শিরোনাম
মরক্কোর বিপক্ষে নিজ দলকে উৎসাহ দিতে কাতার যাচ্ছেন ম্যাক্রোঁ
বিশ্বকাপ ২০২২ আসরের সেমিফাইনাল পর্বে ফ্রান্সের ফুটবল দলকে উৎসাহ দিতে কাতারে যাবেন বলে জানা গেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
গত রোববার ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী এমিলিয়ে ঔদেয়া ক্যাসতেরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফ্রান্সের বেতার সংবাদমাধ্যম ফ্রান্সইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, ‘সফর সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে, তবে বুধবার ম্যাচের দিন তিনি যে কাতারে থাকবেন এ বিষয়টি নিশ্চিত।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে অবশ্য এক মাস আগেই জানানো হয়েছিল বিষয়টি। যা এবার ক্রীড়মন্ত্রী নিশ্চিত করলেন।
শনিবার ইংল্যান্ডে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের সেমিফাইনাল পর্বে ওঠা নিশ্চিত করে ফ্রান্স। একই দিন ইউরোপের শক্তিশালী ফুটবল দল পর্তুগালকে ১-০ গোলে পরাজিত করে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে মরক্কো।
বুধবার ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে মরক্কোর ফুটবল দল। যে দল সেই ম্যাচ জিতবে, সে ই পাবে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার সুযোগ।
এমবাপেকে হাকিমির ‘হুমকি’
কাতার বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনটি অঘটন ঘটিয়েছে মরক্কো। গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামকে হারানোর পর শেষ ষোলতে স্পেনের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়েছে আফ্রিকান ডার্ক হর্সরা। সবশেষ তারা হারাল পর্তুগালকে। উদযাপনে ভেসে যাচ্ছে প্রথমবারের মতো আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠা মরক্কো।
তবে উদযাপন যতোই হোক না কেন, মাঠের লড়াইটাকে কোনোভাবেই সহজ করে দেখছে না মরক্কানরা। সুযোগও নেই বটে, প্রতিপক্ষের আছে তারকার এক লম্বা লাইন। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা কিলিয়ান এমবাপে সেই দলেরই খেলওয়ার।
ক্লাব পর্যায়ে মরক্কোর খেলোয়াড় আশরাফ হাকিমির সঙ্গে একই ক্লাব পিএসজিতে খেলেন এমবাপে। দুজনের মধ্যে সম্পর্কটাও বেশ মধুর। তবে সেমিতে যে একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে নামবেন সেটাও ভুলছেন না হাকিমি।
রোববার টুইটারের এক পোস্টে সতীর্থ এমবাপেকে সেটা মনে করিয়ে দিলেন হাকিমি। বিশ্বকাপের সেরা গোলদাতাতকে টুইটে অনেকটা হুমকিই দিয়ে রেখেছেন তিনি। যদিও সেই হুমকিতে আছে ভালোবাসার সুর। টুইটে বন্ধুকে নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘শিগগিরই দেখা হবে বন্ধু।’সেমির লড়াইয়ে এবার তাদের সামনে প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। শক্তির লড়াইয়ে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা নিঃসন্দেহে যোজন-যোজন এগিয়ে। তবে নামিদামি সব দলকে হারিয়ে শেষ চারে ওঠা মরক্কোও যে ভীষণ আত্মবিশ্বাসী।
আফ্রিকান ও মুসলিম দেশ মরক্কোর জয়ে আমি গর্বিত: ওজিল
কাতার বিশ্বকাপে সকল নাটকীয়তা দেখা হয়ে গিয়েছে, এমনটা ভেবে রাখলে তাদের জন্য ছিল মরোক্কান রূপকথার আরেক অধ্যায়।
ফুটবল বিশ্বে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আফ্রিকার দেশ মরক্কো। মরুর বুকে চমক দেখিয়ে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আটলাস সিংহরা।
মরক্কোর জয়ের পর মন্তব্য করেছেন তারকা ফুটবলার মেসুত ওজিল। তিনি জানান, আফ্রিকান ও মুসলিম দেশ মরক্কোর জয়ে গর্বিত। এই জয় মুসলিম বিশ্বের জন্যও আনন্দদায়ক বলে জানিয়েছেন এই ফুটবলার।
কাতার বিশ্বকাপে উদয় হয়েছে নতুন সূর্যের। সেই সূর্যটা প্রথমবারের মত দূতি ছড়াচ্ছে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে। প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স।
তারকা ফুটবলার মেসূত ওজিলের কথা ধরে বলতে হয় হোয়াট এ টিম। কি দারুণ এচিভম্যান্ট আফ্রিকান ও মুসলিম দলটির।
জার্মানি তারকা ফুটবলার মেসুত ওজিল বলেন, আমি গর্বিত, কি দারুণ একটা দল। আফ্রিকান ও মুসলিম দেশ হিসেবে কি অসাধারণ অর্জন। এটা মুসলিম বিশ্বের জন্যও আনন্দদায়ক। এই জয় অনেক মানুষকে আশাবাদী করবে এবং স্বপ্ন দেখাবে।স্পেন বধের পর পর্তুগাল বধ। উল্লাসে মাতলেও সেটিতে যেনো ছিলো পরিমাপের ছাপ। আসরের শুরু থেকেই দলটির পরিমিতি বোধ আর সাধাসিধা চলন জনপ্রিয়তার শীর্ষে কাতার বিশ্বকাপে।
প্রতিটি ম্যাচ জয়ের পর মাঠে সেজদায় লুটিয়ে পড়া দলটা এরই মধ্যে মুসলিম বিশ্বে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।কিন্তু এই দলের ফুটবলাররা উঠে এসেছে হত দরিদ্র পরিবার থেকে। জীবন সংগ্রামে নিজেদের বারবার প্রমাণ করে।
মরক্কোর জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্বের গণ্যমান্য অনেকে। এর মধ্যে আছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি, বিশ্বখ্যাত গায়িকা শারিকা প্রমুখ।
শনিবার রাতে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে মরক্কো। এরপরই তুর্কি বংশোদ্ভূত ওজিল এ মন্তব্য করেন।
https://therisingcampus.com/%e0%a6%8f%e0%a6%ae%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%95%e0%a6%bf/
যেভাবে মুসলিম বিশ্বের মন জয় করল মরক্কো
ফুটবল বিশ্বকাপে আফ্রিকার তিনটি দেশ এখন পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে। কোয়ার্টার পার হয়ে সেমি বা ফাইনালে যেতে পারেনি কোনো দেশ। মরক্কো কেবল প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে নয়, প্রথম আরব দেশ হিসেবেও সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
এবার ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় যোগ করেছে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো। দেশটির দুর্দান্ত ফুটবল দল বিশ্বকাপের এবারের আসর রাঙিয়ে তুলেছে নতুন রঙে। রোনালদোর পর্তুগালকে হারিয়ে তারা পৌঁছে গেছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে।
যেমন ফুটবলাররা তেমন দর্শকরা- যারা খেলা দেখতে গেছেন কাতারে, যারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অভিবাসী হিসেবে থাকছেন এবং মরক্কোর পথেঘাটে বড় উৎসবে শামিল হয়েছেন- সবাই যেন এই বিশ্বকাপে মরক্কোর জন্য বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
এই সমর্থনের প্রতিদান দিয়েছেন মাঠের ফুটবলাররা। মহাদেশের প্রথম দেশ হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রেখেছে মরক্কো। এখান থেকে আর দুটি ম্যাচে জয় বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দিতে পারে।
এখন অবশ্য অনেকেই মরক্কোর জয়কে অঘটন বলতে নারাজ। যে দল বেলজিয়ামকে হারিয়েছে, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ড্র করেছে, স্পেনকে হারিয়েছে, পর্তুগালকে ৯০ মিনিটের খেলায় হারিয়েছে, তাদের জয়কে অঘটন বলার উপায় নেই। যদিও ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে কেউই মরক্কোর সম্ভাবনার কথা সেভাবে বলেননি।
https://twitter.com/AchrafHakimi/status/1596921100805758978?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1596921100805758978%7Ctwgr%5E1c3782f864857a30ccffa6508efd4aefd005b672%7Ctwcon%5Es1_&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.dhakapost.com%2Finternational%2F159722
এমনকি বেলজিয়াম ক্রোয়েশিয়ার গ্রুপে থাকায় অনেকে মরক্কো যে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে সেটাই কল্পনা করেননি। সেই মরক্কো এখন কাতার বিশ্বকাপের শেষ চারটি দলের একটি, বলা যায় সেরা চারটি দলের একটি।
ম্যাচ দেখে তারকা গায়িকা শাকিরা টুইটারে নিজের বিখ্যাত বিশ্বকাপের গানের একটি লাইন টুইট করেন, ‘দিস টাইম ফর আফ্রিকা।’
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও তার দল বাড়ির পথ ধরেছে মরক্কোর কাছে হেরে। ইউসেফ এন নেসিরির দুর্দান্ত এক হেডে মরক্কো পর্তুগালকে ১-০ গোলে পরাস্ত করে গত রাতে।
মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রাগরাগি ম্যাচ শেষে বলেন, মরক্কো এমন এক দল হয়ে উঠেছে যাদের সবাই ভালোবাসে। আমরা দেখিয়েছি আমরা কী করতে পারি। তার মতে, মরক্কো এমন একটি দল হয়ে উঠেছে যারা নিজেদের দৃঢ়তা, হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা ও বিশ্বাসকে মাঠে প্রতিফলিত করতে পেরেছে।
‘এখন আর এটা অলৌকিক কিছু নয়, ইউরোপে অনেকে বলতে পারে এটা অলৌকিক। কিন্তু আমরা পর্তুগাল, স্পেন, বেলজিয়ামকে হারিয়েছি, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ড্র করেছি কোনো গোল হজম না করে।’
মরক্কোর গর্বিত এই কোচ মনে করেন, আফ্রিকা ও আরবের দলগুলো অনেক পরিশ্রম করে। এবার তারা গোটা একটি মহাদেশকে অনুপ্রাণিত করতে পেরেছে।
মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব করছে মরক্কো
জেরুজালেমে হয়েছে উৎসব। ফিলিস্তিনিরা মরক্কোকে সমর্থন দিয়েছে, দিয়েছে আরব বিশ্বও। আরব বিশ্বে অনেকেই মনে করছেন এই জয় ‘একটা জবাব’। মরক্কোর কোচও অনেকটা সেই সুরে কথা বলেছেন।
তিনি মনে করেন, ইউরোপের অনেকে মরক্কোর এই জয়কে ‘অঘটন’ আখ্যা দিতে চাইবে। কিন্তু এখন আর এটাকে ‘অঘটন’ মানতে নারাজ তিনি।

ম্যাচ শেষে মরক্কোর ফুটবলারদের আনন্দের বড় অংশজুড়ে ছিলেন কোচ রাগরাগি। তাকে শূন্যে ছুড়ে উল্লাস করেন ফুটবলাররা। বিবিসি রেডিও ফাইভের লাইভে স্কটল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার প্যাট নেভিন বলেন, স্টেডিয়ামের যে আওয়াজ, এটা অনন্য, এটা তাদের অর্জন। শুধু ফুটবলের দক্ষতা ও চেষ্টা নয়, মাঠের এই আওয়াজও গোটা বিষয়টার মাহাত্ম্য বাড়িয়ে দিয়েছে।
মরক্কোর বেশিরভাগ মানুষই মুসলিম। মাঠে মরক্কোর ফুটবলাররা নিজেদের ইসলামিক বিশ্বাস প্রদর্শন করেছেন। স্পেনের বিপক্ষে পেনাল্টি শুট আউটের আগে ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ কোরআন থেকে আয়াত পড়েছিলেন তারা।
পর্তুগালের বিপক্ষে জয়ের পর তারা সেজদায় মাথা নত করেছেন, নিজেদের সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
ফুটবলার আশরাফ দারি ফিলিস্তিনের পতাকা গায়ে জড়িয়ে মাঠেই ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। আশরাফ হাকিমি আবারও জয়ের পর মায়ের কাছে গ্যালারিতে ছুটে গেছেন। সোফিয়ান বৌফল তার মায়ের সাথে নেচেছেন।
কোচ রাগরাগি সবার শেষে মাঠ ছাড়েন, আবেগ আর উল্লাস তাকে ছুঁয়ে যায়। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি কথা শুরু করেন সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে। বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। বিবিসি।
রোনালদোদের কাঁদিয়ে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে মরক্কোর
পূরণ হলো না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে স্বপ্নটা। বহু সাধের বিশ্বকাপ ট্রফিটা না ছুঁয়েই বিদায় নিতে হলো পর্তুগিজদের।
মরক্কোর ইতিহাস গড়ার রাতে স্বপ্ন ভাঙার যন্ত্রণা নিয়ে বিশ্বকাপ-অধ্যায়ের ইতি টানলেন ফুটবলের এক মহানায়ক।
মরক্কোর কাছে পর্তুগাল হারল ১-০ গোলে।
আগের ম্যাচের মতো এদিনও রোনালদোকে বেঞ্চ রেখে একাদশ সাজান ফার্নান্দো সান্তোস। কিন্তু প্রতি দিন কি আর নতুন চমক হয়? হলো না এদিনও। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নামলেন রোনালদো।
বিরতির আগে ইউসেফ এন-নেসারির গোলে লিড পায় মরক্কো।
একটি গোলের জন্য মাথা খুটে মরলেন যেন রোনালদোরা। যোগ করা সময়ে এককভাবে এগিয়ে শটও রোনালদো। কিন্তু কিছুতেই আর কিছু হলোন। পর্বত-সমান মরক্কোর রক্ষণ ভাঙা দূরে থাকা আঁচড়ও পড়ল না। রোনালদোরা যখন হতাশায় ভাসছিলেন। তখন নতুন রূপকথার এক গল্প লেখা উচ্ছ্বাসে ভাসছে মরক্কো।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য