শিরোনাম
নেইমার-ঝলকে ব্রাজিলের চিলি জয়
ব্রাজিল ৪-০ চিলি
(নেইমার, ভিনিসিয়ুস, কুতিনিও, রিচার্লিসন)
ম্যাচটা ব্রাজিলের জন্য নিছক আনুষ্ঠানিকতার উপলক্ষ ছিল। এর মধ্যেই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছেন নেইমাররা, বাছাইপর্বের গ্রুপে ১৫ ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে আগে থেকেই ছিলেন তাঁরা। ফলে এই ম্যাচটা ব্রাজিল কোচ তিতের কাছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার একটা ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছিল যেন।
যে পরীক্ষা-নিরীক্ষাটা মূলত করা হয়েছে নেইমারকে নিয়ে। সাধারণত ৪-৩-৩ বা ৪-২-৩-১ ছকে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার বা উইঙ্গারের ভূমিকায় খেলা নেইমারকে আজ পুরোদস্তুর স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলিয়েছেন তিতে।
আতলেতিকোর স্ট্রাইকার ম্যাতিউস কুনিয়া আর লিভারপুলের রবার্তো ফিরমিনো ছিলেন না চোটের কারণে। ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল জেসুস, ফ্লামেঙ্গোর গ্যাব্রিয়েল বারবোসা, এভারটনের রিচার্লিসনের ওপরেও আজ শুরু থেকে ভরসা রাখেননি তিতে। ফলে নেইমারের কাঁধেই দায়িত্ব পড়ে স্ট্রাইকে খেলার। আর সে ভূমিকাতেও তিনি কী দুর্দান্তভাবেই না সফল!
ব্রাজিলের হলুদ জার্সি গায়ে চড়লে এমনিতেই ফর্ম ফিরে পান নেইমার, আজকেও তার ব্যতিক্রম হলো না। ম্যাচের প্রথম গোলটাই এল তাঁর পা থেকে। ৪৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল পেয়েছেন তিনি।
দুই মিনিট পরেই প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আয়াক্সের উইঙ্গার আন্তোনির পা থেকে বল নিয়ে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে নিজের প্রথম গোলের দেখা পেয়ে যান রিয়াল মাদ্রিদের উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
৭২ মিনিটে আরও একটা পেনাল্টি পায় ব্রাজিল, কিন্তু এবার নেইমার পেনাল্টি নিতে না এসে সতীর্থ ফিলিপ কুতিনিওকে পেনাল্টির দায়িত্ব দেন। কুতিনিও-ও উপহার পেয়ে গোলের সুযোগ হেলায় হারাননি। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে বিকল্প হিসেবে নামা স্ট্রাইকার রিচার্লিসনের গোলে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। রিচার্লিসনের গোলে সহায়তা করেন নিউক্যাসলের প্রতিভাবান মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারেস।
এই পরাজয়ের ফলে চিলির বিশ্বকাপ-স্বপ্ন বলতে গেলে শেষই হয়ে গেল। ১৭ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছে তাঁরা। দিনের আরেক ম্যাচে পেরুকে ১-০ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে চলে এসেছে উরুগুয়ে। উরুগুয়ের হয়ে সুয়ারেজ বা কাভানি নন, গোল করেছেন মিডফিল্ডার জর্জিয়ান আরাসকায়েতা। ফলে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডরের পাশাপাশি পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে থাকার সুবারে বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে উরুগুয়ে।
লড়াই এখন প্লে-অফে থাকার। বলিভিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের প্লে-অফ আশা এখনও জিইয়ে রেখেছে কলম্বিয়া। দলটার হয়ে গোল করেছেন উইঙ্গার লুইস দিয়াজ, স্ট্রাইকার মিগুয়েল বোর্হা ও মিডফিল্ডার ম্যাতিউস উরিবে। ১৭ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ষষ্ঠ স্থানে কলম্বিয়া।
ক্যালিস–জয়াসুরিয়ার পাশে সাকিব ছাড়া আর কেউ নেই
একদিন আমরাও...!
তখন এমন কিছুই মনে হতো। সেই সময় যখন বাংলাদেশ সবে ওয়ানডে মর্যাদা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন-অরবিন্দ ডি সিলভারা ব্যাট করছেন দাপটের সঙ্গে।
সে সময়কার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ৫০ ওভারের ম্যাচে ‘৫০–এর পঞ্চাশ’ অর্থাৎ ৫০টি অর্ধশতক খুব কম ব্যাটসম্যানেরই ছিল। আজহারউদ্দিন ও ডি সিলভা আর সাবেকদের মধ্যে ডেসমন্ড হেইন্স ও জাভেদ মিঁয়াদাদ...এই তো!
আজহারউদ্দিন কিংবা ডি সিলভা ব্যাটিংয়ে নামলে তাঁদের পরিসংখ্যানে ৫০–এর পঞ্চাশ দেখে কি বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও স্বপ্ন দেখেননি—একদিন আমরাও মাইলফলকটার দেখা পাব!
আজহারউদ্দিন-ডি সিলভার যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, তা ২০০০ সালের মধ্যে। বাংলাদেশের ওয়ানডে মর্যাদা পাওয়ার তিন বছর তত দিনে পেরিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ময়দানে তখন হামাগুঁড়ি দেওয়া বাংলাদেশ থেকে এই ২৫ বছরে ওয়ানডেতে দুজন অন্তত ‘৫০টি পঞ্চাশ’-এর দেখা পেয়েছেন।
গত বছরের মার্চে ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৮ রানের ইনিংস দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ৫০টি অর্ধশতকের দেখা পান তামিম ইকবাল। মোট ৫১ অর্ধশতক নিয়ে এই তালিকায় তামিম-ই শীর্ষে।

বাংলাদেশ থেকে দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে কাল সেখানে নাম লেখালেন সাকিব আল হাসান। সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬৪ বলে ৭৭ রানের ইনিংসটি তাঁর ক্যারিয়ারের ৫০তম ওয়ানডে অর্ধশতক। তবে সাকিব একটি জায়গায় বাকি সবার চেয়ে আলাদা। জায়গাটি অবশ্যই অলরাউন্ডারদের—ওয়ানডেতে ন্যূনতম ২৫০ উইকেট এবং ৫০টি অর্ধশতক আছে, এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা হাতে গোনা।
সব মিলিয়ে তিনজন। সাকিব সে তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন। কিংবা এভাবেও বলা যায়, জ্যাক ক্যালিস ও সনাথ জয়াসুরিয়াদের সে তালিকায় কাল জায়গা করে নেন সাকিব।
আবার ক্যালিস বাকি দুজনের চেয়ে এগিয়ে। ৮৬টি অর্ধশতক পেয়েছেন প্রোটিয়া কিংবদন্তি। লঙ্কান কিংবদন্তি জয়াসুরিয়ার অর্ধশতকসংখ্যা ৬৮। সাকিব ৫০টি অর্ধশতক নিয়ে তৃতীয়। এই তিন অলরাউন্ডার ছাড়া আর কেউ ওয়ানডেতে ন্যূনতম ২৫০ উইকেট ও ৫০টি পঞ্চাশের দেখা পাননি।
উইকেটসংখ্যার শর্ত পূরণ করলেও ৫০টি পঞ্চাশের দেখা না পাওয়ায় অভিজাত এই তালিকায় জায়গা না পাওয়া ক্রিকেটারদের নাম শুনলে অবাক লাগাই স্বাভাবিক—শহীদ আফ্রিদি (৩৯ অর্ধশতক), আবদুল রাজ্জাক (২৩ অর্ধশতক), কপিল দেব (১৪ অর্ধশতক), শন পোলক (১৪ অর্ধশতক), ওয়াসিম আকরাম (৬ অর্ধশতক)...।

এবার একটু অন্য হিসাব করা যাক। ক্যালিস ৩২৮টি ওয়ানডেতে ৩১৪ ইনিংস ব্যাট করেছেন। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৩.৬৫ ইনিংস পর একটি করে অর্ধশতকের দেখা পেয়েছেন সাবেক পেস অলরাউন্ডার। জয়াসুরিয়া ৪৪৫ ম্যাচে ৪৩৩ ইনিংসে ব্যাট করেছেন। প্রতি ৬.৩৬ ইনিংস পর একটি করে অর্ধশতক।
২১৯ ম্যাচ খেলা সাকিব ব্যাট করেছেন ২০৭ ইনিংসে। প্রতি ৪.১৪ ম্যাচ পর অর্ধশতকের দেখা পেয়েছেন বাংলাদেশের এই স্পিন অলরাউন্ডার। অর্থাৎ অর্ধশতকপ্রতি ইনিংসের হারে জয়াসুরিয়ার চেয়ে এগিয়ে আর ক্যালিসের পেছনে সাকিব।
বোলিংয়ের পরিসংখ্যানে তাঁদের কাউকেই একে-অন্যের চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে রাখা যাচ্ছে না। ইনিংসের সেরা বোলিং ফিগারের কথাই ধরুন, তিনজনই ইনিংসে ন্যূনতম ৫ উইকেটের দেখা পেয়েছেন। সাকিব ৩ বার, ক্যালিস ২ বার ও জয়াসুরিয়া ৪ বার।
সেরা বোলিং ফিগার আদায় করতে গিয়ে সাকিব ও জয়াসুরিয়া সমান ২৯টি করে রান দিয়ে যথাক্রমে ৫ ও ৬টি করে উইকেট পেয়েছেন। ক্যালিস তাঁদের চেয়ে ১ রান বেশি দিয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট।
ক্যালিসের ওয়ানডে ক্যারিয়ার টিকেছে ১৮ বছর, জয়াসুরিয়ার ২২ বছর এবং সাকিব ১৬ বছর হলো খেলছেন। ৩৪ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারের হাতে সময় বেশি নেই। আর হয়তো দুই-তিন বছর। পরিসংখ্যানটা আরও ভালো করে এমন সব কীর্তিমানদের অন্যান্য তালিকায় নাম লেখাতে সাকিবকে যা করার এর মধ্যেই করতে হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের
৪৬তম ওভারের তৃতীয় বলে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ডেভিড মিলার স্ট্যাম্প আউট হয়ে যাওয়ার পরই ধারাভাষ্যকাররা বলে দিয়েছেন, ম্যাচটা এখানেই শেষ। দক্ষিণ আফ্রিকার পরাজয় নিশ্চিত। বাকি ছিল আর কতদুর যেতে পারে স্বাগতিক প্রোটিয়ারা।
শেষ দিকে কেশভ মাহারাজ এবং লুঙ্গি এনগিদি কয়েকটি চার-ছক্কা মেরেছিলেন ঠিকই, কিন্তু বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় আর ঠেকাতে পারেনি তারা।
রীতিমত ঘোষণা দিয়ে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ঐতিহাসিক প্রথম জয়ের দেখা পেলো বাংলাদেশ। ৩১৫ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে ৪৮.৫ ওভারে প্রোটিয়াদের অলআউট করে দিয়েছে ২৭৬ রানে। ৩৮ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তামিম ইকবাল অ্যান্ড কোং।
ব্যাট হাতে সাকিব-রাব্বির পর বল হাতে প্রোটিয়া শিবিরে কাঁপন ধরিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ এবং শরিফুল ইসলাম। ৪ উইকেট নিয়ে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সবচেয়ে সফল মিরাজ। ৩ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের কোমর ভেঙে দিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। আর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেক থ্রু এনে দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম।
এর আগে প্রোটিয়াদের মাটিতে তাদের বিপক্ষে কোনো ফরম্যাটেই কোনো ম্যাচ জেতেনি বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে গিয়ে ৯বার মুখোমুখি হযেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু কোনোবারই জয়ের স্বাদ নিতে পারেনি। জয় তো দূরে থাক, নূন্যতম লড়াই করারও সাহস দেখাতে পারেনি টাইগাররা। সবচেয়ে ছোট ব্যবধানে পরাজয় ছিল ৬১ রানে (২০০৮ সালের ৭ নভেম্বর পচেফস্ট্রমে)।
সে জায়গায় এবার দেশ ছাড়ার আগেই তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান এবং কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোরা বলছিলেন, অন্তত একটি জয় হলেও পেতে চান তারা।
রাসেল ডোমিঙ্গো তো বলেই দিয়েছিলেন, এবার তিনি এমন কিছুর আশা করছেন, যা দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আগে কখনো হয়নি। শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরিয়নের সুপার স্পোর্টস পার্কে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই সেটা করে দেখালো বাংলাদেশ। তুলে নিলো দুর্দান্ত এক জয়।
যেন ঠিক ছকে আঁকা একটি ম্যাচ ছিল এটা। টস জিতুক আর না জিতুক, প্ল্যান কার্যকর করার সব চিন্তাই হয়তো তৈরি করা ছিল। যে কারণে টস হেরে ব্যাট করতে নামলেও সেটা খুব একটা প্রভাব পড়েনি ম্যাচে গেম প্ল্যান কার্যকরে। সেঞ্চুরিয়নের মাঠ ছোট, এখানে রান ওঠে। ব্যাটাররা অনেক রানের দেখা পায়। প্রোটিয়ারা নিজেরাই তো এর আগে এই মাঠে কত ম্যাচে রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল!
বাংলাদেশ ব্যাট করতে নে,শুরুটা ভালো করেছিল। তামিম-লিটন মিলে ৯৫ রানের যে জুটি গড়েছিলেন, সেখানেই গড়ে উঠেছিল আত্মবিশ্বাস। যে কারণে তিন ফিফটিতে বাংলাদেশের রান পার হলো ৩০০। ৩১৪ রানে গিয়ে থামলো টাইগাররা। আফগানিস্তান সিরিজে নিজেকে প্যাসেঞ্জার মনে করা সাকিব আল হাসানই ছিলেন সবচেয়ে সফল। মাঠের খেলায় নিজেকে যে নিবেদিত করতে পারেন, সাকিব তার বড় উদাহরণ। ৬৪ বলে তিনি খেললেন ৭৭ রানের ইনিংস।
তামিম ইকবাল বোলিংয়ের শুরুটাও করালেন সাকিবকে দিয়ে। কিন্তু প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দিলেন শরিফুল। এরপর এক ওভারেই প্রোটিয়া টপ অর্ডারে বড় ধাক্কা দিলেন তাসকিন। ৩৬ রানে নেই ৩ উইকেট। এরপর টেম্বা বাভুমা আর রাশি ফন ডার ডুসেন মিলে ৮৫ রানের জুটি গড়ে ম্যাচটাকে বের করে নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শরিফুল এসে তাদের চেষ্টা ভেঙে দিলেন।
রাফি ফন ডার ডুসেন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন, ৮৬ রান করে চেষ্টা করেন ম্যাচ বের করে নেয়ার। কিন্তু তাসকিনের ডেলিভারিতে রাব্বির দারুণ ক্যাচে পরিণত হয়ে তারও চেষ্টার সমাধি হলো। ডেভিড মিলার তার সেই ‘কিলার মিলার’ উপাধিটাকে ফিরিয়ে আনার প্রয়াস পেয়েছিলেন। কিন্তু মিরাজের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ের সামনে হার মানলেন তিনিও। ৭৯ রান করেই তাই তিনি রয়ে গেলেন পরাজিতের কাতারে।
৩১৫ রানের বিশাল লক্ষ্য। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা ঘরের মাঠে সব সময়ই শক্তিশালী। কিন্তু উল্টোদিকে ওয়ানডে ফরম্যাটটা বাংলাদেশ ভালো খেলে এবং এই ফরম্যাটে প্রোটিয়াদের হারানোর বেশ কয়েকবারের অভিজ্ঞতাও আছে টাইগারদের। যদিও প্রোটিয়াদের বিপক্ষে এসব জয় ছিল ঘরের মাঠ কিংবা বিদেশের মাটিতে। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে নয়।
সে কারণেই সাকিব-তামিমরা বলে আসছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় অন্তত একটি জয় চাই। সে লক্ষ্যে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটাররা নিজেদের কাজটি করে দিয়েছেন। এরপর বোলারদের হাতে ছিল ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত তারাও প্রমাণ করলো নিজেদের।
জয়ের লক্ষ্যে শুরুটা দারুণ হলো বাংলাদেশের। চতুর্থ ওভারেই প্রোটিয়া ওপেনার জানেমান মালানের উইকেট তুলে নেন বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। তার বলে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন মালান। দুর্দান্ত ক্যাচটি তালুবন্দী করেন মুশফিকুর রহিম।
প্রায় মাটিতে লাগতে যাওয়া বলটি এক ঝলকে গ্লাভসে তুলেন টাইগার উইকেটরক্ষক। দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংসে প্রথম আঘাত আসলো দলীয় ১৮ রানের মাথায়।
আম্পায়ারও অবশ্য নিশ্চিত ছিলেন না ক্যাচের ব্যাপারে। সফট সিগন্যাল ‘নটআউট’ দিয়ে থার্ড আম্পায়ারের কাছে পাঠালেন। তাতে দেখা গেলো বল ব্যাটে লেগেছে, ক্যাচও পরিষ্কারভাবেই গ্লাভসবন্দী করেছেন মুশফিক।
শরিফুলের বোলিং তোপের পরপরই আক্রমণে নিয়ে আসা হয় ডান-হাতি পেসার তাসকিন আহমেদকে। তামিমের এই আস্থার প্রতিদান দিলেন তাসকিন। সাফল্য এনে দিতে খুব বেশি সময় নেননি তিনি। একই ওভারে পরপর প্রোটিয়াদের টপ অর্ডারের দুই ব্যাটারকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে দেন।
শরিফুলের বলে ১৮ রানের মাথায় পড়ে প্রোটিয়াদের প্রথম উইকেট। তাসকিনের বলে ৩৬ রানের মাথায় পড়লো দ্বিতীয় উইকেট। ৮ম ওভারের ১ম বলে উইকেট পড়ার পর চতুর্থ বলে পড়লো আরো এক উইকেট। এবার প্রোটিয়াদের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার এইডেন মারক্রামকে মিরাজের ক্যাচে পরিণত করলেন তাসকিন।
ব্যক্তিগত ২১ রানে তাসকিনের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন অপর ওপেনার কাইল ভেরাইনি। তাসকিনের ওভারের প্রথম বলে রিভিউ নেয়ারও সুযোগ পেলেন না তিনি। আম্পায়ার আঙ্গুল তুলতেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি। ওভারের ৪র্থ বলটি ছিল ফুলার লেন্থ। ক্যাচ ওঠে পয়েন্টের কাছে। মিরাজ খুব সহজেই সেটিকে তালুবন্দী করলেন।
তাসকিনের এক ওভারেই কাঁপন ধরে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপে। ৩৬ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর ম্যাচে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ব্যাটার টেম্বা বাভুমা এবং রাশি ফন ডার ডুসেন। তারা দু’জন প্রাথমিক চেষ্টায় সফল হওয়ার পর নজর দেন রানের গতি বাড়ানোর দিকে।
৮৫ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা এবং রাশি ফন ডার ডুসেন। ২৭তম ওভারে নিজের ৬ষ্ঠ ওভার বল করতে এসে ব্রেক থ্রু উপহার দিলেন শরিফুল। তার বলে উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন প্রোটিয়া অধিনায়ক। ৫৫ বলে ৩১ রান করে আউট হন তিনি।
টেম্বা বাভুমা আউট হলেও রাশি ফন ডার ডুসেন যেন বাংলাদেশের হাত থেকে ম্যাচটা নিতে যাচ্ছিলেন। বেশ কয়েকবার আউটের সুযোগ তৈরি হয়েছিল; কিন্তু প্রতিবারই বেঁচে যান তিনি।
অবশেষে ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তাসকিন আহমেদ। ভয়ঙ্কর থেকে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা রাশি ফন ডার ডুসেনকে ইয়াসির আলী রাব্বির হাতে দুরহ ক্যাচে পরিণত করে সাজঘরের পথ দেখালেন তিনি। ৩৮তম ওভারের প্রথম বলেই তাসকিনকে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন ফন ডার ডুসেন। দৌড়ে এসে সেই ক্যাচ তালুবন্দী করেন ইয়াসির। ৮৬ রান করে আউট হন তিনি।
ফন ডার ডুসেন আউট হওয়ার পর দ্রুত রান তুলে আবার বাংলাদেশের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ান ডেভিড মিলার। যদিও এর মধ্যে আন্দিল পেহলুকাইয়ো, মার্কো জানসেন, কাগিসো রাবাদার উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ধরে রাখেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
তবে ৪৬তম ওভারের তৃতীয় বলেই আসল কাজটি করে দেন তিনি। মিরাজকে ড্যান্সিং ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে এসে বল মিস করেন মিলার। স্ট্যাম্পিং করতে অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের বিন্দমাত্র বিলম্ব হয়নি। ৫৭ বলে ৭৯ রান করেন তিনি। ৮টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছক্কা মারেন ৩টি। শেষ দিকে ১৬ বলে ২৩ রান করে কেশভ মাহারাজ এবং লুঙ্গি এনগিদি ১০ বলে ১৫ রান করে শুধু পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছেন।
তবুও মাহমুদউল্লাহর বলে কেশভ মাহারাজ যখন এলবিডব্লিউ হলেন, আম্পায়ার আউট দিতে চাইলেন না। খুব আত্মবিশ্বাসী মাহমুদউল্লাহ সঙ্গে সঙ্গেই ডিআরএস চাইলেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বারবার বলছিলেন, এটা আউট। শেষ পর্যন্ত টিভি রিপ্লেতে দেখা গেলো তিনি সঠিক এবং আম্পায়ার বোঙ্গানি জেলে ক্ষমা চেয়ে আউটের ঘোষনা দিলেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
টস: দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশ: ৩১৪/৭, ৫০ ওভার (সাকিব আল হাসান ৭৭, লিটন দাস ৫০, ইয়াসির আলি রাব্বি ৫০, তামিম ইকবাল ৪১, মাহমুদউল্লাহ ২৫, মিরাজ ১৯*; মার্কো জানসেন ২/৫৭, কেশভ মাহারাজ ২/৫৬, রাবাদা ১/৫৭)।
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২৭৬/১০, ৪৮.৫ ওভার (রাশি ফন ডার ডুসেন ৮৬, ডেভিড মিলার ৭৯, টেম্বা বাভুমা ৩১, কাইল ভেরাইনি ২১, কেশভ মারাহাজ ২৩, লুঙ্গি এনগিদি ১৫*; মেহেদী হাসান মিরাজ ৪/৬১, তাসকিন আহমেদ ৩/৩৬, শরিফুল ২/৪৭, মাহমুদউল্লাহ ১/২৪)।
ফল: বাংলাদেশ ৩৮ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাকিব আল হাসান।
ক্রিকেটে নতুন নিয়ম
ক্রিকেটে আবারও তালিকাভুক্ত হলো নতুন কিছু নিয়ম। এমসিসির এক বৈঠকে প্রাথমিকভাবে স্বীকৃতিও পেয়েছে নিয়মগুলো।
এমসিসির বৈঠকে প্রাথমিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে নিয়মবদলের বিষয়গুলো। আগামী অক্টোবর থেকে ক্রিকেটের নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হবে।
নিয়মগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো— ক্যাচ নেওয়ার সময় দুই ব্যাটসম্যান যদি নিজেদের মধ্যে ক্রস করে নেন। তা হলেও নতুন ব্যাটসম্যানকেই ক্রিজে এসে স্ট্রাইকে দাঁড়াতে হবে।
অর্থাৎ শট নেওয়ার পর ফিল্ডার ক্যাচ নেওয়ার সময় দুই ব্যাটসম্যান প্রান্ত বদল করলে আর আগের মতো নতুন ব্যাটসম্যান ক্রিজে এসে নন-স্ট্রাইকে দাঁড়াতে পারবেন না। তাকেই স্ট্রাইক নিতে হবে। এবার থেকে পুরনো নিয়ম উঠে যাচ্ছে।
নতুন নিয়মে কোনো ব্যাটসম্যান ক্যাচ আউট হলে নতুন ব্যাটসম্যানকেই সরাসরি এসে স্ট্রাইক নিতে হবে। তাতে দুই ব্যাটসম্যান ক্রস করে থাকুক আর নাই বা থাকুক। আউট হওয়ার পর নতুন ব্যাটসম্যান এলে তাকেই স্ট্রাইক নিতে হবে। প্রান্ত বদল করলে নতুন ব্যাটসম্যানের নন-স্ট্রাইকে দাঁড়ানোর নিয়ম আর থাকছে না।
কুমিল্লাকে হারিয়ে ফাইনালে বরিশালকুমিল্লাকে হারিয়ে ফাইনালে বরিশাল
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম কোয়ালিফায়ারে আজ মুখোমুখি হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও ফরচুন বরিশাল। এ ম্যাচে কুমিল্লাকে ১০ রানে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে গেল বরিশাল।
ফাইনালে যাওয়ার লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৬২ রানের সংগ্রহ পায় কুমিল্লা। তবে ৩০ বলে ২০ রানের ধীরগতির ইনিংস খেলেন মাহমুদুল হাসান জয়। জয়কে মেহেদী হাসান রানা বোল্ড করার পর টানা তিনটি উইকেট হারায় কুমিল্লা। ৬৮ রানে ৩ উইকেট যায় কুমিল্লার। ৩৫ বলে ৩৮ রান করেন লিটন দাস।
চতুর্থ উইকেটে মঈন ও ফাফ ডু প্লেসি গড়েন ২১ বলে ৩৬ রানের জুটি গড়েন। মঈনকে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন ডোয়াইন ব্রাভো। ১৫ বলে ২২ রান করেন মঈন, হাঁকান তিনটি ছক্কা। ১৫ বলে ২১ রান করে দলের প্রয়োজনের সময়েই ক্যাচ আউট হয়ে যান ডু প্লেসিও।
জয়ের জন্য শেষ ওভারে কুমিল্লার প্রয়োজন ছিল ১৮ রান। বোলিংয়ে আসেন মুজিব উর রহমান। দ্বিতীয় বলে ছক্কা মারার পর ইনিংসের এক বল বাকি থাকতেই আউট হয়ে যান সুনীল নারাইন। সেই সঙ্গে বরিশালের জয় নিশ্চিত হয়।
এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে ফরচুন বরিশাল। ব্যাট হাতে শুভ সূচনা করেন ক্রিস গেইল ও মুনিম শাহরিয়ার। তাদের ৫৮ রানের জুটি ভাঙেন শহিদুল ইসলাম। ১৯ বলে ২২ রান করে বিদায় নেন গেইল। দ্বিতীয় উইকেটে ১৮ বলে ২৬ রান যোগ করেন মুনিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। মারমুখী ভঙ্গিতে থাকা মুনিম বড় শট খেলতে গিয়েই তানভীরের বলে এলবিডব্লিউ হন।
মাঠ ছাড়ার আগে মুনিম করেন ৩০ বলে ৪৪ রান। মারকুঠে এই ব্যাটারের উইলো থেকে আসে দুইটি চার ও চারটি ছক্কা। সাকিব আল হাসান নেমেই নিজের ভুলেই রান-আউট হন। ২ বলে ১ রান করেন তিনি। শুরু হয় বরিশালের টানা উইকেট হারানো। ৮৪ রানের দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর ৯৪ রানের মধ্যে বরিশাল হারিয়ে ফেলে পাঁচটি উইকেট।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৩ রান সংগ্রহ করতে পারে বরিশাল। ডোয়াইন ব্রাভো ২১ বলে ১৭ রানের ধীরগতির ইনিংস খেলেন। কুমিল্লার পক্ষে শহিদুল তিনটি এবং মঈন দুইটি উইকেট শিকার করেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য