শিরোনাম
ভোলাগঞ্জে পথে পথে সাদা পাথরের স্তূপ, অধিকাংশ বিক্রি শেষ
ধলাই নদী থেকে লুট হওয়া সাদা পাথর মজুত করা হয়েছে সিলেটের ভোলাগঞ্জের পথে পথে। বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে রাখা হলেও অধিকাংশ পাথর এরই মধ্যে কেনাবেচা হয়ে গেছে। ব্যবসায়ী কিংবা শ্রমিকের কাছ থেকে সাদা পাথর কিনে নিয়েছেন বিভিন্ন এলাকার ক্রেতা। যারা বিক্রি করতে পারেননি তাদের পাথর এখনও রয়ে গেছে ধলাই নদীর চরে। কেউ কেউ পাথর মজুত করেছেন ক্রাশার কারখানার আঙিনায়।
গতকাল বুধবার ভোলাগঞ্জ ও ধলাই নদীর আশপাশ এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এদিকে পাথর লুটের ঘটনায় সিলেটের অতিরিক্তি জেলা প্রশাসককে প্রধান করে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। আগামী রোববারের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পাথর লুটের নেপথ্যে কারা রয়েছে তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গতকাল ভোলাগঞ্জ এলাকা পরিদর্শন করেছে দুদক সিলেট সমন্বিত কার্যালয়ের একটি দল।
দুদকের উপপরিচালক রাফি মো. নাজমুস সাদাত জানান, তারা মূলত পাথর লুটের নেপথ্যে থাকা লোকদের বিষয়ে অনুসন্ধান করবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ সমকালকে বলেন, সাদা পাথর ইস্যুতে বৈঠক হচ্ছে। তদন্ত কমিটিও করা হয়েছে।
অভিযান, লুটের পাথর জব্দ
এদিকে নদী থেকে উত্তোলন বন্ধ থাকলেও অনেককে দেখা গেছে আগের লুট করা পাথর সরিয়ে নিতে। ধলাই নদীতীরের কালাইরাগে পাথর সরানোর সময় জেলা প্রশাসনের অভিযানকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে এক ট্রাক্টর চালক ও পাথরের মালিক পালিয়ে যান। পরে ট্রাক্টর ও কিছু যন্ত্রপাতি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই এলাকা থেকে ১২ হাজার ফুট পাথর জব্দ করে প্রশাসন। অভিযানকারী দলের নেতৃত্ব দেওয়া জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মাহমুদ আশিক কবির পাথর লুটের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
শ্রমিকদের কাছ থেকে পাথর কিনে ধলাই নদীর চরের দয়ারবাজার ও কালাসাদেক এলাকার অন্তত ৩০ স্থানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ভোলাগঞ্জের পাড়ুয়া এলাকার প্রমি ক্রাশার মিল, তুহিন ক্রাশার মিল, লাকি স্টোন ক্রাশার, হেপি স্টোন ক্রাশার, ইমরান ও ডিজিটাল স্টোন ক্রাশার এবং সিলেট সদরের ধোপাগুল এলাকার আমিন স্টোন, মাইশা, সিলেট স্টোন ক্রাশারসহ কয়েকটি মিলে পাথর মজুত থাকতে দেখা গেছে। যদিও ক্রাশার কারখানার মালিকরা এসব পাথর ভোলাগঞ্জের নয় বলে দাবি করেছেন।
মাইশা স্টোন ক্রাশার মিলের মালিক মামুন তালুকদার স্বীকার করেন, সাদা পাথর অনেক কারখানায় ক্রাশিং হয়। এখন কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ক্রাশিং বন্ধ রয়েছে।
গতকাল বিকেলে ট্রাকবোঝাই পাথর নিয়ে ভোলাগঞ্জ থেকে ফেনী শহরে যাচ্ছিলেন চালক হৃদয়। তাঁর দাবি, এগুলো ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর নয়, এলসি পাথর। বিমানবন্দরের পাশে শহরে প্রবেশের অপেক্ষায় ওই সময় বেশ কিছু ট্রাক দেখা গেছে। অধিকাংশই যাচ্ছিল পাথর নিয়ে। চালকরা দয়ারবাজারের বাসিন্দা নুরুল জানান, মজুত করা পাথর রাতের আঁধারে কৌশলে সরিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ সিলেটের বাইরে, কেউ স্থানীয় কারখানায় বিক্রি করছেন।
এদিকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। গতকাল বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
সেখানে বলা হয়, দুষ্কৃতকারীরা শুধু পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যই ধ্বংস করছে না; তারা পর্যটনকেন্দ্র ধ্বংস করে স্থানীয় অর্থনীতি ও হাজারো মানুষের জীবিকা ধ্বংস করছে। এটি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বাপা-সিলেটের সভাপতি জামিল আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাসমির রেজা, এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম, ইকবাল সিদ্দিকী, মোজাক্কির হোসেন কামালী, ভাস্কর রঞ্জন দাস, অধ্যাপক ড. শাহাদাত চৌধুরী প্রমুখ।
২০১৭ সালে দেশজুড়ে পরিচিতি পায় ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র। গত বছর ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এক বছর ধরে বিচ্ছিন্নভাবে পাথর লুট হতে থাকে। শুধু সাদা পাথর নয়; ধ্বংস করা হয় পাশের রেলের ‘বাঙ্কার’ এলাকা। পর্যটনকেন্দ্রের পূর্ব-দক্ষিণ দিকে বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি খুঁড়ে পাথর লুটের ঘটনায় সম্প্রতি দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এর পর নড়েচড়ে বসে বিভিন্ন দপ্তর।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রিন ভয়েসের মানববন্ধন
সাদা পাথর উত্তোলন ও পরিবেশ ধ্বংসকারী উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন ভয়েস। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
প্রতীকী প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধনে অংশ নেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল– ‘প্রকৃতি চুরি চলবে না, চোরের ক্ষমা হবে না’, ‘সাদা পাথর আমাদের সম্পদ, রক্ষা করো, লুট নয়’, ‘সাদা পাথরে কালো হাত’।
মৌলভীবাজারে বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চের প্রতিবাদ
পাথর লুটের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে মৌলভীবাজারের বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ। গতকাল দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সামনে অবৈধভাবে সাদা পাথর উত্তোলন ও পরিবেশ ধ্বংসের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তি দাবিতে সংগঠনটি প্রতিবাদী সমাবেশ করে।
বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ-জেলা কমিটির সংগঠক রাজিব সূত্রধরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন মাধুরী মজুমদার, রেহনোমা রুবাইয়াৎ, বিশ্বজিৎ নন্দী প্রমুখ।
মুন্সীগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যানের ৪৭ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ
সাড়ে ৪৭ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়ায় মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ষোলঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মায়া ইসলামের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (১৩ আগস্ট) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আজিজুল ইসলাম ২০১৬ সালে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি ব্যবসায়ী হিসেবে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি ও পাইকারি/খুচরা বিক্রি করে আসছিলেন। তার নিজের ও স্ত্রীর নামে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
২০২৩-২৪ করবর্ষে আজিজুল ইসলামের নামে ৩৪ কোটি ২৫ লাখ ৭৫ হাজার ২৮৮ টাকার স্থাবর এবং ৯ কোটি ৮৩ লাখ ৭৪ হাজার ৮০২ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪৪ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার ৯০ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। বৈধ আয় ও সঞ্চয়ের তুলনায় তার ব্যয় বেশি হয়েছে ১৭৮ কোটি ৭৯ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৬ টাকা। ব্যাংক ঋণ বাদ দিয়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৪৯ হাজার ২২ টাকা।
অপরদিকে, মায়া ইসলামের নামে একই করবর্ষে ১১ কোটি ৩১ লাখ ২২ হাজার ৪০৬ টাকার স্থাবর এবং ১ কোটি ২০ লাখ ২৭ হাজার ৮৮৬ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১২ কোটি ৫১ লাখ ৫০ হাজার ২৯২ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। বৈধ আয় ও সঞ্চয়ের তুলনায় তার ব্যয় বেশি হয়েছে ২৮ কোটি ৮৩ লাখ ৩৫ হাজার ১৫৪ টাকা। ব্যাংক ঋণ বাদ দিয়ে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৯ হাজার ২৯০ টাকা।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামিরা নিজেদের, স্ত্রী/স্বামী ও সন্তানের নামে এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব অবৈধ সম্পদ রূপান্তর, হস্তান্তর ও স্থানান্তর করেছেন। যে কারণে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা দাযের করা হয়েছে।
আমেরিকা নিয়ে যাবার কথা বলে প্রতারণার ফাঁদে; সংবাদ সম্মেলন
মাজারে আশেকান হিসাবে নারীর সাথে খাদেমের পরিচয় ঘটে এবং সর্বশেষ আমেরিকা নেয়ার নামে নগদ অর্থ নিয়ে প্রতারণাসহ একাধিক অভিযোগে বুধবার (১৩ই আগষ্ট) বিকালে মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন-ভুক্তভোগী খাদেম আজমল আলী সেন্টু।
তিনি লিখিত বক্তব্য জানান- কুলাউড়ার ১নং বরমচাল ইউনিয়ন এর খাদিমপাড়ায় অবস্থিত শাহ্ কালা (র:) মাজারে দেশে বিদেশের বিভিন্ন স্থান খেকে বক্ত আশেকানরা আসা যাওযা করেন সেই সুবাদে শামীমুন নাহার “শাহ কালার মাজারে” আসেন। মাজারে খাদিম হিসেবে তার সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়েয়র সুত্র ধরে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে খাদেম-কে আমেরিকা নেবার প্রস্তাব দিলে তিনি সেই প্রস্তাব মেনে নিয়ে প্রায় ৭ লাখ ৫ হাজার ৭৫০টাকা পরিশোধ করেন। পরবর্তীতে তাকে আমেরিকা না নিয়ে কালক্ষেপন ও টাল-বাহানা শুরু করলে তিনি টাকা দেয়া বন্ধ করে দেন। এরপর শামীমুন নাহার উক্ত খাদেমকে টাকা দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করতে থাকেন। টাকা না দিলে মামলা দিয়ে জেলে পাটাবেন বলেও হুমকি প্রদান করেন। খাদেম আজমল আলী সেন্টু-কে শামীমুন নাহারের দায়েরকৃত রামপুরা থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তিনি উক্ত মামলা থেকে বেখসুর খালাস হন।
লিখিত বক্তব্য তিনি আরো বলেন-শামীমুন নাহারের প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত (সি.আর- মামলা নং-২৩৭/২০২২ ইং, তারিখ : ২২-মে ২০২২ইং মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে উক্ত মামলাটি সিআইডি তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করলে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নেয়।
বর্তমানে আমার মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। খাদেম আজমল আলী সেন্টু আরো জানান- গত ১১ই আগষ্ট শামীমুন নাহার সংবাদ সম্মেলন করে তাকে জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচার করেন। তিনি এ অপপ্রচারের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন-শামীমুন নাহার তার সাজানো সংবাদ সম্মেলনে নিজেই স্বীকার করেছেন, তার বিরুদ্ধে ২*শ মামলা রয়েছে। তিনি এতো মামলার আসামী, তাহলে আপনারাই বিচার করুন, তিনি কেমন ও সমাজ ও আইনের দৃষ্টিতে কতটুকু সঠিক তা সকলের অনুমেয় বলার অপেক্ষা রাখে না। সর্বশেষ তিনি তার আদালতের ওপর আস্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বিশ্বাস রেখে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
অর্থের বিনিময়ে আওয়ামীলীগ নেতাকে বিএনপিতে; সাখাওয়াতকে অব্যাহতি
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ১নং বরমচাল ইউনিয়ন বিএনপি'র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিতর্কিত ব্যক্তি সাখাওয়াত হোসেন খাঁনকে দলীয় সকল পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে উপজেলা বিএনপি।
মঙ্গলবার (১২ই আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক রেদওয়ান খাঁন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল হোসেন খাঁন ও যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল জলিল জামাল স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে সেটি নিশ্চিত করা হয়। চিঠির একটি ফটোকপি গণমাধ্যমেও পাঠানো হয়। অনুলিপি জেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সোমবার ১১ই আগস্ট বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন খাঁনকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে লোকজ করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে জবাব প্রদানের জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু ২৪ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও সাখাওয়াত হোসেন খাঁন কোন জবাব প্রদান না করায় তাকে ১নং বরমচাল ইউনিয়ন বিএনপি'র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ওয়ার্ড কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। এছাড়া আগামী ১৯শে আগস্টের মধ্যে পুনরায় সুস্পষ্ট জবাব প্রদানের জন্য বলা হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।
এদিকে গত ১০শে আগস্ট বিকেলে কুলাউড়া শহরের একটি রেষ্টুরেন্টে বরমচাল ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আজমল আলী শাহ্ সেন্টুর উপস্থিতিতে বরমচাল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি'র পাঁচজন নেতাসহ বিএনপি'র বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে মনগড়া অভিযোগ এনে অপপ্রচার করে বিভিন্ন বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন। সেই বক্তব্যে টি দৃষ্টিগোচর হয় জেলা ও উপজেলা বিএনপি'র। জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দের নির্দেশ অমান্য করে এবং দলের গঠনতন্ত্র ভঙ্গ করে স্যোসাল মিডিয়ায় মনগড়া বক্তব্য দিয়ে বরমচাল ইউনিয়ন বিএনপি'র সম্মেলন ও কাউন্সিলকে বাঁধাগ্রস্থ করার হীন মন্যতার কারণে সাখাওয়াত হোসেন খানের বিরুদ্ধে কেন দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না মর্মে ২৪ ঘন্টা অর্থাৎ মঙ্গলবার সকাল ১১টার মধ্যে জবাব দেয়ার জন্য বলা হয়েছিল।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নে আজমল আলী শাহ্ সেন্টু নামক এক যুবলীগ সভাপতিকে সাত নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি'র কমিটিতে স্থান করে দেবার কথা বলে কয়েক লক্ষ টাকা নিয়ে ইউনিয়ন কমিটিতে স্থান করে দেন বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন। এ ঘটনায় ফুঁসে উঠে স্থানীয় বিএনপি'র ত্যাগী নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল, স্থানীয় গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সমালোচনার ঝড় উঠলে জেলা বিএনপি'র নির্দেশে আজমল আলী শাহ্ সেন্টু নামক ওই যুবলীগ নেতাকে বহিস্কার করে বরমচাল ইউনিয়ন বিএনপি। যেটি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েন বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন। টাকা ফেরত দেয়ার ভয়ে তিনি ওই যুবলীগ নেতাকে নিয়ে বিএনপি'র নেতাদের বিরুদ্ধে নানান কুৎসা ও অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছেন।
কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি'র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল হোসেন খান বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অমান্য করে স্যোসাল মিডিয়ায় মনগড়া বক্তব্য দিয়ে বরমচাল ইউনিয়ন বিএনপি'র সম্মেলন ও কাউন্সিলকে বাঁধাগ্রস্থ করার কারণে সাখাওয়াত হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই নোটিশের কোন জবাব না দেয়ায় তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে মর্মে জেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব নিকট চিঠি পাঠানো হয়েছে।
খলিলপুর ইউপি স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১নং খলিলপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়।মঙ্গলবার (১২ই আগস্ট) বিকালে সদর উপজেলার শেরপুর বাজারে রিমি কমিউনিটি সেন্টারে উক্ত কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জামান আহমেদ সুমন এর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আহমেদ আহাদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম,গাজী জাবেদ , যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মুমিন,যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম সাহেদ,যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম ,যুগ্ম আহ্বায়ক সাফিউর রহমান জুসেফ,যুগ্ম আহ্বায়ক মনসুর আহমেদ,পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির আহমেদ সাফিন,সদস্য মুহিবুর রহমান মিন্টু, সদস্য শেখ জুয়েল আহমেদ,সদস্য সেজিম আহমেদ।
মৌলভীবাজার জেলা কৃষক দলের সদস্য সজলু তালুকদার ও মোঃ মহসিন আহমেদ, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শেখ সাহেদ,ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল আহমেদ প্রমুখ।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য