শিরোনাম
স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণে সহায়তার আশ্বাস জাইকার
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও কার্যকর, দক্ষ ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে সহযোগিতা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।
গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে তার দপ্তরে জাইকার একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আশ্বাস দেওয়া হয়।
জাইকার বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইচিগুচি তোমোহিদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে জাইকার অর্থায়নে স্থানীয় সরকার খাতে বাস্তবায়িত ও চলমান বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছিল স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও পানি শোধনাগার স্থাপন এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মসূচি।
মন্ত্রী জাপানি ভাষাশিক্ষা ও গুণগত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের জাপানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্পসমূহ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সরকারের সকল কার্যক্রম সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য জাইকার অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন।
জাইকার প্রতিনিধিরা নবনিযুক্ত মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তার নেতৃত্বে দেশের স্থানীয় সরকার খাতে গুণগত পরিবর্তন সাধিত হবে বলে তারা আশাবাদী।
বাংলাদেশের সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের উন্নয়নে জাপান সরকার ও জাইকার অব্যাহত সহায়তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
ঢাকা উত্তর, দক্ষিণসহ দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে ছয়জন পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
আজ বুধবার অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়াসহ সুপ্রিম কোর্টের ছয় আইনজীবী এ রিট দায়ের করেন। অন্য পাঁচ আইনজীবী হলেন- জিল্লুর রহমান, আবু দাউদ নিজামী, আল মুত্তাকী বিল্লাহ, ইসমাঈল হোসেন সবুজ ও খালিদ সাইফুল্লাহ।
রিটে স্থানীয় সরকার সচিব, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর-দক্ষিণসহ দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে ছয়জন পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। ছয় প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি করপোরেশন-১ শাখা)।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ছয় সিটি করপোরেশনে যে ছয় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন-ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মো. শফিকুল ইসলাম খান, খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি করপোরেশনে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মো. শওকত হোসেন সরকার।
ভূমি অফিসের কক্ষে তালা, বারান্দায় বসেছিলেন প্রতিমন্ত্রী
নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে হঠাৎ পরিদর্শনে যান ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। কিন্তু সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের না পেয়ে আধা ঘণ্টা বারান্দায় বসেছিলেন তিনি।
আজ বুধবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে অফিসে পৌঁছে ভূমি প্রতিমন্ত্রী দেখেন, নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা হলেও কার্যালয় বন্ধ এবং কোনো কর্মকর্তা–কর্মচারী উপস্থিত নেই।
প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর একজন কর্মচারী এসে অফিসের তালা খোলেন। এরপর সহকারী কর্মকর্তা নায়েব মো. নাছির উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন ভূমি অফিস নিয়ে সাধারণ মানুষের নানা অভিযোগ রয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগ, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।’ এ সময় তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব নাছির উদ্দিন সকাল পৌনে ১০টায় এবং সহকারী নায়েব ওমর ফারুক সকাল ১০টায় অফিসে আসেন। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবেও বলে সতর্ক করেন তিনি।
এদিকে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে সেবাগ্রহীতারা অফিসে এসে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। সব অভিযোগ যাচাই করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
তারেক রহমানকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। অভিনন্দন বার্তায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক রয়েছে। আমি আশাবাদী যে আপনার নেতৃত্বে আমাদের সহযোগিতা কেবল আমাদের অভিন্ন মূল্যবোধ এবং সমৃদ্ধ ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা।
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য তাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরো সম্প্রসারণের আশা প্রকাশ করেছে। চিঠিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অংশীদারিকে আরো শক্তিশালী করতে আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে রয়েছি এবং অগ্রগতি ভাগ করে নেওয়া আমাদের অগ্রাধিকার।’
তিনি বলেন, ‘অবৈধ অভিবাসন মোকাবেলায় আরো সহযোগিতা, এর প্রভাবগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আমাদের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে।’
মায়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি বাংলাদেশের মানবিক আচরণের প্রশংসা করেন কিয়ার স্টারমার।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে যুক্তরাজ্য সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তাদের মানবিক ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
পরিশেষে দুই দেশের সম্পর্কের ‘পরবর্তী অধ্যায়’ সফল ও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি চিঠিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিনন্দন
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে তারেক রহমানের কাছে লেখাচিঠিতে এ অভিনন্দন জানানো হয়।
চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক এই বিজয়ে শুভেচ্ছা ও সফলতা কামনা করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব পারস্পরিক সম্মান এবং একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তিশালী ও সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার যৌথ স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
চঠিতে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
এছাড়া পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষক ও শ্রমিকদের উপকারে আসবে—এমন প্রত্যাশার কথাও চিটিতে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি, নিয়মিত প্রতিরক্ষা চুক্তিসমূহ সম্পন্ন করে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর জন্য উচ্চমানের আমেরিকান সরঞ্জামে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
চিঠির শেষাংশে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
চিঠিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও জানানো হয়।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য