শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোন করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে খাদ্য, জ্বালানি এবং অর্থায়ন বিষয়ে ‘চ্যাম্পিয়নস গ্রুপ অব গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স’ প্লাটফর্মে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানানোয় জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ দেন। প্রধানমন্ত্রী এ আমন্ত্রণ আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেন।
একই প্ল্যাটফর্মে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইন্দোনেশিয়া ও সেনেগালের প্রেসিডেন্ট, বার্বাডোস ও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
অন্য নেতাদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী উল্লেখ করে গ্রুপটির লক্ষ্য পূরণে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
গ্রুপটির উদ্দেশ্যে পূরণে উচ্চ পর্যায়ের সংলাপসহ বিভিন্ন বিষয়ে সম্পৃক্ত হতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানান শেখ হাসিনা।
করোনা মহামারির পর চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ, খাদ্য, জ্বালানি, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন সেক্টরের বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবকে ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে অবদান রাখতে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিতে তার প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা।
জাতিসংঘের শান্তি রক্ষার ক্ষেত্রগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়ন, জলবায়ু ইস্যু ও লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অংশীদারত্বের কথা উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান।
জাতিসংঘ মহাসচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খাদ্য, জ্বালানি ও অর্থায়ন বিষয়ে ‘চ্যাম্পিয়নস গ্রুপ অব গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স’ গ্রুপে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে একজন ‘শেরপা’ (প্রতিনিধি) মনোনীত করতে অনুরোধ করেন।
ক্ষমতা হারালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান
অনাস্থা ভোটে হেরে অবশেষে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। শনিবার (৯ এপ্রিল) রাতে জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবে ভোটাভুটি হয়। এতে ইমরানের বিপক্ষে ভোট পড়েছে ১৭৪টি। দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদের ৩৪২ আসনের মধ্যে প্রস্তাবটি পাসের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৭২ ভোটের।
ইমরান খান পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ক্ষমতা হারানোয় দেশটির নির্বাচিত কোনো প্রধানমন্ত্রীই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারলেন না। ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে ভোটাভুটির আগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্পিকার আসাদ কায়সার। তিনি বলেছেন, মন্ত্রিসভা থেকে কিছু ‘গুরুত্বপূর্ণ নথি’ পেয়েছেন, যা বিরোধী দলীয় নেতা এবং প্রধান বিচারপতিকে দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। এ সময় তিনি পাকিস্তান মুসলিম লিগের নেতা আয়াজ সাদিককে অধিবেশন পরিচালনার আহবান জানান।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইমরান খানের ভাগ্যনির্ধারণী অধিবেশন শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টায়। তবে পরে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। তিন দফা মুলতবি শেষে ইফতারের পর অধিবেশন শুরু হয়। পরে রাত সাড়ে ৯টায় আবার অধিবেশন বসে। এ অধিবেশনে বিরোধী দলগুলোর সবাই অংশ নেন। এ ছাড়া শুরুতে সরকারি দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতাকে দেখা যায়।
বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেন, অধিবেশন ইচ্ছা করেই বিলম্বিত করা হচ্ছে। এ জন্য কৌশল ঠিক করতে বিরোধীদলীয় নেতা ও পাকিস্তান মুসলিম লিগের (নওয়াজ) সভাপতি শাহবাজ শরিফের চেম্বারে বসে তারা বৈঠক করেন। স্পিকার আসাদ কায়সারের সঙ্গেও দেখা করেন। এ সময় স্পিকারকে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আর্থিক দুরবস্থা ও ভুল পররাষ্ট্রনীতির অভিযোগে অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিরোধী দলগুলো। এ প্রস্তাবকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে গত ৩ এপ্রিল জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি খারিজ করে দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে ওই দিনই জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি।
এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সংকটে পড়ে পাকিস্তান। পরে স্বতঃপ্রণোদিত নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের শরণাপন্ন হয় বিরোধীরা দলগুলোও। এ নিয়ে পাঁচ দিনের শুনানি শেষে অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ ও জাতীয় পরিষদ ভাঙার সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ শনিবার অনাস্থা প্রস্তাবের সুরাহা করার নির্দেশ দেন।
মেনে নিলেও সুপ্রিম কোর্টের রায়ে দুঃখিত ইমরান খান
জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, যে তিনি একদিন আগে সুপ্রিম কোর্টের জারি করা রায় মেনে নিচ্ছেন। তবে এ রায়ে তিনি দুঃখিত।
ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এই রায়ে দুঃখিত, কিন্তু আমি এটা মেনে নিচ্ছি। খবর- ডন, জিও নিউজ, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এর।
শুক্রবার পাকিস্তানের সাধারণ জনগণের উদ্দেশে শুক্রবার ভাষণ দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
এতে সুপ্রিম কোর্টের এ রায় নিয়ে ইমরান খান আরও বলেছেন, ‘আমি সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। আদালত তাড়াহুড়ো করে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তাতে আমি দুঃখিত। রায় দেওয়ার আগে বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিষয়টি দেখা উচিত ছিল। রায় দেওয়ার আগে বিষয়টি একবার হলেও দেখা উচিত ছিল।’
ইমরান খান আরও বলেন, পাকিস্তানের তরুণদের সামনে আমরা কি উদাহরণ দিয়ে যাচ্ছি। তারা যদি দেখে রাজনীতিবিদরা তাদের বিবেককে বিক্রি করে দিচ্ছে কি শিখবে?
৩ এপ্রিল ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব বাতিল করে দেন জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসেম সুরি। কিন্তু ৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট জানায় কাসেম সুরির সিদ্ধান্ত অবৈধ। কোর্ট ৯ এপ্রিল ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আয়োজনের নির্দেশ দেন।
ইমরানের সুপারিশে পার্লামেন্ট ভেঙে দিলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সুপারিশে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। আজ রোববার আকস্মিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রেসিডেন্টকে তিনি জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করেন। খবর জিও নিউজ ও ডনের।
‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব জাতীয় পরিষদের (পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ) ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি নাকচ করে দেওয়ার পরপরই দেশটিতে বড় ধরনের এই রাজনৈতিক পরিবর্তন আসলো।
জাতীয় পরিষদ ভেঙে দিয়ে একটি দাপ্তরিক নোটিশ জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ডেপুটি স্পিকার অনাস্থা প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ার পরপরই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেন, জাতীয় পরিষদ ভেঙে দিতে তিনি প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভিকে পরামর্শ দিয়েছেন। পরবর্তী নির্বাচনের জন্য জনগণের প্রস্তুত হওয়া প্রয়োজন।
জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাহবাজ গিল। এক টুইটে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ফররুখ হাবিব বলেছেন, ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া সংক্ষিপ্ত ভাষণে ইমরান খান বলেছেন, ‘নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন। দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে কোনো দুর্নীতিবাজ শক্তি তা ঠিক করে দিতে পারে না। যখন অ্যাসেম্বলি ভেঙে দেওয়া হবে, তখন পরবর্তী নির্বাচন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
অনাস্থা প্রস্তাব নাকচ হওয়ায় ইমরান খান জাতিকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘বিদেশি ষড়যন্ত্রে সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছেন’ ডেপুটি স্পিকার।
এদিকে অনাস্থা প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বলে ডনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এর আগে অনাস্থা ভোটে জয়ী হওয়ার আত্মবিশ্বাস নিয়েই অধিবশনে অংশ নেন বিরোধী আইনপ্রণেতারা। অনাস্থা ভোটে ৩৪২ আসনের জাতীয় পরিষদে ১৭২ ভোট প্রয়োজন ছিল বিরোধীদের। পাকিস্তান মুসলিম লিগ–নওয়াজের (পিএমএল–এন) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনাস্থা প্রস্তাবে ১৭৪ আইনপ্রণেতার সমর্থন ছিল।
গত ৮ মার্চ অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও ভুল পররাষ্ট্রনীতির অভিযোগে ইমরান খানের জোট সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিরোধী দলগুলো। একপর্যায়ে ইমরান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ শরিক মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্টে (এমকিউএম) বিরোধী শিবিরে যোগ দিলে জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় সরকার। অনাস্থা ভোটে ইমরানের প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর বিষয়টি কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তবে শেষটা হলো আরও নাটকীয়।
ক্ষমতা হারাতে চলেছেন ইমরান খান!
জোটসঙ্গী এমকিউএমপি বিরোধীদল পিপিপির সঙ্গে হাত মেলানোয় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই আরও কঠিন রূপ নিয়েছে। বিরোধীদের সংখ্যা বেড়ে চলায় অনাস্থা প্রস্তাবের খড়গ থেকে ইমরান খানের বেরিয়ে আসার পথ ঘোর সংকটের মুখে পড়ল। এর ফলে ইমরান খান ক্ষমতা হারাচ্ছেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে বিরোধীদল পাকিস্তান পিপলস পার্টির সঙ্গে সমঝোতা করায় ইমরানের দল ক্ষমতাসীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ-পিটিআইয়ের অন্যতম জোটসঙ্গী মুত্তাহিদা কউমি মুভমেন্ট পাকিস্তান-এমকিউএমপি।
পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, তার দলের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ বিরোধীরা এবং এমকিউএমের সমঝোতা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দেওয়া হবে।
ইমরানের জোটসঙ্গী এমকিউএমপি গাঁটছাড়া হওয়ায় এখন পাকিস্তানে ঐক্যবদ্ধ বিরোধী গোষ্ঠীর সংখ্যা ১৭৭ জনে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ১৭৯ জন নিয়ে ক্ষমতায় আসা ইমরানের জোটের সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬৪।
বিরোধীদের এই ঐক্যবদ্ধতায় সংসদের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে ইমরানের দল পিটিআই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। ইমরান খানের সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব অথবা অনাস্থা ভোটের আগে বিরোধীদের এই একাট্টা হওয়ার ঘটনা ইমরানের ক্ষমতার পথকে আরও কঠিন করে তুলল।
৩৪২ সদস্য নিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ গঠিত। অনাস্থা ভোটে জিততে সমর্থন প্রয়োজন কমপক্ষে ১৭২ সদস্যের। ঐক্যবদ্ধ বিরোধী গোষ্ঠীর সংখ্যা ১৭৭ জনে পৌঁছায় ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করা সহজ হয়ে গেল পিপিপি নেতৃত্বাধীন বিরোধীদের।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য