শিরোনাম
ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইয়েমেনের ‘প্রধানমন্ত্রী’ নিহত
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সরকারের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউই দখলদার ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দেশটির রাজধানী সানায় হামলা চালায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান।
দখলদাররা সানার একটি অ্যাপার্টমেন্টে বোমাবর্ষণ করে। সেখানেই বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিহত হন বলে জানিয়েছে ইয়েমেনি সংবাদমাধ্যম আল-জুমহুরিয়া।
অপর সংবাদমাধ্যম এডেন আল-ঘাদ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাভি তার আরও কয়েকজন সঙ্গীসহ প্রাণ হারিয়েছেন।
গতকাল ইসরায়েলের হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, হুতি বিদ্রোহীদের সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ অন্তত ১০ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাদের প্রধানমন্ত্রীর ওপর আলাদা করে হামলা চালানো হয়েছে— এমনটা ধারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইংরেজি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।
হুতি বিদ্রোহীদের প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ অন্যরা তাদের প্রধান নেতা আব্দুল মালেক আল-হুতির একটি ভাষণ শুনতে জড়ো হয়েছিলেন বলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। যদিও ওই জায়গাটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সুরক্ষিত। তা সত্ত্বেও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান সেখানে হামলা চালিয়ে আসতে সমর্থ হয়। ওই হামলায় কতজন হতাহত হয়েছেন সেটি জানা যায়নি বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সূত্র।
২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। এরপর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দ-রাব্বু মনসু হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তিনি হুতিদের প্রতিষ্ঠিত সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করেন। এরপর তার সমর্থনে ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক ব্যাপক হামলা চালায়। তা সত্ত্বেও হুতিদের প্রতিহত করা যায়নি। তারা এখনো সানার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে ধরে রাখতে পেরেছে। এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন রাহাভি।
দখলদার ইসরায়েল ফিলিস্তিনের গাজায় বর্বরতা চালানোয় তাদের ওপর নিয়মিত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালাচ্ছিল হুতিরা। এরমধ্যেই গতকাল তাদের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করল ইসরায়েল।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় ত্রাণ মিশন বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ জাতিসংঘের
ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। টানা প্রায় দুই বছর ধরে চালানো এই হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৬২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। বর্বর এই আগ্রাসনের জেরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ক্ষোভ।
এছাড়া ইসরায়েল গাজা উপত্যকা অবরোধ করে রেখেছে এবং এর জেরে সেখানে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে গাজা উপত্যকায় প্রায় অর্ধেক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ইসরায়েল বাধাগ্রস্ত করেছে বা বিলম্বিত করেছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ)-এর তথ্য উদ্ধৃত করে সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বৃহস্পতিবার জানান, গাজার ভেতরে মানবিক কার্যক্রম এখনও বিলম্ব ও বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। এমনকি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ যেসব মিশনের অনুমোদন দিয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন করতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “অনেক সময় টিমগুলোকে বিপজ্জনক, যানজটপূর্ণ বা অচল সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”
ডুজারিক জানান, গত বুধবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য করা ৮৯টি প্রচেষ্টার মধ্যে মাত্র ৫৯ শতাংশ কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ শতাংশ প্রাথমিকভাবে অনুমোদন পেলেও পরে বাধাগ্রস্ত হয়েছে, ৮ শতাংশ সরাসরি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং ৭ শতাংশ সংগঠকরা নিজেরাই প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন।
বাধাগ্রস্ত ২৩টি মিশনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত পাঁচটি সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ছিল সীমান্ত থেকে সরবরাহ সংগ্রহ এবং রোগী সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম। তবে বাকি ১৮টি শেষ করা সম্ভব হয়নি।
মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ডুজারিক বলেন, জাতিসংঘ আশঙ্কা করছে গাজা সিটির আরও এলাকায় ইসরায়েল নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে পারে। তার ভাষায়, “যদি পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরু হয়, তবে এর প্রভাব হবে ভয়াবহ। শুধু গাজা সিটির নয়, পুরো উপত্যকার জন্য।”
ডুজারিক আরও জানান, জাতিসংঘের জনসংখ্যা পর্যবেক্ষণ টিমের তথ্য অনুযায়ী সোমবার ও মঙ্গলবার প্রায় ১৩০০ মানুষ গাজার উত্তরাংশ থেকে দক্ষিণে পালিয়েছে। গত ১৪ আগস্ট ইসরায়েল নতুন অভিযানের পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার মানুষ উত্তর থেকে দক্ষিণে গিয়েছেন।
সামগ্রিকভাবে এখন পর্যন্ত গাজা সিটি থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তিনি বলেন, “গাজার সর্বত্র লাখ লাখ পরিবার অতিরিক্ত ভিড়, অমানবিক ও অনিরাপদ অবস্থায় বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন।”
নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত
নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত। এমনই অভিযোগ করেছেন ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। তাদের অভিযোগ, রাজধানী দিল্লি থেকে আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সাগরে ফেলে দেওয়া হয় তাদের।
এমন অবস্থায় মিয়ানমারের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে এসব রোহিঙ্গা শরণার্থী আবারও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে। জাতিসংঘ বলছে, ভারত রোহিঙ্গাদের জীবনকে ‘চরম ঝুঁকির’ মুখে ঠেলে দিয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, গত ৯ মে সর্বশেষ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন নুরুল আমিন। ফোনালাপটি ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু ভয়ংকর সংবাদ বয়ে আনে। তিনি জানতে পারেন, তার ভাই খাইরুলসহ পরিবারের আরও চারজনকে ভারতের সরকার মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে। মূলত ওই দেশটি থেকে তারা বহু বছর আগে প্রাণভয়ে পালিয়ে এসেছিলেন।
বর্তমানে মিয়ানমার ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে, সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলকারী জান্তার বিরুদ্ধে লড়ছে জাতিগত গোষ্ঠী ও প্রতিরোধ বাহিনী। এমন পরিস্থিতিতে আমিনের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা কার্যত নেই বললেই চলে।
দিল্লিতে বসে ২৪ বছর বয়সী আমিন বলেন, “আমার বাবা-মা ও স্বজনেরা কী যন্ত্রণার মধ্যে আছেন, সেটা কল্পনাও করতে পারিনি”।

বিবিসি বলছে, তাদের দিল্লি থেকে সরিয়ে নেওয়ার তিন মাস পর বিবিসি মিয়ানমারে ওই রোহিঙ্গাদের খুঁজে পায়। বেশিরভাগই আশ্রয় নিয়েছেন বাহটু আর্মি (বিএইচএ)-এর কাছে। বিএইচএ মূলত একটি প্রতিরোধ গোষ্ঠী যারা দক্ষিণ-পশ্চিম মিয়ানমারে জান্তার সেনাদের বিরুদ্ধে লড়ছে।
ভিডিও কলে সৈয়দ নূর বলেন, “আমরা এখানে নিরাপদ নই। পুরো এলাকা যেন যুদ্ধক্ষেত্র”। কাঠের তৈরি ওই আশ্রয়ে তার সঙ্গে ছিলেন আরও ছয়জন রোহিঙ্গা।
শরণার্থীরা ও দিল্লিতে থাকা তাদের স্বজনদের ভাষ্য, বিশেষজ্ঞদের তদন্ত ও তথ্য জোগাড় করে বিবিসি ঘটনার ধারাবাহিকতা পুনর্গঠন করেছে।
তথ্য অনুযায়ী, তাদের দিল্লি থেকে বিমানে বঙ্গোপসাগরের একটি দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে নিয়ে শেষে আন্দামান সাগরে ফেলে দেওয়া হয়, যদিও লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছিল। পরে সাঁতরে তীরে ওঠেন তারা। এখন তারা মিয়ানমারে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। এই দেশটি থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিপীড়ন এড়াতে পালিয়ে এসেছেন বহু মুসলিম রোহিঙ্গা।

জন নামে এক রোহিঙ্গা ফোনে তার ভাইকে জানান, “আমাদের হাত বেঁধে, চোখ-মুখ ঢেকে বন্দির মতো জাহাজে তোলা হলো। তারপর সমুদ্রে ফেলে দিলো।”
ক্ষোভ প্রকাশ করে নুরুল আমিন বলেন, “মানুষকে কীভাবে এভাবে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া যায়? মানবতা পৃথিবীতে এখনও বেঁচে আছে, কিন্তু ভারতের সরকারের মধ্যে আমি কোনো মানবতা দেখিনি।”
মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ বলেন, এসব অভিযোগ প্রমাণের মতো “গুরুত্বপূর্ণ তথ্য” তার হাতে আছে। তিনি জেনেভায় ভারতের মিশন প্রধানের কাছে এ সংক্রান্ত প্রমাণও জমা দিয়েছেন, কিন্তু কোনো উত্তর পাননি।
বিবিসি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও বহুবার যোগাযোগ করেছে, কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি।

ভারতে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ। দেশটি তাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না; বরং ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করে। বর্তমানে ভারতে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধিত হলেও, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে প্রকৃত সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি।
২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ভয়াবহ অভিযানের পর লাখো রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি।
বিবিসি বলছে, চলতি বছরের ৬ মে দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় বসবাসরত ৪০ জন রোহিঙ্গাকে স্থানীয় থানায় ডেকে পাঠানো হয়। বলা হয়েছিল, সরকারনির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর তাদের শহরের ইন্দরলোক আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
আমিন জানান, সেই সময় তার ভাই ফোন করে জানায় তাদের মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং আইনজীবীর সাহায্য নিতে ও ইউএনএইচসিআরকে খবর দিতে বলেন। এরপর ৭ মে তাদের হিন্দন বিমানবন্দর থেকে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছে বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়। বাসগুলোর গায়ে লেখা ছিল “ভারতীয় নৌবাহিনী”।

সৈয়দ নূর বলেন, “বাসে উঠেই আমাদের হাত প্লাস্টিক দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়, আর মুখ কালো কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়”। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের নৌবাহিনীর একটি জাহাজে তোলা হয়। বড় যুদ্ধজাহাজটিতে তারা প্রায় ১৪ ঘণ্টা ছিলেন। খাওয়ানো হয়েছিল ভাত, ডাল আর পনির।
কিন্তু এ সময় অনেককে মারধর করা হয়, অপমান করা হয়। সৈয়দ নূর বলছেন, “আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেছে। কয়েকজনকে বারবার চড় মারা হয়, অনেককে মারধর করা হয়।”
ভিডিও কলে ফয়াজ উল্লাহ তার হাতে আঘাতের দাগ দেখান। তিনি জানান, তাকে ঘুষি, চড় মারা হয়েছিল, বাঁশ দিয়ে খোঁচানো হয়েছিল। জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—“ভারতে অবৈধভাবে কেন এসেছো?”
৪০ জনের মধ্যে ১৫ জন ছিলেন খ্রিস্টান রোহিঙ্গা। নূরের দাবি, তাদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কেন ইসলাম ছেড়ে খ্রিস্টধর্ম নিয়েছেন, কেন হিন্দু হননি। এমনকি তাদের খতনা হয়েছে কি না সেটিও পরীক্ষা করা হয়।

এমনকি তাদের মধ্যে একজনকে কাশ্মিরের পেহেলগাম হামলায় জড়িত বলে অভিযুক্ত করা হয়। অথচ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে এ ঘটনার কোনো সম্পর্কের প্রমাণ নেই।
এরপর ৮ মে সন্ধ্যায় তাদের ছোট ছোট রাবারের নৌকায় তুলে সমুদ্রে নামতে বাধ্য করা হয়। হাতে লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছেন। কিন্তু আসলে তারা ছিল মিয়ানমারে।
এরপর ৯ মে ভোরে স্থানীয় জেলেরা তাদের খুঁজে পান। জেলেরা তাদের ফোন ব্যবহার করতে দেন, সেখান থেকেই তারা ভারতে থাকা স্বজনদের খবর দেন। এরপর থেকে বাহটু আর্মি ওই রোহিঙ্গাদের খাবার ও আশ্রয় দিচ্ছে। কিন্তু ভারতে থাকা পরিবারগুলো তাদের ভাগ্য নিয়ে ভীষণ আতঙ্কে।
জাতিসংঘ বলেছে, ভারত রোহিঙ্গাদের আন্দামান সাগরে ফেলে দিয়ে তাদের জীবনকে “চরম ঝুঁকিতে” ফেলেছে।

এদিতে গত ১৭ মে নুরুল আমিনসহ তার এক আত্মীয় ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন, যেন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনা হয়, এভাবে নির্বাসনে পাঠানোর কাজ বন্ধ করা হয় এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
তবে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি অভিযোগগুলোকে “অবাস্তব কল্পনা” বলে মন্তব্য করেন। মামলার শুনানি স্থগিত হয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। তখন সিদ্ধান্ত হবে, রোহিঙ্গারা শরণার্থী নাকি অবৈধ অভিবাসী এবং তাদের ফেরত পাঠানো যাবে কি না।
ভারতের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মধ্যে এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে গা ঢাকা দিয়েছেন, কেউ কেউ আর বাসায় থাকেন না। নুরুল আমিন বলছেন, “আমার মনে শুধু ভয় কাজ করে, ভারত সরকার যে কোনো সময় আমাদেরও ধরে নিয়ে সমুদ্রে ফেলে দেবে। এখন আমরা ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছি।”
জাতিসংঘ থেকে অ্যান্ড্রুজ বলেন, “রোহিঙ্গারা ভারতে থাকতে চায়নি, তারা এসেছে মিয়ানমারের ভয়ংকর সহিংসতা থেকে পালিয়ে। তারা সত্যিই প্রাণ বাঁচাতে ছুটছে।”
নির্দিষ্ট অর্থে আজীবন থাকা, কাজ ও ব্যবসার সুযোগ দেবে সৌদি, যত টাকা লাগবে
বিদেশি পেশাজীবী ও বিনিয়োগকারীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য সুযোগ দিয়ে থাকে সৌদি আরব। মূলত রেসিডেন্সি পোগ্রামের আওতায় এ সুযোগ মেলে। যা ‘সৌদি গ্রিন কার্ড’ নামেও পরিচিত। এই প্রোগ্রামের আওতায় বিদেশি নাগরিকরা কোনো স্থানীয় স্পনসর বা কফিল ছাড়াই দেশটিতে বসবাস, কাজ এবং ব্যবসার সুযোগ পান। দেশটির ‘ভিশন ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী এবং বিদেশি মেধা ও বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করা।
এই প্রোগ্রামের সুবিধাগুলো কী কী?
যদি আপনি এ রেসিডেন্সি পোগ্রামে আওতায় যান তাহলে আপনি পাবেন—
- পরিবার নিয়ে সৌদি আরবে থাকার সুযোগ।
- নিজস্ব ব্যবসা শুরু করার বা যেকোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার স্বাধীনতা।
- সৌদিতে সম্পত্তি কেনা ও তার মালিকানা লাভের সুযোগ (তবে মক্কা, মদিনা ও সীমান্ত এলাকার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না)।
- নিজ দেশ থেকে অবাধে আসা-যাওয়ার সুবিধা।
- স্ত্রী ও সন্তানদের স্পন্সর করার সুযোগ।
রেসিডেন্সির প্রকারভেদ
এই প্রোগ্রামের অধীনে দুই ধরনের রেসিডেন্সি পাওয়া যায়—
স্থায়ী রেসিডেন্সি: এর জন্য এককালীন আপনাকে ৮ লাখ সৌদি রিয়াল ফি দিতে হবে। যা বাংলাদেশি অর্থে প্রায় ২ কোটি ৫৯ লাখ টাকার সমান। এই রেসিডেন্সির মেয়াদ আজীবন বৈধ থাকবে।
নবায়নযোগ্য রেসিডেন্সি: এর জন্য প্রতি বছর ১ লাখ সৌদি রিয়াল দিতে হবে। যা বাংলাদেশি অর্থে প্রায় ৩৩ লাখ টাকার সমান। এটি প্রতিবছর নবায়ন করা যাবে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
আবেদনের জন্য আপনার নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ করতে হবে—
- বয়স ২১ বছরের বেশি হতে হবে।
- নিজ দেশের বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে।
- শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে এবং কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড থাকা যাবে না।
- বৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হবে।
- আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ দেখাতে হবে।
কীভাবে আবেদন করবেন?
আবেদনের প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ—
- প্রথমে পিআর.গভ.এসএ (pr.gov.sa) এই অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে যান।
- সেখানে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অনলাইন ফর্মটি পূরণ করুন।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (যেমন: পাসপোর্ট, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, মেডিকেল রিপোর্ট) আপলোড করুন।
- অনলাইনেই নির্ধারিত ফি জমা দিন।
- আবেদনের অনুমোদন পেতে ১ থেকে ৩ মাস সময় লাগতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়:
- আপনি রেসিডেন্সি পেলেও আপনার সন্তানেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেসিডেন্সি পাবে না।
- মক্কা, মদিনা এবং সীমান্ত অঞ্চলের মধ্যে কোনো সম্পত্তি কেনা যাবে না।
- নবায়নযোগ্য রেসিডেন্সি সময়মতো নবায়ন করতে হবে।
সূত্র: সাচ.পিকে
মেক্সিকোতে মাংসখেকো পরজীবীর ভয়াবহ বিস্তার, ৫০৮৬ সংক্রমণ শনাক্ত
উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে প্রাণী ও গবাদিপশুর শরীরে মাংসখেকো পরজীবীর সংক্রমণ ব্যাপক পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। মেক্সিকোর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৫ হাজার ৮৬টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে; যা জুলাইয়ের তুলনায় ৫৩ শতাংশ বেশি।
বুধবার মেক্সিকোর সরকারি পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশটিতে প্রাণী ও পশুর শরীরে পরজীবী সংক্রমণের সক্রিয় ঘটনা রয়েছে ৬৪৯টি।
দেশটির গবাদি পশু সংরক্ষণে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ইস্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নীল উইলকিন্স বলেছেন, গবাদিপশু ও অন্যান্য প্রাণীর শরীরে মাংসখেকো পরজীবীর সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার এই ঘটনা একেবারেই উদ্বেগজনক। এক মাসের ব্যবধানে সংক্রমণ ৫০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি সেটি পরিষ্কার।
দেশটিতে মাংসখেকো পরজীবীর বেশিরভাগ সংক্রমণ গরুর মধ্যে শনাক্ত হলেও কুকুর, ঘোড়া ও ভেড়ার মধ্যেও এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই পরজীবী উষ্ণ রক্তের প্রাণীর শরীরের মাংস খেয়ে ফেলে। একই সঙ্গে গোচারণভূমি ধ্বংস ও বন্যপ্রাণীর জন্যও হুমকিও তৈরি করতে পারে এই পরজীবী।
এর আগে, ২০২৩ সালে মধ্য-আমেরিকায় প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে মেক্সিকোর দিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে স্ক্রুওয়ার্ম নামের এক ধরনের মাংসখেকো পরজীবী কৃমিকীট। যুক্তরাষ্ট্রেও ইতোমধ্যে এই পরজীবীর সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। মার্কিন খামারিরা এ নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ গবাদি পশু উৎপাদনকারী রাজ্য টেক্সাসে এই পরজীবীর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে ক্ষতির পরিমাণ ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সেখানকার খামারিরা।
স্ত্রী স্ক্রুওয়ার্ম মাছি উষ্ণ রক্তের প্রাণীর ক্ষতস্থানে শত শত ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে লার্ভা বের হওয়ার পর তা ধারালো মুখ দিয়ে তাজা মাংস খেতে শুরু করে। এতে প্রাণী ও পশুর শরীরে বড় ধরনের ক্ষত তৈরি হয় এবং চিকিৎসা না পেলে শেষ পর্যন্ত আক্রান্ত প্রাণী মারা যায়।
এর আগে, গত রোববার রয়টার্সের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো মানবশরীরে এই পরজীবী শনাক্ত হয়েছে বলে জানায়। মেরিল্যান্ড রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি সম্প্রতি মধ্য-আমেরিকার দেশ এল সালভাদর ভ্রমণ করেছিলেন, সেখানেই এই মাংসখেকো পরজীবীতে আক্রান্ত হন তিনি।
দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) কয়েক সপ্তাহ আগে এই পরজীবীতে আক্রান্ত আরও এক রোগীকে শনাক্ত করেছে। তিনিও মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা। মধ্য আমেরিকা অঞ্চলের অপর দেশ গুয়েতেমালায় ভ্রমণে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। সিডিসি গত ৪ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে মানবশরীরে এই পরজীবীর সংক্রমণের বিষয়টি প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ বলেছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মেক্সিকোতে একটি প্রতিনিধি দল পাঠাবে ওয়াশিংটন। মেক্সিকো এই পরজীবীর উত্তরে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করবে মার্কিন ওই প্রতিনিধি দল।
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য