শিরোনাম
নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করল ইসরায়েল
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাতে নিজেদের সেনাদলে আহত হওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
শনিবার (১৪ জুন) দেশটির সেনাবাহিনীর দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, মধ্য ইসরায়েলে গভীর রাতে এই হামলা হয়, যা ছিল তাদের ওপর ইরানের পাল্টা আক্রমণের অংশ।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলোর আঘাতে অন্তত ৭ সেনা আহত হন। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসার পর সবাইকে হাসপাতাল থেকে ছাড়াও দেওয়া হয়েছে।
গত দুই দিন ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যে এই প্রথমবারের মতো ইসরায়েল তাদের সেনাদলে হতাহতের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করল। এর আগে উভয়পক্ষই একে অপরকে হুমকির মধ্যেই ছিল, কিন্তু সামরিক সদস্যদের আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ঝুঁকিতে নতুনমাত্রা যুক্ত করেছে এবং যে কোনো মুহূর্তে তা আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।
এর আগে শুক্রবার (১৩ জুন) স্থানীয় সময় ভোররাতে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। জবাবে পাল্টা হামলা চালায় ইরান- যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও অস্থিরতা আরও ঘন এবং গভীর করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যে মুসলিম দেশের গাদ্দারি থামছেই না
কখনো ফিলিস্তিনে ত্রাণ যাওয়া পরিবহন থেকে বেশি টাকা নিচ্ছে, কখনো ইসরায়েলকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সাহায্য করছে মধ্যপ্রাচ্যর এক দেশ। এরই মধ্যে ইসরায়েলকে সহায়তার জন্য নিজেদের আকাশ খুলে দিয়েছে জর্ডান। ইসরায়েলকে প্রতিনিয়ত ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া আকাশসীমা পুনরায় চালু করেছে জর্ডান।
শনিবার (১৪ জুন) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল তাদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
এর আগে শুক্রবার ভোর রাতে ইরানে ভয়াবহ একাধিক হামলা চালায় ইসরায়েল। তার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান যেন পাল্টা হামলা চালাতে না পারে সেজন্য ইসরায়েলের এক পাশ ঘিরে রাখা জর্ডান তাদের আকাশ পথ বন্ধ করে দেয়। যা সরাসরি ইসরায়েলকে সহায়তা করে। এখন ইসরায়েলের দরকার পড়েছে আবার জর্ডান তাদের আকাশপথ খুলে দিয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, দেশটির সিভিল এভিয়েশন কমিশন জানিয়েছে, শনিবার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ৭টায় (জিএমটি ০৫:৩০) থেকে আকাশসীমা আবার বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ জুন), ইসরায়েলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। জর্ডানও এই পদক্ষেপ নিয়েছিল, কারণ ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের কারণে আকাশসীমায় নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছিল।
জর্ডানের সরকারি মুখপাত্র মোহাম্মদ আল-মোমানি পূর্বে বলেন, ‘আমরা আমাদের আকাশসীমায় কোনো ধরনের লঙ্ঘন মেনে নেব না এবং এটি কোনো সংঘর্ষের ক্ষেত্র হবে না।’ জর্ডান তার নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বলেছে যে, তারা ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো ধরনের আকাশসীমা লঙ্ঘন মেনে নেবে না। দেশটি তার আকাশসীমা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জর্ডান তার আকাশসীমা পুনরায় চালু করে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। দেশটি তার নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বলেছে যে, তারা ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো ধরনের আকাশসীমা লঙ্ঘন মেনে নেবে না। এটি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ইসরায়েলের নিশানায় কি এবার খামেনি? বাড়ি লক্ষ্য করে মিসাইল বৃষ্টি
শুক্রবার কয়েক দফা হামলা চালিয়ে ইরানের সেনাপ্রধানসহ অন্তত ২০ জন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ও বেশ কয়েকজন পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যার পর শনিবার (১৪ জুন) মধ্যরাত থেকে আবারও নতুন করে ইরানে হামলা চালাতে শুরু করেছে ইসরায়েল। তাদের এবারের লক্ষ্যবস্তু ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও সুপ্রিম নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
ইরানের যে ক্ষেপণাস্ত্র উদ্বেগ বাড়াতে পারে ইসরায়েলের
মাত্র এক মাস আগে তেহরান প্রকাশ্যে এনেছিল তার নতুন অস্ত্র। শুক্রবার গভীর রাতে সেই মাঝারি পাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘কাসিম বশির’ ব্যবহার করেই তারা ইসরায়েলের তেল আবিবে সফল হামলা চালিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার পাল্লার কঠিন জ্বালানি-চালিত কাসিম বশির ক্ষেপণাস্ত্র গত মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের সামরিক বাহিনীর এলিট শাখা ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বিমান বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ় নাসিরজাদেহ। বস্তুত, এটি ইরান ফৌজের গত এক দশক ধরে ব্যবহৃত ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হজ কাসিমের উন্নততর সংস্করণ। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সে সময়ই আজিজ় দাবি করছিলেন, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হবে কাসিম বশির।
ইরান থেকে ইসরায়েলের দূরত্ব ১৫০০ কিলোমিটার। ইজ়রায়েলের আকাশের ‘নিশ্ছিদ্র রক্ষক’ আয়রন ডোম মূলত তিনটি স্তরে কাজ করে— রাডারের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুকে চিহ্নিত করা, দ্রুত সেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তৎপর হওয়া এবং ‘ইন্টারস্পেটর ক্ষেপণাস্ত্র’ ছুড়ে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করা। এ ছাড়া, তেল আবিবের কাছে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা ‘থাড’।
ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে সীমান্ত নেই। ইরাক, সিরিয়া বা জর্ডানের আকাশসীমা দিয়ে উড়ে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রকে ইসরায়েলের আকাশসীমায় পৌঁছাতে হয়। একইভাবে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে জর্ডান ও ইরাক নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-কে।
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ অবশ্য ইসরায়েলকে ইরানের বিরুদ্ধে নিজ দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করার অনুমতি দেননি, তবে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা গত ডিসেম্বরে ক্ষমতায় আসার পর ইসরায়েলের জন্য সিরিয়ার আকাশসীমা উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।
ইরান যখন ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, তখন সাধারণত প্রথমেই প্রতিবেশী দেশ ইরাকে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনী তা ইসরায়েলকে জানিয়ে দেয়। তারপর ইসরায়েলে আঘাত হানার আগেই ইরাক কিংবা জর্ডানের আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় সেসব ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইন্টারসেপ্ট’ বা ধ্বংস করে দেয় মার্কিন বাহিনী।
এত বাধা বা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও শুক্রবার রাতে ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবে সফল হামলা চালিয়েছে উচ্চ গতিসম্পন্ন কাসিম বশির। উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী এবং ইজ়রায়েলে নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারাকে তেহরানের ‘চমকপ্রদ সাফল্য’ হিসেবে দেখছেন সামরিক পর্যবেক্ষকরা।
ইসরায়েলে পঞ্চম ধাপে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান
ইসরায়েলের দিকে পঞ্চম ধাপে শনিবার সকালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। এরই মধ্যে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী (আইএএফ) ডেড সি ও পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলে ইরান থেকে ছোড়া ড্রোনগুলো ভূপাতিত করেছে। ওই এলাকায় সতর্কতা সাইরেনও বেজে ওঠে। খবর জেরুজালেম পোস্টের।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রয়োজনীয় জায়গায় হামলা ও প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে হুমকি দূর করা যায়।
এর আগে ইরান চার দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েলে। এসব হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন এবং ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় জেলায় ছিলেন, যাদের মৃতদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। এখনও একটি দুই মাসের শিশুর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তেহরান ও রামাত গান এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া, শনিবার সকালে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের কিরিয়াত শমোনা, মেতুল্লা ও গাজার—রকেট হামলার সতর্কতা সাইরেন বেজেছে। তবে এ বিষয়ে এখনও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে, ইসরায়েলি হামলার পর তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে আগুন ধরে যায়। ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির দাবি, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র বিমানবন্দরে আঘাত হানে। তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে ইরান এখন পর্যন্ত ১৫০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দিকে ছুড়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য