শিরোনাম
অবৈধ অনুপ্রবেশ: ভারতে সাজাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৯ বাংলাদেশি
বৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে সাজাভোগ করে দেশে ফিরেছেন ভারতে পাচার হওয়া ৯ বাংলাদেশি নারী। শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা নারীরা হলেন- শিমা খাতুন, তন্নি, রোজিনা, সুলতানা, লামিয়া, আনোয়ারা খাতুন, সোনিয়া, শাহিরন ও জাহানারা বেগম। তারা দেশের কিশোরগঞ্জ, নারায়গঞ্জ, যশোর ও খুলনা জেলার বাসিন্দা।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ ভূঁইয়া জানান, ভালো কাজের আশায় ওই ৯ বাংলাদেশি নারী দুই বছর আগে দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতে যান। সেখানে তারা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করার সময় দেশটির পুলিশের হাতে আটক হন। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। সাজাভোগ শেষে রেসকিউ ফাউন্ডেশন নামে একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের ছাড়িয়ে নিজস্ব শেল্টার হোমে রাখে।
এই কর্মকর্তা আরও জানান, ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে শুক্রবার সকালে তারা দেশে ফিরেছেন। তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার ও রাইটস যশোর নামের দুটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার কর্মকর্তা আরিফা আক্তার ও রাইটস যশোর কর্মকর্তা তৌফিকুজ্জামান বলেন, ফেরত আসা নারীদের নিজস্ব শেল্টার হোমে রাখার পর তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সূত্র: ইউএনবি
ঢাবিতে শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগ নেতার নামে গরুর নাম দিলেন সৈকত
ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কবি জসীমউদ্দীন হলে স্বাধীনতা ভোজ উপলক্ষে আয়োজন করা গরুর নাম দেওয়া হয়েছে 'সৈকত'।
শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কবি জসীমউদ্দীন হলের ফটকে রাখা গরুর গায়ে সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে 'রিয়েল লাইফ গরু সৈকত' কথাটি। কবি জসীমউদ্দীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতকে ব্যঙ্গ করেই এমনটা করেছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
কবি জসীমউদ্দীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ফাইয়াজ রাইজিং ক্যাম্পাসকে বলেন, আমাদের হলে থাকতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত। সে রিয়েল লাইফ হিরো উপাধি প্রাপ্ত ছিল।তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর আমাদের ওপর ব্যাপক জুলুম নির্যাতন চালিয়েছে আমাদের জীবনটাকে বিষাদময় করে তুলেছেন।তাই স্বাধীন ক্যাম্পাসে তার বিরুদ্ধে এভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে নিজেদের মধ্যে আনন্দ প্রকাশ করছি।
আবুল বাসার নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, সৈকত অনেক ধর্মবিদ্বেষী ছিল। গত রমজানে প্রোডাক্টিভ রমাদানে ওর নেতৃত্বেই হামলা হয়। সৈকতের হলের হওয়াতে আমাদের অনেক বেশি প্রোগ্রাম করা লাগতো। ক্লাস থাকলেও আমাদের জোর করে প্রোগ্রামে নিয়ে যেত।যেখানে ১০ থেকে ১৫টা প্রোগ্রাম করতে হতো। পাশাপাশি গেস্টরুমতো ছিলই। তাই এখন মুক্ত ঢাবিতে আমরা তাকে এভাবে স্মরন করছি।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তানভীর হাসান সৈকত করোনার সময় জনসেবা করে জাতিসংঘ থেকে রিয়েল লাইফ হিরো উপাধি পান। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরপরই পাল্টে যায় তার চেহারা। শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, চাঁদাবাজি এমনকি নারী কেলেঙ্কারিসহ ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সবশেষ ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে তিনি ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দরে আটক হন।বর্তমানে রয়েছেন পুলিশি হেফাজতে।
লালবাগ কেল্লাকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা চলছে: আসিফ নজরুল
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, নজরদারির সময় এসেছে। প্রত্ন নিদর্শনের জায়গা বেদখলের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে লালবাগ কেল্লাকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা চলছে। শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে মুন্সিগঞ্জ সদরের ইদ্রাকপুর কেল্লা, বাবা আদম মসজিদসহ বিভিন্ন প্রত্ন নিদর্শন পরিদর্শনে এসে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় উপদেষ্টা বলেন, সপ্তাহের অন্যদিন ঘুরে দেখার সুযোগ হয় না। আমি চিন্তা করেছি শুক্রবার দেশের প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনগুলো ঘুরে দেখবো। এটি সারাদেশে এত বেশি মুন্সিগঞ্জের ইদ্রাকপুর কেল্লা রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ একটি কেল্লা রয়েছে। এছাড়া লালবাগ কেল্লাকে আমরা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চেষ্টা করছি। ভাবছি এখানে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কী কী আছে, তা নিজের চোখে না দেখলে সংরক্ষণের নীতিমালা ঠিক করা যাবে না। এ বিষয়ে আমাদের নজরদারির সময় এসেছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্ধার হওয়া নিদর্শন সেখানে রাখা সম্ভব হয় না। অনেকগুলোর জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব রয়েছে। যেসব জায়গা বেদখল হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিন সকালে মুন্সিগঞ্জ সদরের ইদ্রাকপুর কেল্লা, বাবা আদম মসজিদ, টঙ্গিবাড়ীর নাটেশ্বর বৌদ্ধবিহার, সোনারং জোড় মঠসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন সরেজমিন ঘুরে দেখেন ড. আসিফ নজরুল।
আন্দোলনে নারীদের ওপর হামলাকারীদের সন্ধান চান হাসনাত আবদুল্লাহ
জুলাই আন্দোলনে নারীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে নতুন বার্তা দিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
শুক্রবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি নতুন পোস্ট করেন তিনি।
ওই পোস্টে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে হাসনাত আব্দুল্লাহ লিখেছেন, শুক্র-শনি দুই দিন নারীদের ওপর হামলাকারীদের সন্ধান দিন।
পোস্টটির কমেন্টে গিয়ে তিনি আরও লেখেন, জুলাই বিপ্লবে নারীদের ওপর হামলার বিভিন্ন ঘটনা বা ছবি শেয়ার করুন আজকে। এই হ্যাশট্যাগ ও জনসংযোগ কর্মসূচি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে নারীদের ওপর হওয়া জুলুমের প্রতিবাদ গড়ে তুলতে সহায়তা করুন।
জানা যায় যে, গত ১৫ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশে হামলা করেছিল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে ছাত্রলীগের হামলায় অন্তত ৫০ জন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আহত হন। আহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কয়েকজন।
এ সময় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নয়, দেশজুড়েই এ হামলা চালানো হয়।
এছাড়াও কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে আন্দোলনরত রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। গত ১৫ জুলাই দুপুরে ইডেন কলেজের বকুলতলায় ওই ঘটনা ঘটে।
পাঠ্যপুস্তক সংশোধন কমিটিতে ইসলামি বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি
ঢাবি প্রতিনিধি : জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক প্রণীত ও মুদ্রিত সব পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত সমন্বয় কমিটিতে কোনো ইসলামি বিশেষজ্ঞ না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সেমিনার কক্ষে বিভাগটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এক মতবিনিময় সভায় এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
এ সময় উক্ত বিভাগ থেকে ২ জন,আরবি সাহিত্য বিভাগ থেকে ২ জনসহ মোট ৪ জন ইসলামি বিশেষজ্ঞকে অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি পুনর্গঠন করার দাবি জানান তারা। অন্যথায় যথাযথভাবে পরিমার্জন ও ইসলামি মূল্যবোধবিরোধী উপাদান পরিমার্জন সম্ভব হবে না মর্মে অভিমত ব্যক্ত করেন তারা।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. ছানাউল্লাহর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত কমিটিতে কোনো ইসলামি বিশেষজ্ঞ না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূলধারার সকল স্তরে (প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়) ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার জোর দাবি জানানো হয়।
বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শফিক আহমেদ বলেন, এনসিটিবি কর্তৃক গঠিত কমিটিতে কোনো ইসলামি বিশেষজ্ঞ রাখা হয়নি। বিষয়টি ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য সত্যিই উদ্বেগজনক।
বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের ছাত্র মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের আমলে পাঠ্যপুস্তকে অনেক অনৈসলামিক উপায়, উপাদান সংযুক্ত করা হয়েছিল এবং তা নিয়ে দেশের সর্ব মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে সংগতি রেখে পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জনের জন্য ইসলামি বিশেষজ্ঞের কোনো বিকল্প নেই।
আরেক শিক্ষার্থী মো. হাসান তারেক খান বলেন, এনসিটিবি কর্তৃক গঠিত কমিটিতে বিজ্ঞ ইসলামিক ব্যক্তিত্বের অনুপস্থিতি কমিটির কার্যক্রমকে বিতর্কিত করবে।
ৎপ্রসঙ্গত, গত ১৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব (সরকারি মাধ্যমিক-২) মো. ইয়ানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জনে ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি সমন্বয় কমিটি দেওয়া হয়। সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক করা হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. খম কবিরুল ইসলামকে এবং সদস্যসচিব করা হয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইয়ানুর রহমানকে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন শিক্ষা গবেষক রাখাল রাহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর কামরুল হাসান মামুন, ঢাবির বাংলা বিভাগের প্রফেসর ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম, ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর সামিনা লুৎফা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাসুদ আখতার খান, এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান, এনসিটিবি শিক্ষাক্রমের সদস্য প্রফেসর রবিউল কবীর চৌধুরী এবং এনসিটিবি প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের সদস্য প্রফেসর এ এফ এম সারোয়ার জাহান।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য