শিরোনাম
শিক্ষা ভবন অভিমুখে লং মার্চের ডাক দিলেন সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা
বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে এবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারির দাবিতে আগামী সোমবার (১৩ অক্টোবর) ‘লং মার্চ টু শিক্ষা ভবন’ শীর্ষক কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন তারা।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) মধ্যরাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তাদের দাবি, বহুল প্রতীক্ষিত অধ্যাদেশ অবিলম্বে জারি করতে হবে। নয়তো আন্দোলন আরও তীব্র হওয়ার হুঁশিয়ারী প্রদান করেন তারা।
নিজেদের আন্দোলনকে শুধু দাবি নয় বরং নিজেদের অস্তিত্বের লড়াই উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের ইতিহাসে এমন সুশৃঙ্খল, পরিকল্পিত ও পরিণত আন্দোলন আগে দেখা যায়নি। আমরা আমাদের শেষ পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।’
শিক্ষাভবন অভিমুখে লং মার্চ নিয়ে সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী শাওন আহমেদ সৈকত বলেন, ‘বিগত ১টা বছর যাবৎ একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যত নিয়ে দিনরাত পার করা শিক্ষার্থীরা এখন তাদের শিক্ষাজীবনের নিশ্চয়তা চায়। লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন নিয়ে রাষ্ট্র যেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে সেই সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র ঘোষণা করুক। আমাদের ১৩ তারিখের কর্মসূচীর একমাত্র উদ্দেশ্য অধ্যাদেশ আদায়, এর বাহিরে আর কোনো ধরনের প্রত্যাশা আমাদের নেই।’
সাত কলেজের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর আন্দোলনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কলেজটির ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী মুত্তাকি বিশ্বাস বলেন, ‘অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই শিক্ষা সিন্ডিকেটের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। খসড়া প্রকাশের পর মতামত দেওয়ার জন্য ৭ কর্মদিবস সময় নির্ধারণ করা হলেও সেই সময়সূচি আবার বাড়ানো হয়। ৯ অক্টোবর মতামত দেওয়ার সময় শেষ হলেও আমরা আশঙ্কা করছি অধ্যাদেশ জারির পথে বাধা সৃষ্টি করতে সেই মহলের নেপথ্য কার্যক্রম এখনও চলমান।’
তিনি বলেন, ‘এ ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার একমাত্র উপায় হলো দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করা। কারণ এই অনিশ্চয়তার কারণে শিক্ষার্থীরা এখন স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি, অধ্যাদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
শিক্ষার্থীদের আশা, যত দ্রুত সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারি করে তাদের পড়ার টেবিলে ফিরে যেতে রাষ্ট্র তাদের সহায়তা করবে।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে নোবিপ্রবি নোবিপ্রবি
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো বিশ্বখ্যাত টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) কর্তৃক প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৬’-এ স্থান করে নিয়েছে। এই মাইলফলক অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের মধ্যে ১২তম অবস্থানে রয়েছে এবং বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান ১২০১ থেকে ১৫০০-এর মধ্যে। প্রথমবারেই এমন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাই উচ্ছ্বসিত।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) টিএইচই তাদের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানদণ্ড হিসেবে এই র্যাঙ্কিং তালিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
এই অর্জনটি নোবিপ্রবির জন্য এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। আগে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে স্থান পাওয়ার জন্য তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ বা আলাদা দপ্তর ছিল না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতি বছরই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হতো। তবে, গত বছর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন প্রশাসন ‘নোবিপ্রবি র্যাঙ্কিং এন্ড স্ট্র্যাটেজি সেল’ নামে একটি স্বতন্ত্র দপ্তর প্রতিষ্ঠা করে। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এই নতুন উদ্যোগের ফলশ্রুতিতেই নোবিপ্রবি আজ এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জন করলো।
র্যাঙ্কিংয়ে প্রথমবারেই বাজিমাত করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা বেশ আশাবাদী। ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন এটিকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য একটি 'বড় অর্জন' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “তুলনামূলকভাবে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান হয়েও নোবিপ্রবি এই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। সারাবিশ্বে গবেষণার ক্ষেত্রে আমরা ৭২২তম অবস্থানে রয়েছি, যা আমাদের গবেষণার উন্নত মানকে স্পষ্ট করে। এই র্যাংকিংয়ের ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্কলারশিপ, ফান্ডিং ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও বেশি সুযোগ সুবিধা পাবেন। বিদেশে এখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বললে গর্বের সাথে বলা যাবে যে এটি বিশ্বের ১২০০ থেকে ১৫০০-এর মধ্যে অবস্থান করছে।”
এই অর্জন নিয়ে উচ্ছ্বাস থাকলেও শিক্ষার্থীরা র্যাঙ্কিং-এর পাশাপাশি মৌলিক সমস্যা সমাধানেও প্রশাসনের ইতিবাচক ভূমিকা দেখতে চান। এ বিষয়ে বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী জাহেদুল হক বলেন, “কোনো ইউনিভার্সিটির শিক্ষার মান শুধু বিশ্ব র্যাংকিং দেখে বুঝা যায় না। আমাদের মোট শিক্ষার্থীর কতো শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের ক্যারিয়ার জীবনে ভালো করলো, এটা ফোকাসে রাখা উচিৎ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিৎ ক্যারিয়ারমুখী কোর্স বাধ্যতামূলক করে দেওয়া। র্যাংকিং নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি মৌলিক বিষয়াবলি যত উন্নত করা যাবে, সেটা র্যাংকিংয়ের অগ্রগতিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”
র্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই যুক্ত থাকা নোবিপ্রবি র্যাঙ্কিং এন্ড স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট সেলের অতিরিক্ত পরিচালক ও ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাহাদ হোসাইন জানান, নতুন দপ্তর হিসেবে আমাদের কাছে ডেটা গোছানো ছিল না। আমরা অতি অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু ডেটা সংগ্রহ করতে পেরেছি, সেটাই এপ্রিল মাসে জমা দিই। যেখানে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এক্সপার্ট লোক নিয়োগ করে, সেখানে আমরা নিজেদের লোকাল সাপোর্ট নিয়ে এই কাজ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, এই স্বীকৃতির সবচেয়ে বেশি সুফল ভোগ করবে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা, যারা উচ্চতর গবেষণায় ভালো প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাবেন।
নোবিপ্রবি র্যাঙ্কিং এন্ড স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট সেলের পরিচালক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল হক অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমরা যতটুকু আশা করিনি তার চেয়েও বেশি ফলাফল পেয়েছি। তবে এটা মাত্র শুরু, অনেক পথ বাকি। আমাদের স্বপ্ন হচ্ছে নোবিপ্রবিকে বাংলাদেশে সেরা পাঁচটি এবং বিশ্বে সেরা ১০০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দেখতে পাওয়া। আশা করি সবার সহযোগিতায় আমরা তা অর্জন করতে পারবো।”
নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা চমক দেখাতে পেরেছি।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলের সহযোগিতায় এই অবস্থানে আসতে পেরেছি। আমাদের সামনে অনেক দূর যেতে হবে। এক্ষেত্রে এলাকাবাসী সহ সকল অংশীজনদের আমরা চাই। যেহেতু আমরা গবেষণায় ভালো করেছি কিন্তু কিছু বিষয়ে পিছিয়ে আছি। যে বিষয়গুলোতে পিছিয়ে আছি সেগুলিতে উন্নতি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আবেদন করবো। এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়নে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবো।”
এবারের র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের মোট ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। যার মধ্যে ২২টি সরাসরি র্যাঙ্কিংয়ে এবং বাকি ছয়টি রিপোর্টার ক্যাটাগরিতে জায়গা করে নিয়েছে। শিক্ষার মান, শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাত, গবেষণার মান, সাইটেশন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে টিএইচই এই র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে।
সংবাদ প্রকাশের জেরে রাজশাহী কলেজ প্রশাসনের প্রতিবাদ
সম্প্রতি রাজশাহী কলেজ ও প্রশাসনকে জড়িয়ে সংবাদের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী কলেজ প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, গত ৮ অক্টোবর দুপুর আড়াইটা নাগাদ রাজশাহী কলেজ উপাধ্যক্ষের কক্ষে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এর প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া ও অনলাইন পোর্টালে কিছু অপপ্রচার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ ঘটনায় রাজশাহী কলেজ প্রশাসন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ (বৃহস্পতিবার) রাজশাহী কলেজের শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
একই সাথে গণমাধ্যমকর্মীদের আরও সতর্কতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশনের অনুরোধ জানিয়েছেন অধ্যক্ষ।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই অনুষদের অনুমোদন
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদকে বিভক্ত করে বিজ্ঞান অনুষদ' এবং 'প্রকৌশল অনুষদ' নামে দুটি স্বতন্ত্র অনুষদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো: মুহসিন উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট অনুষদের সংখ্যা এখন ৭টি। এই ৭টি অনুষদের অধীনে মোট ২৫টি বিভাগ রয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়, একাডেমিক কাউন্সিলের ৫১ তম সভার (১৮/০৮/২০২৫) আলোচ্যবিষয়-৯ এর সিদ্ধান্ত এবং সিন্ডিকেটের ৯০ তম (২৯/০৮/২০২৫) সভার আলোচ্যবিষয়: ১৩২২ এর অনুমোদনক্রমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদকে বিভক্ত করে বিজ্ঞান অনুষদ ও প্রকৌশল অনুষদ নামে দুটি অনুষদ সৃজন করা হলো। এতদনুযায়ী বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদাধীন বিভাগসমূহকে দুইভাগে বিভক্ত করে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে প্রকৌশল অনুষদের এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদাধীন অন্যান্য বিভাগকে বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
তরুণদের কণ্ঠে জলবায়ু বার্তা: খুলনায় ‘ভয়েসেস অব ক্লাইমেট’ ফ্ল্যাশমব
জলবায়ু পরিবর্তনের স্থানীয় সমস্যা ও তরুণদের দাবি ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য COP-30 সম্মেলনের বৈশ্বিক মঞ্চে পৌঁছে দিতে খুলনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী এক ফ্ল্যাশমব।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) নগরের গল্লামারী লিনিয়ার পার্কের সামনে এই আয়োজন করে জাগো ফাউন্ডেশন ও টুওয়ার্ডস সাস্টেইনেবিলিটি ইয়ুথ ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানটি জাগো ফাউন্ডেশনের দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন ‘Voices of Climate: Our Climate, Our Future’ -এর অংশ।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আচরণগত পরিবর্তনের আহ্বান ও তরুণদের কণ্ঠস্বরকে বৈশ্বিক আলোচনায় যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে ফ্ল্যাশমবটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় স্থানীয় তরুণরা অভিনব পরিবেশনা, বার্তা ও পোস্টারের মাধ্যমে জলবায়ু সংকট, স্থানীয় সমস্যা এবং সম্ভাব্য সমাধান তুলে ধরেন। আয়োজনটি ব্যাপক সাড়া ফেলে।
টুওয়ার্ডস সাস্টেইনেবিলিটি ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি কারিনা সিদ্দিকা বলেন, “বাংলাদেশের উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের জলবায়ু সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কণ্ঠস্বর প্রায়শই আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছায় না। এই ফ্ল্যাশমবের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় বাস্তবতাকে জীবন্তভাবে তুলে ধরা, যাতে বৈশ্বিক নীতিনির্ধারকরা তরুণদের বার্তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন।”
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান নাসিম* ও নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী পলি সরকার বলেন, “জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতা দেশের পরিবেশ আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করবে। এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।”
দেশের আটটি বিভাগের ১৬টি যুবনেতৃত্বাধীন সংগঠনের সহযোগিতায় ‘ভয়েসেস অব ক্লাইমেট’ ক্যাম্পেইনটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ফ্ল্যাশমব ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন ও আচরণগত পরিবর্তন বিষয়ে ১১২টির বেশি শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে।
তরুণদের সম্মিলিত দাবিগুলো সংকলন করে একটি ‘ক্লাইমেট ক্যাপসুল’ তৈরি করা হবে, যা COP-30 -এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান গিলডান (Gildan)- এ ক্যাম্পেইনে সহযোগিতা করছে এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ নলেজ পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনে নতুন গতি আনবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য