ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিলেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য

অনলাইন ডেস্ক
২৫ জুন, ২০২৫ ১৬:১২
অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিলেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন দেশটির একজন কংগ্রেস সদস্য।

নরওয়ের নোবেল কমিটিকে পাঠানো এক চিঠিতে মার্কিন রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য আর্ল ‘বাডি’ কার্টার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এ মনোনয়ন দেন। খবর আরটির।

তিনি বলেন, ‘পশ্চিম জেরুজালেম ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভূমিকাটি ‘অসাধারণ ও ঐতিহাসিক।’

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েকদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানে পারমাণবিক স্থাপনায় নজিরবিহীন বিমান হামলা চালায়। এসময় ট্রাম্পের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

তবে তেহরান বলেছে, তাদের কোনো স্থাপনাই ধ্বংস হয়নি ও তাদের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালালেও দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির মূল অংশ ধ্বংস হয়নি বলে প্রাথমিক এক মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে বলা হয়েছে। এতে কর্মসূচিটি কয়েক মাসের জন্য পেছানো হয়েছে মাত্র।

বুধবার এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন। সিএনএন বলছে, সাতটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এই মূল্যায়ন এর আগে প্রকাশিত হয়নি।

এই মূল্যায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের যুদ্ধপরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্প ওই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েল ও ইরান আবারও একে অপরকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এরপরই উভয় পক্ষকে কড়া ভাষায় তিরস্কার করেন ট্রাম্প। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এ ঘটনার পর ইসরায়েল আর নতুন করে হামলায় যায়নি।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    বলছেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান

    ইরানের পরমাণু ভাণ্ডারে আঘাত করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৫ জুন, ২০২৫ ১৫:৫০
    অনলাইন ডেস্ক
    ইরানের পরমাণু ভাণ্ডারে আঘাত করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে নিজেদের বিজয় ঘোষণা করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের “অস্পষ্ট শব্দ” ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একজন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য।

    বিবিসির সাথে সাক্ষাৎকারে ডেমোক্র্যাট ব্র্যাড শেরম্যান বলেছেন, ইরান এখনও তাদের মজুদ ধরে রেখেছে যা প্রায় “নয়টি পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য যথেষ্ট”।

    তিনি আরও বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য জরুরি সেন্ট্রিফিউজগুলো যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস করতে পেরেছে এমন কোনও ইঙ্গিত হোয়াইট হাউস থেকে এখনও পাওয়া যায়নি।

    তবে ইরানের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস না হওয়ার খবর আবারও নাকচ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যদিও ফাঁস হওয়া গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন হামলায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস হয়নি।

    এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “নিখুঁতভাবে” আঘাত হেনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো তাদের প্রতি “অত্যন্ত অসম্মানজনক” যারা এই হামলা চালিয়েছে।

    এর আগে, এই হামলাকে “ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সামরিক হামলাগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখ করে এটিকে অবজ্ঞা করার” চেষ্টার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সংবাদমাধ্যমগুলোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প।

    মূলত সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন গণমাধ্যম এবং তাদের প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    তিনি বলেন, “ভুয়া খবর সিএনএন, ব্যর্থ নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাথে এক হয়ে, ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সামরিক হামলাগুলোর মধ্যে একটিকে খাঁটো করে দেখানোর চেষ্টা করছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে! টাইমস এবং সিএনএন উভয়ের সমালোচনা করছে জনগণ!”

    ট্রাম্প প্রশাসন সেই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে চাপ অব্যাহত রেখেছে যেখানে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর মার্কিন হামলা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে পারেনি। বিবিসি বাংলা

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ইরানে ট্রাম্পের হামলায় সমর্থন নেই বেশিরভাগ আমেরিকানদের: সিএনএন জরিপ

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৫ জুন, ২০২৫ ১৫:৯
      অনলাইন ডেস্ক
      ইরানে ট্রাম্পের হামলায় সমর্থন নেই বেশিরভাগ আমেরিকানদের: সিএনএন জরিপ

      ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে হঠাৎ যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানোর ঘটনা সমর্থন করছেন না বেশির ভাগ মার্কিন নাগরিক। সিএনএন/এসএসআরএসের সাম্প্রতিক এক জরিপে এই তথ্য ওঠে এসেছে। কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলার আগে জরিপটি করা হয়েছে।

      জরিপ অনুযায়ী, ৫৬ শতাংশ আমেরিকান এই হামলার বিরোধিতা করেছেন। তবে তার হামলাকে সমর্থন করেছেন ৪৪ শতাংশ নাগরিক। ‘জোরালোভাবে বিরোধিতা’ করা মানুষের সংখ্যাও ‘জোরালোভাবে সমর্থনকারীদের’ তুলনায় বেশি। ৬০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করছেন, এই হামলা ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হুমকি আরও বাড়িয়ে তুলবে।

      জরিপে দেখা গেছে, দলীয় বিভাজন ব্যাপকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে এই জরিপে। ডেমোক্র্যাটদের ৮৮ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র ভোটারের ৬০ শতাংশ হামলার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে রিপাবলিকানদের ৮২ শতাংশ এর পক্ষে ভোট দেন। যদিও রিপাবলিকানদের মধ্যেও বিভাজন রয়েছে। ৪৫ বছরের নিচের সমর্থকরা হামলার বিষয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি সন্দিহান।

      হামলার বিরোধিতায় সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নিচ্ছে তরুণ আমেরিকানরা। ৩৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ৬৮ শতাংশই হামলার বিরোধিতা করছেন এবং ৪৫ শতাংশ একেবারেই ট্রাম্পের উপর আস্থা রাখছেন না বলে জানিয়েছেন।

      জরিপ অনুযায়ী, আমেরিকানদের মাত্র ৩২ শতাংশ মনে করেন, ইরানে সামরিক হামলার আগে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যথেষ্ট ছিল।

      এছাড়া, ৫৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, ইরানে সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ওপর তাদের সামান্য বা কোনো আস্থাই নেই। ৬৫ শতাংশ মনে করেন, ভবিষ্যতে ইরানে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ট্রাম্পের কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া উচিত।

      জরিপে অংশ নেওয়া রিপাবলিকানদের মধ্যে ৫১ শতাংশ ট্রাম্পের ওপর ‘মোটামুটি আস্থা’ রাখেন, তবে ৩৯ শতাংশ মনে করেন, ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপ নিতে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া দরকার। তবে ৩৮ শতাংশ মনে করেন, সেটি প্রয়োজন নেই।

      এদিকে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়ে মাত্র ৯ শতাংশ জনগণ পক্ষে অবস্থান করছেন। আর বিপক্ষে ৬৮ শতাংশ নাগরিক।

      এই জরিপটি পরিচালনা করা হয় গত রোববার ও সোমবার। ইরানের পাল্টা হামলার আগে এবং ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার আগেই অধিকাংশ সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হয়।

      জরিপে অংশ নেওয়া ৮০ শতাংশই জানিয়েছেন, তারা ইরানে মার্কিন হামলার খবর ‘কমবেশি’ জেনেছেন, যদিও মাত্র এক-তৃতীয়াংশ খুব ঘনিষ্ঠভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন বলে জানিয়েছেন।

      সিএনএনের এই ফলাফল বলে দিচ্ছে- ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্কিন জনগণের মধ্যে গভীর বিভাজন ও সন্দেহ বিরাজ করছে। বিশেষ করে তরুণ ও স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        শহীদ কমান্ডারদের জানাজা কখন, জানাল ইরান

        অনলাইন ডেস্ক
        ২৫ জুন, ২০২৫ ১৪:১৪
        অনলাইন ডেস্ক
        শহীদ কমান্ডারদের জানাজা কখন, জানাল ইরান
        ছবি: বার্তা সংস্থা তাসনিম

        সাম্প্রতিক ইসরাইলি আগ্রাসনে শহীদ হওয়া ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সম্মানে একটি ‘জাতীয় জানাজা’ শনিবার তেহরানে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সাধারণ জনগণ, সরকারি কর্মকর্তা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করবেন।

        কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা তাসনিম বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

        এতে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, গত ১৩ জুন ইসরাইল বিনা উসকানিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। তারা ইরানের পারমাণবিক, সামরিক ও আবাসিক স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলা চালায়। যার ফলে ৬০০-এরও বেশি ইরানি নাগরিক শহীদ হন। যাদের মধ্যে ছিলেন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার, পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং সাধারণ নাগরিক।

        ইসরাইলি হামলায় শহীদদের মধ্যে ছিলেন-

        • ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসেইন বাকেরি,
        • আইআরজিসি’র কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি,
        • খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলাম আলি রাশিদ,
        • আইআরজিসি এরোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আমির আলী হাজিজাদেহ এবং
        • বেশ কয়েকজন শীর্ষ পারমাণবিক বিজ্ঞানী।

        ইসরাইলি আগ্রাসনের পরপরই ইরানি সামরিক বাহিনী পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে। অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৩ এর আওতায় আইআরজিসি’র এরোস্পেস ফোর্স ২২ দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। যা অধিকৃত অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায় এবং ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতির জন্য বাধ্য করে।

        এদিকে প্রতিবেদনে বলা হয়, মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি ও তার দপ্তরের প্রধান জেনারেল মাসউদ শানেয়ি-এর লাশ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তাদের নিজ শহর গোলপায়েগানে দাফন করা হবে।

        এছাড়া, শনিবার সকাল ৮টায় তেহরানে শহীদ কমান্ডারদের সম্মানে জাতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় শোক র‌্যালি তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেট থেকে শুরু হয়ে আজাদি স্কয়ার পর্যন্ত যাবে। এতে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          ইরানে যেভাবে ব্যর্থ হলো ইসরায়েল

          অনলাইন ডেস্ক
          ২৫ জুন, ২০২৫ ১৪:৪
          অনলাইন ডেস্ক
          ইরানে যেভাবে ব্যর্থ হলো ইসরায়েল

          টানা ১১ দিন ধরে ইরানের ওপর লাগাতার বিমান হামলার পর ইসরায়েল আদৌ কী অর্জন করল? যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, “লক্ষ্য পূরণ হয়েছে”। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।

          যুদ্ধ শুরুর সময় নেতানিয়াহু তার দুটি উদ্দেশ্যের কথা ঘোষণা করেছিলেন। আর তা হলো— ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ধ্বংস করা এবং ইরানে সরকার পরিবর্তন বা ‘রেজিম চেঞ্জ’।

          পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস হয়নি

          ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কি ধ্বংস করতে পেরেছে ইসরায়েল? উত্তরটি সম্ভবত “না”। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগেই ইরান সম্ভবত অত্যন্ত সুরক্ষিত ও ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ফোর্দোতে থাকা গোপন ফিসনযোগ্য পদার্থ সরিয়ে নেয়, যা ছিল দেশটির পুরো পারমাণবিক কর্মসূচির প্রধান বা মূল বিষয়। ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ‘ডিক্যাপিটেশন’ বা মাথা কেটে ফেলা হয়নি বলেই ধরে নেওয়া যায়।

          ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিল, যাতে তারা ‘ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর’ (এমওপি) ব্যবহার করে বাংকার ধ্বংসকারী হামলা চালায়। তবে এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সক্রিয় সহায়তা দেয়নি ইসরায়েলকে।

          এখন পর্যন্ত এই হামলায় আসলেই কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন অসম্ভব। কারণ ইরান আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দিচ্ছে না। 

          সরকার পতনের চেষ্টাও ব্যর্থ

          ইসরায়েল কি ইরানে “শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন” আনতে পেরেছে? এর সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো, তারা অনেকটা বিপরীত ফল অর্জন করেছে। ইরানের বিভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামোর সামরিক নেতাদের হত্যা করে ইসরায়েল ইরানি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করার চেষ্টা করেছিল।

          ইসরায়েল বিশ্বাস করে, শীর্ষ নেতাদের হত্যা করলেই শত্রুপক্ষ দুর্বল হয়ে পড়ে। সেই কৌশলেই তারা ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ নেতাদের হত্যা করেছে। অথচ এই বাহিনী অনেক ইরানির অপছন্দের হলেও ইসরায়েলের এই হামলার সময় সাধারণ মানুষই সরকারের পাশে দাঁড়ায়।

          দেশের ওপর আঘাত এসেছে—এই উপলব্ধি থেকেই বিরোধীরাও সরকারকে সমর্থন করে। এছাড়া এভিন কারাগারে হামলা করে ইসরায়েল দাবি করেছিল, তারা রাজনৈতিক বন্দিদের সাহায্য করছে। বাস্তবে এতে বন্দিদের অবস্থা আরও খারাপ হয়, কারণ অনেককে গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

          এছাড়া এই ধরনের কৌশল কখনোই কাজ করেনি। একমাত্র সম্ভাব্য ব্যতিক্রম ছিল হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যুর ফলে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ওপর সৃষ্ট প্রভাব, কিন্তু এর সাথে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিশীলতার অনেক সম্পর্ক ছিল। অন্য সব ক্ষেত্রে, ইসরায়েলের চালানো হত্যাকাণ্ড কোনও বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

          অন্যদিকে ‘ইসরায়েল ডুমসডে ক্লক’ বা ঘড়ি ধ্বংস, কিংবা ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি ভবনে হামলার মতো প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক মহলে তেমন কোনো সমর্থন পায়নি। বরং এই ধরনের কর্মকাণ্ড বা হামলা কিছুটা হাস্যকরই ঠেকেছে।

          আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় হয়নি

          যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালালেও, তারা সরাসরি ইসরায়েলের যুদ্ধযাত্রায় শরিক হয়নি। মার্কিস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার পরপরই যুদ্ধবিমান ফিরিয়ে নেন এবং আবারও আলোচনার কথা বলেন— এমনকি ইসরায়েল-ইরান উভয়ের সঙ্গে।

          বিশ্বনেতারা ইসরায়েলের দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করেননি। কেউই বলেননি যে ইরান পুরোপুরি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ বন্ধ করুক। বরং সবাই আগের অবস্থানে ফিরে যান— ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে। ইরানও বলে এসেছে, তারা এই বোমা বানাতে চায় না।

          মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বৈধতা ও ব্যবসায়িক অবস্থান অটুট

          বিশ্বের দৃষ্টিতে ইরান এখনো একটি বৈধ পক্ষ। ইউরোপ, চীন বা ভারত— সবাই তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই ভারসাম্যে ইসরায়েলের জন্য এটি একটি কৌশলগত পরাজয়।

          ইসরায়েলে ক্ষয়ক্ষতি ও সংকট

          যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েল ইরানের ওপর দ্রুততার সাথে আকাশে প্রাধান্য বিস্তার করতে পারলেও, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বহুবার ইসরায়েলের ভেতরে আঘাত হানে, দেশব্যাপী আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে।

          এসময় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামূলক আয়রন ডোম সিস্টেম ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে পড়ে এবং দ্রুত মজুত ফুরিয়ে যেতে থাকে। এর ফলে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে। এটিও ইরানের জন্য একটি সফলতা।

          ইরান: বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হলেও স্থির

          ইসরায়েলের হামলায় ইরানে শত শত মানুষ হতাহত ও দেশটি পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও ইসলামি প্রজাতন্ত্র টিকে আছে। তেহরান ধসে পড়েনি। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভেদে সফল হয়েছে, বিশ্বে তারা ‘আক্রান্ত দেশ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

          মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার আগে তারা যে সতর্কবার্তা দিয়েছিল, সেটিও ছিল কৌশলগত সাফল্য। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে ট্রাম্পকে পর্যন্ত নেতানিয়াহুকে থামাতে ফোন করতে হয়।

          মোটকথা, ইসরায়েল চেয়েছিল ইরানকে দুর্বল করে দুনিয়াকে দেখাতে যে তারা সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের নায়ক। বাস্তবতা হলো, ইসরায়েল যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছে, কিন্তু ইরান এখনো দাঁড়িয়ে আছে। যদিও সামনে আরও সংঘাতের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

          কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় এই মতামত নিবন্ধটি লিখেছেন ওরি গোল্ডবার্গ। তিনি ইরান-ভিত্তিক রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক। তিনি একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত