ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

‘করিডর’ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে হবে নির্বাচিত সংসদ থেকে: তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
২ মে, ২০২৫ ১৪:১৪
অনলাইন ডেস্ক
‘করিডর’ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে হবে নির্বাচিত সংসদ থেকে: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিসংঘের সহায়তা পৌঁছাতে ‘মানবিক করিডোর’ দেওয়ার ব্যাপারে সরকার ‘নীতিগত সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে সে বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে হবে জনগণের কাছ থেকে। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সংসদের কাছ থেকে। 

news_google_icon_128 রাইজিং ক্যাম্পাসের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
শুক্রবার (০২ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে এবি পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

রাখাইনে ‘মানবিক করিডোর’ দেওয়ার সরকারের ‘সিদ্ধান্তের’ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিন্তু জনগণকে জানায়নি। এমনকি জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও কোনো আলোচনা করার প্রয়োজন বোধ করেনি।

তিনি বলেন, দেশের জনগণকে না জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে কি না কিংবা নেওয়া উচিত কি না, এই মুহূর্তে সে বিতর্ক আমি তুলতে চাই না। তবে দেশের স্বাধীনতা প্রিয় জনগণ মনে করে, করিডোর দেওয়া না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে হবে জনগণের কাছ থেকে, সিদ্ধান্ত আসতে হবে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জাতীয় সংসদের মাধ্যমে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক বিশ্বের দেশে দেশে এটাই নিয়ম, এটাই রীতি।

বিদেশীদের স্বার্থ রক্ষায় নয়, অন্তর্বর্তী সরকারকে সবার আগে দেশের জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে, বিএনপির এ অবস্থান স্পষ্ট করে তারেক রহমান বলেন, মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান কিংবা অন্য কোনো দেশ নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। এটিই হতে হবে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

নির্বাচন নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা দিতে হবে। তাই প্রয়োজন জনগণের নির্বাচিত সরকার। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অবজ্ঞা ও অবহেলামূলক বক্তব্য অপশক্তিকে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে সহায়তা করবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের আদালতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই করতে হবে।

মন্তব্য

৫ মে দেশে ফিরছেন খালেদা জিয়া

অনলাইন ডেস্ক
২ মে, ২০২৫ ১৪:৮
অনলাইন ডেস্ক
৫ মে দেশে ফিরছেন খালেদা জিয়া

চার মাস পরে আগামী ৫ মে সোমবার লন্ডন থেকে দেশে ফিরবেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি'র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাসস'কে বলেছেন,  'ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে বেশ ভালো। সবকিছু ঠিক থাকলে তিনি আগামী ৫ মে দেশে ফিরবেন।'

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন তাঁর দুই পুত্রবধূ তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান ও  আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি।

বিএনপি'র নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে বিশেষ ব্যবস্থায় দেশে ফিরবেন বিএনপি'র চেয়ারপার্সন। দেশে ফিরতে পুরোপুরি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পাওয়া না গেলেও লন্ডনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসক ও সফরসঙ্গীরা সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। তারেক রহমান পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন।

লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পথে খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী থাকবেন ৮ জন। তারা হচ্ছেন: তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান, কোকর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ডা. আমিনুল হক চৌধুরী, এপিএস মাসুদুর রহমান ও দুই গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগম এবং রূপা হক।

২০১৮ সালে বিএনপি'র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া একটি দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়ে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। করোনা মহামারির সময় বিগত সরকার তাকে বিশেষ বিবেচনায় কারামুক্তি দেয়। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর দুর্নীতির যে দু'টি মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন, সেগুলোর রায় বাতিল করেন আদালত।

চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়। টানা ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর লন্ডন ক্লিনিক থেকে গত ২৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে তারেক রহমানের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। অর্ধযুগের বেশি সময় পর এবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করেছেন খালেদা জিয়া। 

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কারাবন্দি অবস্থায় চারটি ঈদ কেটেছে কারাগার ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে।

বর্তমানে ছেলে তারেক রহমানের বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া। সেখানে তাঁর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ শারীরিক নানা অসুস্থতায় ভুগছেন।

মন্তব্য

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বৈঠক

আরাকানে মুসলিম রাষ্ট্র চাইল জামায়াত

অনলাইন ডেস্ক
২৭ এপ্রিল, ২০২৫ ২১:২৩
অনলাইন ডেস্ক
আরাকানে মুসলিম রাষ্ট্র চাইল জামায়াত

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবেতর জীবনযাপন কোনো সমাধান নয়। এর সমাধান হলো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসন। সেজন্য আরাকান কেন্দ্রিক স্বাধীন আরাকান মুসলিম স্টেট চায় জামায়াতে ইসলামী।

রোববার (২৭ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় হোটেল ওয়েস্টিনে সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কাছে নতুন স্বাধীন আরাকান স্টেট গঠনের প্রস্তাবনা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমাদের বেশ খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। গত ডিসেম্বরে চায়না সরকারের আমন্ত্রণে আমরা একটি প্রতিনিধি দল সেখানে গিয়েছিলাম। ওই সফরটা অনেকটা সরকারি ছিল, তবে আজকে আমাদের যে বৈঠকটা হলো পার্টি টু পার্টি

তিনি বলেন, শুধু আমাদের এই অঞ্চলে নয়, পুরো বিশ্বে চীন একটি অ্যামার্জিং ফোর্স। চীনের রাজনীতি, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কে চীনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জামায়াতে ইসলামী যেহেতু ইনক্লুসিভ ডেমোক্রেটিক, লিবারেল পার্টি। আমাদের প্রধান পলিসি হচ্ছে, সবার সাথে সরকারি, বেসরকারি পর্যায়ে সুসম্পর্ক করা। সে হিসেবে আমরা আজকে চায়না কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। খোলামেলা আলোচনায় বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কতিপয় বিষয়ে আলোচনা করেছি।

তাহের বলেন, তারা আমাদের প্রধান উপদেষ্টাকে দাওয়াত দিয়েছেন। কতিপয় চুক্তি করেছেন, আশ্বাস দিয়েছেন, সেজন্য আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। বাংলাদেশে এখন চীন হচ্ছে প্রধান বিনিয়োগকারী। সেটা আমরা আরও অনেক পরিসরে বাড়াতে অনুরোধ করেছি।

তিস্তা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে চীনে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তাহের বলেন, আমরা তিস্তা ব্যারেজ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করে বলেছি। দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর জন্য বিনিয়োগ করার কথা বলেছি। গভীর সমুদ্রে যে বন্দর হচ্ছে সেখানে অর্থায়ন করার কথা বলেছি। গভীর সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে আমাদের যে ব্লু ইকোনমি, সেটা আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।

তিনি বলেন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে কথা হয়েছে। এই অঞ্চলে যাতে করে কেউ কারো প্রতি রক্তচক্ষু দেখাতে না পারে, ভারসাম্যমূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপারে আমরা তাদের সাথে আলোচনা করেছি এবং বাংলাদেশ থেকে ব্যাপকভাবে ছাত্রদের স্কলারশিপ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। এসব বিষয়ে তারা আমাদের সাথে ঐক্যমত হয়েছেন। তারা তাদের সরকারকে এ ব্যাপারে অবহিত করবেন এবং প্রয়োজনে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন।

তাহের বলেন, চায়না কমিউনিস্ট পার্টি এবং সরকার বলতে একই সত্তা। সুতরাং আমরা আশা করি চীন সরকারের সঙ্গে গভর্মেন্ট টু গভর্মেন্ট, জামায়াতে ইসলামি টু চায়না গভর্মেন্ট, পিপলস টু পিপলস এবং পার্টি টু পার্টি সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পাবে। তারা তাদের আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে দাওয়াত দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমরাও জামায়াতের পক্ষ থেকে চায়না কমিউনিস্ট পার্টির একটি প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফর করার জন্য আমন্ত্রণ জানাব বলেছি, যেটার হোস্ট হবে জামায়াত।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর জন্য চায়না কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে আজকের এই বৈঠক আমরা একটি সুযোগ বলে মনে করি। কারণ চায়না সরকার বা চায়না কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে আমাদের খুব একটা ইন্টারেকশন ছিল না। কিন্তু এটি এখন অনেক ব্যাপকভাবে হচ্ছে। খুব দ্রুততার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বা ইন্টারেকশন বৃদ্ধি পেয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুকে বাংলাদেশের জন্য সমস্যা উল্লেখ করে সমাধানে একটি আলাদা স্বাধীন মুসলিম আরাকান স্টেট গঠনের প্রস্তাবনা তুলে ধরে তাহের বলেন, আমরা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে কথা বলেছি, সেটা হচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যু। ১১ বা ১২ লাখের রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে, তারা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে। আমরা বলেছি, এভাবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবেতর অবস্থান কোনো সমাধান নয়। সমাধান হচ্ছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসন করা। সেজন্য আমরা একটি প্রস্তাবও দিয়েছি, সেটি হচ্ছে আরাকান কেন্দ্রিক রোহিঙ্গা মেজরিটি যে এরিয়া আছে, সেই এরিয়াতে একটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট আরাকান স্টেট করার। এখানে চীন অনেক বেশি বা বড় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। কারণ মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের খুবই ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

তাহের বলেন, যদি ইন্টারন্যাশনাল একটি রিপ্যাট্রিয়েট কমিটি থাকে, তাহলে সকলে মিলে এখানে সমস্যা সমাধান করতে পারবে। আমরা বলেছি, সেখানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে একটি মুসলিম আরাকান স্টেট গঠন করতে। এই প্রস্তাবে চায়না কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি দল বলেছে, তারা এই প্রস্তাব চীন সরকারের কাছে উত্থাপন করবে এবং এ ব্যাপারে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করার চেষ্টা তারা চালাবে।

চলমান সংস্কার প্রস্তাবনা ও নির্বাচন বিষয়েও চায়না কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর এ সিনিয়র নায়েবে আমির বলেন, সংস্কার নিয়ে তারা কথা বলেছেন। সংস্কারের ব্যাপারে আমাদের যে পয়েন্টগুলো ছিল, সেগুলো আমরা বলেছি। গতকাল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে, সেখানে দিনব্যাপী আলোচনা হয়েছে। এটা অব্যাহত আছে, আমাদের হয়তো আরও দুদিন সময় লাগতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে তাহের বলেন, নির্বাচিত কিংবা অনির্বাচিত সরকার প্রসঙ্গ নয়। চায়না কমিউনিস্ট পার্টি তথা চীন সরকার তো আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন, দাওয়াত দিয়েছিলেন, চুক্তিও করেছেন। রিলেশনশিপ যদি আমরা মেইনটেইন করতে পারি, তাহলে তাদেরও লাভ, আমাদেরও লাভ। এখনকার ফরেন পলিসি বা ফরেন ইনভেস্টমেন্ট তো মিউচ্যুয়াল ইন্টারেস্টের জায়গা থেকেই। আর তারা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন বাংলাদেশের নির্বাচন কবে, কীভাবে হতে পারে? আমরা বলেছি, আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তো একটা লাইন দিয়েছেন যে, নির্বাচন ডিসেম্বরে হতে পারে, বেশি সংস্কার চাইলে আগামী জুনে হতে পারে। আমরা বলেছি, প্রধান উপদেষ্টার এই প্রস্তাবের ব্যাপারে আমরা ঐকমত্য পোষণ করি।

চায়না কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদল নির্বাচন সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কোনো মতামত দেননি। তারা বলেছেন, আমরা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করি না, বাংলাদেশের বিষয়েও আমরা হস্তক্ষেপে বিশ্বাস করি না। আমাদের কাজ হচ্ছে আপনাদের প্রোগ্রাম ও পলিসির বিষয়ে সহযোগিতা করা। 

মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ফ্যাসিবাদের বিচারকদেরও বিচার করতে হবে : রিজভী

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৬ এপ্রিল, ২০২৫ ১৭:২০
    অনলাইন ডেস্ক
    ফ্যাসিবাদের বিচারকদেরও বিচার করতে হবে : রিজভী
    বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী I ফাইল ছবি

    ফ্যাসিবাদের বিচারকদেরও বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘তাদের বিচার নিশ্চিত করলে ভবিষ্যতে কেউ কোনো আদালতকে দিয়ে তার অশুভ ইচ্ছা ও অগণতান্ত্রিক নির্যাতন–নিপীড়ন মানুষের ওপর চালানোর সাহস পাবে না। এটাই হওয়া উচিত।’

    আজ শনিবার দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ফ্যাসিবাদের মিথ্যা মামলায় ৬০ লাখ আসামি, মুক্তি কতদূর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন। ‘ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

    রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘যাঁরা এই ফ্যাসিজমকে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করেছেন, তাঁদের অন্যতম হচ্ছেন আদালত। বিচারপতি খায়রুল হক, বিচারপতি এনায়েতুর রহিম, বিচারপতি আসাদুজ্জামান—(আছে) এ রকম অসংখ্য নাম।’

    ‘এঁরা সবচেয়ে নির্দোষ যে নারী, জনগণের পক্ষে সংগ্রাম করেছেন নিরবিচ্ছিন্নভাবে, শত নিপীড়ন–নির্যাতন ভোগ করে জনগণকে ছেড়ে যাননি, মাটিকে ছেড়ে যাননি, সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় আসাদুজ্জামান তাঁকে সাজা দিয়েছেন। সেই বিচারকেরা কেন শাস্তির আওতায় আসবেন না’, বলেন রিজভী।

    বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সময় হওয়া মামলা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ৬০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে যে মামলা, সেই মামলা আট মাস চলে যাওয়ার পরও আদালতের সেলফে থাকার কথা ছিল না। অতি দ্রুত এ মামলাগুলোর নিস্পত্তি করতে হবে।
    বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিচারক, তাঁদেরও বিচার হতে হবে। আমরা নুরেমবাগ ট্রায়ালে দেখেছি—হিটলারের আদালতের যাঁরা বিচারক ছিলেন, কোনো ধরনের যুক্তির কথা না শুনে হিটলারের কথায় লাখ লাখ কয়েদিকে পুড়িয়ে মারার যাঁরা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, বিচার করেছেন, তাঁদের বিচার হয়নি? তাঁদের যদি বিচার হতে পারে, তাহলে আজকে শেখ হাসিনার আমলের ফ্যাসিবাদকে যাঁরা প্রলম্বিত করেছেন, তাঁদের কেন বিচার হবে না। তাঁদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

    বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সময় হওয়া মামলা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘৬০ লাখ নেতা–কর্মীর বিরুদ্ধে যে মামলা, সেই মামলা আট মাস চলে যাওয়ার পরও আদালতের সেলফে থাকার কথা ছিল না। অতি দ্রুত এ মামলাগুলোর নিস্পত্তি করতে হবে।’

    আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন অনেক দেশ আছে, যে দেশের জনসংখ্যা ৬০ লাখ নেই। অথচ বিএনপির ৬০ লাখ নেতা–কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।’

    মাহাদী আমিনের এ বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রুহুর কবির রিজভী বলেন, ‘একটি দেশের জনসখ্যার চেয়ে বাংলাদেশে আসামির সংখ্যা বেশি। ডেনমার্কে ৫০ লাখ লোক বসবাস করেন। অথচ আমাদের দেশে বিএনপির ৬০ লাখের বেশি নেতা–কর্মীকে আসামি করা হয়েছে।’ আওয়ামী লীগের সময় হওয়া মুহাম্মদ ইউনূসের সব মামলা প্রত্যহার হলেও বিএনপি নেতা–কর্মীদের মামলাগুলো প্রত্যাহার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

    আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠন ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক সৈয়দ আবদাল আহমেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ।

    সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজীজুল বারী হেলাল, নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারজানা শারমিন প্রমুখ। সঞ্চালনায় ছিলেন ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সদস্যসচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

    মন্তব্য

    আ.লীগকে নিষিদ্ধ না করলে রাজপথে আবারও রক্ত ঝরবে : এনসিপি নেতা

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ২৫ এপ্রিল, ২০২৫ ১৯:৪২
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    আ.লীগকে নিষিদ্ধ না করলে রাজপথে আবারও রক্ত ঝরবে : এনসিপি নেতা
    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মেজর (অব.) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মেজর (অব.) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেছেন, বর্তমান সরকার ও বিচার বিভাগে যারা আছেন তাদের সবাইকে আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, বর্তমানে আওয়ামী লীগের বিচারের অত্যন্ত ধীরগতি দেখতে পাচ্ছি। ৮ মাস পরেও এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কোনো স্পষ্ট বিচার আমাদের চোখে পড়েনি। এই বিচারব্যবস্থাকে দ্রুততর করার জন্য যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন আমি বিশ্বাস করি আপনারা নেবেন।

    বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে শ্রীপুর পৌর এলাকার মাওনা চৌরাস্তা উড়াল সেতুর নিচে জাতীয় নাগরিক পার্টির আয়োজনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের আগে এক বিক্ষোভ মিছিল মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, কেন্দ্রীয় সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মুহিম, শ্রীপুর উপজেলা এনসিপির নেতা আবু রায়হান মিসবাহ্ প্রমুখ।

    আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, কিছু দুর্বৃত্ত রাজনৈতিক নেতা এখনো আওয়ামী লীগকে পুনবার্সন করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমরা তাদের স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, মাওনার মাটিতে আবার রক্তের বন্যা বয়ে যাবে। কীভাবে আওয়ামী লীগের বিচার করতে হয় সেই ব্যবস্থা জনগণই গ্রহণ করবে। কিন্তু সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গিয়ে যদি কোনো মানুষ রক্তাক্ত হয় তাহলে সেই দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।

    কেন্দ্রীয় সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মুহিম বলেন, এই মাওনায় শহীদদের রক্ত এখনো লেগে আছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ এখনো নিষিদ্ধ হয়নি। এই আওয়ামী লীগ আমাদের হাজারো মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদেরকে অবশ্যই বাংলার মাটিতে নিষিদ্ধ করতে হবে। এই রাজপথে রক্ত লেগে আছে, এই রাজপথেই শহীদ হয়েছে আমাদের ভাইয়েরা। যতক্ষণ না পর্যন্ত সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করা হবে, আমরা রাজপথে সক্রিয় থাকব। প্রত্যেক ভাইয়ের রক্তের বদলা নিতে হবে। শহীদ ভাইদের কাছে আমরা প্রত্যেকেই দায়বদ্ধ। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করাসহ যারা জড়িত ছিল প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনতে হবে। আজকের সমাবেশ থেকে ঘোষণা করতে চাই আমরা কিন্তু বসে পড়িনি, আমরা কিন্তু হেরে যাইনি। এনসিপি যতদিন আছে, ২৪ এর পক্ষে যারা শহীদ তাদের পক্ষে কথা চলবে। হয় আওয়ামী লীগ থাকবে, না হয় এনসিপি থাকবে। দুইটা একসঙ্গে চলতে পারে না। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করলে বাংলার মানুষ আবারও রাজপথে নামবে।

    এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির আয়োজনে একটি বিক্ষোভ মিছিল মাওনা চৌরাস্তায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    মন্তব্য
    সর্বশেষ সংবাদ
      সর্বাধিক পঠিত