শিরোনাম
গণমিছিলের ঘোষণা
৫ দাবিতে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দেবে জামায়াতসহ ৮ দল
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি ও জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল আগামী বৃহস্পতিবার গণমিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
আজ সোমবার রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর আগে দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন। পরে দলগুলোর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে একই সঙ্গে সংশোধিত আরপিও বহাল রাখার বিষয়ে দলগুলোর অনড় অবস্থানের কথা জানানো হয়। এ বিষয়ে মামুনুল হক বলেন, সংশোধিত আরপিও হুবহু বহাল রাখতে হবে। এর মধ্যে কোনো ধরনের বিয়োজন, পরিমার্জন কিংবা নতুন কোনো পরিবর্তন আমরা মানি না।
বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, সেদিন সব দল শুরুতে আলাদা আলাদাভাবে মিছিল নিয়ে পল্টনে আসবে। পরে পল্টন থেকে একযোগে গণমিছিল যাবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় বরাবর।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, আমরা যে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলাম, তাতে হঠাৎ করে একটি দল বিরোধিতা করছে। আমরা আশা করব তারা তাদের দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করবে।
আর বৃহস্পতিবারের কর্মসূচির পরেও যদি দাবি পূরণ না হয়, তাহলে ১১ নভেম্বর দলগুলোর পক্ষ থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে বলে জানান মামুনুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর), ইউনুছ আহমাদ, ও অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ।
বাসে কুবি শিক্ষার্থীকে হেনস্তা, মুচলেকা দিয়ে জব্দ বাস ছাড়িয়ে নিল মালিকপক্ষ
কুবি প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে বাসের হেলপারের হেনস্তার শিকার হয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ১৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মামুনুর রশীদ রাজীব। শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে মিরসরাই ও বারইয়ারহাটের মাঝামাঝি স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর রাজীবের সহপাঠীরা বাসটি জব্দ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বাস মালিক সমিতির উপস্থিতিতে লিখিত মুচলেকার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
ভুক্তভোগী রাজীব বলেন, “চট্টগ্রামের অলংকার কাউন্টার থেকে ৩০০ টাকায় ঢাকাগামী ‘তিশা প্লাটিনাম’ বাসের টিকিট কাটি। কাউন্টারের কর্মীরা বলেন, বাসটি কোটবাড়ি বিশ্বরোডে আমাকে নামিয়ে দেবে। কিন্তু তারা ভুলভাবে আমাকে ‘কুমিল্লা ট্রাভেলস এক্সক্লুসিভ তিশা’ নামের একটি লোকাল বাসে তুলে দেন।”
বাস ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই তিনি বুঝতে পারেন, গাড়িটি পথে পথে যাত্রী উঠানামা করছে। এতে আপত্তি জানালে হেলপার বলেন, ‘আমি কি খালি বাস নিয়ে যাবো?’ রাজীব জানান, লোকাল ভাড়া ২০০ টাকা হওয়ায় তিনি ১০০ টাকা ফেরত দাবি করেন। এতে হেলপার ও ড্রাইভারসহ কয়েকজনের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়।
রাজীব বলেন, “আমি বলি আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তখন হেলপার ধাক্কা দিয়ে বলে, ‘তুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তো কী হয়েছে?’” এ সময় অন্যান্য যাত্রীরা প্রতিবাদ করেন।
এরপর রাজীব ফোনে বন্ধুদের ঘটনাটি জানান। তারা পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডে এসে বাসটি আটকানোর প্রস্তুতি নেন। কিন্তু ড্রাইভার মিয়াবাজারে গিয়ে জানায়, বাসটি নষ্ট হয়ে গেছে। পরে যাত্রীদের আংশিক ভাড়া ফেরত দেওয়া হয়। রাজীবকে প্রথমে ৫০ টাকা, পরে ১০০ টাকা ফেরত দিতে চাইলেও তিনি তা নেননি।
মিয়াবাজারে কিছু স্থানীয় লোক ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে রাজীবের সহপাঠীরা সেখানে গিয়ে বাসটি জব্দ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় সাদা গেঞ্জি পরিহিত এক ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি নিয়ে হামলার চেষ্টা করেন।
সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জব্দ করা বাসটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনা হয়। কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুন, বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থেকে ঘটনাটি মীমাংসা করেন। রাত নয়টার দিকে অভিযুক্ত পক্ষের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়ার পর বাসটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
মুচলেকায় বলা হয়, ভবিষ্যতে যাত্রীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করা, শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মান দেখানো, নির্ধারিত টিকিট কাউন্টার ব্যবহার করা এবং অভিযোগ জানানোর জন্য বাসে দৃশ্যমান স্থানে মোবাইল নম্বর ঝুলিয়ে রাখা হবে।
বাসচালক মোহাম্মদ রানা ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্ত হেলপার তাঁর ছোট ভাই। বাস মালিক সমিতির এক প্রতিনিধি বলেন, “বাসটি লোকাল সার্ভিসের। ছাত্রটি দালালের মাধ্যমে টিকিট নিয়েছে, দালাল অতিরিক্ত টাকা নিয়েছে। সেই টাকা বাসচালকের কাছে যায়নি।”
একাদশ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন আজ থেকে, কলেজের জন্য যে নির্দেশনা বোর্ডের
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অনলাইনে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আজ রবিবার ২ নভেম্বর) শুরু হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া চলবে আগামী ১৬ নভেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কলেজগুলো ওয়েবসাইটে লগইন করে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে বাংলাদেশ আন্তঃ শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আগামী ২ নভেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।
শিক্ষা বোর্ডসমূহের আওতাধীন দেশের সব উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভর্তি ওয়েবসাইট (https://www.xiclassadmission.gov.bd) এর (College Login) প্যানেলে (কলেজের ইআইআইএন নম্বর ও পাসওয়ার্ড) দিয়ে লগইন করতে হবে। আগামী ১৬ নভেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শিক্ষার্থীদের তথ্যাদি অনলাইনে প্রেরণের সমুদয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে টিউটোরিয়াল দেখুন এখানে।
বালু খেকো কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, ৮ মাসেও হয়নি সংস্কার
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) একমাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কারের নামে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে বেহাল দশায়। প্রায় আট মাস আগে মাঠ সংস্কারের কাজ শুরু হলেও, কাজের চরম ধীরগতির কারণে তা এখনও খেলার উপযোগী হয়ে ওঠেনি।
বরং মাঠজুড়ে কেবল বালু আর বালুর স্তূপ জমায় এটিকে শিক্ষার্থীরা এখন 'বালু খেকো মাঠ' হিসেবেই আখ্যায়িত করছেন। সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র মাঠে খেলাধুলা ও নিয়মিত অনুশীলন কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এছাড়া পূ্র্বে মাঠের যে সৌন্দর্য ছিল সেটিও নষ্ট হয়েছে বলুর স্তুপের কারণে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বালুর স্তুপকে প্রাচীন পিরামিড বলেও হাস্যরস করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র কেন্দ্রীয় মাঠের এমন বেহাল দশার বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষার্থী ও নিয়মিত খেলোয়াড় সানোয়ার রাব্বি প্রমিজ বলেন, "মাঠ ইস্যুতে আমরা শিক্ষার্থীরা বিরক্ত। প্রতিনিয়ত ইন্জিনিয়ার দপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দপ্তরে ঘুরি এমনকি ঠিকাদারকে পর্যন্ত বলি। আমরা যখন আন্দোলন করি তখন কাজ হয় আর যখন আন্দোলন করি না তখন কাজের গতি মন্থর হয়। গত ৭ মাস ধরে এখন পর্যন্ত বালু পড়া শেষ হয়নি। প্রথমে আবহাওয়ার কারণে বিলম্ব হচ্ছে বলছিলো এখন ঠিকাদার, সরকারি নিয়মের কারণে গতি কমে গিয়েছে। এখন পর্যন্ত এমন কোনোদিন নাই যেদিন ব্যক্তিগত ভাবে আমরা ডিপিডি, পিডি, ছাত্রপরামর্শক, প্রক্টরের সাথে দেখা করি নাই কিংবা ফোন দিয়ে কাজ করতে বলি নাই উনারা দাবি করতে পারবে না।"
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন থেকে এই আন্দোলন করা হচ্ছে মাঠ সংস্কারের। অভ্যুত্থান পরবর্তীতে বর্তমান প্রশাসন আন্তরিকতা দেখালেও ইন্জিনিয়ারিং দপ্তর এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মন্থর গতি আমাদের আশাহত করছে। শারীরিক শিক্ষায় তালা, মানববন্ধন, ভিসি মহোদয়ের কাছে অনুরোধ সবকিছুই করা হইছে। কবে হবে মাঠ? উনারা কি ১০ হাজার শিক্ষার্থীর মনের কথা বুঝে না? অবিলম্বে মাঠের কাজ তরান্বিত করতে হবে। নয়তো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে হবে আমাদের।”
শারীরিক শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. নাজমুল হাসান বলেন, "আমরা কয়েকদিন আগে কন্ট্রাক্টর, ছাত্র প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সকলে বসেছি। কাজ দ্রুত করার জন্য আমরা বারবারই বলছি। কাজের বিলম্ব হওয়ার কারণ হলো কন্ট্রাক্টর ঠিকমতো কাজ করেনা। এর আগের কন্ট্রাক্টরেরতো বিলও আটকে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি প্রায় ২ মাস আগে নতুন কন্ট্রাক্টরকে কাজ দেওয়া হয়েছে। তারা দ্রুত সময়ে কাজ করবে বলেছে।"
জানা গেছে মাঠ সংস্কারের জন্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে ওয়াক ওয়ে, সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ ও রাস্তার কাজে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে থেকে মাঠ সংস্কারের জন্য যতগুলো টাকা লাগবে তা খরচ করতে পারবে।
প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ মোফাসিরুল ইসলাম বলেন, "আমরা ওদেরকে (কন্ট্রাক্টর) বলছিলাম সাদা বালু ও লাল বালু নিয়ে আসবে। এরপর মিক্সার হবে। এরপর একপাশ থেকে বালুগুলো বিছিয়ে আসবে। বিছানোর পরে ঘাস বিছানো হবে। তবে আশেপাশে লাল বালুর কোনো সোর্স নাই। লাল বালু আসছে পঞ্চগড় থেকে। লাল বালু ও সাদা বালু মিক্সিং করতে ২ সপ্তাহের মতো সময় লাগতে পারে। এরপর পানি দিয়ে ভেজাতে হবে ২ মাস। তবে কোনো সমস্যা না হলে ১ মাসের মধ্যে বালু ফেলানো সম্ভব।"
প্রকৌশল দপ্তরের উপ-প্রধান প্রকৌশলী মো. মাহবুবুল ইসলাম বলেন, "লাল বালু ও সাদা বালু মিক্সিং-এ ১ মাস সময় লাগবে।"
এর আগেও কয়েক ধাপে বালু ফেলা হয়েছে। তবে সেগুলোর ছিলনা তেমন কোনো পরিকল্পনা। অপরিকল্পিতভাবে বালু ফেলার কারণেই এবং পূর্বের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাজের ধীর গতির কারণেই মাঠের এই বেহাল দশা। এছাড়া আগের ঠিকাদারের ড্রেনের কাজের ক্ষেত্রেও দুই নম্বর ইটের ব্যবহার করার সময়ও ধরা পড়ার ঘটনা ঘটেছে।
আগে অপরিকল্পিতভাবে বালু ফেলার সাথে ইন্জিনিয়ারিং দপ্তরের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা প্রশ্নে মো. মাহবুবুল ইসলাম বলেন, "প্রথমে যে কাজগুলো হয়েছে সেগুলো এক্সপার্ট ওপিনিয়ন ছাড়া হয়েছে। বর্তমানে বিকেএসপির (বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) এক্সপার্টের পরিকল্পনা মাফিক কাজ হচ্ছে। এটা আগে থেকে করলে এখন আর কাজ করা লাগতো না। এর আগে মাটির টপ লেয়ারে যে ম্যাটেরিয়ালস ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো এক্সপার্ট ওপিনিয়ন ছাড়া হয়েছে। যার কারণে ঘাস গোঁজানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন একটিভিটিসে সমস্যা হয়েছে।"
জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১৯০ মিনি ট্রাক বালু ফেলানো হয়েছে। এরপরেও পরিপূর্ণভাবে মাঠের কাজ শেষ করা যায়নি। মাঠটি দীর্ঘ সময় পড়ে থাকার কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
তবে দুই লেয়ারের মধ্যে প্রথম লেয়ারের কাজ শেষের পর দ্বিতীয় লেয়ারের কাজ শুরুর বিষয় উল্লেখ করে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাহাত হাসান দিদার বলেন, "এখন ডিজাইন অনুযায়ী শেষ লেয়ারের কাজ চলছে। আমরা বিকেএসপিতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে এক্সপার্টের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। তবে প্রথমদিকে কাজের ক্ষেত্রে বিকেএসপির পরামর্শ নেওয়া হয়নি। পরামর্শ নেওয়া হলে হয়তো টাকা বেঁচে যেত। তবে আমি তখন দায়িত্বে ছিলাম না। আর প্রথমদিকে যে ঠিকাদার কাজ করেছে সে ছিল ড্রেনের ঠিকাদার। তাকে জরুরি কারণে কাজ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান ঠিকাদারদের মতে বালু ফেলতে ১ মাসের মতো সময় লাগবে। ফিল্ড রেডি হয়ে যাবে। তবে এরপর বিকেএসপির পরামর্শ মতে ঘাস লাগাতে হবে।"
তবে মাঠের কাজ শেষ করতে বর্তমান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাহবুবু এন্টারপ্রাইজ-এর কতদিন সময় লাগবে তা জানার জন্য প্রতিষ্ঠানটির মালিক মুরাদ মাহবুবকে ফোন দেওয়া হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠটি একসময় সবুজ ঘাসে পরিপূর্ণ সুন্দর একটি মাঠ ছিল বলে শিক্ষার্থীদের দাবি। সংস্কারের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের এমন বেহাল অবস্থা দেখে আশাহত শিক্ষার্থীরা। খেলার জন্য উপযুক্ত ও সবুজ ঘাসে পরিপূর্ণ মাঠ দেখার অপেক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি এক প্রশ্নে, নম্বর বণ্টনের কাঠামো প্রকাশ
এবার একই দিনে অভিন্ন প্রশ্নে এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে মেডিকেল ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। নীতিমালা অনুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষায় এবার ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএ মোট ১০০ নম্বরের হিসাবে নির্ধারণ করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ওয়েবসাইটে এ নীতিমালা প্রকাশ করা হয়। বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন নীতিমালায় সই করেছেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ এবং জাতীয় ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধা তালিকা তৈরি করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ মোট ১০০ নম্বর হিসাবে নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএর ৮ গুণ এবং এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএর ১২ গুণ এবং ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের যোগফলের ভিত্তিতে মেধা তালিকা তৈরি করা হবে।
তবে সেকেন্ড টাইমার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বর থেকে ৩ নম্বর এবং পূর্ববর্তী বছরে সরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ বা ডেন্টাল ইউনিটে ভর্তিকৃত প্রার্থীর ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বর থেকে ৫ নম্বর কেটে মেধা তালিকায় অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।
নীতিমালায় বলা হয়, দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির জন্য একই সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে জাতীয় ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইংরেজি মাধ্যমে উত্তীর্ণ এবং ইংরেজি মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য ইংরেজিতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে হবে।
এ ছাড়া এইচএসসি বা সমমান সিলেবাস অনুযায়ী ১০০টি প্রশ্নে লিখিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলেও উল্লেখ রয়েছে নীতিমালায়। এতে বলা হয়েছে, প্রতিটি প্রশ্নের মান থাকবে ১। বিষয়ভিত্তিক বিভাজন যথাক্রমে- জীববিজ্ঞান ৩০, রসায়ন ২৫, পদার্থবিজ্ঞান ১৫, ইংরেজি ১৫ এবং সাধারণ জ্ঞান, প্রবণতা ও মানবিক গুণাবলী মূল্যায়ন ১৫ নম্বর। সব মিলিয়ে ৪০ নম্বরে পাস মার্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি ভুল উত্তর প্রদানের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট।
পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রসঙ্গে নীতিমালায় বলা হয়, প্রবেশপত্রে আবেদনকারীর ছবির জলছাপ সন্নিবেশ করতে হবে। পরীক্ষার্থী পরীক্ষার হলে বলপয়েন্ট ব্যতীত অন্য কোনো কলম, পেন্সিল, ঘড়ি অথবা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনতে পারবে না। এ ছাড়া এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীও পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোনসহ অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্র বা ভেন্যুর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান কেবলমাত্র জরুরি প্রয়োজনে অফিস কক্ষে বা ভর্তি পরীক্ষার কন্ট্রোল রুমে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। কোনো অবস্থাতেই কেউ পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।
মেধা তালিকা, শিক্ষার্থী নির্বাচন ও আবেদন গ্রহণ প্রসঙ্গে নীতিমালায় বলা হয়, শুধুমাত্র লিখিত ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ বা ডেন্টাল ইউনিট ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ বা ডেন্টাল ইউনিটে ভর্তির জন্য জাতীয় মেধা তালিকা (বিশেষ কোটা উল্লেখসহ) প্রকাশ করা হবে। সরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ বা ডেন্টাল ইউনিটে ভর্তির জন্য উপজাতি ও পার্বত্য অঞ্চলের অ-উপজাতীয়দের জন্য নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
এ ছাড়া অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদন দাখিলের সময় আবেদনকারীকে সকল সরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ বা ডেন্টাল ইউনিটের প্রযোজ্য ক্ষেত্র অনুযায়ী পছন্দক্রম বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ কর্মদিবসের মধ্যে সরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ বা ডেন্টাল ইউনিটের ভর্তি প্রক্রিয়া (৩য় মাইগ্রেশনসহ) সম্পন্ন করতে হবে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ বা ডেন্টাল ইউনিটে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য