ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

বিয়েতে কনেকে ১০০ খাটাশ উপহার

অনলাইন ডেস্ক
১০ জুন, ২০২৫ ১১:১৪
অনলাইন ডেস্ক
বিয়েতে কনেকে ১০০ খাটাশ উপহার

বিয়েতে বর-কনেকে বিভিন্ন ধরনের উপহার দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। তবে এবার সামনে এসেছে বিচিত্র ঘটনা। বিয়েতে উপহার দেওয়া হয়েছে ১০০ খাটাশ। উপহার পাওয়া এ প্রাণীর দাম প্রায় ৮৫ লাখ টাকা।

সোমবার (০৯ জুন) সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের বরাতে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিয়েতনামের এক কনে তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে ভিন্নধর্মী উপহার পেয়েছেন। তাকে উপহার হিসেবে ১০০টি খাটাশ দেওয়া হয়েছে। এর বাজারমূল্য ৭০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৫ লাখ টাকা। এই প্রাণীগুলো বিশ্বের সবচেয়ে দামি কফি কোপি লুয়াক উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে মূল্যবান।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, উপহারের মধ্যে আরও ছিল ২৫টি সোনার বার, ২০ হাজার ডলার নগদ, ৩০০ মিলিয়ন ডং মূল্যের কোম্পানির শেয়ার এবং একাধিক উচ্চমূল্যের সম্পত্তি। ২২ বছর বয়সী এই কনে যিনি ভিয়েতনামের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দা। গত মে মাসে তার বিয়ের সময় তিনি এসব উপহার পেয়েছেন। বরের পরিবারও এ বিয়েতে বিভিন্ন উপহার দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০ তায়েল সোনা, ২০০ মিলিয়ন ডং নগদ এবং হীরার গহনা।

কনের বাবা হং চি তাম বলেন, তার সন্তানরা সকলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং তারা পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি তার মেয়েকে এমন সম্পদ উপহার দিয়েছেন যা আয়ের উৎস হতে পারে। এ ছাড়া খাটাশগুলো পালন বা বিক্রি করার বিষয়ে তার স্বাধীনতা রয়েছে।

তিনি বলেন, আমার মেয়ে বিজনেস স্কুলের স্নাতক। তিনি এই সম্পদগুলো পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণ সক্ষম। যে পদ্ধতিই হোক না কেন, এটি তার আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।

ভিয়েতনামে খাটাশ অত্যন্ত মূল্যবান। একটি সন্তান জন্ম দেওয়া মা খাটাশের মূল্য প্রায় ৭০০ মার্কিন ডলার, আর গর্ভবতী একটির মূল্য ১,০৫০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এদের মূল্যের একটি বড় কারণ হলো কোপি লুয়াক কফি উৎপাদনে তাদের ভূমিকা। এই বিশেষ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় খাটাশ পাকা কফি চেরি খায়, এবং তাদের পরিপাকতন্ত্র থেকে সংগ্রহ করা কফি বিন পরিষ্কার, প্রক্রিয়াজাত এবং রোস্ট করা হয়। এ ছাড়া চীন ও ভিয়েতনামে খাটাশের মাংস বিলাসবহুল খাবার হিসেবে বিবেচিত হয় এবং ঐতিহ্যবাহী চীনা ওষুধে ব্যবহৃত হয়, যা এই প্রাণীর মূল্য আরও বাড়িয়েছে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ত্রাণবাহী জাহাজ ‘ম্যাডলিন’ দখলে নিয়েছে ইসরায়েল, আছেন গ্রেটাসহ ১২ মানবাধিকারকর্মী

    অনলাইন ডেস্ক
    ৯ জুন, ২০২৫ ১১:১৮
    অনলাইন ডেস্ক
    ত্রাণবাহী জাহাজ ‘ম্যাডলিন’ দখলে নিয়েছে ইসরায়েল, আছেন গ্রেটাসহ ১২ মানবাধিকারকর্মী

    যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাসিন্দাদের জন্য ফিলিস্তিনিপন্থি আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের (এফএফসি) খাদ্য ও ত্রাণবাহী জাহাজ ম্যাডলিনকে আটকে দিয়েছে ইসরায়েলের নৌবাহিনী। সেই সঙ্গে জাহাজের ১২ জন ক্রুদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    গ্রেপ্তারদের মধ্যে সুইডেনের নাগরিক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ এবং ফ্রান্সের পার্লামেন্টের এমপি রিমা হাসানও রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় রিমা হাজান জানিয়েছেন, রোববার স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ম্যাডলিনকে আটকে দেয় ইসরায়েলের নৌবাহিনী এবং জাহাজের সব ক্রুকে গ্রেপ্তার করে।

    ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে এ তথ্যের সত্যতা। এক্সে পোস্ট করা এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “সেলিব্রেটিদের বহনকারী সেই সেলফি জাহাজটিকে রোববার মধ্যরাতে ইসরায়েলের উপকূলে নিয়ে আসা হয়েছে। ক্রুদের সবাই আমাদের হেফাজতে নিরাপদে আছেন। তাদেরকে স্যান্ডউইচ এবং পানি সরবরাহ করা হয়েছে। নাটক খতম।”

    যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙে গত ১৯ মার্চ গাজায় ফের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এ অভিযান শুরুর আগে মার্চের প্রথম দিকে গাজায় ত্রাণ ও খাদ্যবাহী ট্রাকের প্রবেশ প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    একদিকে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা নিষ্ঠুর সামরিক অভিযান এবং অপরদিকে দিনের পর দিন ধরে প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ, সুপেয় পানি ও ত্রাণসামগ্রীর অভাবে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন গাজায় বসবাসরকারী ফিলিস্তিনিরা। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হওয়া ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই গাজায় ত্রাণবাহী জাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দেয় ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন।

    গত ১ জুন ইতালির ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ সিসিলি’র উপকূল থেকে গাজার উপকূলের উদ্দেশে রওনা দেয় এফএফসি’র ত্রাণবাহী জাহাজ ম্যাডলিন। ম্যাডলিন একটি ব্রিটিশ পতাকাবাহী জাহাজ।

    ব্রিটিশ জাহাজ ম্যাডলিন আকার আয়তনে তেমন বড় নয়। জাহাজটিতে মূলত খাদ্য সামগ্রী এবং শিশুখাদ্য ছিল। সেই ত্রাণের পরিমাণও খুব বেশি নয়। সেই ত্রাণের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সেলিব্রেটিরা যেসব ত্রাণসামগ্রী এনেছেন, সেগুলো যথাযথ মানবিক চ্যানেলের মাধ্যমে গাজায় পৌঁছে দেওয়া হবে।”

    ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত গাজার উপকূলে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০০৭ সালে হামাস গাজায় ক্ষমতাসীন হওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইসরায়েল।

    রোববার ইসরায়েলের উপকূলের কাছাকাছি আসার পর ম্যাডলিন এবং তার যাত্রীদের আটকের নির্দেশ দিয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।

    জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা অ্যালবানেজ ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের এই উদ্যোগ এবং সাহসী অভিযাত্রাকে সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেছেন, “ম্যাডলিনের যাত্রা হয়তো শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু মিশন এখনও এখনও শেষ হয়নি। গাজার জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভূমধ্যসাগর অঞ্চলের প্রতিটি বন্দর থেকে সেখানে ত্রাণ পাঠানো উচিত।”

    সূত্র : রয়টার্স

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      বাংলাদেশ-মিয়ানমারের

      সম্মতি পেলে ‘করিডর’ স্থাপনে সহযোগিতা করবে জাতিসংঘ

      অনলাইন ডেস্ক
      ৪ জুন, ২০২৫ ১৫:৪০
      অনলাইন ডেস্ক
      সম্মতি পেলে ‘করিডর’ স্থাপনে সহযোগিতা করবে জাতিসংঘ

      রাখাইনে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর জন্য ‘মানবিক করিডর’ স্থাপন করার বিষয়ে জাতিসংঘ কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস।

      বুধবার (৪ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন আবাসিক সমন্বয়কারী।

      গোয়েন লুইস বলেন, রাখাইনে মানবিক করিডর হবে কি না সেটা নির্ভর করবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সরকারের ওপর। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সরকার সম্মত হলেই এটা বাস্তবায়ন সম্ভব। দুদেশ সম্মতি দিলে জাতিসংঘ সহযোগিতা করবে। তবে এ বিষয়ে জাতিসংঘ কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।

      রাখাইনে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর জন্য জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি ‘মানবিক করিডর’ স্থাপনের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বিতর্ক চলছে। গত ২৭ এপ্রিল রাখাইনে মানবিক করিডর দেওয়া নিয়ে সরকারের নীতিগত সম্মতির তথ্য প্রকাশ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। এরপর শুরু হয় করিডর বিতর্ক। প্রায় মাসখানেক কেটে গেলেও এখনো বিতর্ক থামেনি। চলছে সমালোচনা। 

      এই ইস্যুতে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সরকারকে ছেড়ে কথা বলছে না। বরং ক্রমাগত চাপ তৈরি করছে। বিষয়টি এতটাই সমালোচনার জন্ম দিয়েছে যে, সম্প্রতি সরকারের তরফ থেকে ‘বিশেষ’ ব্রিফ পর্যন্ত করে অবস্থান স্পষ্ট করতে হয়েছে। তবে আলোচনা এখনো থামেনি।

      অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডিক্যাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুজ্জামান মামুন।

      মন্তব্য

      পাকিস্তানি সাংবাদিক হামিদ মিরের নিবন্ধ

      ‘নরেন্দ্র মোদি ভারতের জন্য পাকিস্তানের চেয়েও বড় হুমকি’

      অনলাইন ডেস্ক
      ৩ জুন, ২০২৫ ২১:১৮
      অনলাইন ডেস্ক
      ‘নরেন্দ্র মোদি ভারতের জন্য পাকিস্তানের চেয়েও বড় হুমকি’

      ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ভারতের বিমানবাহিনী ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তিন সপ্তাহ ধরে ক্ষয়ক্ষতির কথা অস্বীকার করার পর এই স্বীকারোক্তি ভারতের রাষ্ট্রীয় বর্ণনার ভ্রান্ততা প্রকাশ করে।

      ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাসবাদে লিপ্ত এবং নিজেদের নীতিগুলি আড়াল করতে মিথ্যা বর্ণনা তৈরি করে। মে ২০২৫-এ ‘অপারেশন সিঁদুর’ ব্যর্থতা ভারতের মিথ্যা ও ভণ্ডামি উন্মোচনের সুযোগ করে দেয়।

      মোদি কেবল একজন ব্যক্তি নন; তিনি ভারতের শাসক দলের মানসিকতার প্রতীক। এই উগ্রবাদী আদর্শ মহাত্মা গান্ধীর হত্যার পথ প্রশস্ত করেছিল। পরবর্তীতে, এর প্রবক্তারা কোনো দায় স্বীকার করেনি।

      মহাত্মা গান্ধী, যিনি ভারতের ‘জাতির পিতা" হিসেবে পরিচিত, ১৯৪৮ সালের জানুয়ারিতে হিন্দু উগ্রবাদী নথুরাম গডসের হাতে নিহত হন। গডসে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সদস্য ছিলেন, যা বর্তমানে বিজেপির রাজনৈতিক শাখা হিসেবে কাজ করে।  গডসে দাবি করেছিলেন যে তিনি আরএসএস ছেড়ে দিয়েছেন, কিন্তু একটি সাম্প্রতিক বিবিসি তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে তিনি কখনোই সংগঠনটি ছাড়েননি।

      বহু বিজেপি নেতা গডসেকে ‘দেশপ্রেমিক’ ও ‘মাটির সন্তান’ বলে প্রশংসা করেন। এটি এমন নেতাদের সম্পর্কে কী বলে যারা তাদের ‘বাপু’-এর হত্যাকারীকে প্রশংসা করেন?

      আরএসএস ও বিজেপি কেবল ভারতের জন্য নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া ও আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ।

      আরএসএস বহুবার সহিংসতা ও ঘৃণার কারণে নিষিদ্ধ হয়েছে। ১৯৪৭ সালের জানুয়ারিতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বোমা হামলার কারণে এটি প্রথম নিষিদ্ধ হয়। ১৯৪৮ সালে গান্ধী হত্যার পর, ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধীর সময় এবং ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর এটি পুনরায় নিষিদ্ধ হয়।

      আরএসএস ভারতের জাতীয় প্রতীকসমূহ প্রত্যাখ্যান করে। আরএসএস-এর দ্বিতীয় প্রধান এম.এস. গোলওয়ালকর তার বই ‘বাঞ্চ অব থটস’-এ ত্রিবর্ণ পতাকা গ্রহণের বিরোধিতা করেন এবং পরিবর্তে গেরুয়া পতাকার পক্ষে মত দেন। সংগঠনটি ভারতের সংবিধানও প্রত্যাখ্যান করে।

      মোদি প্রায়ই পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করেন, কিন্তু তার আরএসএস-এর সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপক প্রমাণ রয়েছে। পশ্চিমা মিডিয়া তাকে ‘গুজরাটের কসাই’ নামে অভিহিত করেছে, কারণ তিনি ২০০২ সালে গুজরাটে মুসলমানদের গণহত্যার সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।

      পাকিস্তানি সাংবাদিক হামিদ মির । ছবি: সংগৃহীত

      সাবেক আরএসএস কর্মী যশবন্ত শিন্ডে ২০২২ সালে স্বীকার করেন যে তিনি পাকিস্তান ও ভারতে মুসলমানদের দোষারোপ করার জন্য সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন। বর্তমান আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, যিনি প্রধানমন্ত্রীীয় প্রটোকল উপভোগ করেন, দাবি করেন যে ভারতের সব নাগরিক হিন্দু এবং নিয়মিত খ্রিস্টান ও মুসলমানদের আক্রমণ করেন। তিনি একবার অভিযোগ করেন যে মাদার তেরেসার দাতব্য কাজের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল দরিদ্রদের খ্রিস্টধর্মে রূপান্তরিত করা। এই ধরনের বক্তব্য হিন্দু উগ্রবাদীদের বিভিন্ন অংশে খ্রিস্টানদের আক্রমণে উৎসাহিত করেছে।

      হিন্দু উগ্রবাদ ভারতের সব প্রতিষ্ঠানে, এমনকি সেনাবাহিনীতেও প্রবেশ করেছে। ২০২৫ সালের ৩০ মে, সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় বিতর্কিত ধর্মীয় নেতা জগদগুরু রামভদ্রাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জগদগুরু পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের বলে দাবি করেন, যা সেনাপ্রধান মেনে নেন বলে জানা যায়। এই ধর্মীয় উগ্রবাদী বাবরি মসজিদ ধ্বংস ও নিম্নবর্ণের হিন্দুদের উপর আক্রমণ সমর্থন করেন।

      অখণ্ড ভারতের হুমকি

      এই ত্রয়ী - একজন ‘কসাই’ প্রধানমন্ত্রী, একজন উগ্রবাদী আরএসএস প্রধান এবং একজন অনুগত সেনাপ্রধান - কেবল ভারতের সংখ্যালঘুদের জন্য নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জন্য হুমকি। বিজেপি ও আরএসএস ‘অখণ্ড ভারত’ ধারণা প্রচার করে, যা আফগানিস্তান থেকে থাইল্যান্ড এবং মিয়ানমার থেকে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত বিস্তৃত।

      বিজেপি সরকার সংসদে একটি অখণ্ড ভারত মানচিত্র প্রদর্শন করে, যা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। সিএনএন এটিকে ‘নব্য-সাম্রাজ্যবাদী ধারণা’ বলে অভিহিত করে, যা সম্প্রসারণবাদী মানসিকতা প্রতিফলিত করে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে।

      আরএসএস-এর আদর্শ অনুযায়ী, এই সম্প্রসারণের ফলে সব অ-হিন্দুদের ‘ঘর ওয়াপসি’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত করা হবে, যা বহু বছর ধরে সক্রিয়। মোহন ভাগবতের মতে, ভারতের সব নাগরিক হিন্দু। বিজেপি ও আরএসএস প্রথম পর্যায়ে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া দখল করতে এবং পরে অ-হিন্দুদের জোরপূর্বক তাদের ধর্মে রূপান্তরিত করতে চায়।

      উল্লেখযোগ্য যে, সব ভারতীয় হিন্দু বিজেপি ও আরএসএস-এর আদর্শের সঙ্গে একমত নন। অনেক ভারতীয় হিন্দু মোদি ও মোহন ভাগবতের আদর্শের বিরোধিতা করেন। এই নিবন্ধটি মোদির ভণ্ডামি উন্মোচনের চেষ্টা মাত্র। তিনি প্রায়ই কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করেন। বাস্তবতা হলো, কাশ্মীরের স্বাধীনতা আন্দোলন পাকিস্তান সৃষ্টির অনেক আগে শুরু হয়েছিল। ভারতে আরও কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে কিছু ১৯৪৭ সালের আগেই শুরু হয়েছিল। নাগাল্যান্ড মুক্তি আন্দোলন একটি উদাহরণ।

      ভারতের আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতায় জড়িত থাকার প্রমাণ বাড়ছে। রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (RAW) ‘বঙ্গভূমি’ নামে একটি বাংলা হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা করছে, যা বাংলাদেশকে বিভক্ত করার উদ্দেশ্যে।  ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে দ্য গার্ডিয়ান এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটন পোস্ট পাকিস্তানে ভারতের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের প্রমাণ প্রকাশ করে।  গবেষক অবিনাশ পালিওয়াল তার ‘My Enemy's Enemy’ বইয়ে পাকিস্তানি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নথিভুক্ত করেছেন।

      মোদি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক, মে ২০২৫-এ পাকিস্তানে হামলা করার জন্য মিথ্যা বর্ণনা ব্যবহার করেন, যেখানে কেবল ইসরাইল তাকে সমর্থন করে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে জাতিসংঘে অখণ্ড ভারত পরিকল্পনার বিরুদ্ধে একযোগে প্রতিবাদ করা উচিত। ভারতীয়দের উচিত বিজেপি ও আরএসএস-এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, যারা তাদের জাতির পিতাকে হত্যা করেছে এবং এখন ভারতের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

      ----------------------------------------------------------

      এই নিবন্ধটি ২ জুন ২০২৫ তারিখে জিও নিউজ-এ প্রকাশিত হয়। এতে উল্লিখিত মতামত লেখকের নিজস্ব, যা যুগান্তর অনলাইনের অবস্থান নির্দেশ করে না।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        হজযাত্রীদের বাসে দখলদার ইসরায়েলের হামলা

        অনলাইন ডেস্ক
        ৩ জুন, ২০২৫ ১৭:৫৮
        অনলাইন ডেস্ক
        হজযাত্রীদের বাসে দখলদার ইসরায়েলের হামলা

        ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিমতীরের জেনিনে হজযাত্রী বহনকারী বাসে হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েলের সেনারা। গত শনিবার (৩১ মে) জেনিনের বিভিন্ন জায়গায় রেইড দেয় ইসরায়েলি সেনারা। ওই সময় তাদের একটি সামরিক যান হজযাত্রীদের বাসে হামলা চালায়।

        বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, জেনিন গভর্নরেট ভবনের সামনে বাসটিতে হামলা হয়। ওই বাসে থাকা হজযাত্রীরা কারাম সীমান্ত হয়ে পশ্চিমতীর থেকে জর্ডানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এরপর জর্ডান থেকে সৌদিতে পৌঁছাতেন। বাসে যারা ছিলেন তাদের বেশিরভাগই বৃদ্ধ মানুষ ছিলেন।

        ফিলিস্তিনি বার্তাসংস্থা ওয়াফা নিউজ জানিয়েছে, দখলদারদের সামরিক যানটি ইচ্ছাকৃতভাবে হজযাত্রীদের বাসে ধাক্কা দেয়।

        জেনিনের ডেপুটি গভর্নর মানসুর আল-সাদি ইসরায়েলি সেনাদের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “দখলদারদের যান ইচ্ছাকৃতভাবে এবং সরাসরি বাসটিতে ধাক্কা দিয়েছে। এটি গভর্নেন্ট ভবনের সামনে দাঁড়ানো ছিল। বাসের বেশিরভাগ যাত্রী ছিলেন বৃদ্ধ এবং অসুস্থ। তারা এ ঘটনায় আরও আতঙ্কিত ও ভীত হয়ে পড়েছেন।”

        দখলদার ইসরায়েল বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করায় পশ্চিমতীরের ফিলিস্তিনিরা জর্ডানের বিমানবন্দর ব্যবহার করে বিশ্বের অন্যান্য দেশে যান।

        ওইদিন জেনিনের সিলাত-আল-হারিথিয়া শহরে সামির জারাদাত নামে এক তরুণের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে আটক করে ইসরায়েলি সেনারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শহরটি ছাড়ার আগে দখলদারা বিস্ফোরক ডিভাইসে বিস্ফোরণ ঘটায়।

        পশ্চিমতীরের জেনিন, নাবলুসসহ অন্যান্য জায়গায় নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে দখলদাররা। বিশেষ করে ২০২৩ সালে হামাসের অপারেশন আল আকসা ফ্লাডের পর হামলার তীব্রতা বাড়ানো হয়েছে। গাজার পাশাপাশি পশ্চিমতীরেও ইসরায়েলি সেনার গণহারে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে।

        সূত্র: আনাদোলু

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত