ঢাকা, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

১০ কোটিতে মাল্টার পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা করেন টিউলিপের চাচী

নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ১৫:৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ কোটিতে মাল্টার পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা করেন টিউলিপের চাচী

ডেস্ক রিপোর্ট: ২০১৫ সালে প্রায় ১০ কোটি টাকা খরচ করে ইউরোপের দেশ মাল্টার পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন টিউলিপ সিদ্দিকের চাচী শাহীন সিদ্দিক এবং তার চাচাত বোন বুশরা সিদ্দিক। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়ায় দেশটি তাদের পাসপোর্ট দেয়নি। শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালে নিজের একার জন্য মাল্টার পাসপোর্টের আবেদন করেছিলেন শাহীন সিদ্দিক। ওই সময় বিনিয়োগের মাধ্যমে মাল্টার পাসপোর্ট দেওয়ার কাজটি করত হ্যানলি অ্যান্ড পার্টনার্স। অভিবাসন সংশ্লিষ্ট এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে শাহীন সিদ্দিক প্রচ্ছায়া নামের একটি কোম্পানির নামে ঢাকার মূল্যবান সরকারি জমি কুক্ষিগত করা তথ্য পায়। আর শাহীন তার পাসপোর্টের উল্লেখ করে বলেছিলেন, তিনি কোম্পানিটির চেয়ারম্যান। আর এই কারণে তাকে পাসপোর্ট দেয়নি প্রতিষ্টানটি।

প্রথমবার প্রচ্ছায়ার কথা উল্লেখ করায় পাসপোর্ট না দেওয়ায় ২০১৫ সালে দ্বিতীয়বারের আবেদনে শাহীন সিদ্দিক দাবি করেন চট্টগ্রামের দ্য আর্ট প্রেস নামের একটি কোম্পানির পরিচালক তিনি। যেটি ১৯২৬ সালে তার বাবা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে এই কোম্পানি নিয়ে সন্তষ্ট না হওয়ায় তাকে ও তার মেয়েকে ওই সময় আর পাসপোর্ট দেওয়া হয়নি।

শাহীন ও তার মেয়ে বুশরা ২০১৫ সালে পাসপোর্ট পেতে যথাক্রমে ৬ লাখ ৫০ হাজার ও ২৫ হাজার পাউন্ড লাগত। এরসঙ্গে ফি হিসেবে আরও ৭০ হাজার পাউন্ড নিত হেনলি। আবেদনের অংশ হিসেবে শাহীন কুয়ালামপুরের একটি ব্যাংকে ২৭ লাখ ৬০ হাজার ৪০৯ ডলার দেখিয়েছিলেন। ১১ বারে এই অর্থ তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল। তবে এসব অর্থের উৎস কী ছিল সেটি স্পষ্ট নয়।

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিকী ও তার স্ত্রী শাহীন সিদ্দিকীর মেয়ে ওই সময় স্টুডেন্ট ভিসায় লন্ডনে পড়াশোনা করছিলেন। তিনি তার ঠিকানা দিয়েছিলেন গ্র্যান্ড গোথিক ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট। যেটি টিউলিপের লন্ডনের কিংস ক্রস ফ্লাটের খুব কাছে অবস্থিত। এই ফ্লাটটি ২০০৪ সালে টিউলিপকে উপহার দিয়েছিলেন ব্রিটিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী। তিনি কেন টিউলিপকে এত দামী ফ্ল্যাট উপহার দিয়েছিলেন সেটি নিয়ে ধোয়াশা রয়েছে।

বুশরা লন্ডনে পড়াশোনা শেষে জেপি মর্গান ব্যাংকে কয়েকদিন চাকরি করেন। এরপর চাকরি ছেড়ে দেন। ২০১৮ সালে উত্তর লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিনে ১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ইউরোতে পাঁচ বেডরুমের একটি ফ্ল্যাট কেনেন তিনি। এই অর্থও তাকে তার বাবা-মা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনার পতনের পর গত অক্টোবরে তারিক জামিল সিদ্দিক ও তার স্ত্রী শাহীন সিদ্দিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টার‌ন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে যে আইন আছে তা অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি বছরে ১২ হাজার ডলারের বেশি বিদেশে নিতে পারবেন না।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ‘অবিভক্ত ভারত’ সেমিনারে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে দিল্লির আমন্ত্রণ

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ১৪:৩২
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ‘অবিভক্ত ভারত’ সেমিনারে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে দিল্লির আমন্ত্রণ

    ডেস্ক রিপোর্ট: ভারতের আবহাওয়া বিভাগের (আইএমডি) ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘অবিভক্ত ভারত’ শীর্ষক একটি সেমিনারে পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দিল্লি আয়োজিত এই সেমিনার উপমহাদেশের ইতিহাস ও যৌথ উত্তরাধিকার উদযাপনকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হচ্ছে।

    আবহাওয়া বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, 'বিভেদ ভুলে উপমহাদেশের ঐতিহাসিক সংহতি এবং একসাথে কাজ করার উদাহরণ তুলে ধরতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।' তবে সেমিনারের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই সেমিনারে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, মালদ্বীপ এবং আফগানিস্তানসহ উপমহাদেশের অন্যান্য দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়াও, মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদেরও সেমিনারে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, পাকিস্তান ইতোমধ্যেই সেমিনারে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। তবে বাংলাদেশ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, যদি ঢাকা এই সেমিনারে অংশ নেয়, তবে এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হবে।

    ভারতের আবহাওয়া বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭৫ সালে, যখন উপমহাদেশ ছিল অবিভক্ত। ১৮৬৪ সালের কলকাতার ঘূর্ণিঝড় এবং ১৮৬৬ ও ১৮৭১ সালের দুটি ভয়াবহ বন্যার পর বাংলায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এই দুর্যোগ মোকাবিলা এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আইএমডি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার সময় টেলিগ্রাফের মাধ্যমে সারা উপমহাদেশে আবহাওয়ার তথ্য ও সতর্কতা পৌঁছে দিত আইএমডি।

    আইএমডি’র একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা চাচ্ছি, প্রতিষ্ঠার সময় যারা অবিভক্ত ভারতের অংশ ছিল, তারা এই উদযাপনে যুক্ত হোক।' বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু যৌথ ইতিহাসের উদযাপন নয়, বরং অঞ্চলীয় সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রচেষ্টা।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      টিউলিপের বিকল্প ভাবছে লেবার পার্টি

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ১৪:১৬
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      টিউলিপের বিকল্প ভাবছে লেবার পার্টি

      ডেস্ক রিপোর্ট: মন্ত্রীত্ব হারাতে পারেন ফ্ল্যাটকাণ্ডে অভিযুক্ত যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির এমপি ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক। এরই মধ্যে টিউলিপের জায়গায় নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার চিন্তা করছে তার দল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

      টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, টিউলিপের বিকল্প বিবেচনা করছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারের জ্যেষ্ঠ মিত্ররা। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুর্নীতির সম্পৃক্ততা থাকার কারণে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলে টিউলিপের স্থলাভিষিক্ত প্রার্থী হিসেবে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবছেন তারা।

      সোমবার (৬ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর নীতিশাস্ত্র পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার কাছে নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তদন্তের দাবি জানানোর আগেই টিউলিপের বিকল্প প্রার্থীদের চিহ্নিত করেন কর্মকর্তারা। অবশ্য স্টারমার বলছেন, টিউলিপের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এছাড়া ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র টিউলিপের বিকল্প সম্ভাব্য ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির বিষয়টিকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে দাবি করেছেন।

      তবে টাইমস এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পেরেছে যে, স্টারমারের বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে টিউলিপের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের জন্য টিউলিপের বিকল্প হিসেবে যাদের বিবেচনা করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভসের দুই সহকারী। তারা হচ্ছেন, অ্যালিস্টার স্ট্রাথার্ন ও ইমোজেন ওয়াকার।

      বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক-অপরাধ বিভাগের কর্মকর্তারা এরইমধ্যে টিউলিপ ও তার পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নথি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার অর্থায়নে পরিচালিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টিও তদন্ত করছে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই অর্থ কেলেঙ্কারিতে টিউলিপের ভূমিকা কী ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        লস অ্যাঞ্জেলসের দাবানল নিয়ে বাইডেনকে দুষলেন ট্রাম্প

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ১৩:৫৪
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        লস অ্যাঞ্জেলসের দাবানল নিয়ে বাইডেনকে দুষলেন ট্রাম্প

        ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির লস অ্যাঞ্জেলসের দাবানল নিয়ে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক দলীয় গভর্নর গ্যাভিন নিউসমকে দোষারোপ করেছেন।

        মূলত এই দাবানল নিয়ে বাইডেন ও ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরের সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে পানি সংকটের জন্য ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনের প্রতি তীব্র ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন এই রিপাবলিকান নেতা। বৃহস্পতিআর (৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ।

        মূলত গত কয়েকদিন ধরে ইতিহাসের ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরটি। আলাদা ছয়টি দাবানলের মধ্যে অনেকগুলোই নিয়ন্ত্রণের পুরোপুরি বাইরে চলে গেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তীব্র বাতাস, শুষ্ক আবহাওয়া এবং পানির চাপ কম থাকায় আগুন নেভাতে হিমশিম খাচ্ছেন দমকল কর্মীরা।

        আগুনের তীব্রতা দেখে তা নিয়ন্ত্রণ করার বদলে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছেন ফায়ার ফাইটাররা। ফলে হতাহতের সংখ্যা বেশ কম হয়েছে।

        লস অ্যাঞ্জেলেসের ফায়ার সার্ভিসের প্রধান অ্যান্থনি ম্যারন বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আগুন নেভাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও ছয় অঙ্গরাজ্য থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ক্যালিফোর্নিয়ায় আনা হয়েছে।

        আগুন নেভানোর কাজে নতুন সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে পানি। প্যাসিফিক প্যালিসেইডস এলাকার কিছু আগুন নেভানোর জন্য পানি সরবরাহের হাইড্রেন্ট শুকিয়ে গেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের দুই লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়েছে।

        এর আগে স্থানীয় সময় গত বুধবার সন্ধ্যায় আগুন দেখা যায় চলচ্চিত্র জগতের তীর্থস্থান হলিউডেও। ভয়াবহ এই আগুনে হলিউডের বেশ কয়েকজন তারকার বাড়িও পুড়ে গেছে। বিখ্যাত হলিউড সাইনবোর্ডটির বেশ কাছাকাছি আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন লস অ্যাঞ্জেলেস মূল শহরের বাসিন্দারাও।

        এদিকে আগুনে ভস্মীভূত বাড়িঘরে লুটপাট করার খবর পাওয়া গেছে। এই চরম সংকটেও যারা লুটপাট করছে তাদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের পুলিশ কর্মকর্তা ক্যাথরিন বার্গারবলেন। লুটপাটের ঘটনায় এরই মধ্যে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

        অন্যদিকে আগুনে এ পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রায় দুই হাজার অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে শতকোটি ডলারের বাড়িও রয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অন্তত সাড়ে তিন লাখ বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। দাবানলে এ পর্যন্ত ৫০ বিলিয়ন বা ৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছে।

        এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে দাবানলের আগুনে পুড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত জনে। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগেই পাঁচজন মারা গিয়েছিলেন। পরে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

        মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসে এমন ভয়ঙ্কর দাবানল আগে কখনও হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় তহবিল থেকে ক্যালিফোর্নিয়াকে আরও অর্থ দেওয়া হবে, যাতে তারা দাবানলের মোকাবিলা করতে পারে এবং পুনর্গঠনের কাজ করতে পারে।

        এছাড়া হোয়াইট হাউসে প্রশাসকদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক ডেকেছিলেন বাইডেন। তারপর তিনি জানান, ভয়ঙ্কর দাবানলের কবলে পড়েছে ক্যালিফোর্নিয়া।

        তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যালিফোর্নিয়াকে যাতে বিশেষ সাহায্য দেওয়া যায়, সেজন্য তিনি মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের কাছে বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন। দাবানলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করার জন্য কংগ্রেসকেও অনুরোধ করেছেন তিনি।

        চলমান এই পরিস্থিতিতে রোম ও ভ্যাটিকান সফর বাতিল করেছেন বাইডেন। মূলত প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিজের শেষ বিদেশ সফর হিসাবে রোম ও ভ্যাটিকান যাওয়ার কথা ছিল বাইডেনের। কিন্তু দাবানল-পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার জন্য সেই সফর বাতিল করেছেন তিনি।

        অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও তার শেষ বিদেশ সফরে সিঙ্গাপুর, বাহরাইন ও জার্মানিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু দাবানলের কারণে তিনিও সেই সফর বাতিল করেছেন।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল নেভানোর কাজে নামানো হলো কারাবন্দিদের

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ১৩:৯
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল নেভানোর কাজে নামানো হলো কারাবন্দিদের

          ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলসে ভয়াবহ দাবানল নেভানোর কাজে নামানো হয়েছে কয়েকশ কারাবন্দিকে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজের জন্য দৈনিক ভাতা হিসেবে মাত্র ৫ দশমিক ৮০ ডলার থেকে ১০ দশমিক ২৪ ডলার করে পান তারা। জরুরি অবস্থা চলাকালে প্রতি এক ঘণ্টার জন্য আলাদা করে এক ডলার দেওয়া হয় তাদের।

          লস অ্যাঞ্জেলসে বর্তমানে পাঁচটি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। দাবানলে পুড়ছে সেখানকার ১১৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকা। ইতিমধ্যে প্রায় ১০ হাজার অবকাঠামো পুড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

          ক্যালিফোর্নিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন জানিয়েছে, পেশাদার ফায়ার ফাইটারদের সঙ্গে অন্তত ৩৯৫ জন কারাবন্দি আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।

          যদিও এটি স্বেচ্ছাশ্রম। তবে অনেকে মনে করেন বিষয়টি পুরোনো দাস প্রথারই একটি অংশ। যেখানে কারাবন্দিদের দিয়ে খুবই অল্প অর্থের বিনিময়ে ঝুকিপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছে।

          ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল নেভানোর কাজে যে বাহিনী আছে, তার প্রায় ৩০ শতাংশই কারাবন্দিদের নিয়ে গঠিত। কিন্তু বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাদের ফায়ার ফাইটার হিসেবে আর চাকরি দেওয়া হয় না।

          সাধারণ ফায়ার ফাইটাররা আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করলেও; কারাবন্দি ফায়ার ফাইটাররা মূলত হাত দিয়ে কাজ করে। আগুন যেন না ছড়ায় সেজন্য গাজ ও লতাপাতাগুলো সরায় তারা। এতে করে সাধারণ ফায়ার ফাইটারদের তুলনায় তারা চার গুণ বেশি আহত হয়।

          কারাবন্দি এসব ফায়ার ফাইটাররা থাকেন মূলত ফায়ার ক্যাম্পে। তাদের অনেকে বলছেন, কম বেতন এবং ঝুকি থাকা সত্ত্বেও ক্যালিফোর্নিয়ার মূল কারাগারে থাকার চেয়ে ফায়ার ক্যাম্পে বন্দি থাকতে চান। কারণ কারাগারে বিভিন্ন অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তবে এক বন্দি বলেছেন, “আমাদের আগুন নেভানোর কাজ করতে পাঠানো অন্যায়। আমরা কারাগারেই থাকতে চাই।”

          সূত্র: আলজাজিরা

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত