখার’ আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ফেসবুক পেজের একটি পোস্টে এ ঘোষণাটি দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
ইরানি গণমাধ্যমে প্রচারিত বার্তায় বলা হয়েছে, “আগামী প্রতিক্রিয়াটি হবে আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী, বিস্তৃত ও দর্শনীয়। বিশ্বের সবাইকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি—ঘটনাটি সরাসরি দেখার জন্য প্রস্তুত থাকুন।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তা কেবল ইসরায়েল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বকেও লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন ডিফেন্স স্যাটেলাইট এবং ড্রোন সিস্টেমগুলোর প্রতিক্রিয়া বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চায় তেহরান।
তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘উচ্চ সতর্কতা’ অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
১৩ জুন ভোররাতে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত আটটি শহরে একযোগে বিমান হামলা চালায়। হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৮ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইরানের শতাধিক সামরিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করল ইসরায়েল
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাতে নিজেদের সেনাদলে আহত হওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
শনিবার (১৪ জুন) দেশটির সেনাবাহিনীর দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, মধ্য ইসরায়েলে গভীর রাতে এই হামলা হয়, যা ছিল তাদের ওপর ইরানের পাল্টা আক্রমণের অংশ।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলোর আঘাতে অন্তত ৭ সেনা আহত হন। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসার পর সবাইকে হাসপাতাল থেকে ছাড়াও দেওয়া হয়েছে।
গত দুই দিন ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যে এই প্রথমবারের মতো ইসরায়েল তাদের সেনাদলে হতাহতের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করল। এর আগে উভয়পক্ষই একে অপরকে হুমকির মধ্যেই ছিল, কিন্তু সামরিক সদস্যদের আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ঝুঁকিতে নতুনমাত্রা যুক্ত করেছে এবং যে কোনো মুহূর্তে তা আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।
এর আগে শুক্রবার (১৩ জুন) স্থানীয় সময় ভোররাতে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। জবাবে পাল্টা হামলা চালায় ইরান- যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও অস্থিরতা আরও ঘন এবং গভীর করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যে মুসলিম দেশের গাদ্দারি থামছেই না
কখনো ফিলিস্তিনে ত্রাণ যাওয়া পরিবহন থেকে বেশি টাকা নিচ্ছে, কখনো ইসরায়েলকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সাহায্য করছে মধ্যপ্রাচ্যর এক দেশ। এরই মধ্যে ইসরায়েলকে সহায়তার জন্য নিজেদের আকাশ খুলে দিয়েছে জর্ডান। ইসরায়েলকে প্রতিনিয়ত ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া আকাশসীমা পুনরায় চালু করেছে জর্ডান।
শনিবার (১৪ জুন) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল তাদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
এর আগে শুক্রবার ভোর রাতে ইরানে ভয়াবহ একাধিক হামলা চালায় ইসরায়েল। তার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান যেন পাল্টা হামলা চালাতে না পারে সেজন্য ইসরায়েলের এক পাশ ঘিরে রাখা জর্ডান তাদের আকাশ পথ বন্ধ করে দেয়। যা সরাসরি ইসরায়েলকে সহায়তা করে। এখন ইসরায়েলের দরকার পড়েছে আবার জর্ডান তাদের আকাশপথ খুলে দিয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, দেশটির সিভিল এভিয়েশন কমিশন জানিয়েছে, শনিবার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ৭টায় (জিএমটি ০৫:৩০) থেকে আকাশসীমা আবার বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ জুন), ইসরায়েলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। জর্ডানও এই পদক্ষেপ নিয়েছিল, কারণ ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের কারণে আকাশসীমায় নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছিল।
জর্ডানের সরকারি মুখপাত্র মোহাম্মদ আল-মোমানি পূর্বে বলেন, ‘আমরা আমাদের আকাশসীমায় কোনো ধরনের লঙ্ঘন মেনে নেব না এবং এটি কোনো সংঘর্ষের ক্ষেত্র হবে না।’ জর্ডান তার নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বলেছে যে, তারা ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো ধরনের আকাশসীমা লঙ্ঘন মেনে নেবে না। দেশটি তার আকাশসীমা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জর্ডান তার আকাশসীমা পুনরায় চালু করে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। দেশটি তার নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বলেছে যে, তারা ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো ধরনের আকাশসীমা লঙ্ঘন মেনে নেবে না। এটি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য