শিরোনাম
আতঙ্ক ছড়ানো ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২১, নতুন আক্রান্ত ২৫১
মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরও ২৫১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ২০৩ জন এবং ঢাকার বাইরে ৪৮ জন চিকিৎসাধীন আছেন।
আজ বুধবার (৩১ আগস্ট) সারাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য ইউনিটের (এমআইএস) ইনচার্জ ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ৭৮৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৭৫ জন এবং ঢাকার বাইরে অন্যান্য বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১০৯ জন।
এতে জানানো হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ছয় হাজার ১৮১ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ৯১ জন এবং ঢাকার বাইরে এক হাজার ৯০ জন।
একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন পাঁচ হাজার ৩৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী। ঢাকায় ছাড়প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা চার হাজার ৪০৬ জন ও ঢাকার বাইরে ৯৭০ জন।
প্রসঙ্গত, সাধারণত বর্ষাকালে প্রতি বছর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। ২০১৯ সালে ডেঙ্গু জ্বরে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীসহ প্রায় ৩শ’ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আক্রান্ত হয়েছিল এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন। আর গত বছর এ রোগে মারা গেছেন ১০৫ জন এবং আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন।
ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ের যত্নে করণীয়
ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের জটিলতাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পায়ে ক্ষত ও পচন বা ডায়াবেটিক ফুট৷ পায়ের যত্নে অবহেলার ফলে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীরা প্রায়ই এসব সমস্যায় ভোগেন৷ কখনও কখনও চিরতরে হারাতে হয় পা, বরণ করতে হয় পঙ্গুত্ব৷ অনেক ডায়াবেটিক রোগী পায়ের যত্নে উদাসীন এবং একটি বড় অংশ জানেনই না, কীভাবে পায়ের যত্ন নিতে হয়৷
পায়ের যত্ন
ডায়াবেটিক রোগীদের পা সুস্থ রাখতে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। নিচে তা তুলে ধরা হলো।
১. প্রতিদিন কুসুম গরম পানি দিয়ে দুই পা ভালোভাবে ধৌত করা।
২. আঙ্গুলের ফাঁকসহ পুরো পা ভালোভাবে মুছে নেওয়া।
৩. পায়ের উভয় পাতায় ময়েশ্চারাইজিং লোশন ব্যবহার করুণ (আঙ্গুলের ফাঁক ব্যতীত)।
৪. সর্বদা পায়ের সাইজ অনুযায়ী জুতা পরিধান করুণ৷ কখনও খালি পায়ে হাঁটবেন না৷
৫. পা উষ্ণ ও শুকনো রাখতে মোজা ব্যবহার করুন৷ জুতা পরার আগে দেখে নিন, জুতার ভিতরে কোন পাথর-নুড়ি বা অন্য বস্তু আছে কিনা এবং জুতা মসৃণ কিনা৷
৬. পায়ের নখ ছোট ও মসৃণ রাখুন৷
৭. প্রতিদিন নিজেই পা পরীক্ষা করুন৷ দেখুন কোন কাঁটা-ছেড়া, ফাটা ও ক্ষত বা ঘা আছে কিনা৷ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন৷
৮. পায়ের রক্ত সঞ্চালন ও কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত কিছু সময় হাঁটাহাটি করা, সাইকেল চালানো বা সাঁতার কাটার অভ্যাস করুন৷
৯. পায়ের যত্নে প্রতি ছয় মাস বা এক বছর পর পর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন৷
এ ছাড়াও আপনি যদি পায়ে ব্যথা, পায়ের অনূভুতি হ্রাস, পায়ের ত্বকের রং বা তাপমাত্রার পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন৷
গরমে কী খাবেন কী খাবেন না
গরমে বাড়ছে নানাবিধ সমস্যা ও রোগব্যধি। বিশেষ করে ডাস্ট এলার্জি, হিট স্ট্রোক, সর্দি কাশি, জ্বর, ডি হাইড্রেশন, ইলেকট্রলাইট ইমব্যালেন্স, ক্লান্তি ভাব, বদ হজম, পেট ফাপা, ডায়ারিয়া, আমাশয় ইত্যাদি। তাই বাড়তি সতর্কতা নিয়ে আসতে হবে যেমন পোশাক আশাকে ঠিক তেমনি খাদ্য ব্যাবস্থাপনায়।
গরমে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে কি খাবেন আর কি খাবেন না তা নিয়ে সকলে চিন্তায় ভোগেন। জেনে নিন কি কি খেলে উপকার পাবেন সেরকম কিছু খাবার যা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে এবং সহজপাচ্য যা শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
আমাদের পরিষ্কার ধারণা, থাকতে হবে কোন খাবারগুলো গরমে খাদ্য তালিকা হতে কমিয়ে দিতে হবে অথবা একেবারে বাদ দিতে হবে। মানুষের খাদ্যের সাথে সর্ম্পকিত দীর্ঘ মেয়াদি যে রোগ গুলো রয়েছে তার মধ্যে হার্টে সমস্য, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ওজন আধিক্য রয়েছে এসব রোগ হতে নিজেদেরকে এই গরমে সুস্থ্য রাখতে নিম্নোক্ত খাবার গুলো প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সংযুক্ত করতে হবে।
কী খাবেন? ১। বিশুদ্ধ পানি : প্রতিদিন একজন সুস্থ্য স্বাভাবিক মানুষের ২.৫ লিটার হতে ৩ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। সে সাথে ঘরের তৈরি বিভিন্ন ফলের জুস (চিনি ছাড়া) ডাবের পানি বেলের শরবত, লেবুর শরবত পান করতে হবে। তবে কিডনি রোগী এবং ফ্লইড রিটেনশন সিনড্রমে যারা ভুগছেন তারা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে পরিমান মত পানি করবেন। ২। চিড়া দই কলা: সাড়া দিনে অন্তত এক বেলা বিশেষ করে সকালে নাস্তার তালিকায় চিড়া দই কলা যেমন শরীরকে ঠান্ডা রাখবে তেমনি শরীরে পুষ্টির চহিদা পুরন করবে বিষেশ করে যারা আই বি এস (ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রম) এ ভুগছেন তাদের জন্য এটি খুবই সাস্থ্যকর খাবার হতে পারে। ৩। সবুজ আপেল: গরমে শরীর সুস্থ রাখতে এ ফল বেশ উপকারী। ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় খুব সহজে হজম হয় যা অন্ত্রের স্বাস্থের জন্য বেশ উপকারী খেতে সবুজ আপেলের জুস বা স্মুদি। ৪। পাকা কলা: গরমে পাকা কলা খাওয়া বেশ উপকারী। কলা রক্তে শরকরা পরিমান নিয়ন্ত্রন করে ও শরীরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রয়ন করে শরীরকে ঠান্ডা রাখে। ৫। আদা: আদা জল বরাবরের মত সবসময়ে উপকারী। গরম জনীত সর্দী কাশিতে আদার চা উপকারী এতে রয়েছে এন্টি অক্সিডেন্ট যা গরম জনীত এলার্জী সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। ৬। পাকা পেঁপে ও ভাঙ্গি: এই দুটো ফল হতে পারে গরমে সস্তিদায়ক ফল কারন এতে রয়েছে এন্টিমাইক্রবিয়াল প্রোপার্টি যা কোস্টকাঠিণ্য, অম্বল, বদ হজম, পেঠ ফাপা দূর করে। সকালে নাস্তার পর অথবা বিকেলের নাস্তার এক বাটি পাকা পেপে ও ভাঙ্গি শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। ৭। বিট : গরমে হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এই সবজি এতে রয়েছে এন্টিইনফ্লামেটরি ও এন্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিস্ট্য যা অন্ত্রের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাই বিটের সরবত বানিয়ে খান অথবা তরকারীর ঝোল
করেও খেতে পারেন। ৮। মিস্টি আলু ও অ্যাভোকাডো : যাদের পেট ফাপা বা প্রদাহো সমস্যা রয়েছে তারা এই দুটো ফল খেতে পারেন। মিস্টি আলু সেদ্ধ বা গ্রিল করে খাওয়া যেতে পারে সেই সাথে খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন অ্যাভোকাডোর সালাদ ৯। শসা পুদিনা গাজরের সালাদ: যা শরীরে পানির চাহিদা পূরন করে ডি হাইড্রেশন দূর করে শরীরকে ঠান্ডা রাখে।
কী খাবেন না ? • চা কফি শরীরে পানি শুন্যতা তৈরি করে তাই যতটা সম্ভব চিনি দিয়ে দুধ চা বা দুধ কফি এই গরমে এরিয়ে যেতে হবে। • অতিরিক্ত চিনি যুক্ত শরবত বা স্মুদি বা রং বেরং এর পানীয় খাওয়া যাবে না। • বরফ মেসানো অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি সরাসরী না খেয়ে রুম টেম্পারেচারে এনে পান করতে হবে। • অতিরিক্ত ভাজা পোড়া, বাহিরের পুরি, সিঙ্গারা, সমুচা, তেলে ভাজা খাবার, অতিরিক্ত তেল মসলা যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। • মাংস জাতীয় খাবার বিশেষ করে গরু খাসির মাংস বাদ দিয়ে খাদ্য তালিকায় নিয়ে আসতে হবে কম তেল মসল্লা দিয়ে রান্না করা মাছ এবং সবজির ঝোল তরকারী।
বাড়তি সতর্কতা যেহেতু আমরা প্রতিনিয়ত কাজের সুবাধে বাসার বাহিরে বের হতে হয় সেহেতু বাড়তি সতর্কতা হিসেবে ব্যাগে ছাতা এবং পানি নিতে হবে। হাঁটার সময় খুব সকাল অথবা ঠিক বিকেলে নির্ধারন করতে হবে। অতিরিক্ত রোদের তাপে হাঁটা এড়িয়ে চলুন। বাহিরে এ সময় খোলা সরবত, আখেঁর রস, মাঠা ও লাচ্ছি বেশি পাওয়া যায়। তাই এগুলো অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। সর্বশেষ আরামদায়ক হালকা রঙের পোশাক বেছে নিন, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন এবং সুস্থ থাকুন।
রাতে দ্রুত ঘুমানোর উপায়
খুব সকালে অফিস বা সকালে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং হবে, এ কারণে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হবে। কিন্তু মাঝ রাত পর্যন্ত দেখা যায় ঘুমই আসছে না। এ সমস্যা নতুন কিছু নয়। এমনটা অনেকেরই হয়ে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ণবয়স্ক একজন মানুষের দৈনিক অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। কিন্তু অফিস বা ব্যক্তিগত কারণ বা কোনো সমস্যার জন্য যারা পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে চাইলেও পারেন না, তারা কি করবেন? ঘুমের জন্য হয়তো চেষ্টা করেন, কিন্তু ঘুম আসে না। এবার তাহলে কিভাবে দ্রুত ঘুমানো যায় সেই উপায়গুলো তুলে ধরা হলো-
* রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় অনেকের মাথায় নানা দুশ্চিন্তা আসে। এ কারণে ঘুমে সমস্যা হয় তাদের। ঘুমানোর আগ মুহূর্তে এই সমস্যাগুলো মাথা থেকে একদম বের করে দিতে হবে। এর থেকে ভালো উপায় হচ্ছে, ঘুমানোর আগে দুশ্চিন্তার কথা কোনো ডায়েরিতে লিখে রাখা। কেবল তাই নয়, পরবর্তী দিন কি কি কাজ রয়েছে তাও লিখে রাখতে পারেন। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে ঘুমাতে পারবেন।
* খাবারের উপরও নির্ভর করছে ঘুম। রাতে কি খাচ্ছেন তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাফিন সমৃদ্ধ খাবার খেলে অন্তত কয়েক ঘণ্টা ঘুম আসে না। সেই সঙ্গে চকলেট ও কফি থেকেও কিছুটা দূরত্বে থাকতে পারেন। ঘুমানোর অন্তত ৬ ঘণ্টা আগে থেকে এ ধরনের খাবার পরিহার করুন। এছাড়া তেল বা মশলাযুক্ত খাবার খেলে হজমজনিত সমস্যায় ঘুম আসতে দেরি হয়ে থাকে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
চীনে আবার শুরু হল লকডাউন
সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী গতির জেরে বুধবার থেকে আবার লকডাউন শুরু হল চীনের একাধিক শহরে। বুধবার এক দিনে কমপক্ষে ৩০০ জন সংক্রমিত হয়েছেন বলে চীনা স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছেন।
উত্তরের জিয়ান শহরে গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। শাংহাইয়ের পরিস্থিতিও একই। তবে নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধিতে অন্য আশঙ্কা ছড়িয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রশাসনের তরফে ফের ‘মাত্রাছাড়া কড়াকড়ির’ আশঙ্কা করছেন তাঁরা। সেই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বাড়িতে সরকারি রেশন পরিষেবা পাওয়ার কথা সমাজমাধ্যমে তুলে ধরে সেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শাংহাইবাসীদের একাংশ। যা মাসখানেক আগে শেষ হওয়া কড়া লকডাউনের স্মৃতি উস্কে দিয়েছে বলে দাবি তাঁদের।গণহারে পরীক্ষা শুরু হয়েছে দেশজুড়ে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ওমিক্রনের বিএ.৫.২ ভেরিয়েন্টই এই সংক্রমণ চিত্রের মূল কারণ। যা অন্যান্য ভেরিয়েন্টের চেয়ে বেশি সংক্রামক তো বটেই প্রতিরোধ ক্ষমতাকে টেক্কা দিতেও তা বেশ অনেকটাই সক্ষম বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। ফলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়া আটকাতে বেশ কয়েকটি জায়গায় ‘কনট্যাক্ট ট্রেসিং’-এর দিকেও ঝুঁকেছে প্রশাসন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য