শিরোনাম
পাকিস্তানি সাংবাদিক হামিদ মিরের নিবন্ধ
‘নরেন্দ্র মোদি ভারতের জন্য পাকিস্তানের চেয়েও বড় হুমকি’
ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ভারতের বিমানবাহিনী ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তিন সপ্তাহ ধরে ক্ষয়ক্ষতির কথা অস্বীকার করার পর এই স্বীকারোক্তি ভারতের রাষ্ট্রীয় বর্ণনার ভ্রান্ততা প্রকাশ করে।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাসবাদে লিপ্ত এবং নিজেদের নীতিগুলি আড়াল করতে মিথ্যা বর্ণনা তৈরি করে। মে ২০২৫-এ ‘অপারেশন সিঁদুর’ ব্যর্থতা ভারতের মিথ্যা ও ভণ্ডামি উন্মোচনের সুযোগ করে দেয়।
মোদি কেবল একজন ব্যক্তি নন; তিনি ভারতের শাসক দলের মানসিকতার প্রতীক। এই উগ্রবাদী আদর্শ মহাত্মা গান্ধীর হত্যার পথ প্রশস্ত করেছিল। পরবর্তীতে, এর প্রবক্তারা কোনো দায় স্বীকার করেনি।
মহাত্মা গান্ধী, যিনি ভারতের ‘জাতির পিতা" হিসেবে পরিচিত, ১৯৪৮ সালের জানুয়ারিতে হিন্দু উগ্রবাদী নথুরাম গডসের হাতে নিহত হন। গডসে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সদস্য ছিলেন, যা বর্তমানে বিজেপির রাজনৈতিক শাখা হিসেবে কাজ করে। গডসে দাবি করেছিলেন যে তিনি আরএসএস ছেড়ে দিয়েছেন, কিন্তু একটি সাম্প্রতিক বিবিসি তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে তিনি কখনোই সংগঠনটি ছাড়েননি।
বহু বিজেপি নেতা গডসেকে ‘দেশপ্রেমিক’ ও ‘মাটির সন্তান’ বলে প্রশংসা করেন। এটি এমন নেতাদের সম্পর্কে কী বলে যারা তাদের ‘বাপু’-এর হত্যাকারীকে প্রশংসা করেন?
আরএসএস ও বিজেপি কেবল ভারতের জন্য নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া ও আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ।
আরএসএস বহুবার সহিংসতা ও ঘৃণার কারণে নিষিদ্ধ হয়েছে। ১৯৪৭ সালের জানুয়ারিতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বোমা হামলার কারণে এটি প্রথম নিষিদ্ধ হয়। ১৯৪৮ সালে গান্ধী হত্যার পর, ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধীর সময় এবং ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর এটি পুনরায় নিষিদ্ধ হয়।
আরএসএস ভারতের জাতীয় প্রতীকসমূহ প্রত্যাখ্যান করে। আরএসএস-এর দ্বিতীয় প্রধান এম.এস. গোলওয়ালকর তার বই ‘বাঞ্চ অব থটস’-এ ত্রিবর্ণ পতাকা গ্রহণের বিরোধিতা করেন এবং পরিবর্তে গেরুয়া পতাকার পক্ষে মত দেন। সংগঠনটি ভারতের সংবিধানও প্রত্যাখ্যান করে।
মোদি প্রায়ই পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করেন, কিন্তু তার আরএসএস-এর সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপক প্রমাণ রয়েছে। পশ্চিমা মিডিয়া তাকে ‘গুজরাটের কসাই’ নামে অভিহিত করেছে, কারণ তিনি ২০০২ সালে গুজরাটে মুসলমানদের গণহত্যার সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
সাবেক আরএসএস কর্মী যশবন্ত শিন্ডে ২০২২ সালে স্বীকার করেন যে তিনি পাকিস্তান ও ভারতে মুসলমানদের দোষারোপ করার জন্য সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন। বর্তমান আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, যিনি প্রধানমন্ত্রীীয় প্রটোকল উপভোগ করেন, দাবি করেন যে ভারতের সব নাগরিক হিন্দু এবং নিয়মিত খ্রিস্টান ও মুসলমানদের আক্রমণ করেন। তিনি একবার অভিযোগ করেন যে মাদার তেরেসার দাতব্য কাজের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল দরিদ্রদের খ্রিস্টধর্মে রূপান্তরিত করা। এই ধরনের বক্তব্য হিন্দু উগ্রবাদীদের বিভিন্ন অংশে খ্রিস্টানদের আক্রমণে উৎসাহিত করেছে।
হিন্দু উগ্রবাদ ভারতের সব প্রতিষ্ঠানে, এমনকি সেনাবাহিনীতেও প্রবেশ করেছে। ২০২৫ সালের ৩০ মে, সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় বিতর্কিত ধর্মীয় নেতা জগদগুরু রামভদ্রাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জগদগুরু পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের বলে দাবি করেন, যা সেনাপ্রধান মেনে নেন বলে জানা যায়। এই ধর্মীয় উগ্রবাদী বাবরি মসজিদ ধ্বংস ও নিম্নবর্ণের হিন্দুদের উপর আক্রমণ সমর্থন করেন।
অখণ্ড ভারতের হুমকি
এই ত্রয়ী - একজন ‘কসাই’ প্রধানমন্ত্রী, একজন উগ্রবাদী আরএসএস প্রধান এবং একজন অনুগত সেনাপ্রধান - কেবল ভারতের সংখ্যালঘুদের জন্য নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জন্য হুমকি। বিজেপি ও আরএসএস ‘অখণ্ড ভারত’ ধারণা প্রচার করে, যা আফগানিস্তান থেকে থাইল্যান্ড এবং মিয়ানমার থেকে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত বিস্তৃত।
বিজেপি সরকার সংসদে একটি অখণ্ড ভারত মানচিত্র প্রদর্শন করে, যা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। সিএনএন এটিকে ‘নব্য-সাম্রাজ্যবাদী ধারণা’ বলে অভিহিত করে, যা সম্প্রসারণবাদী মানসিকতা প্রতিফলিত করে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে।
আরএসএস-এর আদর্শ অনুযায়ী, এই সম্প্রসারণের ফলে সব অ-হিন্দুদের ‘ঘর ওয়াপসি’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত করা হবে, যা বহু বছর ধরে সক্রিয়। মোহন ভাগবতের মতে, ভারতের সব নাগরিক হিন্দু। বিজেপি ও আরএসএস প্রথম পর্যায়ে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া দখল করতে এবং পরে অ-হিন্দুদের জোরপূর্বক তাদের ধর্মে রূপান্তরিত করতে চায়।
উল্লেখযোগ্য যে, সব ভারতীয় হিন্দু বিজেপি ও আরএসএস-এর আদর্শের সঙ্গে একমত নন। অনেক ভারতীয় হিন্দু মোদি ও মোহন ভাগবতের আদর্শের বিরোধিতা করেন। এই নিবন্ধটি মোদির ভণ্ডামি উন্মোচনের চেষ্টা মাত্র। তিনি প্রায়ই কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করেন। বাস্তবতা হলো, কাশ্মীরের স্বাধীনতা আন্দোলন পাকিস্তান সৃষ্টির অনেক আগে শুরু হয়েছিল। ভারতে আরও কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে কিছু ১৯৪৭ সালের আগেই শুরু হয়েছিল। নাগাল্যান্ড মুক্তি আন্দোলন একটি উদাহরণ।
ভারতের আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতায় জড়িত থাকার প্রমাণ বাড়ছে। রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (RAW) ‘বঙ্গভূমি’ নামে একটি বাংলা হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা করছে, যা বাংলাদেশকে বিভক্ত করার উদ্দেশ্যে। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে দ্য গার্ডিয়ান এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটন পোস্ট পাকিস্তানে ভারতের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের প্রমাণ প্রকাশ করে। গবেষক অবিনাশ পালিওয়াল তার ‘My Enemy's Enemy’ বইয়ে পাকিস্তানি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নথিভুক্ত করেছেন।
মোদি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক, মে ২০২৫-এ পাকিস্তানে হামলা করার জন্য মিথ্যা বর্ণনা ব্যবহার করেন, যেখানে কেবল ইসরাইল তাকে সমর্থন করে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে জাতিসংঘে অখণ্ড ভারত পরিকল্পনার বিরুদ্ধে একযোগে প্রতিবাদ করা উচিত। ভারতীয়দের উচিত বিজেপি ও আরএসএস-এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, যারা তাদের জাতির পিতাকে হত্যা করেছে এবং এখন ভারতের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
----------------------------------------------------------
এই নিবন্ধটি ২ জুন ২০২৫ তারিখে জিও নিউজ-এ প্রকাশিত হয়। এতে উল্লিখিত মতামত লেখকের নিজস্ব, যা যুগান্তর অনলাইনের অবস্থান নির্দেশ করে না।
হজযাত্রীদের বাসে দখলদার ইসরায়েলের হামলা
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিমতীরের জেনিনে হজযাত্রী বহনকারী বাসে হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েলের সেনারা। গত শনিবার (৩১ মে) জেনিনের বিভিন্ন জায়গায় রেইড দেয় ইসরায়েলি সেনারা। ওই সময় তাদের একটি সামরিক যান হজযাত্রীদের বাসে হামলা চালায়।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, জেনিন গভর্নরেট ভবনের সামনে বাসটিতে হামলা হয়। ওই বাসে থাকা হজযাত্রীরা কারাম সীমান্ত হয়ে পশ্চিমতীর থেকে জর্ডানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এরপর জর্ডান থেকে সৌদিতে পৌঁছাতেন। বাসে যারা ছিলেন তাদের বেশিরভাগই বৃদ্ধ মানুষ ছিলেন।
ফিলিস্তিনি বার্তাসংস্থা ওয়াফা নিউজ জানিয়েছে, দখলদারদের সামরিক যানটি ইচ্ছাকৃতভাবে হজযাত্রীদের বাসে ধাক্কা দেয়।
জেনিনের ডেপুটি গভর্নর মানসুর আল-সাদি ইসরায়েলি সেনাদের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “দখলদারদের যান ইচ্ছাকৃতভাবে এবং সরাসরি বাসটিতে ধাক্কা দিয়েছে। এটি গভর্নেন্ট ভবনের সামনে দাঁড়ানো ছিল। বাসের বেশিরভাগ যাত্রী ছিলেন বৃদ্ধ এবং অসুস্থ। তারা এ ঘটনায় আরও আতঙ্কিত ও ভীত হয়ে পড়েছেন।”
দখলদার ইসরায়েল বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করায় পশ্চিমতীরের ফিলিস্তিনিরা জর্ডানের বিমানবন্দর ব্যবহার করে বিশ্বের অন্যান্য দেশে যান।
ওইদিন জেনিনের সিলাত-আল-হারিথিয়া শহরে সামির জারাদাত নামে এক তরুণের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে আটক করে ইসরায়েলি সেনারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শহরটি ছাড়ার আগে দখলদারা বিস্ফোরক ডিভাইসে বিস্ফোরণ ঘটায়।
পশ্চিমতীরের জেনিন, নাবলুসসহ অন্যান্য জায়গায় নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে দখলদাররা। বিশেষ করে ২০২৩ সালে হামাসের অপারেশন আল আকসা ফ্লাডের পর হামলার তীব্রতা বাড়ানো হয়েছে। গাজার পাশাপাশি পশ্চিমতীরেও ইসরায়েলি সেনার গণহারে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু
পৃথিবীতে কীভাবে ‘ফিল্ড মার্শাল’ পদটি এল? কারা পেয়েছেন এই পদটি
ফিল্ড মার্শাল পদটি মূলত পাঁচ তারকাবিশিষ্ট সর্বোচ্চ সামরিক পদ। পুরোনো জার্মান ভাষায় এর অর্থ রাজার ঘোড়ার তত্ত্বাবধায়ক বা অধিনায়ক। এই পদের ইতিহাস প্রায় ৮৪০ বছরের পুরোনো। ১১৮৫ সালে ফ্রান্সের রাজা ফিলিপ অগাস্তাস জেনারেল আলবারিক ক্লেমেন্টকে বিশ্বের প্রথম ফিল্ড মার্শাল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
জেনারেল ক্লেমেন্ট তৃতীয় ক্রুসেডে (জেরুজালেম দখলের যুদ্ধ) রাজা ফিলিপের সঙ্গে ছিলেন। তিনি ১১৯১ সালে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হন। এরপর বিভিন্ন দেশে শত শত ফিল্ড মার্শাল নিযুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাজ্যে ১৪১ জন এবং রুশ সাম্রাজ্যে ৬৪ জন ফিল্ড মার্শাল নিয়োগ পেয়েছিলেন।
ভারতের প্রথম ফিল্ড মার্শাল ছিলেন জেনারেল স্যাম মানেকশ। তিনি ১৯৭৩ সালে এই পদে উন্নীত হন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তাঁর নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। পরে এ যুদ্ধে পাকিস্তান পরাজিত হয়।
দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস, ভারতে মৃত্যু ৭ জনের
দক্ষিণ এশিয়ায় ফের আঘাত হেনেছে করোনা ভাইরাস। ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুতি। মরণঘাতী এ ভাইরাসে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এ পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে দ্রুত। এখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ৩ হাজার মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণের রাজ্য কেরালায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এরপরই রয়েছে মহারাষ্ট্র ও দিল্লি।
দেশটির সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত চার দিনের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। খবর পিটিআই’র।
শনিবার এনডিটিভি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৬ মে পর্যন্ত ভারতে মোট ১,০১০ জন আক্রান্ত হওয়ার রেকর্ড করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৩০ মে পর্যন্ত মোট এ সংখ্যা ২,৭১০ জনে দাঁড়িয়েছে।
তথ্য অনুসারে, কেরালায় ১,১৪৭ জন, মহারাষ্ট্রে ৪২৪, দিল্লিতে ২৯৪ এবং গুজরাটে ২২৩ জনের আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। তামিলনাড়ুতে এখন পর্যন্ত মোট ১৪৮ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময়ে কর্ণাটক ও পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ১৪৮ ও ১১৬।
এছাড়া রাজস্থানে ৫১ জন, উত্তর প্রদেশে ৪২ জন, পন্ডিচেরিতে ২৫ জনসহ হরিয়ানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গোয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। উড়িষ্যা, পাঞ্জাব ও জম্মু কাশ্মীরেও করোনায় আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।
তবে আন্দামান ও নিকোবর, সিকিম, হিমাচল প্রদেশে এখনো আক্রান্তের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারতজুড়ে কমপক্ষে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রে (১) এবং দিল্লিতে (১) মৃত দু’জনের কোভিডের পাশাপাশি অন্যান্য গুরুতর অসুস্থতাও ছিল। তবে অন্যদের মৃত্যু করোনা সংক্রমণের কারণে হয়েছে কি-না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাঞ্জাবের একজন ছাড়া মৃতদের সবাই বয়স্ক নাগরিক।
কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের ঘটনাগুলো হালকা প্রকৃতির এবং এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
তবে এ সপ্তাহের শুরুতে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর) মহাপরিচালক ডা. রাজীব বাহল এ বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯-এর এই নতুন রূপটি নিয়ে জনসাধারণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের কেবল সতর্ক থাকতে হবে। সরকার ও সমস্ত সংস্থা- কী ঘটছে তা পর্যবেক্ষণ করছে। আমার মতে, প্রাথমিক সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। আমরা এখনই বর্ধিত সতর্কতার কথা বলছি না। তবে যদি কেউ ক্যান্সার রোগী হন বা তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যা থাকে, তাহলে আমরা সাধারণত তাদের কোনো সংক্রমণ এড়াতে পরামর্শ দিই। সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।’
দুর্নীতি দমন দপ্তরের অভিযান
ভয়ে জানালা দিয়ে বস্তাভর্তি টাকা উড়িয়ে দিলেন সরকারি কর্মকর্তা
ভারতের ওড়িশার ভুবনেশ্বরে দুর্নীতি দমন দপ্তরের অভিযানে রাজ্য সরকারের পল্লী উন্নয়ন দপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার বৈকুন্ঠ নাথ শরণগীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। একসাথে সাতটি স্থানে অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা নগদ উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা।
ভুবনেশ্বর, আনুগুল ও পিপিলির বিভিন্ন ফ্ল্যাট ও বাড়িতে এই তল্লাশি চালানো হয়। তার মধ্যে শুধু আনুগুলের বাড়ি থেকেই পাওয়া গেছে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা, আর ভুবনেশ্বরের একটি ফ্ল্যাট থেকে পাওয়া গেছে আরও ১ কোটি টাকা।
অভিযানের সময় সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনা ঘটে ভুবনেশ্বরের ফ্ল্যাটে। দুর্নীতি দমন কর্মকর্তারা দরজায় পৌঁছানোর আগেই বৈকুন্ঠ নাথ শরণগী জানালা দিয়ে বান্ডিল বান্ডিল টাকা বাইরে ছুঁড়ে ফেলেন। পরে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের উপস্থিতিতে এসব টাকা জব্দ করা হয়।
তার বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এই তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ২৬ জন কর্মকর্তা, যাদের মধ্যে ছিলেন আটজন ডিএসপি, ১২ জন ইন্সপেক্টর ও ৬ জন এএসআই।
দলটি এখনো জব্দকৃত টাকার হিসাব গুনে চলেছে। নগদ অর্থ ছাড়াও কিছু জমি-সম্পত্তি, ফ্ল্যাট, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ওড়িশায় সরকারি স্তরে দুর্নীতির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এনডিটিভি
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য