শিরোনাম
তেহরানে হামলায় ইসমাইল হানিয়াহ নিহত
ইরানের রাজধানী তেহরানে হামলার ঘটনায় হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরো প্রধান ইসমাইল হানিয়াহ নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৩১ জুলাই) সকালে তেহরানে তার বাসভবনে হামলা হলে হানিয়াহ ও তার এক দেহরক্ষী নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। খবর প্রেস টিভির।
বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, হামলার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে আজই বিস্তারিত জানানো হবে।
ইরানের নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানে ছিলেন হামাস প্রধান।
আজব ঘটনা : রেলওয়ে কর্মীর কামড়ে সাপের মৃত্যু
রাতের খাবার খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন এক রেলওয়ে কর্মী। এসময় হঠাৎ এক সাপ তাকে কামড়ে দেয়। কী করবেন তা বুঝতে না পেরে আক্রমণকারী সাপকেই পাল্টা দু’বার কামড়ে দেন ওই ব্যক্তি।
জীবন-মৃত্যুর এই লড়াইয়ে ওই রেলওয়ে কর্মী বেঁচে গেলেও মৃত্যু হয়েছে সাপটির। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের বিহার রাজ্যে।
শুক্রবার (৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির নাম সন্তোষ লোহার। ৩৫ বছর বয়সী সন্তোষ বিহারের নওয়াদার রাজৌলির একজন রেল কর্মচারী এবং তিনি রাজৌলির ঘন জঙ্গলে রেললাইন স্থাপনকারী একটি দলের অংশ।
সংবাদমাধ্যম বলছে, গত মঙ্গলবার রাতে খাবার খাওয়ার পর ঘুমানোর সময় তাকে একটি সাপ কামড়ে দেয়। এতো রাতে জঙ্গলের মধ্যে সাপের কামড় খেয়ে কি করবেন বুঝতে না পেরে দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে সাপটিকেই ধরে দুবার কামড়ে দেন সন্তোষ।
তার মাথায় তখন একটি জিনিসই ঘুরছিল, আর সেটি হচ্ছে- তার এলাকায় স্থানীয় লোকেরা বিশ্বাস করেন- কামড় দেওয়া সাপকে পাল্টা কামড়ে দিলে বিষের ক্ষতিকর প্রভাবকে উল্টে দেওয়া সম্ভব। অলৌকিকভাবে, লোহার এই অগ্নিপরীক্ষায় বেঁচে যান।
পরে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত রাজৌলি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখানে ডা. সতীশ চন্দ্র সিনহা তাকে দ্রুত চিকিৎসা সেবা দেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর দ্রুতই চিকিৎসায় সাড়া দেন সন্তোষ। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বুঝে পরের দিন সকালেই চিকিৎসকেরা ছেড়ে দেন ওই রেলওয়ে কর্মীকে।
ডা. সিনহাও নিশ্চিত করেছেন, লোহার চিকিৎসায় ভালোভাবে সাড়া দিয়েছেন এবং পরের দিন সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য সাপের কামড় খেয়ে সন্তোষ প্রাণে বাঁচলেও, বাঁচেনি সাপটি। মানুষের কামড় খেয়ে মৃত্যু হয়েছে তার।
এই ঘটনাটি সাপের কামড়কে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলে প্রচলিত লোককাহিনীর ওপরেই জোর দেয়। সেখানে স্থানীয়দের মধ্যে বিশ্বাস, কামড় দেওয়া সাপকে উল্টো কামড়ানোর ফলে বিষের মারাত্মক প্রভাব সাপের মধ্যেই ফেরত যায়।
রেলওয়ে কর্মী সন্তোষ লোহারের ক্ষেত্রেও হয়তো তেমনই কিছু ঘটেছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
এই গণিত শিক্ষক বর্তমানে ১৬৫ শিশুর বাবা! আরও ১০ নারী তাঁর কারণে গর্ভবতী
৫২ বছর বয়সী ইলন মাস্ককে ছাপিয়ে গিয়েছেন ৪৮ বছরের এই শিক্ষক। বিশ্বের ১৬৫ জন বাচ্চার গর্বিত বাবা তিনি। এখনও আরও ১০ জন নারীও বহন করছেন তাঁরই সন্তান। এই ব্যক্তির নাম অ্যারি নাগেল, আমেরিকার ব্রুকলিনে থাকেন তিনি।
নাগেল পেশায় একজন গণিত শিক্ষক। এর পাশাপাশি আরও একটি বিশেষ কাজ করেন নাগেল। আসলে, স্পার্ম ডোনার হিসেবেও কাজ করেন তিনি। নিজেই বলেছেন, বিশ্বের প্রতিটি কোণে স্পার্ম ডোনেট করেছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, গত ১২ জুন, ১৬৫ তম সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন নাগেল। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর ১৬৫তম সন্তানের জন্মের পর অ্যারি বলেছিলেন যে তার ৫০ বছর বয়স হলে, তারপরই তিনি এই স্পার্ম ডোনারের কাজ বন্ধ করবেন। এর পিছনেও রয়েছে কারণ। ব্যক্তিটি আশঙ্কা করছেন যে ৫০ বছর বয়সের পর স্পার্ম ডোনেট করা উচিত হবে না। এর দরুণ, জন্মের পর শিশুর মধ্যে অটিজমের মতো গুরুতর মানসিক রোগ দেখা ফিতে পারে। উল্লেখ্য, আসন্ন অগস্ট মাসে ৪৯ বছর বয়স হবে অ্যারির।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যারি প্রতি সপ্তাহে ১-২ জন মহিলাকে স্পার্ম দান করেন। এ জন্য তাঁরা অনেক ক্লিনিক ও হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। জানা গিয়েছে, নাগেলের প্রথম ছেলের বয়স ২০ বছর। তাঁর নাম টাইলার।
নিজেদের সন্তানদের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে, আমেরিকা, কানাডা, এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের ১০ জন মহিলা তাঁর স্পার্মেই গর্ভবতী। জিম্বাবুয়ে এবং লং আইল্যান্ডেও জুলাই মাসে হতে চলেছে তাঁর পরবর্তী সন্তানের। আর ইসরায়েল এবং কুইন্সের শিশুরা অগস্ট মাসে জন্ম নেবে।
বিশেষ বিষয় হল অ্যারি তাঁর শতাধিক সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ফাদার্স ডে-ও উপভোগ করেছেন। স্পার্মিনেটর নিজেই বলেছেন যে তিনি তাঁর অনেক ছেলে মেয়ের সঙ্গেই ঘন ঘন দেখা করেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে ৫৬ জনই নিউইয়র্কে থাকেন। আর ২০ জন নিউ জার্সিতে এবং ১৩ জন কানেকটিকাটে থাকেন।
যদিও, আবেগের সুরে তিনি আরও জানিয়েছেন যে অনেক মহিলাই চান না যে তিনি বাচ্চাদের সঙ্গে দেখা করুন। এরি বলেছেন যে তিনি প্রতিটি সন্তানের নাম, জন্মদিন, ঠিকানা এবং ফোন নম্বর সহ একটি স্প্রেডশীট সঙ্গে রাখেন সবসময়। তবে, একজন ভালো বাবা হওয়ার প্রশ্নে তাঁর উত্তর, আমি কখনই আমার সন্তানদের জন্য ততটা ভালো বাবা হতে পারব না, যতটা আমার বাবা আমার কাছে ছিলেন।
যে দেশে দাঁতের ডাক্তার আছেন মাত্র ২ জন!
ডা. পল তেওয়াকি জোরাম প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র নাউরুর দাঁতের ডাক্তার। দেশটির ১৩ হাজার জনগণের দাঁতের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত আছেন তিনি। ডা. পলের একজন সহযোগীও আছেন। তার মানে, দেশটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবার দাঁতের চিকিৎসার জন্য ডেন্টিস্ট এই দুজন!
তবে নাউরুর এই দুই দাঁতের ডাক্তারের সঙ্গে কাজ করেন একজন সিনিয়র ডেন্টাল সার্জন, যিনি আবার নাউরুর নাগরিক নন। পাশের দ্বীপরাষ্ট্র ফিজির ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিন থেকে ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস) করেছেন ডাক্তার পল।
নাউরুর প্রায় সব বাসিন্দাই ডা. পলকে চেনেন। চিকিৎসার জন্য ডেন্টাল ক্লিনিকে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন রোগী আসেন। এই দেশের নাগরিকদের মধ্যে দাঁতের যত্ন ও চিকিৎসা নেওয়ার প্রতি আগ্রহ আগের থেকে বেড়েছে।
সীমাবদ্ধতার কারণে মূলত রুট ক্যানেল, ফিলিং ও দাঁত ফেলার কাজই হয় বেশি। কোনো আধুনিক যন্ত্র নেই বলে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে রুট ক্যানেল করা হয়। ক্রাউন, ডেনচার, অর্থোডোনটিকস, ইমপ্ল্যান্ট, মুখের অস্ত্রোপচারসহ অন্য চিকিৎসা হয় না। দাঁতের এক্স–রে করার একমাত্র মেশিনটি নষ্ট। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী আনতে সময় লেগে যায় কয়েক মাস।
নাউরুর জেলখানায় কিছু বাংলাদেশি বন্দী রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন প্রায় ১০ বছরের মানবেতর বন্দিজীবন থেকে মুক্তি পেতে নিজের ঠোঁট সেলাই করে প্ল্যাকার্ড নিয়ে গত বছর প্রতিবাদ করেন। নাউরুর জেলখানার প্রায় সবাই অবৈধ পথে আসা অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনপ্রত্যাশী। অবৈধভাবে নৌপথে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পথে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ইরান, পাকিস্তান ইত্যাদি দেশের নাগরিকদের সমুদ্র থেকে গ্রেপ্তার করে অস্ট্রেলিয়ার সীমান্ত ও উপকূল রক্ষী। তাদেরকেই নাউরুসহ প্রশান্ত মহাসাগরের অন্যান্য দ্বীপরাষ্ট্রের জেলখানায় বন্দী করে রাখা হয়।
বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র নাউরু মূল্যবান ফসফেট সম্পদে সমৃদ্ধ ছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান, জাপান, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের এই ফসফেটে নজর পড়ে। ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর পশ্চিমা বিশ্বের কাছে ফসফেট বিক্রি করতে থাকে নাউরু। সরকারের হাতে আসতে থাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ। ১৯৭৫ সালে সাত হাজার জনগণের দেশ নাউরুর সরকারি ব্যাংকে জমা হয় ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার! তখন নাউরুর জনগণের মাথাপিছু আয় এত বেশি ছিল যে তাদের সামনে একমাত্র ধনী রাষ্ট্র ছিল কুয়েত। অপচয়, অতিবিলাসিতা, অদূরদর্শিতা আর দুর্নীতির কারণে একসময়ের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রটির এখন করুণ দশা। অস্ট্রেলিয়ার পরামর্শে পরিচালিত হয় দেশটির অর্থনীতি, নিরাপত্তা, উচ্চশিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশটির শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও পড়াশোনার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকার বৃত্তি প্রদান করে।
কুকুরের জন্য রক্ত চেয়ে রতন টাটার পোস্ট, মিলল ডোনারও
গুরুতর অসুস্থ একটি কুকুরের জন্য রক্ত চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন ভারতীয় ধনকুবের রতন টাটা। অসুস্থ মানুষের জন্য রক্ত চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা খুবই সাধারণ একটি ব্যাপার হলেও; একটি প্রাণীর জন্য রক্ত চাওয়ার বিষয়টি অনেকের কাছেই অবাক লেগেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) ইনস্টাগ্রামে এই পোস্টটি করেন ৮৬ বছর বয়সী রতন টাটা।
অসুস্থ কুকুরটি মুম্বাইয়ের স্পল অ্যানিমেল হাসপাতালে ভর্তি আছে। এই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা এবং দেখভালের দায়িত্বে আছেন রতন টাটা নিজেই। এ বছরের শুরুতে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হয়।
রক্ত চেয়ে করা পোস্টটিতে একটি অসুস্থ কুকুরের ছবিও দেন রতন। এটির সামনের ডান পায়ে আইভি ও নীল রঙের ব্যান্ডেজ লাগানো ছিল।
পোস্টটিতে টাটা গ্রুপের কর্ণধার লেখেন, “আপনার সহায়তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ থাকব। আমাদের পশু হাসপাতালে থাকা সাত মাস বয়সী কুকুরটির জরুরিভিত্তিকে রক্ত লাগবে। এটি টিক জ্বর এবং রক্তাল্পতায় ভুগছে।”
এছাড়া পোস্টে তিনি জানান, কুকুরের জন্য কুকুরেরই রক্ত লাগবে। তিনি আরও জানান, যে কুকুর থেকে রক্ত নেওয়া যাবে সেটির বয়স অবশ্যই ১ থেকে ৮ বছর এবং ওজন ২৫ কেজি হতে হবে। সঙ্গে কুকুরটির সব ধরনের ভ্যাকসিন দেওয়া থাকবে হবে এবং শারীরিকভাবে পরিপূর্ণভাবে সুস্থ থাকতে হবে।
ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০ কোটি ফলোয়ার থাকা রতন টাটা ব্যর্থ হননি। পরবর্তীতে আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, তার হাসপাতালে থাকা অসুস্থ কুকুরটির জন্য রক্ত পাওয়া গেছে।
সূত্র: সিএনএন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য