শিরোনাম
জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন প্রয়োজন : ভারত
জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে দ্রততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছে ভারত। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে কয়েক দিন আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘নয়াদিল্লি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে’ বলে যে অভিযোগ করেছিলেন তা নাকচ করেছেন জয়সওয়াল। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘‘বাংলাদেশের এসব অভিযোগ প্রকৃত সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা মাত্র।’’
তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সরকার যেহেতু উদ্বিগ্ন, সেক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও শাসনব্যবস্থার পূর্ণ দায়ভার তাদের সরকারের ওপরই বর্তায়।’’
‘‘এমন পরিস্থিতিতে যদি কেউ বলেন, বাইরের কোনও শক্তি বা অন্য কেউ এই অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী, তখন এটা মনে হয় যে, আসল সমস্যাগুলো থেকে মনোযোগ সরিয়ে অন্যদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে। এই ধরনের বক্তব্য সমস্যার সমাধান করে না, বরং দায় এড়ানোর কৌশল বলেই মনে হয়।’’
গত রোববার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছিলেন, ‘‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের কারণে দেশ বড় সংকটের মধ্যে রয়েছে। এ জন্য পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার বলে প্রধান উপদেষ্টা মনে করছেন।’’
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এমন মন্তব্যের কয়েক দিন পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছিলেন, ‘‘তিনি আলোচনা শুরু করেছেন এই কথা বলে যে আমরা অনেক বড় সংকটের মধ্যে আছি। এই সংকট বলতে উনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের ষড়যন্ত্রের কথা বলেছেন। ভারতীয় আধিপত্যবাদ আমাদের এই পরিবর্তনকে একেবারেই স্বীকার করতে চায় না। পারলে আমাদের এক দিনে ধ্বংস করে দিতে চায় এবং সেই জন্য যা যা করবার দরকার, সব তারা করছে। এই ছিল তার কথা।’’
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন; যাতে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও ম্যান্ডেট নিশ্চিত হয়।’’
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ইসরায়েলকে স্বীকৃতিতে প্রস্তুত সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ , কিন্তু শর্ত…
বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত, তবে তার শর্ত একটাই—ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে ইসরায়েলকে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। বুধবার (২৮ মে) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল তাদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রাবোও সুবিয়ান্তো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাই একমাত্র পথ। এটি সত্যিকারের শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায়। আমাদের ইসরায়েলের অধিকারকে স্বীকার করতে হবে। ইসরায়েল একটি সার্বভৌম দেশ এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যদি ইসরায়েল ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তবে ইন্দোনেশিয়া ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে।
ইন্দোনেশিয়া সফররত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর পাশে দাঁড়িয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, ফ্রান্সের ভূমিকাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ফ্রান্সও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা এবং শান্তির সমর্থনে পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহী থাকবে।
বর্তমানে, ইন্দোনেশিয়ার ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং দেশটি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর এই অবস্থান ইন্দোনেশিয়ার আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে।
আরও পড়ুন
প্রসঙ্গত, ইন্দোনেশিয়া আগেও ফিলিস্তিনের প্রতি তার সমর্থন জানিয়ে এসেছে এবং এই পরিস্থিতিতে, তাদের শর্ত পুরণ হলে তারা ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।
ইন্দোনেশিয়ার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা স্বীকৃতির পক্ষে বিশ্বব্যাপী সমর্থন বাড়ছে। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন এবং আরও কিছু ইউরোপীয় দেশ রয়েছে।
এছাড়া, মাল্টা সম্প্রতি ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী রবার্ট আবেলার মতে, গাজায় চলমান মানবিক ট্র্যাজেডির জন্য এই পদক্ষেপটি নৈতিক বাধ্যবাধকতা ছিল।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও গত মাসে ঘোষণা করেছেন যে, তারা ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত এবং জুন মাসে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে। মাখোঁর মতে, ফ্রান্স এবং সৌদি আরব একযোগে একটি সম্মেলন আয়োজন করবে, যেখানে ফিলিস্তিনের সমস্যার সমাধানে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে।
২০১৪ সালে, সুইডেন প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ হিসেবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। এরপর বুলগেরিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড এবং রোমানিয়া এই পদক্ষেপ নেয়। এর আগে গত বছর, স্পেন, আয়ারল্যান্ড এবং নরওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়।
বিশ্বে চলমান এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বব্যাপী চাপ বাড়ছে।
এখন, বিশ্বের অনেক দেশই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছে, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য তাদের শর্ত হলো ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা। এর মাধ্যমে, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির পক্ষে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বিশ্ব।
জাপান দূতাবাসের ফেসবুক পেজে বাংলা কবিতা পোস্ট
ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে বুধবার সকালে চার লাইনের একটি বাংলা কবিতা পোস্ট করা হয়। পোস্টটি প্রকাশ হতেই দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করতে থাকেন। তবে দুপুরের দিকে এক পোস্টে দূতাবাস জানিয়েছে, তাদের পেজটি সকালে হ্যাক হয়েছিল।
দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বুধবার সকালে পাবলিশ করা ওই পোস্টে লেখা হয়— “এখন শাহবাগ, মানিকমিয়া এভিনিয়্যু সব চুপ... বেশ্যাকে তবু বিশ্বাস করা চলে রাজনীতিকের ধমনি শিরায় সুবিধাবাদের পাপ বেশ্যাকে তবু বিশ্বাস করা চলে বুদ্ধিজীবীর রক্তে স্নায়ুতে সচেতন অপরাধ... -রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ”
পোস্টটি প্রকাশ হতেই এ নিয়ে তৈরি হয় আলোচনা। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি অনেকে শেয়ার করেন। আবার অনেকে হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করেন পোস্টের নিচে। কেউ কেউ লেখেন- ‘এডমিন আইডি লগ আউট করতে ভুলে গেছে’।
আরেকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘জাপান দূতাবাস বাংলায় পোস্ট করা শুরু করছে’। অন্য আরেকজন লেখেন- ‘এডমিন শাহবাগী না লীগার?’
কিছু সময় পর দূতাবাসের পেজ থেকে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। পরে আরেক পোস্টে দূতাবাস জানায়, ফেসবুক পেজটি সকালে হ্যাক হয়েছিল। তবে এরই মধ্যে পোস্টের একটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
নতুন পোস্টে বলা হয়েছে- “সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আমাদের দূতাবাসের ফেসবুক পেজটি সকালে হ্যাক হয়েছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে সমস্যাটি সমাধান করেছি। আমাদের সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ!”
যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে রাজি হলে বিনামূল্যে গোল্ডেন ডোম পাবে কানাডা : ট্রাম্প
প্রতিবেশী রাষ্ট্র কানাডাকে এবার গোল্ডেন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সিস্টেমের লোভ দেখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ৫১ তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যোগ দিলে এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সিস্টেম বিনামূল্যে প্রদান করা হবে কানাডাকে।
‘আকর্ষনীয়’ এই প্রস্তাব যদি ফিরিয়ে দেয় অটোয়া, তবুও কানাডাকে এই প্রতিরক্ষা সিস্টেমের অংশ হতে পারবে ; তবে সে জন্য দেশটিকে ব্যয় করতে হবে ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যশ ট্রুথ সোশ্যালে বুধবার পোস্ট করা এক বার্তায় কানাডাকে এই প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে ট্রাম্প গোল্ডেন ডোম নামে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সিস্টেম উদ্বোধন করেন। এই সিস্টেমটি সর্বাধুনিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের বাইরেও বিশাল অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিষেবা দিতে সক্ষম। প্রতিবেশী দেশগুলো চাইলে অর্থের বিনিময়ে এই প্রতিরক্ষা সিস্টেমের পরিষেবা নিতে পারবে।
কানাডা এই পরিষেবা গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে— উল্লেখ করে ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “গোল্ডেন ডোম একটি অসাধারণ সিস্টেম এবং কানাডা এই সিস্টেমের অংশ হওয়ার জন্য খুবই আগ্রহী। আমি কানাডাকে বলেছি যে যদি তারা এই পরিষেবা পেতে চায়, তাহলে অটোয়াকে ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার গুনতে হবে।”
“তবে কানাডা যদি ৫১ তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যোগ দেয়, সেক্ষেত্রে আমরা একটা পয়সাও নেবো না। তারা এই প্রস্তাব বিবেচনা করছে।”
ট্রাম্পের এই দাবি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে কানাডার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এএফপি, কিন্তু তারা কেউই তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কয়েক দিন পর ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে কানাডাকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে দেখতে চান। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি মানচিত্রের ইমেজও পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেই ইমেজে যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রের অন্তর্ভুক্ত ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে কানাডাকে।
পরে এক সংবা ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যে পরিণত করতে অর্থনৈতিক শক্তি প্রয়োগ করবেন তিনি।
তবে কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ট্রাম্পের এই প্রস্তাব এবং হুমকিকে সরাসরি খারিজ করে দিয়ে বলেছিলেন, “কানাডা কোনো দিনও যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হবে না।”
উত্তর আমেরিকা মহাদেশভুক্ত দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা উভয়ই নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড) নামের একটি নিরাপত্তাচুক্তিতে আবদ্ধ। এই চুক্তির শর্ত অনুসারে, অন্য কোনো দেশ এই দুই রাষ্ট্রের কোনোটিতে হামলা চালালে অপর রাষ্ট্র শর্তহীনভাবে আক্রান্ত রাষ্ট্রের পাশে থাকবে।
তবে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক অনেকটাই বদলে গেছে। বর্তমানে সেই চুক্তি কানাডার উদ্বেগের কারণ।
সূত্র : এএফপি
চীনের অবিবাহিতরা বাংলাদেশি মেয়েদের বিয়ে করার পেছনে রয়েছে ভয়াবহ গল্প
বাংলাদেশে অবস্থিত চীনের দূতাবাস গত রোববার (২৫ মে) বাংলাদেশি নারীদের বিয়ে না করতে চীনা নাগরিকদের আহ্বান জানায়। তারা সতর্কতা দেয় এমনটি করলে তারা প্রতারণার শিকার হতে পারেন। এই বিয়েকে চীনা দূতাবাস ‘বিদেশি বউ কেনা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বিষয়টি প্রথমে যে কেউ হাস্যরস হিসেবে নেবেন। তবে এর পেছনে লুকিয়ে আছে ভয়াবহ গল্প।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে মঙ্গলবার (২৭ মে) এক প্রতিবেদনে জানিয়ছে, চীনের অবিবাহিত পুরুষরা বাংলাদেশিদের পাশাপাশি মিয়ানমার, নেপালসহ আরও কয়েকটি দেশের নারীদের বিয়ে করছে। বিশেষ করে চীনের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের অবিবাহিত পুরুষরা এটি করছে। এর কারণ পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা কম।
১৯৮০ সালের দিকে চীনে যখন ভ্রুণ হত্যা চূড়ান্তমাত্রায় পৌঁছেছিল তখন মেয়েদের ভ্রুণ নষ্ট করে ফেলা হতো। এতে করে গ্রামীন এলাকাগুলোতে মেয়েদের তুলনায় পুরুষের সংখ্যা বেড়ে যায়। ওই সময় যারা জন্ম নিয়েছিল তারা এখন বিয়ের পরিপূর্ণ উপযোগী হয়ে ওঠেছে। কিন্তু মেয়ের সংখ্যা কম থাকায় তাদের অনেকে বিয়ে করতে পারছে না। আর এই সংকট দূর করতে বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে ‘বউ কিনছে’ তারা।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সাল থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত চীনের ৫ কোটি মানুষ কখনো হয়ত বিয়ে করবে না। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে চীনে এখন মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর দাবি ওঠেছে। যেন বিবাহযোগ্যদের সংখ্যা বাড়ানো যায়।
লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মিং গাও বলেছেন, “প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এসব অঞ্চলে বিয়ের চাহিদা বাড়ায় অবৈধ বিয়ের সংখ্যা বেড়ে গেছে। যারমধ্যে রয়েছে চীনের প্রতিবেশী দেশগুলো— বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে শিশু ও মেয়েদের পাচার করে নিয়ে এসে বিয়ে করা।”
এরমধ্যে বাংলাদেশ ও নেপাল এই পাচারকারীদের অন্যতম মূল আখড়ায় পরিণত হয়েছে। পাচারকারীরা এ দুটি দেশের তরুণীদের টার্গেট করছে। বাংলাদেশের অনেক মেয়ে দারিদ্রতা ও গ্রামাঞ্চলে বাস করায় পাচারকারীরা সুযোগ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
চীনে লিঙ্গ সমতার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে ২০০০ সালের শুরুর দিকে প্রতি ১২১ ছেলে শিশুর বদলে ১০০ মেয়ে শিশুর জন্ম হয়েছে।
যেহেতু পুরুষের সংখ্যায় মেয়ে কম তাই এ বিষয়টিকে দালালরা সুযোগ হিসেবে নিয়েছে। তারা বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশগুলোর প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের চীনে ভালো কাজ ও উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু চীনে গিয়ে তারা বাস্তবতা টের পায়। সেখানে পৌঁছানো মাত্র তাদের কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
এই নারীদের চীনের অনেক অবিবাহিতের কাছে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলারেও বিক্রি করা হয়। মূল্যটি নির্ধারণ করা হয় মেয়েদের বয়স ও সৌন্দর্য্যের বিষয়টি বিবেচনা করে।
তবে এই বিক্রির প্রক্রিয়াকে ‘বিয়ে’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব বিয়েতে মেয়েদের সম্মতি থাকে না। যখন পাচার করা নারীকে পাচারকারীরা ‘বিক্রি’ করে দিতে সমর্থ হয় তখন তাদের চীনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জোরপূর্বক বিয়ে দিয়ে আটকে রাখা হয়। এমনকি দ্রুত সময়ে সন্তান নিতেও তাদের চাপ দেওয়া হয়।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ২০১৯ সালে জানিয়েছিল, মিয়ানমারের নারীরা এসব পাচারের শিকার হচ্ছেন। তবে এখন দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ ও নেপালেও পৌঁছে গেছে এই পাচারকারীদের সিন্ডিকেট।
তারা মেয়েদের চীনে পাচার করে নিয়ে যাওয়ার পর প্রত্যন্ত অঞ্চলের চীনা কৃষক ও শ্রমিকদের কমমূল্যে ‘ভিনদেশি বউ’ পাওয়ার লোভ দেখায়। ফলে তারা অর্থ খরচ করে বিয়ে করেন। কেউ যদি এইসব থেকে বাঁচতে চায় তখন অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে চীনা কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হয়ে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হয়।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য