শিরোনাম
জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেল ইরান
জাতিসংঘের পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ও সহযোগিতা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এর ফলে সংস্থাটির সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেল তেহরান।
বুধবার (২ জুন) দেশটির গণমাধ্যম মেহের নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরমাণু সংস্থাটির সঙ্গে তার সরকারের সম্পর্ক স্থগিত করার জন্য আইন অনুমোদন করেছেন। এর আগে গত সপ্তাহে আইএইএ’র সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করার জন্য আইন পাস হয় ইরানের পার্লামেন্টে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর ইরানের পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে সংস্থাটির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা না থাকায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। এছাড়া দেশটির অভিযোগ ছিল, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিতে ইসরায়েলের হামলার পর কোনো নিন্দা বা প্রতিবাদ জানায়নি আইএইএ।
ভারতে মন্দিরে নামাজ পড়ায় মুসলিম কর্মচারী গ্রেপ্তার
ভারতে মন্দিরে নামাজ পড়ায় এক মুসলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ওই ব্যক্তির নাম আলী মোহাম্মদ। তিনি ওই মন্দিরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন। দেশটির উত্তর প্রদেশের বদায়ুঁ জেলায় এই ঘটনাটি ঘটেছে।
মূলত মন্দিরে নামাজ আদায়ের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার (১ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, উত্তর প্রদেশের বদায়ুঁ জেলার এক মন্দিরে নামাজ পড়ার দায়ে আলী মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই ব্যক্তি প্রায় ৩৫ বছর ধরে বদায়ুঁর দাতাগঞ্জ এলাকার পাপড় গ্রামে অবস্থিত ব্রহ্মদেব মন্দিরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন।
মূলত তিন মাস আগে ধারণ করা একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনাটি সামনে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, আলী মোহাম্মদ মন্দিরের ভেতরে নামাজ আদায় করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আলী মোহাম্মদ বলেন, “আমি গরু-গোবর পরিষ্কার করে নামাজ পড়েছিলাম। এটা আমার ভুল ছিল। আমি ক্ষমা চাইছি।”
এর আগে কখনও মন্দিরে নামাজ পড়েছেন কিনা পুলিশ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না, না। কেউ কেউ বলেছিল— যেহেতু আপনি এখানে কাজ করেন, চাইলে এখানে নামাজ পড়তে পারেন।”
পুলিশ কর্মকর্তা কেকে তিওয়ারি জানান, “একজন ব্যক্তি মন্দিরে নামাজ পড়ছিলেন, যার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। আমরা তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
এদিকে আলী মোহাম্মদের পরিবার এ ঘটনাকে অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেছে। তার পুত্রবধূ সায়েমা বলেন, “এই বিষয়টা তেমন কিছু না। মিথ্যা গুজব ছড়ানো হয়েছে। উনি পুরো জীবন মন্দিরেই কাটিয়েছেন।”
মন্দিরের পুরোহিত পরমাত্মা দাসও বিষয়টিকে বড় করে না দেখতে অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, “আলী মোহাম্মদ মানসিকভাবে কিছুটা দুর্বল। তিনি বহু ধর্মীয় স্থানে সেবা দিয়েছেন। গত ৩৫ বছর ধরে এই মন্দিরেই কাজ করছেন।”
বন্ধু মাস্কই এখন ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় শত্রু
- ট্রাম্পের ‘বিগ বিউটিফুল বিল’র বিরুদ্ধে ইলন মাস্ক
- যুক্তরাষ্ট্রে নতুন দল ‘আমেরিকান পার্টি’ গঠনের হুমকি
কয়েকদিন আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আতিথেয়তায় ছিলেন বিশ্বসেরা ধনকুবের টেসলা কর্তা ইলন মাস্ক। মার-এ-লাগোর রাজকীয় ডাইনিং টেবিলে বসে একসঙ্গে করেছেন নৈশভোজ। আলোচনায় এসেছে রাজনীতি, অর্থনীতি থেকে শুরু করে পারিবারিক গল্পও। একসময় ট্রাম্পের ‘সরকারি ব্যয় হ্রাস’ অভিযানে মাস্ক ছিলেন ঘরের ছেলে। বিশ্বাসভাজন দক্ষতার দূত। ট্রাম্পের শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন প্রায় ৪ মাস। অথচ হঠাৎ করেই বদলে গেল সম্পর্কের সমীকরণ। গলায় গলায় বন্ধুত্ব ছেড়ে এবার সম্মুখ সমরে নেমেছেন তারা। ট্রাম্পের ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ নিয়েই বেঁধেছে দ্বন্দ্ব।
ট্রাম্প বলছেন, এই বিল কর ও ব্যয় সংকোচন ও সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দেশের আত্মনির্ভরতা গড়ে তুলবে। অন্যদিকে, মাস্ক বলছেন, এ বিল অর্থনীতির গায়ে নতুন ঋণের দাগ বসাতে চলেছে। মাস্ক শুধু সমালোচনাই করেননি বরং, সিনেটরদের ধমকি দিয়ে বলেছেন, এই বিল পাশ হলে পর দিনই তিনি গঠন করবেন নতুন রাজনৈতিক দল- ‘আমেরিকান পার্টি’। অর্থাৎ দিন শেষে, বন্ধু মাস্কই হয়ে উঠলেন বড় শত্রু। ট্রাম্পও অবশ্য থেমে থাকেননি। কটাক্ষ করেন মাস্ককে বলেছেন, ‘ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি খাওয়া ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক! তার পুরো ব্যবসা দাঁড়িয়ে আছে করদাতাদের পয়সায়। ভর্তুকি বন্ধ হলে ওকে টেসলা ফ্যাক্টরি নয়, লাগেজ গুছিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যেতে হবে।’ বন্ধুত্ব থেকে শত্রুতার এই দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মার্কিন রাজনীতি। এএফপি, সিএনএন, আলজাজিরা, সিবিএস।
মঙ্গলবার (স্থানীয় সময় সোমবার) ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেট বিল নিয়ে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে চলেছে এ ‘ভোট-এ-রামা’। সিনেটররা একের পর এক ভোটে অংশ নেন। ফলাফল কবে নাগাদ হতে পারে তা এখনো নিশ্চিত করেনি দেশটি। তবে ট্রাম্প ৪ জুলাইয়ের মধ্যে বিলটিতে স্বাক্ষর করে সেটিকে আইনে পরিণত করতে চান। আর এই নিয়েই মূলত রেষারেষি। একের পর এক তোপ ছাড়ছেন ইলন। ট্রাম্প প্রশাসনের পদ ছাড়ার সময় (৩০ মে) নিজেকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বললেও সোমবার আবারও রাজনীতিতে সরব হয়ে উঠেন মাস্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই মার্কিন ধনকুবের লিখেছেন, ‘যেসব কংগ্রেস সদস্য সরকারের খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন, আর পরে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঋণ বৃদ্ধির প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তাদের উচিত লজ্জায় মাথা নিচু করে থাকা। আর আমি যদি এই পৃথিবীতে আমার শেষ কাজ হিসাবেও কিছু করি তাহলেও নিশ্চিত করব যে, তারা যেন পরবর্তী নির্বাচনে প্রাথমিক বাছাইয়েই হেরে যান।’ এর কিছুক্ষণ পরে মাস্ক আরেকটি পোস্টে লিখেছেন, ‘ট্রাম্পের বিগ বিউটিফুল বিল’ সিনেটে পাস হলে ‘আমেরিকা পার্টি’ নামের নতুন দল গঠন করবেন তিনি। মাস্কের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান মিলিয়ে একদলীয় শাসন চলছে। দেশটিতে এমন একটা নতুন রাজনৈতিক দল দরকার, যেখানে সাধারণ মানুষের সত্যিকারের কণ্ঠস্বর শোনা যাবে।
মাস্ক আরও বলেছেন, ‘এই বিলের আওতায় পাগলাটে খরচের কারণে ঋণের পরিমাণ বেড়ে রেকর্ড ৫ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছাবে। এতেই স্পষ্ট হয় যে আমরা এখন একটা ‘একদলীয়’ দেশে বসবাস করছি। যেটাকে বলা যায় ‘পর্কি পিগ পার্টি!’ যেখানে জনগণের প্রকৃত কোনো কণ্ঠ নেই। এখন এমন একটা নতুন রাজনৈতিক দল গড়ার সময় এসেছে, যারা সত্যিকারভাবেই মানুষের কথা ভাববে।’
মাস্ক দাবি করেছেন, বিলটি দেশের ঋণ বাড়িয়ে দেবে, সবুজ জ্বালানি প্রকল্প ব্যাহত করবে এবং অতীতের শিল্পগুলোকে সুবিধা দেবে। যেগুলো ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর। মাস্কের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন সিনেটে ট্রাম্পের এই বিল নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। এই বিল নিয়ে মাস্কের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্ক এখন বেশ তিক্ত।
পালটা গলা ছেড়েছেন ট্রাম্পও। মঙ্গলবার (সিনেটের বাজেট ভোটাভুটির মধ্যেই) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ইলনের ‘ফুলেফেঁপে কলাগাছ’ হয়ে ওঠার গোমড় ফাঁস করেন। বলেন, ‘ইলন যে পরিমাণ সরকারি ভর্তুকি নিচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগে কেউ কখনও এত পরিমাণ ভর্তুকি পায়নি। সব ভর্তুকি বন্ধ করে দিলে তাকে ব্যবসা গুটিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যেতে হবে।’
ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, মাস্কের ব্যবসায় নজর দেওয়ার জন্য ডজকে কাজে লাগানো যেতে পারে। তিনি আরও লেখেন, ‘আর কোনো রকেট উৎক্ষেপণ, স্যাটেলাইট বা ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদন নয়। এতে আমাদের দেশের বিরাট অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হবে। হয়তো ডজকে বলা উচিত, এগুলো নিয়ে ভালো করে তদন্ত করুক। প্রচুর অর্থ বাঁচানো যাবে।’ জবাবে আবার মাস্ক বলেছেন, ‘সব ভর্তুকিই তুলে নিন। এখনই বন্ধ করুন।’
প্রসঙ্গত, বিলটিতে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের কর ছাড়গুলো স্থায়ী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, সীমান্ত নিরাপত্তা ও ‘অবৈধ’ অভিবাসী ফেরতের কর্মসূচিতে অর্থায়নের কথাও বলা হয়েছে। তবে এর সমালোচকরা বলছেন, এটি দেশের ঋণ কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার বাড়াবে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে ব্যাপক কাটছাঁট করতে বাধ্য করবে।
গত বছর অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের পক্ষে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি খরচ করেছেন মাস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, ইলন মাস্কের রাজনৈতিক কার্যনির্বাহী কমিটি ‘আমেরিকা পিএসি’ সর্বশেষ মার্চ মাসে ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত দুটি বিশেষ নির্বাচনের জন্য অর্থ দিয়েছে। র্যান্ডি ফাইন ও জিমি পেট্রোনিস নামের দুই রিপাবলিকান প্রার্থী ওই অর্থ সহায়তা পেয়েছেন। মাস্ক দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া, অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো এবং অবৈধ অভিবাসন বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। যা ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নীতি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় বসার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সির (ডিওজিই) প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিলকে’ নিজের রাজনৈতিক জীবনের বড় সাফল্য হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে চান। বিলটি পাস হলে তার প্রথম মেয়াদে দেওয়া কর ছাড়ের মেয়াদ বাড়বে। যার মূল্য প্রায় সাড়ে ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তাও জোরদার হবে। তবে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে রিপাবলিকানদের মধ্যেই এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কারণ, বিলটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ বেড়ে যাবে এবং লাখ লাখ দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ইলন মাস্ককে দেশছাড়া করার হুমকি ট্রাম্পের
ট্যাক্স ও বাজেট বিল নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ানোয় বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ককে তার নিজ জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকায় ফেরত পাঠানোর ‘হুমকি’ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাস্ক বর্তমানে মার্কিন নাগরিক হলেও; তার জন্ম হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়। এরপর তিনি কানাডায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দেশটির নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। ওই সময় তাকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন মাস্ককে কি তার জন্মভূমিতে ফেরত পাঠানো হবে? জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এ বিষয়টি দেখব। আমাদের ইলনের ওপর ডিওজিই প্রয়োগ করতে হবে। আপনারা জানেন ডিওজিই কি? এটি হলো সেই দানব যেটির ফিরে যেতে হবে, যা ইলনকে খাবে। এটি কি ভয়ানক হবে না?”
এ সময় ট্রাম্প আবারও বলেন, ইলন মাস্কের মালিকানাধীন কোম্পানি মার্কিন সরকারের কাছ থেকে অনেক ভর্তুকি পায়।
গত ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ট্রাম্প। এরপর ডিওজিই নামে নতুন একটি দপ্তর খোলেন তিনি। যেটির কাজ ছিল সরকারের ব্যয় হ্রাস করা। আর এই দপ্তরের প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছিলেন ইলন মাস্ক। কিন্তু তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ট্যাক্স ও বাজেট বিলের সমালোচনা শুরু করেন। যা প্রকাশ্য রূপ নেয়। এরপর থেকেই ট্রাম্প ও ইলন মাস্কের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। যার প্রভাবে ট্রাম্প মঙ্গলবার ইলন মাস্কের কোম্পানির ভর্তুকি বন্ধের হুমকি দেন। এর জবাবে মাস্কও বলেন, সরকার সব ভর্তুকি বন্ধ করে দিক।
এরপরই ট্রাম্প সরাসরি বললেন, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিকে তার নিজ জন্মভূমিতে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি দেখবেন তিনি।
এদিকে মঙ্গলবার ইলন মাস্ক প্রথমে হুমকি দেন, যেসব রিপাবলিকান ট্রাম্পের ট্যাক্স ও বাজেট বিলে সমর্থন জানাবেন, তাদের বিরুদ্ধে মিডটার্ম নির্বাচনে কাজ করবেন তিনি।
এরপরই ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যম ট্রুথে একটি পোস্ট করেন। সেখানে বেশ কড়া ভাষায় তিনি লেখেন, “ইতিহাসে ইলন মাস্ক সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি পায়। ভর্তুকি ছাড়া ইলনকে সম্ভবত তার সব দোকান বন্ধ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যেতে হবে।” তিনি আরও লেখেন, “(স্পেসএক্সের) আর কোনো রকেট, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হবে না। অথবা বৈদুতিক (গাড়ি) উৎপাদন হবে না। আর আমাদের দেশ বিপুল অর্থ বাঁচাতে পারবে। সম্ভবত ডিওইজির এ বিষয়টি কঠোরভাবে দেখা উচিত। বৃহৎ পরিমাণ অর্থ বাঁচবে।”
সূত্র: ইউএসএ টুডে
ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের ঘোষণা স্পেনের স্টিল কোম্পানির
স্পেনের বিখ্যাত স্টিল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিডেনর ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
মূলত ইউরোপে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের সবচেয়ে কড়া সমালোচক দেশগুলোর মধ্যে স্পেন অন্যতম এবং দেশটির সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে কোম্পানিগুলোকে উৎসাহ দিচ্ছে।
বুধবার (২ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
এর আগে গত মাসে আয়ারল্যান্ডের প্রকাশনা সংস্থা দ্য ডিচ একটি প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে শুরু করে টানা ১০ মাসে সিডেনর ইসরায়েলি অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আইএমআই সিস্টেমস-এর কাছে ১ হাজার ২০৭ টন স্টিল বার রপ্তানি করেছে।
তবে এখন ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ স্টিল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাত বাস্কভিত্তিক সিডেনর ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইসরায়েলের কাছে আর কোনো স্টিল পণ্য বিক্রি করবে না।
স্পেনের গণমাধ্যম কাদেনা সের-এর বরাতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করার ফলে কোম্পানির আর্থিক ক্ষতি খুবই সামান্য হবে, কারণ দেশটির বাজার থেকে সিডেনরের মোট বিক্রির ০.৫ শতাংশেরও কম আসে।
সিডেনর জানায়, এই সিদ্ধান্ত স্পেন সরকারের আহ্বানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ স্পেন সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে কোম্পানিগুলোকে উৎসাহ দিচ্ছে।
স্পেনের ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী পাবলো বুস্তিন্দুই বলেন, “সিডেনর সামাজিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে”। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্লুস্কাই-তে তিনি আরও জানান, “আমরা এখনও স্পেনের ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রধানের কাছ থেকে সেই অনুরোধের জবাব পাইনি, যেখানে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, ইসরায়েলের দখলদারিত্ব, বর্ণবৈষম্য এবং ফিলিস্তিনি জনগণের গণহত্যায় জড়িতদের সঙ্গে সব ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।”
স্পেন সরকার জানিয়েছে, তারা গাজায় ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ করেছে। তবে বিভিন্ন তদন্তে দেখা গেছে, কিছু পুরোনো চুক্তি এখনো চালু রয়েছে।
ইউরোপে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের সবচেয়ে কড়া সমালোচক দেশগুলোর মধ্যে স্পেন অন্যতম। গাজায় এই আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৫৬ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখো মানুষ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন।
২০২৩ সালে স্পেন ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আর চলতি সপ্তাহেই স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করেনি, যা দুঃখজনক।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য